R.R media

R.R media Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from R.R media, Digital creator, Dhaka.

হৃদয় জয়ে প্রয়োজন সুন্দর আচরণ,,, R.R media তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ,,, আপনাদের গল্প ও বিনোদন, সাংস্কৃতিক তে মাতিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের
ধন্যবাদান্তে
নাসিম উদ্দিন রিফাত
পরিচালক R.R media

 #প্রিয়তার_পূর্ণতা   ৩৪/প্রথম অংশ মা ও প্রলয়ের কথার মাঝখানে হটাৎ মা বলে উঠলো,"তোর বউকে কী আমি মেরে ফেলেছি নাকি?বিষ খাইয়ে...
01/09/2026

#প্রিয়তার_পূর্ণতা


৩৪/প্রথম অংশ

মা ও প্রলয়ের কথার মাঝখানে হটাৎ মা বলে উঠলো,"তোর বউকে কী আমি মেরে ফেলেছি নাকি?
বিষ খাইয়েছি নাকি আগুনে পুড়িয়েছি, নাকি পানিতে ডুবিয়েছি কোনটা বল? "

প্রলয় সেকেন্ড দুয়েক চুপ থেকে বলল, "তুমি তো আমার বউকে হাতে মারোনি। মেরেছো কথা দিয়ে, খোটা দিয়ে, ডিপ্রেশন দিয়ে, ভয় দিয়ে।
একটা সুস্থ মানুষকে মেরে ফেলার জন্য এগুলোই এনাফ।"

মা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "তোর সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব। তু্ই আমাকে মন থেকে অপরাধী ভাবিস। তোর চিন্তা ভাবনা আমি বদলাতে পারবোনা। শুধু একটা কথা শুনে রাখ, আমার কোনো দোষ নেই।
অদিতির মৃত্যুতে আমার কোনো হাত নেই।"

"তাহলে বলো সেদিন কী হয়েছিল?
১৫ই সেপ্টেম্বর। মনে আছে?"

মায়ের মুখটা এবার শুকিয়ে গেল।
বরাবরের মতো এইবারও বলল, "আমি কিছু জানিনা। তু্ই যা দেখেছিস, আমিও তাই দেখেছি।"

প্রলয় চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস নিল।
নিজের ঘরের দিকে যেতে লাগলো। পেছন থেকে বুয়া বলল, "খাবার টা কী ঘরে দেব বাবা?"

প্রলয় সিঁড়ির ওপর থেকে বলল, "খাবোনা। ক্ষিদে নেই।
কাল প্রিয়তার বাবার বাড়িতে দাওয়াত আছে। সবাইকে বলবেন তৈরী যেন হয়ে থাকে। আমায় যেন ছোট না করে। এমনিতেই অনেক ছোট করেছে আমায়।"

ঘরে চলে গেল প্রলয়।
বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করলো। চোখের পাতায় অদিতির কতো স্মৃতি।
অদিতির সাথে প্রথম দেখা হয় এক বৃষ্টির দিনে।
প্রলয়ের তখন বয়স কম।
সবে একটা জব হয়েছে ছোটোখাটো।
একদিন নাইট ডিউটি থাকায় বাড়ি ফিরতেই রাত।
অফিস থেকে বের হয়ে রিকশার জন্য দাঁড়িয়েছে সে।
আকাশে মেঘ ডাকছে। বৃষ্টি হবে। ফোন বের করে বারবার ঘড়ির টাইম দেখছিল। রাত ১০ টা বেজে ১২ মিনিট।
১০ মিনিট দাঁড়িয়েও যখন রিকশা পেল না, তখন ভাবলো হেঁটে সামনে গিয়ে দেখবে।
কিছুটা পথ হাঁটার পর খেয়াল করলো একটা মেয়ে সামনে থেকে কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে আসছে।
প্রলয় হাঁটার গতি কমিয়ে এনে মেয়েটাকে দেখলো।
মেয়েটা যখন তার কাছাকাছি এলো, হটাৎ হাঁটা থামিয়ে দিয়ে রাস্তার একপাশে গিয়ে বসে পড়লো।
প্রলয় ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
মেয়েটা কাঁদছে। প্রলয়ের সন্দেহ হলো মেয়েটার সাথে খারাপ কিছু হয়েছে কিনা!
এগিয়ে গেল সে।
ধীর স্বরে বলল, "শুনছেন?"

মেয়েটা তাকালো।
ওর চোখে ঘনো কাজল। মায়াবী মুখটা।
চোখের পানিতে ল্যাম্পপোস্টের আলোতে আরো সুন্দর লাগছে। প্রলয় থমকে গেল যেন এক মুহূর্তের জন্য।
তাকিয়েই রইলো। মেয়েটা উঠে দাঁড়ালো। প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে নাক টানছে।
প্রলয় বলল, "কে আপনি? নাম কী? বাসা কোথায়? এতো রাতে কী করছেন এখানে?"

মেয়েটা কান্নার চোটে কোনো কথা বলতে পারছে না।
প্রলয় তাকে এক বোতল পানি দিয়ে বলে, "এটা খেয়ে নিন।"

মেয়েটা এক মুহূর্ত কিছু না ভেবে পানি খায়। খেয়ে কিছুটা শান্ত হলে প্রলয় আবারো করে প্রশ্ন গুলো।
মেয়েটা বলল, "আমার নাম অদিতি। ঐ যে ঐদিকে একটা গলি দেখছেন!ঐখানে আমি থাকি। একজনের বাড়িতে ভাড়া থাকি আমি।
তিন মাস বাড়ির ভাড়া দিতে পারিনি। আসলে আমার কেউ নেই। টিউশন করাই আমি। কিন্তু তিনমাস হলো দুটো টিউশন বন্ধ হয়ে গেছে।বাকি দুটো দিয়ে কোনো মতে আমি আমার পড়াশোনা আর খাবারের খরচ চালাই।
এজন্য তিনমাস বাড়ির ভাড়া দিতে পারিনি।
বাড়িওয়ালা আজ রাত দশটা পর্যন্ত টাইম দিয়েছিল আমায় ভাড়া মেটাতে। আমি অনেকের কাছে ধার চেয়েছি। পাইনি। তাই আমায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।"

মেয়েটা আবারো কাঁদতে শুরু করলো।
প্রলয়ের ভীষণ মায়া হলো। বলল, "কাঁদবেন না প্লিজ। আপনার মা-বাবা বা পরিবারের অন্য কেউ নেই?"

" আমি মায়ের পেটে থাকতেই মারা গিয়েছে বাবা।মা আমার জন্মের সময়।
এজন্য সবাই আমায় আনলাকি মনে করে।
আমায় আমার নানু মানুষ করেছে। মাস ছয়েক আগে সেও মারা গিয়েছে। এরপর মামারা আমায় ঘার থেকে নামাতে বিয়ে দিতে চায় এক বয়স্ক লোকের সাথে। আমি তখন পালিয়ে আসি। নিজের মতো থাকতে শুরু করি। একটা ঘর ভাড়া নেই। টিউশন করাই। পড়াশোনাটা চালিয়ে যাই।"

মেয়েটা চুপ গেল। নাক টানছে।
প্রলয় বলল, "এখনকার মানুষের মাঝে আর মানবতা নেই। একা একটা মেয়েকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
আপনি এখন যাবেন কোথায়?"

অদিতি আবারো কান্না শুরু করলো।

"কাঁদবেন না প্লিজ। আমি চেষ্টা করবো আপনাকে হেল্প করতে।
আমার কিছু মেয়ে কলিগ আছে ওরা দুটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকে। শুনেছিলাম ওদের একটা বেড খালি আছে।
আমি কথা বলে দেখছি ঐখানে আপনাকে শিফট করা যায় কিনা।"

মেয়েটা কিছুটা আশার আলো পায়।
প্রলয় কথা বলে জানতে পড়লো জায়গাটা এখনো খালি।
প্রলয় বলল, "আপনি ওখানে থাকতে পারবেন। ঐ ফ্ল্যাটের আসেপাশে আপনাকে টিউশন ম্যানেজ করে দিতে বলবো ওদের। তাহলে আপনার আর কোনো সমস্যা থাকবেনা।"

অদিতি খুশি হলো ভীষণ। প্রলয়ের দু-হাত ধরে ধন্যবাদ দিলো।
প্রলয় স্নাল হাসলো।

একটা রিকশা দেখতে পেয়ে দাঁড় করায় প্রলয়। মেয়েটাকে উঠে বসতে বললে মেয়েটা বসছে না। জড়তা কাজ করছে।
প্রলয় বলল, "যেতে অনেকটা সময় লাগবে। আমায় একবার বিশ্বাস করে উঠে বসুন।
আপনার কোনো অপমান আমি করবোনা।"

মেয়েটা এবার উঠে বসলো। প্রলয় তার পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে মেয়েটার হাতে দিল। মেয়েটা চোখের পানি মুছলো।
রিকশা চলছিল। দমকা বাতাস এসে অদিতির চুল গুলো এলোমেলো করে দিচ্ছিলো। প্রলয়ের মুখে ঝাপ্টা লাগছিল।
প্রলয় আড় চোখে মেয়েটাকে দেখলো। টানা টানা দুটো চোখ। লম্বা চুল কোমরের নিচে। পরনের সাদা জামায় আরো সুন্দর লাগছিল। এ যেন সাক্ষাৎ কোনো পরি!

