Poygam24.com

Poygam24.com সত্যের সাথে মানবতার পয়গাম

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জমিয়তের দায়িত্বশীলদের নিয়ে খাস কমিটির পর্যালোচনা বৈঠক২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা:নারায়ণগঞ্জ জেলা ও...
24/09/2026

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জমিয়তের দায়িত্বশীলদের নিয়ে খাস কমিটির পর্যালোচনা বৈঠক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা:

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আসন্ন কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে খাস কমিটির পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জমিয়তের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।

বৈঠকে আসন্ন জেলা ও মহানগর কাউন্সিল সফলভাবে আয়োজন, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং দায়িত্বশীলদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কাউন্সিলের জন্য গঠিত দুই আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম তদারক করবেন জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও যুগ্মমহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। কাউন্সিলের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও করবেন তারা।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহসভাপতি মাওলানা আবদুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাজহারীসহ কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বশীলরা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ফেরদৌসুর রহমান, মাওলানা মাসরুর আহমদ ভূঁইয়া, মাওলানা তাইয়্যেব আল-হুসাইনী, মাওলানা মনোয়ার হোসাইনসহ জেলা ও মহানগর জমিয়তের অন্যান্য নেতারা।

অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে কওমি মাদ্রাসার সুনাম-ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান—ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া, বৃহত্তর মিরপ...
24/09/2026

অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে কওমি মাদ্রাসার সুনাম-ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান

—ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া, বৃহত্তর মিরপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম, ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার প্রতি সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া, বৃহত্তর মিরপুরের সভাপতি ও জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৮টায় ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া, বৃহত্তর মিরপুরের উদ্যোগে কল্যাণপুর জামিয়া দ্বীনিয়া ইসলামিয়ার মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও মুহতামিম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ঈসা কাসেমী এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা নূর মোহাম্মদ কাসেমী।

মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, “কওমি মাদ্রাসা দ্বীন ও ঈমানের হেফাজতের দুর্গ। এসব প্রতিষ্ঠান কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এগুলো উম্মাহর আমানত। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারে যাতে আমাদের ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকরা বিভ্রান্ত না হন, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার সুনাম ও ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার। নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও অসংগতি দূর করে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়ার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা নূরুল আলম ও মাওলানা ইলিয়াস হাসান কাসেমী।

এ ছাড়া মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা হাবীবুর রহমান, মাওলানা মাসউদুর রহমান, মাওলানা আবু বকর মুহাম্মদ আদনানসহ বৃহত্তর মিরপুরের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কওমি মাদ্রাসাগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা আরও সুদৃঢ় করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

23/09/2026

চট্টগ্রাম মহানগর জমিয়তের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখছেন জমিয়তের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া

সিলেটে আল মুফাজ্জল ছাত্র সংসদের বার্ষিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিতসিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া দারুসসুন্নাহ রাউতকান্দি স...
23/09/2026

সিলেটে আল মুফাজ্জল ছাত্র সংসদের বার্ষিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া দারুসসুন্নাহ রাউতকান্দি সিকন্দরপুরের অভ্যন্তরীণ ছাত্র সংগঠন আল মুফাজ্জল ছাত্র সংসদের উদ্যোগে বার্ষিক প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব জামেয়ার হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল মুফাজ্জল ছাত্র সংসদের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন খান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামেয়ার মুহতামিম শায়খ মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম কাওছার, যিনি শায়খে সিকন্দরপুরী (রহ.)-এর ছাহেবজাদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামেয়ার শিক্ষা সচিব ও সিনিয়র উস্তাদ মুফতি শেখ আব্দুল্লাহ উসামা রায়গড়ী, মাওলানা মিছবাহ উদ্দিন ইলাইগঞ্জী, মাওলানা এনামুল হক সিকন্দরপুরী, মাওলানা হুসাইন আহমদ এবং আল মুফাজ্জল ছাত্র সংসদের সাবেক ছাত্র জিএস মুফতি মাহমুদুল হাসান নোমান।

বার্ষিক এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা প্রদর্শন করে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা, উপস্থাপনা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই ছিল আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ও বিচারক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জামেয়ার সিনিয়র উস্তাদ মাওলানা জায়েদ আল হাফিজ, মাওলানা এনামুল হক বিশ্বনাথী, মাওলানা হুসাইন আহমদ আমতলী, মাস্টার মুমিনুল ইসলাম রাব্বি, মাস্টার জিয়াউর রহমান, মাওলানা ওলিউর রহমান, মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও মাস্টার ইবরাহিম আহমদসহ জামেয়ার অন্যান্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে বিচারকরা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, প্রতিভা বিকাশ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আয়োজনের মধ্য দিয়ে আল মুফাজ্জল ছাত্র সংসদের বার্ষিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

