24/08/2024
ডক্টর ইউনূস সেদিন বলেছিলেন, এই দেশের সব প্রতিষ্ঠান হাসিনা ধ্বংস করে গেছে।
সেই ধ্বংসের নমুনাই আমরা এখন এই বন্যাতে দেখতেছি।
সেনাবাহিনী বিমানবাহিনী চেষ্টা করতেছে। কিন্তু রিসোর্স নাই। ফেনীতে হেলিকপ্টার পাঠাইলে কুমিল্লা বা খাগড়াছড়িতে পাঠানো যাচ্ছে না।
রিসোর্সও নাই। ম্যানপাওয়ারও নাই। অথচ বন্যা আমাদের জন্য কোন হঠাৎ ঘটনা না। প্রতি বছরই হয়। অথচ ১৫ বছর ধরে হাসিনা এই মানুষগুলোর জন্য কিছু করে নাই। লিটারালি কিছু না।
আমাদের ফায়ার সার্ভিস এখনও সেই মান্ধাতার আমলের ইকুইপমেন্ট নিয়ে কাজ করে। কাজ করতে যাইয়া নিজেরাও মরে।
অথচ ফায়ারসার্ভিসকে আধুনিক করতে কয় টাকা লাগে? হাসিনা নিজেই রূপপুর থেকে খেয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এস আলম খেয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা।
এই টাকাতে কতগুলো উদ্ধার হেলিকপ্টার হতো? এই টাকাতে কতদিনের ত্রান কেনা যেত?
অথচ প্রকল্পের পর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। রুপপুর, মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু। আর মানুষের জীবন বাঁচানোর বেলায়? টাকা নাই। ত্রান পাঠাও। সাহায্য আনো।
বাট এই মানসিক বিকৃতি কি শুধু হাসিনারই ছিলো? আমার আপনার মতো আরবান মিডল ক্লাসের দায় কি একেবারেই নাই?
আপনি যখন মেট্রোরেলে উঠে বলেছেন, থ্যাংকিউ পিএম। ঠিক ঐ সময় কুড়িগ্রামে বন্যায় একটা মেয়ে মারা গেছে। আপনি ইন্নালিল্লাহও পড়ার টাইম পান নাই। কারণ আপনি তখন মেট্রোরেল আর পদ্মাসেতুর সাথে ছবি তুলতে ব্যস্ত।
হাসিনা আমাদের বোঝাতে চেয়েছিলো, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে মানে উন্নয়ন। ফ্লাইওভার মানে উন্নয়ন। চার লেনের সড়ক মানে উন্নয়ন। আমরাও সেইটা মেনে নিয়েছিলাম।
হাজার হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রজেক্টের উন্নয়নে আমরা বন্যাগ্রস্থ মানুষের কথা ভুলে গেছিলাম। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম নদী ভাঙনে বা ভূমি ধ্বসে সব হারানো পরিবারটার কথাও।
হাসিনা যখন মানুষের লাশ ছেড়ে মেট্রোরেল ধরে কান্নাকাটি করলো, সবাই খুব কষ্ট পেলেন। বাট আমি আপনিও কি সেইম কাজটাই করে আসিনি এতোদিন?
খেলাফতের দায়িত্ব পাওয়ার পর খুব সম্ভবত হযরত উমর খুব কাঁদতে লাগলেন। জিগানো হলে বললেন, আজ থেকে নদী দিয়ে যদি কোন কুকুর ভেসে যায়, সেটার দায় তো আমাকেই নিতে হবে। এ কি সহজ দায়িত্ব?
উন্নত রাষ্ট্রের ডেফিনিশন ঐ যে ঐটা। একটা বিড়াল একটা কুকুরের জীবনের জন্যও যখন রাষ্ট্র দায়বদ্ধ থাকবে, ঐটাকেই বলে কল্যান রাষ্ট্র।
আপনার মেট্রোরেল না থাকুক, ঝা চকচকে রাস্তা না থাকুক, বাট বন্যা হলে একটা মানুষকে উদ্ধার করার সামর্থ্য যখন থাকবে, জীবন জিবীকা হারানো কৃষকটার পাশে যখন রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পয়সা নিয়ে দাঁড়াতে পারবে, ঐটারে তখন বলা হবে উন্নয়ন।
হাসিনাকে দেশ ছাড়া করা গেছে।
এবার ওর এইসব অশ্লীল উন্নয়নের ডেফিনিশনগুলোকেও তাড়ানোর সময় হয়েছে।
আমরা অবশ্যই অবকাঠামোগত উন্নয়ন চাই । মেট্রোরেল চাই, পাতাল রেল চাই, তবে সেটা মানুষের জীবনের বিনিময়ে না।
হাসিনার পাপের প্রায়শ্চিত্ত নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা বা কুড়িগ্রামের মতো বন্যাকবলিত এলাকা থেকেই শুরু হোক।
মানুষের যেটুকু করার, করেছে। আরো যা করার, ঐটাও আমরা সাধারণ মানুষ করবো।
বাট রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো, উদ্ধার ব্যবস্থাকে আধুনিক করা। পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়া। একটা মানুষকেও যেন সর্বস্ব হারাতে না হয়, ভর্তুকি, বিনা সুদে লোন, যত রকম সাহায্য করা সম্ভব, ঐটা এনশিওর করা।
দুই কেজি মুড়ি আর চাল ডাল আমরাই দিতে পারবো, সরকার বরং দীর্ঘমেয়াদি কিছু করুক। যত টাকা লাগে, খরচ করুক।
ওতে যদি যমুনা রেল সেতুর কাজ অফ থাকে, থাকুক। যদি মেগা প্রজেক্ট দুইটা কম নেওয়া হয়, তাও হোক।
হাসিনার বাংলাদেশে মেগাপ্রজেক্ট মানেই ছিলো রাস্তা, ব্রিজ, বিল্ডিং।
নতুন বাংলাদেশের সবচে বড় মেগাপ্রোজেক্ট হোক মানুষ, জীবন আর জীবিকা।
আমরা হাসিনার ঐ মেট্রোরেলের জন্য কান্নাকাটি আর দেখতে চাই না। মানুষের জন্য কান্নাকাটি দেখতে চাই।
রাষ্ট্র মানুষকে রক্ষা করুক। তাহলে এই মানুষই রাষ্ট্রকে রক্ষা করবে নিজের রক্ত দিয়ে হলেও।
Sadiqur Rahman Khan