এটাই ছিল দুজনের প্রথম দেখা।

প্রলয় আনমনে হাসলো।
নিজের ভাবনায় এতক্ষন মশগুল ছিল সে। ফোনটা যে কখন থেকে ভাইব্রেট করছে তা খেয়াল করেনি।
ঘুম পাচ্ছে তার। বিছানায় মাথা দিতেই একটা মিষ্টি ঘ্রান ভেসে এলো। এটা প্রিয়তার শরীর থেকে পায় সে।
ঘ্রানটা তাকে মাতাল করে দেয়।
বালিশের কাছে প্রিয়তার একটা ওড়না পড়ে আছে। প্রলয় হাতে নেয় সেটা। নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রান নেয় গভীর ভাবে।
না আর পারছেনা সে।
ওড়নাটা গলার সাথে নিয়ে ফোনটা হাতে নেয়। প্রিয়তা কল করেছিল ভিডিও কল।
প্রলয় ব্যাক করে দ্রুত। প্রিয়তা রিসিভ করে কল।
প্রলয়কে তার ওড়না গলায় নিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে, "আপনি আমার ওড়না নিয়ে কী করছেন?"

"আপনার গায়ের ঘ্রান পাচ্ছিলাম। তাই সেটা অনুভব করছিলাম। কী আর করবো বলুন! আপনাকে তো পাচ্ছি না। আপনাকে ভীষণ দরকার ছিল এখন আমার।"

"চুপ করুন। উল্টোপাল্টা না বলে ঘুমোন গিয়ে।আপনি ভীষণ পাজি!"

"যাক বাবা!আমি কী করলাম? আপনিই তো আমায় কল করেছেন। "

"সে করেছিলাম একটা দরকারে। এখন দরকার মিটে গেছে। আপনি ঘুমোন।"

প্রলয় প্রিয়তার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। এরপর ফট করে বলল, "ওড়নাটা সরান।"

"ছি ছি। এসব কী বলছেন? কেউ চলে আসবে। আপনি ঘুমিয়ে জান।"

প্রলয় দৃঢ় গলায় বলল, "যেটা বলছি করুন। কাম ফার্স্ট।"

প্রিয়তা ধীরে ধীরে ওড়নাটা সরালো।
প্রলয় প্রগাঢ় দৃষ্টিতে কিছু যেন দেখলো। এরপর বলল,"ওটা কিসের দাগ? লাল লাল।ছোপ ছোপ। "

প্রিয়তা নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে বলল, "এটা? মনে নেই কিসের দাগ? এটা আপনি করেছেন। এমন অসংখ্য দাগ আছে আমার শরীরে।"

প্রলয় মুচকি হাসলো।
বলল, "সরি সরি। মনে ছিল না। ওগুলো দাগ না গাধা। ওগুলো হলো প্রলয় সরকারের চিহ্ন। এই চিহ্ন দেখলে যে কেউ বুঝে যাবে আপনি ম্যারিড। কেউ আর বদনজর দেবেনা। ওটা একটা প্রটেকশন দিয়ে দিয়েছি আপনাকে।"

ওর কথা শুনে হাসলাম আমি।
বললাম, "হয়েছে এখন রাখুন। রোজা আবার ব্যাচেলর পার্টি করবে।আমায় সেখানে থাকতে বলছে। কতবার বলছি আমি থাকবোনা। শুনছে না ও।"

প্রলয় বলল,"সমস্যা কী!ইনজয় করুন। "

আমি 'ঠিক আছে ' বলে কল কেটে দিলাম।

রোজা এলো ঘরে। বলল, "হলো বরের সাথে কথা? এইবার ঐ ঘরে চল। সবাই ওয়েট করছে তোর জন্য।
আর শোন তু্ই কিন্তু ওয়েস্টার্ন পড়বি। আমরা সবাই পড়েছি। তোর ড্রেস আমি বিছানায় রেখেছি। তাড়াতাড়ি পড়ে চলে আয়।"

এই বলে চলে গেল রোজা। আমায় কিছু বলার সুযোগই দেয়নি।
অনেক দিন ওয়েস্টার্ন পড়িনি আমি।
আজ পড়বো। ইতস্তত বোধ হচ্ছে। কিছু বলতেও পারছি না। এই মেয়েটা আমায় সত্যিই পাগল বানিয়ে দিচ্ছে। কিছু বললেই মন খারাপ করছে।বলছে ও চলে যাবে। ওর সাথে সবাই খারাপ ব্যবহার করছে। বাধ্য হয়ে ওর সব কথাই শুনতে হচ্ছে।

বিছানা থেকে ড্রেসটা নিলাম। একটা ক্রপ টপস। আর জিন্স।

পড়তে তো হবেই। পড়ে নিয়ে দরজা দিয়ে উঁকি দিলাম। কেউ নেই। দিলাম এক দৌড়।
সোজা ঘরে গিয়ে ঢুকে ঘনঘন শ্বাস নিতে লাগলাম।
সবাই আমাকে দেখে ভীষণ খুশি হলো।
রোজা আমার হাত ধরে বলল, "ওয়াও প্রিয়তা। ইউ লুকিং সো হট।"।

"হয়েছে আর পাম দিতে হবেনা। এইবার বল কী করতে হবে আমায়?"

রোজা আমার হাত ধরে মাঝখানে নিয়ে গিয়ে বলল, "লেটস ডান্স বেইব।"

ওরা নাচতে লাগলো। খুব সাউন্ডে গান বাজছে।

সবাই খুব আনন্দ করছে।
আমি চুপচাপ রইলাম। ওরা অনেক সময় নাচ-গান করলো। এইটা একটা গার্লস পার্টি চলছিল।

ওদের নাচের পালা শেষ হলো।
রোজা বলল, "এখন আমরা একটা গেম খেলবো।"

চরম বিরক্ত নিয়ে বললাম, "এখন আবার গেম? ঘুমোবি কখন তোরা?
কাল কতো কাজ আছে।
কাল কিন্তু হলুদ হবে। অনেক প্রেশার। রাত তো অনেক হলো। এইবার ঘুমোনা সবাই।"

আমার এক কাজিন বলল, "প্লিজ আপু। মেনে নাওনা। এইটাই লাস্ট। গেমটা খেলেই ঘুমিয়ে যাবো আমরা।
জাস্ট আধঘন্টা সময় লাগবে। তুমি না থাকলে খেলা জমবে না।"

রোজা আমায় উস্কে দিতে বলল, "এই বাদ দে। প্রিয়তা ভয় পায়। ও পারবেনা।"

কথাটা আমার ইগোতে লাগলো ভীষণ। বললাম, "প্রিয়তা মেহজাহ পারেনা এমন কোনো খেলা নেই। আমি বসছি। তোরা সব প্রস্তুতি নে।"

গিয়ে বসলাম। রোজা একটা বোতল নিয়ে এলো।
সবাই গোল হয়ে বসে বলল, "ট্রুথ ওর ডেয়ার খেলা হবে। আশা করি সবাই এই খেলার নিয়ম জানে।
কিন্তু এইখানে আর একটা রুলস অ্যাড হবে। সবাইকে একবার ট্রুথ নেওয়ার পর একবার করে ডেয়ার নিতে হবে। এবং সেটা অবশ্যই ফুলফিল করতে হবে।"

আমি মাথা নাড়লাম।
বোতল সবার আগে আমি ঘোরালাম। আমার এক কাজিন বনাম অন্য কাজিন। ও ট্রুথ নিলে ওকে বলা হলো বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা ওর।

সবাই হইহই করে উঠলো। ও লজ্জা মিশ্রিত হেসে বলল 'আছে। '

এইবার আবারো বোতল ঘোরানো হলো।
আমি আর আমার ঐ কাজিন।
আমায় প্রশ্ন করলো প্রলয়কে আমি কতোটা ভালোবাসি।
বললাম, "ঠিক ভালোবাসি কিনা জানিনা। তবে ওকে দেখলে আমার মাঝে একটা মানসিক শান্তি আসে। ও আমার আশেপাশে থাকলে আমি ভরসা পাই। নিজেকে চিন্তা মুক্ত মনে হয়। মনে হয় আমি দূর আকাশের সবচেয়ে সুখী পাখিটা।"

এইভাবে একে একে সবাই ট্রুথ বলল। এইবার ডেয়ার নেওয়ার পালা।
প্রথমেই রোজা।ডেয়ারটা আমি দেব।
কিছুক্ষণ ভেবে বললাম,"তোর ডেয়ার হলো এখন থেকে কাল রাত পর্যন্ত আমায় আর তোর বরের কোনো কিছু পছন্দ করতে বলবিনা।"

রোজা মুখটা পাঁচ বানিয়ে নিল।সবাই আমরা হাসতে লাগলাম।বেচারা নিজেই ফেঁসে গেল।
রোজা বলল,"কিন্তু এখনোতো আমার বরের নাগড়া কেনা হয়নি।তু্ই পছন্দ না করে দিলে কিভাবে কিনবো?
ঠিক আছে আমার বরকে বলবো প্রিয়তা তোমায় নাগড়া ছাড়াই বিয়ে করতে বলেছে।"

চেঁচিয়ে উঠে বললাম,"কখন বলেছি আমি এই কথা?মিথ্যা বললে তোর দাঁত ভেঙে দেব।"

দুজনের জগড়ায় বাকি সবাই মজাই পাচ্ছে।
বোতল ঘোরাতেই এইবার আমার ডেয়ার।চিন্তায় পড়ে গেলাম।না জানি কী দিয়ে বসে আমায়।
কাজিন বলল, "তোমার ডেয়ার হলো তোমার হোয়াটসআপে চ্যাটলিস্টে যে প্রথমে আছে তাকে লিখতে হবে 'তোমায় ভালোবাসি আমি। কিন্তু বলতে পারিনি। আজ বলছি তোমায়। ভালোবাসবে কী আমায়?'