মাওলানা জাকারিয়াকে সভাপতি ও মাওলানা শামসুদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগর জমিয়তের ৬১ সদস্যের কমিটিগ্যাস, বিদ্...
22/09/2026

মাওলানা জাকারিয়াকে সভাপতি ও মাওলানা শামসুদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগর জমিয়তের ৬১ সদস্যের কমিটি

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের দাবি

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলে মাওলানা জাকারিয়া কাসেমীকে সভাপতি, মাওলানা হিজবুল্লাহকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মাওলানা শামসুদ্দীন আফতাবকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা ইউনুস সাইফীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জমিয়তের আহ্বায়ক মাওলানা জাকারিয়া কাসেমী। সদস্য সচিব মাওলানা শামসুদ্দীন আফতাব অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী ও ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা কাউসার আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব দেশের সর্বস্তরের মানুষের ওপর পড়ে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ চরম সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবে। তাই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সোনালি ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন এবং দ্বীন ও মিল্লাতের হেফাজতে সংগঠনের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং নীতির ওপর অটল থাকতে হবে। দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিত্ব গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও অগ্রসর করতে হবে। সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠন পরিচালনা, সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা এবং দায়িত্বশীলদের নিয়মিত বৈঠকের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জমিয়তের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা জাফর আহমদ, হাফেজ জাফর আহমদ, মাওলানা এমরান সিকদার, মাওলানা আবু ইউসুফ ফারুকী, মাওলানা ইদ্রিস, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা আব্দুল হান্নান, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুল করিম জমিরীসহ চট্টগ্রাম জমিয়তের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্র জমিয়তের বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা এম ফুরকান আলী, সাইফুল ইসলাম, ওমর ফারুক, রায়হান, রাফিউল ইসলাম রিপনসহ ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কাউন্সিলের মাধ্যমে মাওলানা জাকারিয়া কাসেমীকে সভাপতি, মাওলানা হিজবুল্লাহকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মাওলানা শামসুদ্দীন আফতাবকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা ইউনুস সাইফীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর জমিয়তের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

22/09/2026

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগর কাউন্সিল থেকে সরাসরি—

22/09/2026

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগর কাউন্সিল থেকে সরাসরি

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামেরজ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে সাধারণ মা...
21/09/2026

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে আরজাবাদ মাদ্রাসায় দলটির খাস কমিটির বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। বৈঠকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাবের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা।

জমিয়তের নেতারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব শুধু যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিভিন্ন উৎপাদন খাতের খরচও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষ কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি করবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহন করবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

নেতারা বলেন, জনজীবনের ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বহুমুখী প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত

বৈঠকে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সারাদেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দলীয় সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খাস কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং সারাদেশে সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কয়েকটি কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারীসহ খাস কমিটির অন্যান্য সদস্য।

মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অপচেষ্টা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাতের শামিল: মুফতি খলীল আহমদ কাসেমীপবিত্র মক্কা-মুকাররমাক...
21/09/2026

মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অপচেষ্টা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাতের শামিল: মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী

পবিত্র মক্কা-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উম্মুল মাদারিস আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (হাফি.)।

তিনি বলেছেন, “মক্কা-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে হামলা কিংবা হামলার যেকোনো অপচেষ্টা শুধু একটি নগরীর বিরুদ্ধে আগ্রাসন নয়; বরং তা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয় ও ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাতের শামিল।”

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয় এবং এটি হুতিদের পক্ষ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

তবে হুতি পক্ষ সৌদি অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে মক্কা লক্ষ্য করে হামলার দাবি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতিতে মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী বলেন, “পবিত্র মক্কা-মুকাররমা সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও ইবাদতের কেন্দ্রস্থল। বায়তুল্লাহ ও হারামাইন শরীফাইনের পবিত্রতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, মক্কার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, পবিত্র এই নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের দুঃসাহসিকতা মুসলিম বিশ্ব মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, “সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং সেটিকে হুতিদের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মক্কা-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে এ ধরনের অপচেষ্টা অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয়।”

মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী বলেন, পবিত্র বায়তুল্লাহর নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে যারা হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হতে হবে।

‘পবিত্র স্থানগুলোকে কোনো সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু করা যাবে না’

আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কোনো অজুহাতেই মক্কা-মুকাররমা কিংবা মসজিদুল হারামের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “মক্কা-মুকাররমা ও মদিনা-মুনাওয়ারা কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র নয়; এগুলো সমগ্র মুসলিম উম্মাহর পবিত্র আমানত। হারামাইন শরীফাইনের দিকে অস্ত্র তাক করা কিংবা সেখানে হামলার অপচেষ্টা করা মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় চেতনা ও পবিত্র অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।”

