21/07/2026
একটা কথা অনেক দিন ধরেই বলতে চাইছিলাম...
কারও সন্তানকে নিয়ে কথা বলা আমার অভ্যাস নয়। কারণ আল্লাহ সন্তানের দায়িত্ব মা-বাবার হাতেই দিয়েছেন। কে কীভাবে নিজের সন্তানকে বড় করবেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
তবে যখন দেখি একটি ছোট্ট শিশুকে নিয়ে শত শত মানুষ এমন মন্তব্য করছে—"দেখলেই থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করে!"—তখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে। একটি শিশুকে ঘিরে এমন প্রতিক্রিয়া কখনোই স্বাভাবিক হওয়া উচিত নয়।
শিশুরা তো নিষ্পাপ। তাদের পৃথিবী হওয়া উচিত খেলাধুলা, পড়াশোনা, দুষ্টুমি, স্বপ্ন আর সুন্দর কিছু শেখার। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যদি তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া হয়, যেখানে এক পক্ষকে সমর্থন করতে গিয়ে অন্য পক্ষকে অপমান করাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়, তাহলে সেই শিক্ষার দায় শিশুর নয়—দায় বড়দের।
আজ একটি ৪ বছরের শিশুকে নিয়েও মানুষ কটু কথা বলছে, ট্রল করছে। এটা দেখে আমার প্রশ্ন জাগে—আমরা আসলে আমাদের সন্তানদের কী শেখাচ্ছি?
ভাইরাল হওয়ার নেশায় আমরা যেন ভুলে না যাই, একটা শিশুরও অনুভূতি আছে, ভবিষ্যৎ আছে, একটা সুন্দর শৈশব পাওয়ার অধিকার আছে। কয়েক মুহূর্তের জনপ্রিয়তার জন্য তাকে মানুষের সমালোচনার বিষয় বানিয়ে দেওয়া কোনো অর্জন হতে পারে না।
আর মিডিয়ার ভূমিকাও হতাশাজনক। দেশে আলোচনা করার মতো কত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, অথচ ভাইরাল কিছু পেলেই সেটাকেই বড় করে প্রচার করা হয়। এতে সমাজের কী উপকার হচ্ছে, সেটাও ভাবার সময় এসেছে।
আমার মনে হয়, সন্তানকে জনপ্রিয় নয়—মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটাই সবচেয়ে বড় সফলতা। তাকে পড়াশোনা শেখান, খেলাধুলা করতে দিন, অন্যকে সম্মান করতে শেখান, মানবিক হতে শেখান, পরিবারের দায়িত্ব বুঝতে শেখান। তাদের শৈশবকে শৈশবের মতোই উপভোগ করতে দিন।
এমনভাবে সন্তানকে বড় করুন, যেন তাকে দেখলে মানুষ ভালোবাসা নিয়ে কাছে আসে, সম্মান করে। এমন নয় যে তাকে দেখলেই কটূক্তি বা বিদ্রূপ করতে ইচ্ছে হয়।
আর যদি কনটেন্ট ক্রিয়েটর বানানোর ইচ্ছা থাকে, তাহলে এমন কনটেন্ট তৈরি করুন, যা শিশুর জন্য সম্মান বয়ে আনে, ভালোবাসা এনে দেয়। সাময়িক ভাইরালের চেয়ে একটি সুন্দর চরিত্র আর সুন্দর শৈশব অনেক বেশি মূল্যবান l