বললাম,"ঠিক আছে।"

ফোন হাতে নিতেই আমার কাজিন নিয়ে নিল ফোনটা। বলল, "তুমি চিটিং করতে পারো।
আমি লিখবো।"

আমি তাতেও রাজি হলাম। ও আমার ইনবক্স এ ঢুকে বলল, "বাহ্ কতো প্রেম।"

আমি হাসলাম।
প্রলয়ই আছে আমার চ্যাটলিস্টের প্রথমে। একটু আগেই কথা হয়েছে আমাদের।
বরকে ভালোবাসার কথা বলাই যায়।

ও মেসেজ টা লিখে ফোনটা ওর কাছেই রাখলো। আমরা আবারো খেলায় মন দিলাম।
এইভাবে এক ঘন্টা পার হয়ে গেল।রাত তখন দুটো ছুঁই ছুঁই।
বললাম, "আমি আর খেলতে পারবোনা।ঘুমে তাকাতে পারছিনা।"

রোজাও হাই তুলে বলল, "আমিও ভীষণ টায়ার্ড।"

আমি জামাটা বদলে এসে সেখানেই শুয়ে পড়লাম। বাড়ি আমার। যেখানে সেখানে ঘুমোলেও কোনো সমস্যা নেই। রোজাও আমার পায়ের কাছে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম দুজনেই। কে কোথায় শুয়েছে সেই খেয়াল নেই।

পাখির কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙলো আমার।
উঠে বসলাম। অবাক হলাম। আমার গায়ে চাদর দেওয়া।
কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি খালিই শুয়েছিলাম। তাহলেই কাঁথা দিয়েছে কে?
পেছনে তাকাতেই দেখলাম রোজাও শুয়ে আছে। ওর গায়েও কাঁথা টানা।
মনে হয় ও দিয়েছে। একটু নিশ্চিন্ত হলাম।

মা এলো। আমায় দেখে বলল, "উঠে গেছিস!হাত মুখ ধুয়ে নে। রোজাকে জাগিয়ে দে। নিচে এসে ব্রেকফাস্ট করে নে। কাজ আছে অনেক।"
মা চলে যেতে নিল।আমি মাকে ডাকলাম। মা পেছন ফিরে ভ্রু উঁচিয়ে কী হয়েছে জানতে চাইলো।
আমি ধীর পায়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
বললাম,"আচ্ছা মা প্রলয়কে তোমরা আগে থেকে চিনতে?"

"হটাৎ এই প্রশ্ন?"

"এমনিতেই।জানতে ইচ্ছে হলো।"

"তোর বাবা চিনতো।
ব্যবসায়িক কাজে একবার আমাদের বিরাট লস ঠেকিয়ে ছিল প্রলয়।
একটা ডিলের পেছনে অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছিল তোর বাবা। কিন্তু হটাৎ কোনো কারণে সেই ডিলের বাকি পার্টনার গুলো ডিলটা ছেড়ে দেয়। ঐখানে আমাদের অনেক টাকা ইনভেস্ট ছিল।
কাজ আরো বাকি ছিল।
ইনভেস্টার পাওয়া যাচ্ছিলো না।কোনোভাবে কাজটা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের বিশাল লস হয়ে যেত। উঠে দাঁড়াতে পারতাম কিনা সন্দেহ।
তখন প্রলয় আমাদের হেল্প করে। ওর রেফারেন্স এ ইনভেস্টার পাই।
ও নিজেও ইনভেস্ট করে।"

"তারপর?"

"তার সপ্তাহ দুয়েক পরে প্রলয় নিজেই তোর বাবার কাছে তোকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
প্রথমে আমি একটু নাকোচ ছিলাম। কিন্তু যখন তোর বাবা আমায় আস্বস্ত করলো তখন আর নিষেধ করিনি।
বিয়ে হয়ে গেল তোদের।"

আমি মাথা নিচু করে চুপ রইলাম।

মা আমায় বলল, "তু্ই কী সুখী নোস মা? আমরা কী কোনো ভুল করলাম?"

আমি ফিক করে হেসে দিয়ে মায়ের কাঁধ ধরে বললাম,"তোমাদের কোনো সিদ্ধান্ত কখনো ভুল ছিল নাকি মা?
আমি ভীষণ ভালো আছি। প্রলয় অনেক ভালো। আমার অনেক কেয়ার করে। "

মা হাসলো আমার গাল টেনে দিয়ে বলল, "ভয় পাইয়ে দিস আমায়।"

সে চলে গেল। আমি রুমে এসে রোজাকে ডাকলাম। ও উঠছেই না।

কানের কাছে বললাম, "বিয়ে করবিনা রোজা?"

ও সাথে সাথে উঠে গেল।
লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে মাথায় গায়ের চাদর টেনে নিয়ে বলল, "বর চলে এসেছে? চল আমি রেডি। ঘোমটা দিয়েছি চল।"

আমি হাসতে লাগলাম।
রোজা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।
চারপাশ থেকে বলল, "ওহ এই রুমে আমরা?
মজা করছিস? একটু হলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত।"

বললাম, "ফ্রেশ হয়ে আয়। নিচে যেতে হবে। সবাই মনে হয় উঠেই গেছে।"

রোজা হাঁটতে নিয়ে মাথা থেকে চাদরটা নিল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "এটা এলো কোথা থেকে?
তু্ই দিয়েছিস?"

বিস্ময়ের স্বরে বললাম, "না তোহ। আমি তো ঘুমিয়েছিলাম। আমার গায়ে ছিল চাদরটা টানা। ভাবলাম তু্ই দিয়েছিস।"

"আমি দেইনি। আমিও ঘুমিয়ে ছিলাম। টায়ার্ড ছিলাম খুবই।
এই চাদর, কাঁথা গুলোতো ঐ পাশের ঘরে ছিল। যেখানে ভাইয়া থাকছে।
এগুলো এখানে এলো কী করে?"

দুইজনে ভাবতে লাগলাম কে দিলো তাহলে।

তখনি আমার আর কাজিনরাও ঘরে এলো।
ওরা সবাই অন্য ঘরে চলে গিয়েছিল ঘুমোতে।
বললাম, "তোদের মাঝে কেউ কী রাতে এই রুমে এসেছিলি?"

ওরা বলল, কেউ আসেনি ওরা।তাহলে এলো টা কে?

(এই পর্বের আরেকটা পার্ট আসবে। ঐটা লিখতে একটু টাইম লাগবে। তাড়াতাড়ি দিয়ে দেব। কারেন্ট থাকেনা। বাচ্চা ঘুমায়না। আমি খুবই সমস্যায় আছি।
ফোনে চার্জ থাকেনা।)

আমার স্ত্রী। তিনি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। জন্মের পর থেকে পৃথিবীর কোনো শব্দ তাকে স্পর্শ করেনি। শব্দের ছোঁয়া কেমন? এর আবেগ...
01/09/2026

আমার স্ত্রী। তিনি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। জন্মের পর থেকে পৃথিবীর কোনো শব্দ তাকে স্পর্শ করেনি। শব্দের ছোঁয়া কেমন? এর আবেগ অনুভুতি তার কান, হদয় অনুধাবন করেনি। তার জবান থেকে কোনো শব্দ উচ্চারণ হয়নি। ভাষা প্রকাশ করার সামর্থ আল্লাহ তাকে দেয়নি। কিন্তু আমাদের বিয়ের প্রথম দিন থেকে যেটি অনুধাবন করলাম, তা হলো- তার অনুভুতি অত্যন্ত প্রখর। হৃদয়ভরা মানবিকতা। নানান ক্ষেত্রে তার দয়াভরা মন, বিনয়, সৌজন্যতা আমাকে মুগ্ধ করে।

একইভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার প্রচন্ড আক্ষেপ, ক্ষোভও আমি লক্ষ্য করি। কোথায়ও কোনো অন্যায় দেখলে তার ভাষায় আমাকে প্রশ্ন ছুড়বে, কেনো এটা হলো, ওটা হলো। কেউ কেনো এসব দেখছে না? নানান প্রশ্ন, প্রচন্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।

রাজবাড়িতে একজন নারীকে পুলিশ প্রটোকলের মধ্যেই গণহারে উশ্ছৃঙ্খল যুবকরা যেভাবে তার পেছন থেকে তাকে লাথি মারছিলো, এই দৃশ্য আমার স্ত্রীকে প্রচণ্ড আহত করেছে। তার কথা- পুলিশের সামনে এমন অসভ্য বর্বরতা কেনো ঘটলো? পুলিশ কেনো এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো না? ওই নারী কি কোনো অন্যায় করেছে? অন্যায় বা অপরাধ করলেও একজন নারীকে কি এইভাবে হেনস্থা করা যায়? তাও পুলিশ প্রটোকলের মধ্যেই!

সংসদ ভবনের সামনে এক নারী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারালো। টেলিভিশন, ইউটিউব, ফেসবুকে এসব দেখে তো বউ আমার প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। বাসায় ফিরতেই নানা প্রশ্ন। তার কথা, আমি সাংবাদিক। আমরা কেনো এসব নিয়ে কথা বলি না, লিখি না, সোচ্চার হই না, প্রতিবাদ করি না?

