26/10/2025
মোজাক্কেরের কথা মনে পড়লে এখনো জলে চোখ ভেসে যায়। ওর অনেকগুলো নাম ছিল। কোথাও সে বোরহান, কোথাও মোজাক্কির, কোথাও রিজভী। আমি তাকে রিজভী বলে ডাকতাম।
২০১৩ সালে হঠাৎ আমি রিজভীর রুমমেট হলাম। আমরা থাকতাম অন্ধকার ঘরে। নিজের সাথে জেদ করে আমি তখন ফ্যান ব্যবহার করতাম না। হঠাৎ একদিন সে আমাকে ওর ফ্যান ব্যবহার করতে দিয়েছিল। রেগে গিয়ে বলে উঠেছিল, ‘রুমমেট ফ্যান ছাড়া আপনি কিভাবে থাকেন।’
তারপর হঠাৎ একদিন শীতকাল চলে এলো। পাহাড় ডিঙিয়ে আমাদের রুমেও শৈত্য প্রবাহ ঢুকে পড়ল। হঠাৎ এক ভোরে ওর চিড়েচ্যাপ্টা ভাঙা ফোনটিতে কল এলো। তাদের কথোপকথনের শব্দে খানিকটা আঁতকে উঠলাম। ফোন কেটে দিতেই জিজ্ঞেস করলাম, ‘প্রেম শুরু করে দিয়েছ।’ মোজাক্কির হাসতে শুরু করল। বললাম ‘মেয়েটি কে?’ উত্তরে সে বলেছিল ‘খালাতো বোন’। আমি তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম এ বয়সে প্রেমে না পড়তে। জান কালা না করে সে যেন ইউনিভার্সিটিতে উঠে বিয়ে করে ফেলে।
হঠাৎ একদিন আমরা আলাদা হলাম। সে এইচএসসি শেষ করে নোয়াখালিতে চলে যায়। তার কয়েক বছর পর আমিও পড়াশোনা শেষ করে ঢাকাতে চলে আসি। অকস্মাৎ একদিন পত্রিকায় তার মৃত্যু সংবাদ। অনেক বছর পর চিৎকার করে কাঁদলাম। আমার কান্নার শব্দ ছাদ স্পর্শ করে তা আশেপাশের বাসায় গিয়ে ঠেকলো।
রিজভীর খালাতো বোনের কথা এখনো আমার মনে পড়ে। ও দেখতে কিছুটা রিজভীর মতোই ছিল। তাদের সম্পর্কের ডানা কতদূর মিলেছিল পরে আর জানতে পারিনি। রিজভীর পরিবারও বিষয়টি জানে না। রিজভীর পরিবারের কোনো সদস্য যদি এই লেখাটির মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারেন তাহলে আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা মেয়েটিকে আদরে যতনে রাখবেন। আপনাদের পরিবারের সদস্যদের মতো করে দেখেশুনে রাখবেন। ওরা দুজন একে অপরের প্রতি প্রচন্ড দুর্বল ছিল। তাদের সম্পর্কের মধ্যে কখনো নোংরা কিছু ছিল না।
ভাড়া করা অস্ত্রেই হত্যা করা হয় নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরকে। ঘটনার পরপরই বি....