Alormela TV

Alormela TV Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Alormela TV, Digital creator, Dhaka.

নিউজ ও বিনোদনের মেলা
ফানি ভিডিও • গানের আড্ডা • সিচুয়েশন
নিজের ভাষায়, নিজের স্টাইলে কনটেন্ট
নিয়মিত আপডেট পেতে ফলো করুন ||
News & Entertainment
Funny Moments | Songs | Situations
Original Voice • Original Content ||

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি-শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায়-------------------------------------আজ চরবাটাস্থ “বামনিয়ার ঘোনা সরকারি প...
29/09/2026

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি-শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায়
-------------------------------------
আজ চরবাটাস্থ “বামনিয়ার ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এর সম্মানিত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মাৎ মোতাহেরা বেগম ম্যাডাম তাঁর দীর্ঘ ৪২ বছরের কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন।
আপনার অবসর জীবন হোক সুন্দর, শান্তিময় ও বরকতময়।

27/09/2026

জালিমদের ব্যাপারে শহীদ আল্লামা সাঈদীর‌ (র) ভবিষ্যৎ বাণী শতভাগ মিলে গেছে।
সকল জালিমের একই পরিণতি হবে। আগামীতে যারা জালিম হবে তাদেরও।

সাধারণ মানুষের স্বস্তি কোথায়?১৩ বছরের শিশু অপ্রতিমের মর্মান্তিক ঘটনাটি পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আইফোন হাতে নিয়ে বাড়...
19/09/2026

সাধারণ মানুষের স্বস্তি কোথায়?

১৩ বছরের শিশু অপ্রতিমের মর্মান্তিক ঘটনাটি পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আইফোন হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেই নিষ্পাপ শিশুটি আর জীবিত ফিরেনি। সে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তান। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হবে, মানববন্ধন হবে, বিচার দাবি করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচারের দেখা পাবে কিনা তা কেউ জানে না। কিছুদিন আগেই দেখা গেল, নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরকে হাত-পা ও কিডনি হারিয়ে বিকলাঙ্গ অবস্থায় ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত থাকতে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে শিশু রামিসা হত্যার ক্ষতও এখনো শুকায়নি। প্রতিটি ঘটনার পরই ন্যায়বিচারের নানা আশ্বাস আসে, কিন্তু তার কার্যকর বাস্তবায়ন জনগণ কতটুকু দেখতে পায়?

​শাসন ও নিরাপত্তার নামে বিগত ১৭ বছরের অপশাসনে পুলিশ বাহিনীকে মানুষের সেবক হিসেবে গড়ে না তুলে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল। নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে পুলিশকে করা হয়েছিল ভীতি ও অনিরাপত্তার প্রতীক। জুলাই বিপ্লবে সাধারণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমনে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে লেলিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় দুই হাজার তরতাজা প্রাণের বিনিময়ের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ জনরোষে অনেক পুলিশ সদস্যকেও প্রাণ হারাতে হয়। সেই চরম অভিজ্ঞতার পর থেকে পুলিশ বাহিনী যেন একপ্রকার পণ করেছে যে তারা আর জনগণকে সেবা দেবে না- বিশেষ করে বিগত শাসনামলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ আজ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ভাঙা মনোবলের প্রভাব পড়ছে পুরো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর।

​এমনকি রক্তক্ষয়ী পরিবর্তনের পর একটি নির্বাচিত বা দায়িত্বশীল সরকার গঠিত হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা বা স্বস্তির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাজের চেয়ে সংবিধান ও আইন শেখাতেই যেন বেশি ব্যস্ত। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে প্রশাসনিক কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট তো রয়েছেই। উপরন্তু, ক্ষমতাচ্যুত গোষ্ঠীর দেশ-বিদেশ থেকে দেওয়া নানা উসকানিমূলক হুমকি এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য চক্রান্ত পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলছে।

​বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক জুলুম ও সামাজিক নির্যাতন সহ্য করতে করতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে পলাতক গোষ্ঠী আজও প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর রূপ নিয়ে ফিরে আসবে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন- তাহলে জনগণের শেষ রক্ষা কোথায়?

​একটি প্রধান নির্বাচনের পর যেখানে দেশজুড়ে স্বস্তি ও স্থায়িত্ব ফিরে আসার কথা ছিল, বাস্তবে সেখানে অনৈক্য ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা স্পষ্ট। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াত এখন ক্ষমতার সমীকরণে যথাক্রমে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায়। প্রশাসনজুড়ে দলীয় লোক নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মূলত এসব নিয়োগ ও পদায়নেও পলাতক সরকারের সুবিধাভোগীরাই বেশি সুবিধা নিয়েছে। বর্তমানে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষের নজর আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সহিংসতা ও হানাহানি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

​পলাতক শক্তির হুমকি, নড়বড়ে আইনশৃঙ্খলা অবস্থা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বে সাধারণ জনগণের জন্য আজ স্বস্তির কোনো লক্ষণ চোখে পড়ছে না। সরকারের হুশ হবে কবে??