আমার স্ত্রী পড়া লেখা না জানা একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সাংকেতিক ভাষাও তিনি জানেন না। কিন্ত মহান রব এর করুণায় সে আমাকে বুঝে, আমিও তাকে বুঝি। যতটুকু তার পরিবার থেকে জানতে পেরেছি; শৈশবে বাড়ি, গ্রামের আট-দশটা ছেলে মেয়ের সঙ্গে সেও স্কুলে যেতো। কিন্তু, প্রাইমারি পর্যায়ের অর্ধেক না যেতেই সঙ্গী-সাথীদের নানান হাসি-ঠাট্টা, উত্যক্ত এবং বলতে পারেন বর্তমানে ‘মব কালচার’ নামে যে শব্দের সঙ্গে আমরা পরিচিত এমন পরিস্থিতিতে সে প্রায়ই পড়তো। যার কারণে প্রাইমারি স্কুল জীবনও শেষ করতে পারিনি। কিন্তু অনেক উচ্চ মার্গীয় ধ্যান-ধারণা সম্পন্ন একজন স্ব-শিক্ষিত ও সচেতন নারী হিসেবে সবসময় আমি তাকে দেখতে পাই। তার মধ্যে ওইসব গুণাবলী বিদ্যমান।

সত্যি কথা বলতে কি? তার অনেক প্রশ্নের জবাব জানা থাকলেও তাকে দিতে পারি না। সেসব জবাবের সাংকেতিক ভাষা তার যেমন জানা নেই, তেমনি আমারও জানা নেই। তাই অনেক কথাই তার সঙ্গে এড়িয়ে যাই। সেও দেখি মাঝে মাঝে আমার ওপরও বিক্ষুব্ধ হয়, ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এতটুকু বলে শেষ করবো- যে সমাজ, যে দেশ ও জাতি নারীদের সম্মান করে না, যেখানে নারীদের মর্যাদা ও কদর নেই, তাদের নিরাপত্তা নেই; সেই সমাজ অসভ্য-বর্বরতার প্রতীক হয়ে উঠে। জাহেলিয়াতেরও আলামত।

 #প্রিয়তার_পূর্ণতা   ৩৩সূর্য ডুবেছে সেই কখন। রাতো হয়েছে। তবে খুব বেশি গভীর নয়।আমাদের বড়ো গাড়িটা এসে থামলো রেস্টুরেন্টের ...
30/08/2026

#প্রিয়তার_পূর্ণতা


৩৩

সূর্য ডুবেছে সেই কখন। রাতো হয়েছে। তবে খুব বেশি গভীর নয়।
আমাদের বড়ো গাড়িটা এসে থামলো রেস্টুরেন্টের সামনে।
আমি নামলাম। মা নেমে চারপাশে দেখে আমার কানের কাছে বলল, "এখানে কেন নিয়ে এলো প্রলয় বাবা?"

আমি কিছু বললাম না। প্রলয় বলল, "ভেতরে চলুন আপনারা।"

মা ও পিপিয়া তখনো বলল, "বাবা আমরা বাড়ি চলে যাই না। প্রিয়তার বাবা কল করছে।"

"আপনারা আসুন। আমি বাবার সাথে কথা বলে নেব।"

মায়েদের নিয়ে রেস্টুরেন্টের ভেতরে গেল প্রলয়।
মানুষ আমরা চারজন অথচ প্রলয় নিল ফ্যামিলি টেবিল।
বিরাট বড়ো টেবিল।
ওয়েটারকে ডেকে বলল, "এইখানে যতো খাবার আছে সব দিন একপ্লেট করে।"

মা শুনে বলল, "এইসব কী বলছো বাবা? এতো খাবার কে খাবে? অর্ডার কমাও।নস্ট হবে।"

প্রলয় বলল, "হবেনা মা। আপনারা যা খাওয়ার খাবেন। বাকিটা আমি পার্সেল করে নেব।"

মা তবুও নিষেধ করলো। আমার দিকে তাকালো। চোখের ইশারায় নিষেধ করতে বলল। আমি বললাম, "ও আমার কথা শুনবে না মা। যা করছে করতে দাও।"

মিনিট দশেকের মাঝে সব খাবার হাজির। একের পর এক ওয়েটার আসছে আমাদের টেবিলে খাবার দিতে। পুরো রেস্টুরেন্টের ওয়েটার যেন আমাদের টেবিলেই। লোকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে শুধু। কেউ কেউ কানাকানিও করছে।
যেন আমরা ভিআইপি কেউ।
টেবিলে জায়গা হচ্ছে না রীতিমতো।ঠেসেঠুসে রাখা হলো কোনো মতে।
মায়েরা খাবার গুলো দেখে বলল, "এতো খাবার তো আমরা দশ দিনেও খেতে পারবোনা।"

প্রলয় বলল, "চিন্তা করবেন না মা। আমাদের সাথে একটা পেটুক আছে না? সব শেষ করে ফেলবে।"

প্রলয় আমার দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিল।
আমি রাগে গাল ফোলালাম। মা ও পিপিয়া হাসছে মিটিমিটি।

বললাম, "তোমরা হাসছো ওর কথা শুনে? আমার কিন্তু রাগ হচ্ছে।"

মা আমার গাল টেনে দিয়ে বলল, "আর রাগতে হবেনা।"

একটা প্লেট থেকে একটু পুডিং তুলে খাইয়ে দিয়ে বলল, "এই দ্যাখ পুডিং। তু্ই না পছন্দ করিস। হা কর।"

আমি খেলাম। পিপিয়া একটা প্লেট থেকে এক টুকরো বিফ তুলে খাইয়ে দিল আমায়।
বললাম এইবার তোমরা খাও।

ওরা ইতস্তত বোধ করছে প্রলয়ের সামনে খেতে। প্রলয় তা বুঝতে পেরে খেতে বলে চলে গেল।
আমি রোজাকে টেক্সট করলাম, "রোজা সকালে মায়েরা কী খেয়েছিল রে?"

রোজা রিপ্লাই করলো, "শুধু চা খেয়ে মামিমা আর আম্মু গিয়েছিল জুয়েলারির দোকানে গহনা বানাতে দিতে। ওখান থেকেই তোদের বাড়ি গেছে। কেন?"

বললাম কিছু না।

তার মানে সারাদিন আমার মা আর পিপিয়া না খেয়ে ছিল। ওরা বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও মা আর রিপা দুপুরের খাবার খেয়েছে। কী হতো আমার মা আর পিপিয়াকে নিয়ে মিলেমিশে খেলে? এমন নয় যে মাছ মাংস ছাড়া আমার মায়েরা খায় না।
এরা কতো পাগল!শুধু মাত্র আমায় এক নজর দেখার জন্য সারাদিন না খেয়ে বাড়িতে বসে রইলো।
অশ্রুসিক্ত নয়নে মা ও পিপিয়ার দিকে তাকালাম। কিছু বললাম না। ওরা হাসছে আর খাচ্ছে। দেখতে ভালো লাগছে আমার।
উঠে দাঁড়িয়ে মাকে বললাম, "তোমরা খাও আমি একটু আসছি।"

প্রলয়কে খুঁজতে লাগলাম। রেস্টুরেন্টটা অনেক বড়ো। এক সাইডে একটা পার্কিং জায়গা আছে। বেশ শুনশান।
প্রলয় সেখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। আমি গিয়ে দাঁড়াতেই সিগারেটটা ফেলে দিল।
বললাম, "আপনাকে না বলেছি স্মোকিং ইনজুরিয়াস টু হেলথ।"

প্রলয় হাসলো সহসা।
আমার দিকে এগোলো। আমার কোমর জড়িয়ে ধরে টেনে নিয়ে বলল, "তার থেকেও ক্ষতিকর আপনি। সবসময় আমার ব্রেইনে ঘুরছেন।বুকের মাঝে উঠে বসে আছেন। শরীরটা কব্জা করে রেখেছেন।কখন না জানি স্ট্রোক হয়ে যায়।
হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।"

সরে যেয়ে বললাম, "কথা ঘোরাবের না। আপনি কেন স্মোক করলেন?"

প্রলয় বলল, "সরি। আর করবোনা।"

"দাঁড়ান !এইভাবে আপনার শিক্ষা হবেনা। আপনি যেহেতু স্মোক করেন তো আমিও করবো।"

ওর পকেট থেকে ছোঁ দিয়ে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার নিয়ে ধরাতে নিলাম তাও উল্টো।
প্রলয় হাসতে হাসতে বলল, "আপনি নাকি আবার সিগারেট খাবেন। ধরেছেনই তো উল্টো করে।"

আমি বোকা বনে গেলাম। মনে মনে একটু লজ্জাও পেলাম।
ঘুরিয়ে নিয়ে ঠিক করে ধরালাম মম ধরানোর মতো করে। যেই না মুখে দেব, তার আগেই প্রলয় আমার হাত থেকে কেড়ে নিল সেটা। পায়ের তলায় পিষে আগুন নিভিয়ে আমায় কাছে টেনে বলল, "সিগারেট খায় মানুষ মানসিক শান্তির জন্য। আপনার সিগারেট খেতে হবেনা। আপনি আমায় খান। আমিই আপনাকে মানসিক শান্তি দেব।
আমায় খেলে আপনার লিভার নস্ট হবেনা বরং ভালো থাকবে।"

আমি ওকে সরিয়ে দিয়ে বললাম, "ছাড়ুন। আর নাটক করতে হবেনা।
চলুন গিয়ে দেখি ওদের খাওয়া হলো কিনা।"

দুইজনে গেলাম।
মায়েদের খাওয়া শেষ। মাত্র তিন-চারটা আইটেম খেয়েছে। আর গুলো ছুঁয়েও দেখেনি।
প্রলয় ওয়েটারকে বলে সেগুলো পার্সেল করে নিল। সাথে আরো কিছু নিল।
খাবারের ব্যাগ হলো অনেকগুলো। মায়ের হাতে দিয়ে বলল, "এগুলো নিয়ে যান মা। আপনাদের অনেক কাজ আছে বিয়ের। এখন গিয়ে রান্নার সময় পাবেন না।"

