11/04/2026
কুকুরটা বাঁচার জন্য ছটফট করছে মাজারের পুকুরে। পাশে দারোয়ান টাইপের লোকটা দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছে। কিছুতেই কুকুরটা উপরে উঠে আসতে পারছে না।
কুমিরটা খুব ধীরগতিতে কুকুরটার দিকে এগিয়ে আসছে। তাঁর কোন তাড়া নেই। শিকার পালাতে পারবে না, সে জানে। কারণ সে এই ঘটনার সাথে অভ্যস্ত।
একবার নয়, দুবার নয়। হাজারবার। ধলাপাহাড়ের মৃত্যুর সময় বয়স নাকি হয়েছিলো ৩০ বছর। তাহলে বলা যায় প্রায় সহস্রবারেরও বেশী এসব রেডিমেড শিকারের স্বাদ গ্রহণ করেছে সে।
শেষ পর্যন্ত কুকুরটা আর পালাতে পারেনি। হয়তো ওর পা ভেঙ্গে কেউ এখানে ফেলে দিয়েছিলো। অথবা পা দড়ি দিয়ে বেঁধে। কিছু একটা করেছে। নয়তো সহজেই উঠে আসার কথা। পা বাঁধার কথাই অনেকে বলছে। ভিডিও দেখেও সিওর হতে পারিনি।
এক পর্যায়ে নিরীহ অবুঝ প্রাণীটার ঘাড় মটকে ধরে কুমির নিজের ক্ষুধা মিটায়। আশেপাশের মানুষগুলো এই তামাশা দেখে গেলো।
২০২৬ সাল। অথচ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ডুবে আছে দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ।
কারো বিয়ে থেমে আছে, কারো ঘরে নেই সন্তান, কারো ঘরে দারিদ্র্যতা নাচে, কারো দাম্পত্যের অবসান। কারো ছেলে বই ছেড়ে দেয়, মন বসে না পড়ায়, কারো শরীর রোগে ভাঙে, দিন কাটে শুধু কষ্ট ছায়ায়।
কেউ মামলায় জড়িয়ে পড়ে, কেউ আবার জিতে যায়, জীবনের এই টানাপোড়েন, সবাই নিজের সমাধান চায়। আর সব সমস্যার একটাই সমাধান, মাজারের কালা...ধোলা পাহাড়দের করাতে হবে ভুঁড়িভোজ।
কখনো মুরগি, কখনো হাঁস, কখনো ছাগল বলি, যত সমস্যা, সব নাকি মেটে, এই বিশ্বাসেই বলে 'আমরা চলি'। জঙ্গলের কুমিরও পায় না এত রাজার ভোজ, এখানে শুধু মানতকারীর অন্ধ বিশ্বাসেই মিলে সমাধানের খোঁজ।
ফেসবুকে কিছু পেজই আছে। যাদের কাজ হচ্ছে প্রতিদিন বাগেরহাট খান জাহান আলী মাজারের কুমিরের মানতের জীবন্ত পশু প্রাণীর ভক্ষনের দৃশ্য ভিডিও করে।
আজকেও তেমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। অত্যন্ত হৃদয় বিদারক দৃশ্য।
কিছুদিন আগে দেখলাম, একজন মা তাঁর ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে এসেছেন। হাফেজ বানানোর মানত করেছেন। মানতের পশু কুমিরকে খাওয়াতে এসেছেন। যেন ছেলেকে হাফেজ বানাতে পারেন।
বেটি তুই তোর সন্তানকে হাফেজ বানাবি। কুরআনের পাখি বানাবি, ভালো কথা। সন্তানের মেধা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ্ তায়ালার কাছে চা!
তুই মাজারের মৃত লাশের কাছে কেন চাইবি! তুই কেন কুমিরের কাছে চাইবি? তোদেরকে কী কেউ শিরক কী! শিরকের ভয়াবহতা সম্