17/09/2025
🛑 "কনটেন্ট বানানোর ইচ্ছা আছে, কিন্তু নিয়মিত হতে পারছেন না—আপনারও কি এমন হচ্ছে?"
তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। 👇🏻
আসলে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে একজন ক্রিয়েটর সফল হতে পারবে কি পারবেনা এটা সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটার উপর নির্ভর করে সেটা হলো Consistency অর্থাৎ নিয়মিত কনটেন্ট দিয়ে যাওয়া।
বেশিরভাগ ক্রিয়েটরই খুব স্বপ্ন নিয়ে ক্রিয়েশনের জার্নিটা শুরু করেন, এবং ১ম কিছুদিন বেশ আগ্রহ উদ্দীপনা নিয়েই কনটেন্ট ক্রিয়েট করা শুরু করেন। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই দেখা যায় কোনো না কোনোভাবে আগ্রহ কমতে থাকে এবং একটা পর্যায়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েন এবং হারিয়ে যান। আপনি যদি বিগিনার লেভেলের একজন ক্রিয়েটর হয়ে থাকেন আপনিও একই প্রবলেম ফেইস করতে পারেন।
্তাই আমি আজ শেয়ার করবো কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে আপনি নিজেকে কীভাবে কনসিস্টেন্ট রাখবেন, এবং আল্টিমেইটলি একজন সফল ক্রিয়েটর হয়ে উঠবেন।
তো আসুন জানা যাক কীভাবে নিজেকে Consistent রেখে একজন সফল ক্রিয়েটর হয়ে উঠবেন। তার জন্য নিচের স্টেপগুলো ফলো করুনঃ
✅ নাম্বার ০১ঃ ক্লিয়ার লং টার্ম গোল এবং মাইক্রো গোল সেট করুন
প্রথমে একটা লংটার্ম গোল ঠিক করুন—যেমন ১ বছরের মধ্যে ১ লাখ ফলোয়ার অর্জন করবেন। তারপর সেই বড় লক্ষ্যটিকে ছোট ছোট মাইক্রো গোল এ ভাগ করুন, যেমন ১ মাসে কত ফলোয়ার চান, ১ সপ্তাহে কত চান ইত্যাদি। এতে আপনার কাজ করার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে।
বড় কোনো লক্ষ্য সবসময় আমাদের মোটিভেটেড রাখে, তবে শুধু বড় লক্ষ্য থাকলে প্রতিদিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন, আপনি যদি ঠিক করেন এক বছরে ১ লাখ ফলোয়ার পাবেন — এটা আপনার লং টার্ম গোল। এরপর এটাকে ভাগ করে নিন ছোট ছোট মাইক্রো গোলে, যেমন মাসে ৫ হাজার ফলোয়ার, সপ্তাহে ১ হাজার ফলোয়ার এভাবে ।
তারপর সেটার জন্য কি কি একশন নিতে হবে সেটা ঠিক করুন। এতে আপনি প্রতিদিনই ছোট লক্ষ্যের দিকে কাজ করবেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় বড় লক্ষ্যও অর্জিত হবে। ছোট ছোট সাকসেস আপনাকে নিয়মিতভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আপনি কনসিস্টেন্ট থাকবেন এবং একসময় বড় লক্ষ্যও অর্জিত হয়ে যাবে।
✅ নাম্বার ০২ঃ আপনার গোল এচিভের স্ট্রং হোয়াই খুঁজে বের করুন
যেকোনো কাজ করতে হলে তার পিছনে একটি শক্ত কারণ থাকা দরকার। আমরা আমাদের জীবনে কোন কাজ করিনা কারন ছাড়া। যেমন ধরুন- আপনি ৫০ তলা একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন, আর সামনেই আরেকটি ৫০ তলা বিল্ডিং। এর মাঝখানে সরু একটি বাঁশ দিয়ে সংযোগ করা হলো। আপনাকে বলা হলো, এই বাঁশের উপর দিয়ে পার হতে পারলে ১,০০০ টাকা দেয়া হবে। নিশ্চয়ই কেউ রাজি হবেন না। এই ঝুকিটা নিতে।
কিন্তু যদি একই পরিস্থিতিতে আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, মা-বাবা বা সন্তান, ওই বিল্ডিংয়ে আটকা পড়েন এবং সেখানে আগুন লেগে যায়-তাহলে আপনি ভয়ে থাকলেও ট্রাই করবেন মরিয়া হয়ে ।
এখন লক্ষ্য দু’টিই একই, কিন্তু কারণ আলাদা। এর মানে হলো- লক্ষ্য পূরণের পেছনে যদি শক্ত হোয়াই মানে কারন থাকে, তাহলে আপনি যেভাবেই হোক কনসিস্টেন্ট থাকবেন। তাই আপনার কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জন্যও একটি স্ট্রং হোয়াই বের করুন। কেন আপনি এটা করতে চান ?