মা নিতে চাইলো না। প্রলয় জোর করে ধরিয়ে দিল।
মা ধীর স্বরে বলল, "বাবা প্রলয়, প্রিয়তাতো গিয়েছে অনেকদিনই হলো। আমরা বরং আজ ওকে নিয়ে যাই। কাল তো তোমরা যাবেই।
ওর বাবাও বলে দিয়েছে ওকে নিয়ে আসতে। বাড়িতে অনেক আত্মীয় স্বজন এসেছে । ওর সব ভাই বোনেরা এসেছে। সবাই ওর কথা বলছে।
রোজা বার বার বলেছে প্রিয়তাকে নিয়ে আসতে। ওর এখনো বিয়ের লেহেঙ্গা চয়েস করা হয়নি। প্রিয়তাকে ছাড়া পারছে না।"

সবাই এসেছে শুনে আমারো যেতে মন চাচ্ছে। আমার সব কাজিনরা এলে অনেক মজা হয়। সারারাত আড্ডা, গেম খেলা, নাচগান হয়।

প্রলয় অসহায় চোখে আমার দিকে তাকালো।
আমিও মায়ের হাত ধরে বললাম, "যাই? যাবো?প্লিজ!"

"সত্যি যাবেন?"

আমি মাথা ঝাকালাম।

সে আবারো বলল, "সত্যিই?"

"হুম।"

অগত্যা প্রলয় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে খুব কষ্টে বলল, "ঠিক আছে যান।"

আমি খুশিতে মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, "চলো মা।"

মা বললেন, "প্রলয় তো অনুমতি দিয়েই দিয়েছে। তোর শাশুড়িকে একবার কল দিয়ে বল শুধু।"

প্রলয় গম্ভীর গলায় বলল, "তার দরকার নেই।"

"তা হয়না বাবা। বিষয়টা ভালো দেখায় না।উনি তোমার মা। তোমাদের বাড়ির বয়জেষ্ঠ মানুষ। তাকে না বললে খারাপ দেখায়।"

আমায় কল করতে বলল মা।
মানুষ যেমনি হোক, আমার মা আমায় সবাইকে সম্মান করতে শিখেয়েছেন। তবে অন্যায় করলে চুপ থাকা নয়।

মাকে কল করলাম। প্রথম কল রিসিভ করলোনা সে।
দ্বিতীয় বারে রিসিভ করলো।
বললাম মা আমি বাড়িতে যাচ্ছি। "

উনি বলল, আমায় বলছো যে হটাৎ! কেন তোমার স্বামী নেই ঐখানে?

বললাম আছে। আমার মা আপনাকে বলতে বলল।

মা ফোনটা নিলেন। বললেন বেয়ান প্রিয়তাকে নিয়ে যাচ্ছি কটা দিনের জন্য। সেই কবেই গিয়েছে। কটা দিন রাখবো মেয়েকে আমার কাছে। ওর বোনেরো বিয়ে। একটু সবার সাথে মজা করুক। সবাই এসেছে।

মা বলল,সে বেশ আপনার মেয়ে আপনি নিয়ে যাবেন। আমার কী? আমায় আবার মানে নাকি কেউ? তার স্বামীর থেকে অনুমতি নিন তাহলেই হবে।

মা প্রসঙ্গ পাল্টে বলল ঠিক আছে বেয়ান কাল কিন্তু সকাল সকাল আসবেন সবাই। আমি অপেক্ষায় থাকবো। এখন রাখছি। নিজের খেয়াল রাখবেন।
মা আমার হাত ধরে বলল, "এইবার চল। বাবা প্রলয় গেলাম কিন্তু তাহলে।"

প্রলয় মাথা কাত করলো।
আমায় নিয়ে যাচ্ছে মা। প্রলয় তাকিয়ে এক দৃষ্টিতে।
বাইরে যেতেই দৌড়ে এলো সে। বলল, "আপনাদের তো গাড়ি নেই। নামিয়ে দিয়ে আসবো মা? দিয়ে আসি?"

পিপিয়া মিটিমিটি হাসছে।
মা বলল, "এইখান থেকে আমাদের বাড়ি মাত্র পাঁচ মিনিটের। রিকশা করেই চলে যেতে পারবো।
তোমায় আর কষ্ট করতে হবেনা বাবা।"

প্রলয় চুপ গেল। পিপিয়া একটা রিকশা ডেকে বলল, "উঠে বস প্রিয়তা। আমরা পরের রিকশায় আসছি।"

প্রলয় একগাল হেসে বলল,"আপনারা গুরুজন। আপনারা আগে বসুন। আমি প্রিয়তাকে অন্য রিকশায় উঠিয়ে দিচ্ছি। "

মা আর পিপিয়া মুচকি হেসে উঠে বসলো।
প্রলয় আমায় নিয়ে পেছনে এলো। বিরবির করে বলল, "এমন স্বার্থপর বউ আমি জীবনে দেখিনি। বরটাকে রেখে চলে যাচ্ছে। বউ ছাড়া যদি আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাই, কে দেখবে আমায়?
কে চুমু দিয়ে সারাবে?"

"হার্ট অ্যাটাক হলে আবার চুমু দিয়ে সারাতে হয় নাকি?
তাহলে আর এতো ট্রিটমেন্ট করে কেন ডাক্তারেরা? চুমু দিয়ে দিয়েই সারাতো রোগীকে।"

"এই হার্ট অ্যাটাক সেই হার্ট অ্যাটাক না। এটা হলো বউ বাপের বাড়ি যাওয়াতে বউয়ের অভাবে হার্ট অ্যাটাক।
এটা চুমু ছাড়া কমেনা। যতই এমবিবিএস ডক্টর হোক না কেন, সারাতে পারেনা বউ ছাড়া। ঔষধই বউ। আমার রোগের সব ঔষধ আপনি।"

আমি মিটিমিটি হাসলাম।
সামনে দিয়ে কতো খালি রিকশা চলে যাচ্ছে প্রলয় থামাচ্ছে না।
পিপিয়া তাড়া দিয়ে বলল, "কই বাবা!রিকশায় উঠিয়ে দাও। বাড়ি ফিরতে হবে তো। "

প্রলয় হ্যাঁ হ্যাঁ করে একটা রিকশা দাঁড় করালো। আমার হাত ধরে উঠিয়ে দিল। হুট তুলে দিয়ে কানের কাছে বলল, "এখনো সময় আছে না বলে দিন। আমায় ছাড়া থাকতে কষ্ট হবে কিন্তু। চলুন পালিয়ে যাই পেছন থেকে। ওরা বুঝবে না।"

"লোকে কী বলবে? এমন কেন করছেন?একটা রাতই তো!"

"আমার বউ নিয়ে আমি ভাগবো। লোকের কী? লোকের বউ নিচ্ছি নাকি?
একটা রাত আপনাকে ছাড়া ১০০ রাতের সমান হবে আমার জন্য। আমি কাকে নিয়ে ঘুমাবো?"

"কোলবালিশ নিয়ে।"

"কোলবালিশ আপনার মতো সফ্ট না।"

রিকশাওলা বলল, "সরুন ভাই। নাহলে উঠে বসুন। রিকশা টান দেব।"

প্রলয় বিরবির করে বলল, "তু্ই ভাই আমার জান নিয়ে টান দিচ্ছিস।"

লোকটাকে দুই মিনিট দাঁড়াতে বলে একটা দোকানে ঢুকলো সে।
সামনে থেকে পিপিয়া পেছনে ঘুরে বলল, "তোকে কী বিদেশ নিয়ে যাচ্ছি? জামাই এমন ফিসফিস করছে কেন? নাহয় আমাদের সাথে নিয়ে চল।
সাথে যেতে বলছিনা কারণ দুজনেই গেলে ওর মায়েরা কার সাথে আসবে।"

বললাম, "উনি যাবেনা। কালই আসবে।"

এরই মাঝে প্রলয় ফিরে এলো সেই ফিসফিস করতে করতেই। হাতে এত্তো গুলো চকলেট, চিপস, আইসক্রিম, চানাচুর, কোলড্রিংক। আমায় এসবের বস্তাটা দিয়ে বলল, "এগুলোই পেলাম আপাতত। সবাই মিলে খাবেন।আর এই দুই হাজার টাকাটা রাখুন। রেস্টুরেন্টের বিল মিটিয়ে ক্যাশ আপাতত এই টুকুই আছে। রাখুন হাত খরচের জন্য।"

আবারো হুটের নিচে এসে কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, "আমায় রেখে যাচ্ছেন তো!এই এক রাতের হিসাব আমি তিনরাতে মেটাবো বলে দিলাম। শুধু একবার বাড়িতে আনি আপনাকে। তারপর দেখুন কী করি।"

বললাম, "দেখা যাবে।"

রিকশাওলা বলল, "ও ভাই কী এতো ফিসফিস করছেন তখন থেকে?"

প্রলয় শুকনো হেসে বলল, "বউ বাপের বাড়ি যাচ্ছে তো তাই দোয়া পরে ফুঁ দিয়ে দিলাম যেন বদনজর না লাগে।"

রিকশাওলা দাঁত বের করে হেসে বলল, "আমার বউও বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় আমি এইভাবে গিয়ে বারবার দোয়া পরে দিয়ে আসি। আমার বউ আবার আমারে রাইখা যাইতে চায়না।"

প্রলয় আমার দিকে তাকিয়ে হতাশা নিয়ে বলল, "সব বউ কী আর এক হয় ভাই? কিছু বউ পালাতে পারলেই বাঁচে। থাকগে সেসব কথা। গাড়ি টান দিন। ভালো করে নিয়ে যাবেন।"

রিকশাওলা স্টার্ট দিতেই প্রলয় দৌড়ে এসে থামতে বলল।
লোকটা বলল, "আবার কী হইলো ভাই?"