তাঁর মতে, পবিত্র দুই নগরীর নিরাপত্তা কোনো একক দেশ বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়; বরং মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

‘হারামাইনের নিরাপত্তায় সৌদি আরবের পাশে থাকতে হবে’

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এই নেতা বলেন, পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো মুসলিম বিশ্বের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে মক্কা-মুকাররমা ও মসজিদুল হারামের পবিত্রতা ও নিরাপত্তাকে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।”

ভবিষ্যতে পবিত্র ভূমির দিকে হামলার চেষ্টা হলে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি একই সঙ্গে হারামাইন শরীফাইনের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব সরকারের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্র ও ইসলামি সংস্থাগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

পাশাপাশি মক্কা-মুকাররমা, মদিনা-মুনাওয়ারা এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানকে সব ধরনের সামরিক সংঘাত, আগ্রাসন ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতির শেষাংশে মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী বলেন, হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষা মুসলিম উম্মাহর ঈমানী অনুভূতি এবং সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়। এ ক্ষেত্রে মুসলিম রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি পবিত্র হারামাইন শরীফাইন, সৌদি আরব এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র, আগ্রাসন, বিপদ-আপদ ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।

অনুলিখন: মাওলানা মুনির আহমদ

দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিতে হলে নিজেকে সত্যিকার ওয়ারিশে নবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়াঢাকা, ২১ সেপ্ট...
21/09/2026

দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিতে হলে নিজেকে সত্যিকার ওয়ারিশে নবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে শিক্ষার্থীদের নিজেদেরকে নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর আর কোনো নবী আসবেন না। তবে নবুওয়াতের দায়িত্বের যেসব অংশ উম্মতের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে, সেসব দায়িত্ব উলামায়ে কেরামের ওপর অর্পিত হয়েছে। তাই একজন আলেমের দায়িত্ব শুধু ইলম অর্জন করা নয়, বরং সেই ইলম, হিদায়াত ও দ্বীনের দায়িত্ব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নিজের জীবনেও তা বাস্তবায়ন করা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দীনি প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া ইলমুল ইলাহী বাগবাড়ী মাদ্রাসার ছাত্র সংসদ আত-তাবলীগ ছাত্র পাঠাগারের বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিয়ার মুহতামিম মাওলানা নূর মোহাম্মাদ কাসেমী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাজেমে তা'লিমাত মাওলানা খন্দকার ফখরুদ্দীন আহমদ হোসাইনী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, ‘আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী’। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর নবুওয়াতের দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও নবীদের রেখে যাওয়া ইলম, হিদায়াত ও দ্বীনের দায়িত্ব মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজ আলেমদের করতে হয়।

তিনি হাদিসটি উদ্ধৃত করে বলেন,

الْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ

অর্থাৎ, ‘আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী।’

তাঁর ব্যাখ্যায়, এখানে ‘উত্তরাধিকার’ বলতে নবুওয়াতের মর্যাদা বোঝানো হয়নি। বরং নবীদের রেখে যাওয়া ইলম, হিদায়াত এবং দ্বীনের দায়িত্ব বহন করাকেই বোঝানো হয়েছে।

নবীর উত্তরসূরিদের চার প্রধান দায়িত্ব

মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, নবীদের উত্তরসূরি হিসেবে আলেমদের কয়েকটি মৌলিক দায়িত্ব রয়েছে। এর মধ্যে চারটি দায়িত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম দায়িত্ব হলো আয়াত ও দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। নবী ﷺ যে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁর উত্তরসূরিদের অন্যতম দায়িত্ব হলো মানুষের কাছে কুরআন ও সুন্নাহর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। তবে এই দাওয়াত হতে হবে হিকমত, প্রজ্ঞা ও উত্তম পদ্ধতির মাধ্যমে এবং মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখে।

দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো সহিহ ইলম শিক্ষা দেওয়া। মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাহফিল, ওয়াজ, লেখনীসহ বৈধ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষকে কুরআন-হাদিস ও দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিক্ষা দিতে হবে। শুধু তথ্য জানিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়; মানুষ যেন সেই জ্ঞান বুঝতে পারে, আমল করতে পারে এবং বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারে, সে ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা আলেমদের দায়িত্বের অংশ।