✅ নাম্বার ০৩ঃ রুটিনে টাইম ব্লক করুন
Consistency মানে হলো নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত কাজ করা। আর কন্সিটেন্টলি করতে হলে আপনাকে আগেই জানতে হবে এই কাজ টা আপনি কখন করবেন।
এজন্য প্রতিদিন আপনার রুটিনে নির্দিষ্ট সময় শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জন্য ব্লক করুন। যখন কনটেন্ট তৈরির সময় আপনার ক্যালেন্ডারে বুকড থাকবে, তখন সেটা অন্য কোনো কাজে রিপ্লেস হবেনা। এটা আপনাকে ফোকাসড রাখবে এবং নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
✅ নাম্বার ০৪ঃ ইফেক্টিভ একশন প্ল্যান তৈরি করুন
কনটেন্ট ক্রিয়েশন যদি এলোমেলোভাবে করেন, তাহলে খুব দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে যাবেন। বরং একটি স্টেপ-বাই-স্টেপ একশন প্ল্যান বানান ।
🚀যেমন- আইডিয়া জেনারেট করা → রিসার্চ করা → স্ক্রিপ্ট লেখা → শুট করা → এডিট করা → পাবলিশ করা।
এভাবে যদি আপনি স্টেপ বাই স্টেপ কাজগুলো আগেই ভাগ করে নিন তাহলে আপনার কাজের ফ্লো স্পষ্ট থাকবে, তখন কাজ করতে ইজি লাগবে, ফোকাসড থাকবেন এবং কনসিস্টেন্ট থাকতে সহজ হবে।
✅ নাম্বার ০৫ঃ Batching পদ্ধতিতে কনটেন্ট ক্রিয়েট করে Content Bank তৈরি করুন
একসাথে কয়েকটি কনটেন্ট তৈরি করে রাখুন এবং কনটেন্ট ব্যাংক বানান। ধরুন একদিন বসে আপনি একসপ্তাহের কনটেন্ট তৈরি করে রাখতে পারেন , তাহলে পরের কয়েকদিন আপনাকে নতুন কনটেন্ট বানানোর জন্য চাপ নিতে হবেনা।
আপনি শুধু ডিস্ট্রিবিউট করবেন এবং কনটেন্টে এঙ্গেইজমেন্ট বাড়ানোতে কাজ করবেন। এই Content Bank আপনাকে অনিয়মিত হতে দেবে না এবং সবসময় কনসিস্টেন্সি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
✅ নাম্বার ০৬ঃ কমন, সহজ এবং ইফেক্টিভ ফরম্যাট ইউজ করুন
প্রতিবার নতুনভাবে কনটেন্ট বানাতে গেলে সময় বেশি লাগে এবং ক্লান্তিও আসে। কিন্তু আপনি যদি নির্দিষ্ট কিছু টেমপ্লেট বা ফর্ম্যাট ইউজ করেন, তাহলে কনটেন্ট তৈরি অনেক সহজ হয়ে যাবে।
যেমন, HVC ফর্ম্যাট (Hook–Value–CTA)। এতে আপনি ভ্যালু অ্যাড করে কনটেন্ট বানাতে পারবেন, এবং এটা আপনার স্পিড ও কনসিস্টেন্সি দুইটাই বাড়াবে।
কনটেন্ট লেখা বা ভিডিওর ক্ষেত্রে HVC ফর্ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
😃 আমি এখানে ছোট করে ব্যাখ্যা করছি
👉 H = Hook (মনোযোগ আকর্ষণ করার লাইন)
👉 V = Value (যেটা থেকে পাঠক শিখবে/উপকৃত হবে)