প্রলয় আমার কানে কানে বলল, "একটা চুমু দেবেন? নাহলে রাতে ঘুম হবেনা।"

আমি রাগী চোখে তাকালাম। প্রলয় সরে গিয়ে বলল, "থাক। ভালোবাসা কেন এতো অসহায়।"

রিকশা চলল।
পিপিয়া মাকে বলল, "বাঁচলাম বাবা!ভেবেছিলাম এরা আজকের রাতটা এখানেই পার করে দেবে।"

মা বলল, "আমার মেয়েটা ভালো আছে তাই না?"

"হুম। আছে ভালোই। শাশুড়িটা ভালো না হলেও স্বামী ভালো। স্বামী যার ভালো হয়, সেই মেয়ের সুখী কপাল।"

মা নিশ্চিন্তের শ্বাস নিয়ে পেছনে তাকালো।

কিছুটা দূর গিয়ে পেছনে তাকালাম। প্রলয় এখনো দাঁড়িয়ে রিকশার দিকে তাকিয়ে।
আমি ওর দিকে একটা ফ্লায়িং কিস দিলাম। ও সেটা ধরার ভান করলো।
আমি হাসতে হাসতে সামনে তাকাতেই দেখি মা আর পিপিয়া রিকশার দুপাশ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। লজ্জায় দাঁতে জিভ কাটলাম। মাথা নিচু করলাম।

বাড়ির সামনে এসে থামলো রিকশা।
আমি নামলাম। মায়েরা আগেই নেমেছে।
প্রলয় ভাড়া দিয়ে দিয়েছে।
আমি বাড়িতে ঢুকবো এমন সময় রিকশাওয়ালা লোকটা বলল, "আপা আপনে খুব ভালা কপালের। ভাই আপনারে মেলা ভালোবাসে।ভাইরে কোনোদিন দুঃখ দিবেন না।
আমিও আমার বউরে মেলা ভালোবাসি। একটা পোলা আছে আমার। পোলাডার মেলা জ্বর আইছে। বউ অপেক্ষা করতেছে কহন বাড়ি ফিরমু, বাজার দিমু হাতে, আর রান্না কইরা পোলাডারে খাওয়াইবো।
এই হইলো আমার অভাবের সংসার। তবে ভালোবাসা আছে কিন্তু। আমার বউয়ের কোনো অভিযোগ নাই।
আমায় হেই মেলা ভালোবাসে।"

বললাম, "আপনি কখন বাজার করবেন? কখন সেটা বাড়িতে নিয়ে যাবেন? আর কখনই বা আপনার বউ রান্না করবে? তারমাঝে অসুস্থ ছেলে আপনার।"

"কী আর করুম আপা?কাজ হলে তো বাজার হয়।"

আমি দু-দন্ড ভেবে বললাম, "আপনি একটু এইখানে দাঁড়ান। আমি এখনি আসছি।
যাবেন না কিন্তু।"

দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে বললাম, "মা আমায় যে রিকশাওলাটা নিয়ে এলো উনার ছেলে খুব অসুস্থ। বাড়িতে রান্নাও হয়নি। বাজার নিয়ে গেলে তো রান্না!কথায় কথায় বলল আমায় সব।
কিছু খাবার পাওয়া যাবে? আমি উনাকে দেব।"

রেস্টুরেন্ট থেকে আনা খাবারের মধ্য থেকে কয়েক প্যাকেট দিয়ে বলল, "এই কটা দিয়ে দে। বাকি গুলো সবাই মিলে মিশে খেয়ে নেবে। বুয়া রান্নাও করে রেখেছেন। তাই এতো খাবার লাগবেনা। নস্ট হবে। এর চেয়ে তু্ই ওকে দে। বেচারারা অসহায়।
পরশুদিন তো রোজার বিয়ে। ওদের বলিস খেয়ে যেতে।"

আমি 'আচ্ছা ' বলে খাবার গুলো নিয়ে বেরিয়ে গেলাম।
খাবার গুলো সহ প্রলয়ের দেওয়া দুইহাজার টাকা থেকে এক হাজার দিতে চাইলাম। উনি নিতে চাইলো না। আমি জোর করে দিলাম।
লোকটা বলল, "আপনারা ভীষণ ভালো আপা। আপনার মতো ভালো মানুষ আমি দুটো দেখিনি। আমার জ্বরের ছেলে খাবার গুলো দেখলে খুব খুশি হবে।"

"আপনার ছেলের জন্য দোয়া রইলো। সে যেন সুস্থ হয়ে যায়।আপনি আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। সবাই যেন ভালো থাকি আমরা। আমার আর আমার স্বামীর সম্পর্ক যেন ভালো থাকে সবসময়।
এইটা আমার বাবার বাড়ি। পরশুদিন এইখানে বিয়ে। আপনি বউ ছেলে নিয়ে আসবেন কেমন? বোন বলে ডেকেছেন মনে করুন বোনের তরফ থেকে এই দাওয়াত।"

উনি বার বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চলে গেল।
আমি স্বস্তির শ্বাস নিলাম। এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে আমার। উনাদের দোয়া সৃষ্টিকর্তা পর্যন্ত পৌঁছায়।

বাড়িতে ঢুকে সোজা ওপরে গেলাম। সবাই এইখানে। বিয়েটা আমাদের বাড়ি থেকেই হবে। পিপিয়াদের বাড়িটা একটু ছোট সেজন্য।
রুমের দরজা খুলতেই আমায় দেখে সব আনন্দে চিৎকার করে উঠলো। দৌড়ে এসে সব জড়িয়ে ধরলো। ওদের সবার একসাথে চেপে ধরার চক্করে আমি গেলাম পরে। কিন্তু তেমন ব্যথা পাইনি।
এরা এমনি। আমায় পেলে আকাশের চাঁদ পায়।
এরা এবার আমায় নিজেদের বলির পাঠা বানাবে। কারো গাছের ফল-ফুল চুড়ি করে আমার নাম দিয়ে দেবে। কোনো অঘটন ঘটিয়ে আমার নামে দোষ চাপাবে। প্রতিবার এটাই হয়।
আমায় সবাই একটু বেশিই ভালোবাসে। এজন্য আমার কথা বললে সাত খুন মাফ।
আমার বাবা আর পিপিয়া দুজন আপন ভাইবোন। আমার যেসব কাজিনেরা এসেছে ওরা সবাই মা-বাবার কাজিনের ছেলে-মেয়ে। আমাদের সবার সম্পর্ক ভীষণ ভালো। যে কোনো অনুষ্ঠানে মিল হই একসাথে। অনেক আনন্দ হয়।

রোজা মাথা নিচু করে বলল, "সবাই সাইড হও। আমাকে ওর সাথে বোঝাপোড়া করতে দাও।"

সবাই সরে গেল। রোজা প্রিন্সেস স্টাইলে ধীরে ধীরে সামনে এসে ভাব নিয়ে বলল, "আসতে এতো লেট কেন করলি? আসতে বলেছি কখন?লেট কেন?"

দু-হাত বুকে ভাঁজ করে বললাম, "হয়ে গেল। কেন খুশি হোসনি আমি এসেছি যে?"

রোজা কোনো কথা বলল না।
আমি বললাম, "ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি। "

ঘর ছেড়ে বের হলাম। রোজা চেঁচিয়ে উঠে বলল, "এই কোথায় যাচ্ছিস তু্ই? ওকে আটকা কেউ।"

আমি সামান্য হেসে দিলাম এক দৌড়। পিছে পিছে রোজাও দৌড়।সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নামতে লাগলাম দুজনে।

মা হাসতে হাসতে বলল, "থাম তোরা। পড়ে গিয়ে ঠ্যাং ভাঙিস না বিয়ের আগে। এদের বিয়ে হয়ে গেল তবুও পাগলামো গেল না।

রোজা চিৎকার করে বলল, "আরে ওকে কেউ ধরো। ও চলে যাচ্ছে।

আমি সিঁড়ি পার হয়ে পেছনে রোজার দিকে তাকিয়ে দৌড়াচ্ছিলাম, হটাৎ পড়ে যেতে নিলাম পানিতে পিছলা গিয়ে। রোজা চিৎকার করে উঠলো।
আমি ভয়ে চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করে নিয়েছি। অনুভব করলাম কেউ আমার বাহু ধরেছে।

সেকেন্ড দুয়েক পর চোখ খুললাম। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি আমি।
সামনে তাকালাম।অয়ন ভাই আমার বাহু ধরে রেখেছে। চোখের সামনে তাকে দেখে চমকে গেলাম।
নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সোজা দাঁড়ালাম। মা আর পিপিয়া এগিয়ে এসে আমার গা হাতড়ে বলল,"দেখলি তো এখনি কতবড়ো বিপদ হয়ে যেত।
বারবার বলছি ছুটিস না তোরা এইভাবে।
ভাগ্গিস অয়ন ছিল।"

আমার কানে কোনো কথাই যেন যাচ্ছে না। আমি অয়ন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছি উনি কেন এখানে?
রোজা আমার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, "আপনি?"