তৃতীয় দায়িত্ব হলো তাযকিয়া ও চরিত্র গঠন। নবীর উত্তরসূরির দায়িত্ব কেবল বক্তৃতা দেওয়া কিংবা জ্ঞান বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং মানুষ তৈরি করাও তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। মানুষের আকিদা বিশুদ্ধ করা, ইবাদত সহিহ করা, চরিত্র সুন্দর করা, আমলকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করা এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ শেখানো তাযকিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ সমাজের পরিবর্তন শুধু আইন কিংবা বক্তৃতার মাধ্যমে আসে না; মানুষের অন্তর ও চরিত্রের পরিবর্তনের মাধ্যমেও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

চতুর্থ দায়িত্ব হলো নিজেদের জীবনে নববী আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বলেন, নবীর উত্তরসূরিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তাঁদের নিজেদের জীবনেই নববী আদর্শের প্রতিফলন ঘটানো। কারণ মানুষ শুধু একজন বক্তার বক্তব্য শোনে না, তাঁর চরিত্রও দেখে।

তিনি বলেন, কেউ যদি আমানতদারির কথা বলেন, তাহলে তাঁর নিজের জীবনেও আমানতদারির প্রকাশ থাকতে হবে। ইনসাফের কথা বললে তাঁকে নিজের জীবনে ইনসাফ করতে হবে। তাকওয়ার কথা বললে তাঁর নিজের জীবনেও তাকওয়ার প্রতিফলন থাকা জরুরি। বক্তব্য ও জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে দাওয়াতের প্রভাবও দুর্বল হয়ে পড়ে।

আকাবির-আসলাফের জীবন অনুসরণের আহ্বান

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও আলেমে দ্বীন মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন শিক্ষার্থীদের আকাবির ও আসলাফের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেদের ছাত্রজীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী আলেমরা শুধু জ্ঞান অর্জন করেননি; অর্জিত জ্ঞানকে তাঁরা নিজেদের বাস্তব জীবনে রূপান্তর করেছিলেন। তাঁদের ইলমের সঙ্গে ছিল আমল, চরিত্র, অধ্যবসায় এবং দ্বীনের জন্য একনিষ্ঠ মেহনত।

মাওলানা যাইনুল আবেদীন দারুল উলুম দেওবন্দের বিশিষ্ট আদীব মাওলানা খলিল আহমদ আল-আমিনী (রহ.)-এর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একনিষ্ঠ মেহনত, অধ্যবসায় এবং আকাবির-আসলাফের অনুসরণ একজন সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তানকেও এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে তিনি পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত আদীব হিসেবে সম্মানিত হন।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ছাত্রজীবনকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং এই সময়কে ইলম, আমল, আদব, আখলাক ও আত্মগঠনের সময় হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। পূর্ববর্তী মনীষীদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিয়মিত ও একনিষ্ঠ মেহনত করতে হবে।

ইলমের সঙ্গে আদব-আখলাকের সমন্বয়ের তাগিদ

বিশেষ অতিথি মাওলানা আবু সালেহ তাঁর বক্তব্যে ইলম অর্জনের পাশাপাশি আদব ও আখলাকের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী আকাবির ও আসলাফের জীবনী অধ্যয়ন করলে স্পষ্ট হয়, তাঁরা ইলম অর্জনের পাশাপাশি আদব-আখলাককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের কাছে জ্ঞান অর্জন ছিল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর বিষয় নয়; বরং নিজেকে সংশোধন করা এবং মানুষের কল্যাণে সেই জ্ঞান কাজে লাগানোর মাধ্যম।

মাওলানা আবু সালেহ বলেন, ইলমের মধ্যে যদি আদব ও আখলাক না থাকে, তাহলে সেই ইলম মানুষের উপকারে আসার পরিবর্তে অহংকারের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞানের সঙ্গে যদি বিনয়, শিষ্টাচার, উত্তম ব্যবহার ও দায়িত্ববোধ যুক্ত না হয়, তাহলে তার অর্জিত জ্ঞানের প্রকৃত সুফল সমাজ পাবে না।

তিনি শিক্ষার্থীদের ইলমের পাশাপাশি উস্তাদদের সম্মান, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটদের প্রতি স্নেহ, উত্তম ব্যবহার এবং নিজের চরিত্র সংশোধনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও যারা উপস্থিত ছিলেন

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল ফালাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মুফতি ইলিয়াস হাসান কাসেমী, জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার সিনিয়র মুদাররিস মাওলানা আনোয়ার হোসাইন ঢাকুবীসহ জামিয়া ইসলামিয়া ইলমুল ইলাহী বাগবাড়ী মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ছাত্র পাঠাগারের বার্ষিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের ইলম অর্জনের পাশাপাশি আমল, আদব-আখলাক, আত্মশুদ্ধি এবং দ্বীনি দায়িত্ববোধ নিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Address

Mirpur, Dhaka
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Poygam24.com posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Poygam24.com:

Shortcuts

Share