সুবর্ণচরে ড্রিম ভ্যালি স্কুলের ‘মা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত🎙️ প্রতিবেদন Alormela TV নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কোমলমতি শিশুদের আধুনিক ...
19/09/2026

সুবর্ণচরে ড্রিম ভ্যালি স্কুলের ‘মা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত

🎙️ প্রতিবেদন
Alormela TV

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কোমলমতি শিশুদের আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ড্রিম ভ্যালি স্কুল। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, বিশেষ করে মায়েদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় ‘মা সমাবেশ’। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

সমাবেশে শিশুদের পড়াশোনা, তাদের মানসিক বিকাশ, পারিবারিক সহযোগিতা এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড্রিম ভ্যালি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, কোমলমতি শিশুদের জন্য মনোরম ও পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি খেলাধুলার জন্য বাবুল্যান্ড, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সমন্বয়ে সুবর্ণচরের শিশুদের জন্য একটি আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ড্রিম ভ্যালি স্কুল।

আলোর মেলা টিভি, সুবর্ণচর, নোয়াখালী।

#ড্রিমভ্যালিস্কুল #সুবর্ণচর

বিশ্বজয়ী কুরআন হাফেজদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
18/09/2026

বিশ্বজয়ী কুরআন হাফেজদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

18/09/2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা।

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে 'States' শব্দটি কীভাবে ১৯৪৬ সালে 'State'-এ পরিবর্তিত হয়েছিল এবং এর ঐতিহাসিক প্রভাব কী?-------...
14/09/2026

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে 'States' শব্দটি কীভাবে ১৯৪৬ সালে 'State'-এ পরিবর্তিত হয়েছিল এবং এর ঐতিহাসিক প্রভাব কী?
--------------------------------------
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে "স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ"
(Independent States) গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৬ সালে এসে এই বহুবচন 'States' শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে একবচনে 'State' বা একটি একক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

​কীভাবে এই পরিবর্তন হয়েছিল?
​১. ১৯৪৬ সালের দিল্লি কনভেনশন: ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লির এংলো-অ্যারাবিক কলেজে মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা আইনপ্রণেতাদের (Legislators) একটি কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।

২. প্রস্তাব সংশোধন ও জিন্নাহর যুক্তি: এই অধিবেশনে মুসলিম লীগ নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করা হয়। জিন্নাহ দাবি করেন যে, ১৯৪০ সালের প্রস্তাবের 'States' শব্দে যুক্ত 's' বর্ণটি আসলে একটি "টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুল" (Typographical Error) বা মুদ্রণপ্রমাদের ফল ছিল।

৩. আবুল হাশিম ও বাঙালি নেতাদের প্রতিবাদ: বাংলা মুসলিম লীগের সম্পাদক আবুল হাশিম এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি মূল কার্যবিবরণী বই দেখিয়ে প্রমাণ করেন যে জিন্নাহর নিজ স্বাক্ষরের নিচেই 'States' লেখা ছিল। এছাড়া তিনি যুক্তি দেন, সাধারণ কোনো কনভেনশন বা কমিটির মাধ্যমে মুসলিম লীগের মূল বার্ষিক অধিবেশনে পাস হওয়া প্রস্তাব সংশোধন করা নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবৈধ।

৪. জিন্নাহ ও সোহরাওয়ার্দীর পদক্ষেপ: আবুল হাশিমের বিরোধিতার মুখে জিন্নাহ আশ্বাস দেন যে রাষ্ট্রটির নাম 'পাকিস্তান' হলেও এর ভেতরে অঞ্চলগুলো স্বায়ত্তশাসন পাবে। পরবর্তীতে এই কনভেনশনে পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল নিয়ে একটি মাত্র 'স্বাধীন ও সার্বভৌম পাকিস্তান রাষ্ট্র' গঠনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করানো হয়।

​এর ঐতিহাসিক প্রভাব
​বাঙালি মুসলমানদের মোহভঙ্গ ও বৈষম্য: 'States' শব্দ কেটে 'State' করায় পূর্বাঞ্চলের (বাংলা) মুসলমানদের পৃথক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি নষ্ট হয়ে যায়। এর বদলে তৈরি হয় ভৌগোলিক ও পারিভাষিক দিক থেকে অসম্ভব হাজার মাইল দূরত্বের দুটি অংশ নিয়ে গঠিত একটি অস্বাভাবিক একক পাকিস্তান রাষ্ট্র।

​পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন:
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিকেন্দ্রিক পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কলোনি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

​বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি:
এই সংশোধনের মাধ্যমেই বাঙালি রাজনীতিবিদেরা উপলব্ধি করেন যে জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য কেন্দ্রমুখী শাসন গড়ে তোলা। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম মূলত ১৯৪০ সালের মূল লাহোর প্রস্তাবেরই (States ধারণার) পুনর্জাগরণ ও চূড়ান্ত রূপায়ন ছিল।

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব---------------------------------------১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অ...
14/09/2026

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
---------------------------------------
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি ছিল একটি প্রধান মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা।

পটভূমি
​১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৩৭ সালের নির্বাচন:
১৯৩৫ সালের আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অধিকাংশ প্রদেশে কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে।

​কংগ্রেসী শাসনের অভিজ্ঞতা (১৯৩৭-১৯৩৯): কংগ্রেস শাসিত প্রদেশগুলোতে মুসলিম লীগ অভিযোগ করে যে, তাদের নীতিগুলো হিন্দু স্বার্থবান্ধব ছিল এবং মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছিল। এতে মুসলিম নেতৃত্বের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, অখণ্ড ভারতে মুসলিমরা চিরকাল সংখ্যালঘু হয়ে থাকবে।

​দ্বিজাতি তত্ত্বের বিকাশ: ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল পৃথক রাষ্ট্রের ধারণা দেন এবং ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, হিন্দু ও মুসলমান কেবল দুটি পৃথক ধর্ম নয়, তারা দুটি ভিন্ন সংস্কৃতি ও জাতীয়তার অধিকারী।

​১৯৩৫ সালের শাসন আইন প্রত্যাখ্যান: মুসলিম লীগ উপলব্ধি করে যে, পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র বা কেন্দ্রশাসিত শাসনব্যবস্থা ভারতে প্রয়োগ করলে মুসলিম সমাজ রাজনৈতিক অধিকার হারাবে। তাই বিকল্প সাংবিধানিক কাঠামোর প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

​রাজনৈতিক গুরুত্ব
​পৃথক ভূখণ্ডের সুস্পষ্ট দাবি: লাহোর প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে "স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ" (Independent States) গঠনের কথা বলা হয়। এটিই ছিল প্রথম দাপ্তরিক পদক্ষেপ যেখানে অখণ্ড ভারতের বিকল্প হিসেবে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি ওঠে।

​পাকিস্তান আন্দোলন ও একতাবদ্ধতা: হিন্দু পেস এই প্রস্তাবকে "পাকিস্তান প্রস্তাব" বলে আখ্যায়িত করে। পরবর্তীতে মুসলিম লীগও একে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে গ্রহণ করে। এটি বিচ্ছিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠীকে এক পতাকাতলে নিয়ে আসে এবং পাকিস্তান সৃষ্টির মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করে।

​কংগ্রেসের সাথে সম্পর্কের চূড়ান্ত ফাটল: এই প্রস্তাবের মাধ্যমে অখণ্ড ভারতের ধারণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়, যার ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সমঝোতার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

​১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও বাংলাদেশের সূচনা: লাহোর প্রস্তাবে মূল কথা ছিল একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে জিন্নাহর হস্তক্ষেপে 'States' শব্দটি সংশোধন করে একক 'State' করা হলেও, লাহোর প্রস্তাবের স্বায়ত্তশাসনের ধারণাই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯২৯ সালের ১৪ দফা ----------------------------------১৯২৮ সালে প্রকাশিত 'নেহেরু রিপোর্ট'-এ পৃথক নির...
14/09/2026

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯২৯ সালের ১৪ দফা
----------------------------------
১৯২৮ সালে প্রকাশিত 'নেহেরু রিপোর্ট'-এ পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বাতিল এবং মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষিত হওয়ায়, ১৯২৯ সালের ২৮ মার্চ দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের অধিবেশনে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতীয় মুসলমানদের স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষার জন্য তাঁর ঐতিহাসিক ১৪ দফা প্রস্তাব পেশ করেন।

​১. যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা: ভারতের ভাবি সংবিধান হবে যুক্তরাষ্ট্রীয় (Federal) কাঠামোর, যেখানে অবশিষ্টাংশ ক্ষমতা (Residuary powers) প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে।

​২. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: দেশের সব প্রদেশকে সমান মাপের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

​৩. সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: দেশের সকল আইনসভা ও নির্বাচিত সংস্থায় সংখ্যালঘুদের জন্য পর্যাপ্ত ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, তবে কোনো প্রদেশেই সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কে সংখ্যালঘু বা সমতায় নামিয়ে আনা যাবে না।