অয়ন ভাই কিছু বলার আগেই আমার পুলিশ ভাইয়া মানে সজল ভাইয়া বলল, "আমি ইনভাইট করেছি ওকে। জানিস তো অয়ন আমার বন্ধু হয়। অনেকদিন ওর সাথে দেখা নেই। আজ পেলাম এজন্য সঙ্গে করে নিয়ে এলাম। আমার সাথে বাজার করতে যাবে ও। মা লিস্টটা দাও।"

পিপিয়া বলল, "ভালোই করেছিস। একা একা এতো বাজার সামলাতে তোর কষ্ট হতো। তোর বাবা আর মামা গিয়েছে ডেকোরেশন ঠিক করতে।
আচ্ছা বাবা অয়ন তুমি একটু পাশের ঘরে গিয়ে বসো।
আমি সজলকে লিস্টটা একটু বুঝিয়ে দেই।
প্রিয়তা আর রোজা তোরা ওকে নাস্তা দে। নাস্তা করে বের হোক। ফিরতে দেরি হবে।"

পিপিয়া ভাইয়াকে নিয়ে চলে গেল। আমি রোজার হাত চেপে ধরলাম।
মা তাড়া দিয়ে বলল, "দে নাস্তা ওকে। কিচেনে সব আছে দ্যাখ। আমি যাই বেডশীট গুলো বের করি।"

সবাই যে যার কাজে চলে গেল। রোজা আমায় আস্বস্ত করলো।
বলল, "ঐ ঘরে চলুন ভাইয়া।"

অয়ন ভাই গেল।। রোজা বসতে দিয়ে আমায় নিয়ে বেরিয়ে এসে বলল, "নার্ভাস হোসনা। বাড়ির কেউ জানেনা তু্ই যে লাইক করতি অয়ন কে। ভাইয়াও জানেনা। জানলে দাওয়াত করতো না।"

আমি ওর হাত ধরে বললাম, "আমার তো সেসব আবেগ ছিল। কিন্তু এখন অয়ন ভাই আমার প্রতি দুর্বল। আমি তার আচরণে বুঝেছি। বেশ কবার তার সাথে দেখা হয়েছিল আমার। কেমন কেমন কথা বলে।"

রোজা বিস্মিত স্বরে বলল, "বলিস কী? ভাইয়া জানে বিষয়টা?"

"আন্দাজ করেছে কিছুটা।"

রোজা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, "শোন এই বিষয়টা বাড়ির কেউ যেন না জানে। জানলে সমস্যা হতে পারে।ভাইয়া অয়ন ভাইকে ইনভাইট করে ফেলেছেন। সে আমাদের গেস্ট। তার সম্মান রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। মাত্র দুটো দিনের তো ব্যাপার। ঠিক ম্যানেজ হয়ে যাবে। তু্ই তার সামনে যাবিনা বেশি।
এখন তু্ই ঘরে যা। আমি নাস্তা দিয়ে আসছি।"

আমি ওপরে চলে গেলাম। গিয়ে বসে রইলাম।
কোনো সিনক্রিয়েট হোক চাইনা। ভালোয় ভালোয় সবটা মিটে গেলেই হলো।

রোজা এলো মিনিট পাঁচেক পর।
ওকে দেখেই উঠে দাঁড়িয়ে কাছে গিয়ে বললাম, "কী হলো? কিছু বলল?"

"তোর কথা জিজ্ঞেস করলো। কবে এসেছিস, কদিন থাকবি, তোর বর এসেছে কিনা এসব জিজ্ঞেস করলো।"

"তু্ই কী বললি?"

"বলেছি কাল সকালেই আসবে। উনিও ভাইয়ার সাথে বাজারে চলে গেছে।বাদ দে এখন এইসব কথা। টেনশন করিস না। আমি সব ম্যানেজ করে নেব। ইনজয় কর। আমার বিয়েতে তু্ই টেনশন করে থাকলে আমার ভালো লাগবে না। চিল বেইবি।"

তখনি আমার আর সব কাজিন ঘরে ঢুকে বলল,"ওখানে আমাদের ওপর বোঝা দিয়ে এসে এইখানে চিল করা হচ্ছে?"

বললাম,"কিসের বোঝা?কী হয়েছে?"

"এই রোজা ওর বরের শেরোয়ানি পছন্দ করতে পারছে না। কখনো বলছে হোয়াইট নেবে, কখনো অফ হোয়াইট, কখনো পিঙ্কিস আবার কখনো লেমন কালার। পাগল বানিয়ে দিচ্ছে আমাদের। এইবার তুইও একটু পাগল হো।"

রোজা মুখ ভার করে বলল, "দ্যাখ না প্রিয়তা ওরা শুধু জ্বালাচ্ছে আমাকে। তুইই বল বিয়ে তো মানুষ একবারই করে। সব কিছু পছন্দ মতো না হলে হয়?"

"আচ্ছা আচ্ছা বুঝলাম। এইবার বল তু্ই আসলে কেমন শেরোয়ানি চাস?"

"আমার বরের স্কিন কালার।"

সবাই একসাথে চেঁচিয়ে উঠলো ওর কথা শুনে। আমি বললাম, "থাম তোরা।
রোজা তোর বরের স্কিন কালার কেমন?"

রোজা কিছুটা ভেবে বলল, "প্রলয় ভাইয়ার থেকে একটু ডার্ক।
আচ্ছা প্রিয়তা তু্ই একটু প্রলয় ভাইয়াকে কল করে হেল্প চেয়ে নে ।উনার চয়েস তো ভীষণ ভালো।
উনাকেই বলনা উনার থেকে একটু ডার্ক ছেলের কী কালার শেরোয়ানিতে ভালো লাগবে?
ছেলেদের ড্রেসের বিষয়ে আমার আইডিয়া নেই।"

বললাম, "তাহলে তোর বরকেই কিনতে বলতে পারতিস।"

"ও আমাকে আমার পছন্দে কিনতে বলেছে। তু্ই কালারটা শুনে নে। বাকিটা আমি পছন্দ করবো।"

রোজা জোর করতে লাগলো।
আমি তাড়াতাড়ি কল করছিনা দেখে ও নিজেই আমার ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলল, "দে আমি কল করবো। তু্ই একটা স্লো স্পিড ক্যাট।"

কল দেওয়া মাত্র একবার রিং হতেই প্রলয় কল ধরলো।
লাউড স্পিকারে দিল।রোজা কথা বলার আগেই প্রলয় বলল, "কী হলো ডার্লিং? গিয়েই আমার কথা মনে পড়লো তো?"

সবাই হাসতে শুরু করলো মুখ চেপে। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করলাম। রোজা হাসতে হাসতে বলল, "ডার্লিং পাশেই আছে। আমি ডার্লিং এর ছোট বোন। নিন আগে ডার্লিং এর সাথে কথা বলে নিন।
নে ডার্লিং ধর।"

সবাই হোহো করে হেসে উঠলো।

আমি ফোনটা নিয়ে দূরে গিয়ে কানে ধরে হ্যালো বলতেই প্রলয় আমায় ঝাড়ি দিয়ে বলল, "রোজা কল করবে বলবেন না? কী একটা বাজে বিষয় হয়ে গেল।"

আমি হাসতে হাসতে বললাম,"ব্যাপার না। শালী তো আঁধাঘারওয়ালি হয়। "

"ছি ছি। এসব কী বলছেন!ও তো ছোট বোন হয়। ঘরওয়ালি তো আপনি। আমার জান।"

"হুম হয়েছে হয়েছে। এখন শুনুন যেটা বলতে কল করলাম।"

"বলুন।"

এগিয়ে এসে বললাম, "রোজা ওর বরের জন্য শেরোয়ানি কিনবে। কিন্তু কোন কালারটা নেবে ঠিক করতে পারছে না। আপনার থেকে হেল্প চায়। আপনার তো ড্রেসিং সেন্স খুব ভালো এজন্য।"

প্রলয় বলল, "হুম।তা ওর বর কেমন দেখতে?পিক টিক দেবেন নাকি মুখে বর্ণনা দেবেন?"

রোজাকে বললাম প্রলয় জানতে চাচ্ছে তোর বরের বিষয়ে।
ও বলল, "ভাইয়ার থেকে একটু ডার্ক। লম্বায় সমান হবে।সাস্থ্য ভাইয়ার চেয়ে বেশি একটু।"

বললাম, "শুনেছেন?এবার বলুন। এই মেয়েটা আমার মাথা খারাপ করে দিচ্ছে।
পাগল বানিয়ে দিল আমায়।"

প্রলয় একটু হেসে বলল, "অফ হোয়াইট নিতে পারেন। আশা করি ভালো লাগবে।"

কথাটা রোজাকে বললাম।খুশিতে আমায় চুমু দিয়ে
সে এখন ফোন নিয়ে বসলো ডিজাইন দেখতে।

আমি বারান্দায় গেলাম।
বললাম, "খেয়েছেন?"

