যদি প্রশ্ন করা হয় ‘জীবন আমদের কাছে এত মূল্যবান কেন ?’
উত্তরটা হয়তো একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হবে। কেউ হয়তো বলবে “জীবন তো একটাই। যতটা উপভোগ করার তা-তো এই এক জীবনেই করতে হবে। জীবনে যত স্বপ্ন আছে, সব তো এই এক জীবনেই পূরণ করতে হবে। ইত্যাদি”...
আমরা যদি একটু খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো, “জীবন একটাই”—এটা এখানে মূল ফোকাস না। বরং এখানে মূল ফোকাস হলো, এই ‘এক জীবনে’ জীবনটাকে উপভোগ করা।
যদি তাই হয়, তাহলে অবশ্যই ভেবে দেখার দরকার আছে, আমরা যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করি, আমাদের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটির উত্তর একইরকম হওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না? কারণ আমরা তো বিশ্বাস করি—‘জীবন যদিও একটাই, তবে এটাই জীবনের শেষ নয়। এর পরে আরেক জীবন আছে। আখিরাত—যেটা চিরস্থায়ী। যার কোনো শেষ নেই। এই ‘এক জীবন’ হলো সেই সীমাহীন জীবনের পরীক্ষা-পর্ব। এটা কোনো উপভোগের জায়গা নয়। বরং, ভালো বা মন্দ কাজের মাধ্যমে চিরস্থায়ী সেই আখিরাত জীবনে, নিজের ভালো বা মন্দ অবস্থান তৈরির পরীক্ষা ক্ষেত্র। আর এজন্যই ‘এই জীবন’ আমাদের কাছে এত মূল্যবান।
পরীক্ষার হলের মতোই জীবনের নির্দিষ্ট সময় নিমিষেই ফুরিয়ে যায়। জীবন সময়ের এই বিরামহীন ধাবমানতার জন্যই জীবন আমাদের কাছে পরম মূল্যবান। সময় অনন্ত, কিন্তু জীবন সীমাবদ্ধ। ‘জীবন থেকে যে সময় একবার চলে যায় তা আর ফিরে পাওয়া যায় না’—একজন মুসলিমের জীবনে সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব বোঝার জন্য, এই একটা সত্য বুঝতে পারাই যথেষ্ট।
কিন্তু আমরা ক’জন বুঝি আমাদের সময়গুলো আসলেই কতটা গুরুত্বপূর্ণ? সত্যিই বুঝলে, আমাদের তো উচিত ছিল কিশোরবেলার সেই পরীক্ষার দিনগুলির মতো দৈনন্দিন জীবনের রুটিন লিখে সদা চোখে পড়ার মতো জায়গায় সেঁটে রাখা। কিন্তু সবকিছু বোঝার পরেও, খুব করে চাইলেও আমরা অনেকেই হয়তো পার্থিব ব্যস্ততার চাপে রুটিন-মাফিক প্রোডাক্টিভ হয়ে চলতে পারি না। আপনার-আমার, আমাদের সবার এই ‘না পারা’-কে ‘পারা’-তে পরিণত করতে, সামনের সময়গুলো বেহিসাবে নষ্ট না করে প্রোডাক্টিটি ও সময়নিষ্ঠতার সহিত ব্যয় করার একটি সুশৃঙ্খল বন্দোবস্ত করতেই ‘মুসলিম ডে প্লানার’ টিমের পথচলা।