09/09/2026
একজন মেয়ের বিয়ে বা মা হওয়ার পর আমাদের সমাজের একটা অদ্ভুত নিয়ম চালু আছে। একটা মেয়েকে তখন আর একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে দেখা হয় না; তাকে শুধুই তার 'রোল' দিয়ে মাপা হয়।
পান থেকে চুন খসলেই শুনতে হয়- "তুমি না মা? তুমি না ঘরের বউ? তুমি নিজের কথা ভাবছো কি করে ?
আমার মায়ের সাথেও এটাই হতে দেখেছি। মাঝে মাঝে এখন মায়ের দিকে তাকালে চাঁপা কষ্ট লাগে সেই কত অল্প বয়সে শুরু হয়েছিলো তার মায়ের চাকরি, বউয়ের চাকরি। এখনো করেই চলছে। 😥
এই চাকরি করতে করতে সে বেমালুম নিজের কথা ভুলে যায়। সকালে খানিক লেইট করে ঘুম থেকে উঠতে, একটু বিশ্রাম নিতেও এই মায়েদের অপরাধ বোধ কাজ করে। কারন তাহলেই খারাপ মা, খারাপ বউ ট্যাগ দেয়া হবে।
এই যে প্রতিনিয়ত অপরাধবোধ তৈরি করা, এটার ভয়েই একজন নারী অজান্তেই একটা মারাত্মক ফাঁদে পা দেন- 'সবাইকে খুশি করার প্রতিযোগিতা' (People Pleasing)।
তিনি ভাবেন, সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে পারলেই হয়তো সমাজ তাকে 'ভালো বউ' বা 'ভালো মা'-র স্বীকৃতি দেবে। আর এই স্বীকৃতি পাওয়ার অদম্য চেষ্টা থেকেই তৈরি হয় Approval Addiction।
তিনি সবার চাহিদা মেটাতে মেটাতে নিজের ক্ষুধা, ক্লান্তি, স্বপ্ন আর 'না' বলার ক্ষমতাকে বেমালুম ভুলে যান।
কিন্তু সাইকোলজিক্যাল ট্রুথ হলো- সবাইকে খুশি করার এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত কাউকেই খুশি করে না, এমনকি নিজেকেও না।
কারণ প্রত্যাশার কোনো শেষ নেই। আপনি নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে ১০০% দেওয়ার পরও, যেদিন ১% কম পড়বে- সেদিন আপনি প্রশ্নের সম্মুখিন হবেন।
এর মানে এটা না আপনি অন্যের জন্য করবেন না। কিন্তু সেখানে একটা healthy boundary সেট করা উচিত- নিজের জন্য, আপনার সন্তানের ভালো ভবিষ্যতের জন্য। একজন সুখী মা ই পারে সুখী, সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে।
তাই নিজের জীবনের ঔনারশিপ (Self-Ownership) নেওয়া কোনো স্বার্থপরতা নয়। এটি আপনার মানসিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায়-
◾ ১. নিজের স্বতন্ত্র সত্তাকে স্বীকৃতি দিন: আপনি কারও বউ, মা বা সন্তান হওয়ার আগে নিজে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ। আপনার নিজস্ব স্বপ্ন, ভালো লাগা এবং ক্লান্তি থাকার পূর্ণ অধিকার আছে।
◾ ২. অপরাধবোধ ছাড়া 'না' বলতে শিখুন: সব অনুরোধে রাজি হওয়া আপনার দায়িত্ব নয়। নিজের শারীরিক ও মানসিক সীমানা বজায় রাখা মানে আপনি খারাপ মানুষ নন, বরং আপনি একজন আত্মসচেতন মানুষ।
◾ ৩. নিজের খুশির দায়িত্ব নিজে নিন: অন্যের দেওয়া বাহবা বা প্রশংসার ওপর নিজের আত্মমূল্য (Self-Worth) নির্ভর করতে দেবেন না।
মনে রাখবেন, যে নিজের সীমানা নিজে রক্ষা করতে জানে না, সমাজ তার ওপর সব সময় অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেবে।
যে নিজের বাউন্ডারি নিজে রক্ষা করতে পারে না, পৃথিবী তাকে খালি ব্যবহারই করে যায়। অন্যের মন জোগাতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ছক থেকে আজই বেরিয়ে আসুন।
"সবার কাছে 'ভালো' হওয়ার চেয়ে, নিজের কাছে 'সত্যিকারের সুস্থ ও জীবন্ত' মানুষ হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
সমাজ বা পরিবারের প্রত্যাশা মেটাতে গিয়ে কি আপনিও নিজের অজান্তেই এই 'পিপল প্লিজার' হওয়ার ফাঁদে আটকে গেছেন?
For transformation follow- Nayna Naima ❤
[ 💡 ক্রিয়েটিভিটি শেয়ার করলে বাড়ে, কিন্তু কপি করলে হারিয়ে যায়! তাই ভালো লাগলে নির্দ্বিধায় Share অপশনটি ব্যবহার করুন, কিন্তু অনুমতি ছাড়া কপি-পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ আপনার ভালোবাসার জন্য। ©Nayna Naima, 2026.]