জবাব দিল, "এখনো বাড়ি যাইনি। রাস্তায় দুজন বন্ধুর সাথে দেখা হলো। আড্ডা দিচ্ছিলাম। বাড়ি ফিরবো একটু পর। ফিরে কিছু হিসেব করতে হবে ওদের সাথে।"

"থাক না। বাদ দিন ।যা হওয়ার হয়েছে। প্লিজ বাড়িতে অশান্তি করবেন না।আমায় কথা দিন।"

প্রলয় চুপ রইলো। বললাম, "কী হলো দিন কথা।নাহলে আমি কিন্তু খাওয়া অফ করে দেব।"

প্রলয় বলল, "ঠিক আছে কথা দিলাম। কোনো ঝামেলা করবোনা।খেয়ে নেবেন। বেশি রাত জাগবেন না। আমার ঘুমটা হারাম করে দিলেন আপনি চলে যেয়ে। ঐ ঘরে আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা আমি। আপনি আমার অভ্যাস হয়ে গেছেন।
নিচের যে কোনো একটা ঘরে শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করবো। সকালে দেখা হবে।
রাতে একা বের হবেন না। কোনো দরকার পড়লে মাকে বলবেন। বারান্দায় দাঁড়ানোর দরকার নেই।"

সেদিনের কথা মনে পড়ে গেল আমার। ভয়ে ভয়ে নিচে তাকিয়ে বললাম, "আমি এখন বারান্দাতেই আছি। চিন্তা করবেন না। পুরো বাড়িতে লাইটিং। আলোয় ঝলমল করছে। ভুত আসবে না।
এইতো বাড়ির বাইরে বাবা আর পিপিয়া দাঁড়িয়ে কথা বলছে।"

প্রলয় সহসা হেসে বলল, "ঠিক আছে।গুড নাইট। মাঝরাতে ঘুম না আসলে কল দেব। একটা চুমু দিয়ে দেবেন।"

আমি হাসলাম। কল কেটে দিল প্রলয়। ঘরে এলাম।
বিছানায় বসে সবে একটু হাই তুলেছি। রোজা দৌড়ে এসে বলল, "ঘুমোলে চলবে না। আজ সারারাত ব্যাচেলর পার্টি হবে।তোর থাকতে হবে।"

"কিন্তু আমিতো ম্যারিড।"

রোজা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। এরপর বলল, "আজকের জন্য সিঙ্গেল। সবাই সব অ্যারেঞ্জ করছে। ততক্ষনে তু্ই আমায় আমার বরের টোপর পছন্দ করেদে।"

চেঁচিয়ে বললাম, "আবার!"

-------

বাড়ির সদর দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল রিপার।
গলা খাকিয়ে চিৎকার করে বলল, "এই বুয়া,ভাইয়া এসেছে মনে হয়। দরজা খুলে দাও।"

বুয়া তড়িঘড়ি উঠে এসে দরজা খুলে দিল।
প্রলয় ভেতরে ঢুকলো।বুয়া চারপাশ দেখে বলল, "প্রিয়তা মা কই বাবা? প্রিয়তা মা কী রাগ করে সত্যিই চলে গেছে?"

প্রলয় শান্ত কণ্ঠে বলল, "গেলেও কী অকারণে গেছে?
কী হলো আজকে? আমার শাশুড়ি, ফুপু শাশুড়ির কতো অপমান হলো। মান থাকলো আমার?
উনারা আমায় কতো ভালোবাসে অথচ আমার বাড়িতে এসে তাদের কতো অপমান হলো। নেহাত উনারা বড়ো মনের তাই কিছু মনে করলোনা। অন্য কোনো লোক হলে মেয়েকে সংসারই করতে দিতনা।
শুনুন আন্টি আপনাকে একটা কথা বলে দেই। এরপর আমার শশুর বাড়ি থেকে কোনো লোক এলে আপনার প্রধান দায়িত্ব হবে তাদের খাতির যত্ন করা।যে যেই কাজের কথাই বলুক না কেন, আপনি শুনবেন না। বলবেন আমার অর্ডার।ঘরে সবসময় বাজার থাকেই। তবুও যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়, সোজা সামনের যে কোনো দোকান থেকে আমার নাম বলে যা লাগবে নিয়ে আসবেন।
মোট কথা তাদের আপ্পায়নে যেন কোনো কমতি না থাকে। প্রিয়তা বাড়ি না থাকলেও আপনি করবেন সব।যদি আমার এই অর্ডার পালন করতে পারেন তো প্রতি মাসে আপনার জন্য ২হাজার টাকা করে বোখশিস থাকবে।"

বুয়া মাথা নাড়লো। প্রলয় ভেতরে ঢুকে সোফায় বসলো। মা যে কিচেনে কাজ করছে তা সে খেয়াল করেনি।
মা হাতে দুধের গ্লাস এনে রিপার হাতে দিতে দিতে বলল, "জীবনে আর কতো কিছুই দেখবো!কতো নাটকের কথাই শুনবো।"

প্রলয় কিচ্ছু বলল না।

মা আবারো বলল, "সব হয়েছে এই মেয়েটা আসার পর থেকে। সংসারের নিয়মই বদলে গেছে।আমার কোনো দাম নেই আর।আগেরজনই ভালো ছিল।"

প্রলয় রেগে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, "আগের জন তো ভালো হবেই। আগের জন যে সব সহ্য করেছে। আগের জনের বেলায় আমি পাগল ছিলাম। পাগল না হলে তোমাদের বিশ্বাস করতাম?
একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো মা। অতীতের চক্র বর্তমানে আর ঘুরবে না। প্রিয়তাকে আমি ভালোবাসি। শুনতে পেয়েছো? ভালোবাসি ওকে আমি। ওর কোনো ক্ষতি তো দূর ওর গায়ে ফুলের টোকাও লাগতে দেবনা।
যদি কেউ আমার প্রিয়তার ক্ষতির চেষ্টা করে তাকে কী করবো আমি নিজেও জানিনা। শুধু একটা কথা মনে রেখো, অতীতে যা আমি করতে পারিনি। বর্তমানে তা অনায়াসে করতে পারবো। সুতরাং সাবধান!
আমার ভালোবাসার দিকে নজর দিও না।"

মা বলল, "ভালোবাসার রঙ বদলায় জানতাম। তোর তো দেখি ভালোবাসার মানুষই বদলায়? কোথায় গেল অদিতির প্রতি সেই টান? সবসময় না বলতি ওকে ছাড়া কাউকে স্থান দিবি না মনে। কী হলো এইবার? কোথায় গেল তোর প্রতিজ্ঞা? কোথায় গেল ভালোবাসা?"

প্রলয় চুপ রইলো কয়েকপল। এরপর বলল, "আমি কিন্তু কাউকে ঠকাই নি মা। যখন সে ছিল আমি তাকে একমনে ভালোবেসেছি। এখন সে নেই। আমি তাকে সম্মান করি। প্রিয়তা আমার বর্তমান। অতীতকে মনে নিয়ে আমি আমার বর্তমানের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারিনা।
এটা অন্যায়। প্রিয়তার হক আছে আমার প্রতি।
একটা গাছ যে সবসময় ফুল দেয়, ফল দেয়, ছায়া দেয়। দিনশেষে যখন সময় আসে সে কিন্তু ঝরে যায়। তার মানে এই নয় সে শেষ হয়ে গেল। সে তার নতুন রূপকে বরণ করতে পুরাতন কে ছাড়ে। এবং নতুন পাতায় সেজে ওঠে। অতীত মনে রাখেনা সে।তেমনি মানুষের জীবন। যে আমাদের জীবন থেকে চলে যায়,
আমরা তাকে মনে করি।কাঁদি। ফিরিয়ে কিন্তু আনতে পারিনা।"

মা বলল, "এখন তো এসব বলবেই। এখন যে নতুন ভালোবাসা পেয়েছো। অদিতিকে তুই ঠকিয়েছিস।"

প্রলয় চিৎকার করে বলল, "আমি অদিতিকে ঠকাইনি। ওকে আমি ভালোবেসেছি। তোমরা ওকে ধ্বংস করেছো। আমার আফসোস হয় তোমার গর্ভে জন্ম নেওয়ার কারণে।
সারাটাজীবন তুমি চেয়েছো আমার ক্ষতি করতে। মনে লোভ তোমার বেড়েই গেছে। তোমাদের জন্য আমি অদিতিকে হারিয়েছি। জীবনের অনেক গুলো বছর আমি বিরহে কাটিয়েছি।
একটা সময় বুঝলাম এভাবে আর থাকা যায়না। আমারো অধিকার আছে বাঁচার। ভালো থাকার।"

"ঠিক এই অনুভূতিটা কবে এলো তোমার মনে?"

প্রলয় ভ্রু বাকিয়ে বলল, "যেদিন তোমরা আমার সাথে তোমার ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ে দিতে চাইছিলে।
চাইছিলে দুইজনকে মিথ্যা বলে ডেকে এনে ফাঁসিয়ে দিয়ে বিয়ে দিয়ে আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিতে।"

মা মিনিমিন করে বলল,"এইসব কী কী বলছিস তু্ই?"

"সত্যি কথাই বলছি।কী ভেবেছিলে আমি জানবোনা তোমাদের প্ল্যান? চোখ আমার চারটা।দুটি সব সময় তোমাদের পেছনে দিয়েই রাখি।"

মা মাথা নিচু করলেন।
বললেন, "আমি কিন্তু তোর খারাপ চাইনি।ভালোই চেয়েছি।"

"তুমি যে কেমন মানুষ তা আমার জানা আছে। জানে মারা বাদ দিয়ে নিজের স্বার্থ পূরণের জন্য যা করা যায় তুমি করবে আমার । তুমি শুধু ভালো নিজেরটা চাও। তুমি চাও আমি সব সময় তোমাদের কথা শুনি। আমার কোনো সংসার না থাকুক।
অথচ এটা বোঝো না সংসার, স্ত্রী প্রতিটি পুরুষ মানুষের জন্য আবশ্যক।
আমি চেয়েছি তোমাদের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে আর তুমি চেয়েছো শুধু নিজের ছেলে মেয়ে নিয়ে ভালো থাকতে।"

প্রলয়ের কথা শেষ হতেই মা এমন একটা কথা বলে উঠলো,,,,

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when R.R media posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share