​৪. কেন্দ্রীয় আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব: কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলমানদের প্রতিনিধি সংখ্যা কোনোভাবেই মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশের (১/৩) কম হওয়া যাবে না।

​৫. পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা: সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের জন্য পৃথক নির্বাচন (Separate Electorate) ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। তবে কোনো সম্প্রদায় ইচ্ছা করলে তা ত্যাগ করে যৌথ নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

​৬. সীমান্ত সংষ্কার ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষা: প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে এলাকা বা সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হলেও তা যেন বাংলা, পাঞ্জাব এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর কোনো প্রভাব না ফেলে।

​৭. পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা: ধর্মীয় বিশ্বাস, উপাসনা, শিক্ষা, প্রচার ও সংগঠনের ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়কে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।

​৮. আইন প্রণয়নে ভেটো ক্ষমতা: কোনো আইনসভায় সংশিষ্ট সম্প্রদায়ের তিন-চতুর্থাংশ (৩/৪) সদস্য প্রস্তাবিত কোনো বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে, তা তাঁদের স্বার্থবিরোধী বিবেচনায় পাস করা যাবে না।

​৯. সিন্ধু প্রদেশ পৃথকীকরণ: বোম্বে প্রেসিডেন্সি থেকে সিন্ধু অঞ্চলকে পৃথক করে একটি আলাদা প্রদেশ গঠন করতে হবে।

​১০. সীমান্ত ও বেলুচিস্তানে সংস্কার: উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং বেলুচিস্তানে অন্যান্য ভারতের বাকি প্রদেশগুলোর মতো সমপর্যায়ের সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করতে হবে।

​১১. সরকারি চাকরিতে সুযোগ: যোগ্যতা সাপেক্ষে রাষ্ট্রের সব সরকারি চাকরি এবং স্থানীয় সংস্থায় মুসলিমদের জন্য উপযুক্ত অংশ ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

​১২. সংস্কৃতি ও ধর্মের সাংবিধানিক সুরক্ষা: মুসলমানদের ভাষা, ধর্ম, ব্যক্তিগত আইন (Personal Law), শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা সংবিধানে নিশ্চিত করতে হবে।

​১৩. মন্ত্রিসভায় আসন: কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক - কোনো মন্ত্রিসভাই গঠিত হতে পারবে না যদি না তাতে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) মুসলিম মন্ত্রী থাকেন।

​১৪. সংবিধান সংশোধনে প্রদেশের সম্মতি: ভারতীয় ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত অঙ্গরাজ্যগুলোর/প্রদেশগুলোর সম্মতি ছাড়া কেন্দ্রীয় আইনসভা সংবিধানের কোনো সংশোধন করতে পারবে না।

​এই ১৪ দফা প্রস্তাব ভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। জিন্নাহ এটিকে "পথের বিভাজন" (Parting of ways) বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে দ্বিজাতি তত্ত্ব ও পাকিস্তান সৃষ্টির অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহএর রাজনৈতিক জীবনের অবদানসমূহ: --------------------------মুহাম্মদ আলী...
14/09/2026

পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহএর রাজনৈতিক জীবনের অবদানসমূহ:
--------------------------
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ (১৮৭৬–১৯৪৮) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং পাকিস্তানের স্থপতি।

তার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান অবদানসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
​হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দুধীবদ্ধতা: রাজনীতির শুরুর দিকে জিন্নাহ ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন প্রভাবশালী নেতা। ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ঐতিহাসিক লখনউ চুক্তি স্বাক্ষরে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন, যার জন্য সরোজিনী নাইডু তাকে "হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত" হিসেবে ভূষিত করেছিলেন।

​সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ও ১৪ দফা প্রস্তাব: ১৯২৮ সালের নেহেরু রিপোর্টের জবাবে ১৯২৯ সালে জিন্নাহ তার বিখ্যাত ১৪ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। এতে ভারতে মুসলিমদের স্বায়ত্তশাসন, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষার সুস্পষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়।

​মুসলিম লীগ পুনর্গঠন: ১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জিন্নাহ অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগকে শক্তিশালী ও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করেন। সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে দলকে জনপ্রিয় করে তিনি এটিকে ভারতীয় মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী মূল রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন।

​দ্বিজাতি তত্ত্ব ও লাহোর প্রস্তাব: ১৯৪০ সালে লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশনে জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি। এই অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টির ভিত্তি স্থাপন করে।

​পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা (১৯৪৭): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ক্যাবিনেট মিশন ও মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনায় জিন্নাহ মুসলিমদের পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে অটল থাকেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয় এবং তিনি পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alormela TV posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share