👉 C = CTA (একটি সহজ কল টু অ্যাকশন)
এই টেমপ্লেট ব্যবহার করলে আপনার লেখা সহজ হবে, দ্রুত হবে এবং ধারাবাহিকভাবে কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন।
✅ নাম্বার ০৭ঃ কনটেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করুনঃ
দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেমন ক্যালেন্ডার ফলো করি সময়মতো কাজ করার জন্য তেমনি কনটেন্টের ক্ষেত্রেও এটা জরুরী। তাই কোন দিন কোন কনটেন্ট যাবে সেটার একটি ক্যালেন্ডার বানান।
ক্যালেন্ডার থাকলে কনফিউশন কমবে, প্রতিদিন কী তৈরি করতে হবে সেটা আগে থেকেই ক্লিয়ার থাকবে। এর ফলে আপনার কাজ এলোমেলো হবে না এবং নিয়মিত কনটেন্ট দেয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।
✅ নাম্বার ০৮ঃ অটোমেশন টুলস ইউজ করুন
আপনার ব্যাস্ত জীবনে আপনি সময় মত সবসময় হয়তো পোস্ট করতে পারবেন না। এজন্য অটোমেশন টুলস ব্যবহার করুন, যেমন ফেসবুকের Meta Business Suite।
এটাতে কনটেন্ট আগে থেকে স্কেজিউল করা যায়। কয়েকদিনের কনটেন্ট আগে থেকেই স্কেজিউল করে রাখলে ব্যস্ততা বা ভ্রমণকালেও আপনার পেজে কনটেন্ট নিয়মিত যাবে। এটা আপনাকে কনসিস্টেন্সি ধরে রাখতে অনেক হেল্প করবে।
✅ নাম্বার ০৯ঃ একাউন্টেবিলিটি সিস্টেম ক্রিয়েট করুন
অডিয়েন্সকে আগেই জানিয়ে দিন- কোন দিন কোন কনটেন্ট আসবে। এটা আপনাকে এক ধরনের চাপ দেবে কনটেন্ট নিয়মিত তৈরি করার জন্য। এছাড়া আপনি চাইলে আমাদের Content to Cash গ্রুপে সাপ্তাহিক লক্ষ্য শেয়ার করতে পারেন। এতে করে অন্যদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়ার কারণে আপনি আরও বেশি কনসিস্টেন্ট থাকবেন।
✅ নাম্বার ১০ঃ কিছু কাজ ডেলিগেট করুন (সম্ভব হলে)
সব কাজ একা করা সম্ভব নয়। তাই যদি এফোর্ট করতে পারেন, তাহলে আইডিয়া জেনারেশন, স্ক্রিপ্ট লেখা, এডিটিং বা থাম্বনেইল ডিজাইনের মতো কাজ অন্যকে ডেলিগেট করুন। এতে আপনার নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করা সহজ হবে। চাইলে এসব কাজে আপনি Bizers Academy এর সাপোর্টও নিতে পারেন।
💪 এই স্টেপগুলো যদি আপনি ফলো করেন, তাহলে কনটেন্ট ক্রিয়েশনে নিয়মিত থাকা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ।
😃 এখন বলুন তো, এই ১০টির মধ্যে কোন স্টেপটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান?
কমেন্টে লিখে জানান আমাকে 🤝
© Nayna Naima