01/09/2026
#প্রিয়তার_পূর্ণতা
৩৪/প্রথম অংশ
মা ও প্রলয়ের কথার মাঝখানে হটাৎ মা বলে উঠলো,"তোর বউকে কী আমি মেরে ফেলেছি নাকি?
বিষ খাইয়েছি নাকি আগুনে পুড়িয়েছি, নাকি পানিতে ডুবিয়েছি কোনটা বল? "
প্রলয় সেকেন্ড দুয়েক চুপ থেকে বলল, "তুমি তো আমার বউকে হাতে মারোনি। মেরেছো কথা দিয়ে, খোটা দিয়ে, ডিপ্রেশন দিয়ে, ভয় দিয়ে।
একটা সুস্থ মানুষকে মেরে ফেলার জন্য এগুলোই এনাফ।"
মা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "তোর সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব। তু্ই আমাকে মন থেকে অপরাধী ভাবিস। তোর চিন্তা ভাবনা আমি বদলাতে পারবোনা। শুধু একটা কথা শুনে রাখ, আমার কোনো দোষ নেই।
অদিতির মৃত্যুতে আমার কোনো হাত নেই।"
"তাহলে বলো সেদিন কী হয়েছিল?
১৫ই সেপ্টেম্বর। মনে আছে?"
মায়ের মুখটা এবার শুকিয়ে গেল।
বরাবরের মতো এইবারও বলল, "আমি কিছু জানিনা। তু্ই যা দেখেছিস, আমিও তাই দেখেছি।"
প্রলয় চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস নিল।
নিজের ঘরের দিকে যেতে লাগলো। পেছন থেকে বুয়া বলল, "খাবার টা কী ঘরে দেব বাবা?"
প্রলয় সিঁড়ির ওপর থেকে বলল, "খাবোনা। ক্ষিদে নেই।
কাল প্রিয়তার বাবার বাড়িতে দাওয়াত আছে। সবাইকে বলবেন তৈরী যেন হয়ে থাকে। আমায় যেন ছোট না করে। এমনিতেই অনেক ছোট করেছে আমায়।"
ঘরে চলে গেল প্রলয়।
বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করলো। চোখের পাতায় অদিতির কতো স্মৃতি।
অদিতির সাথে প্রথম দেখা হয় এক বৃষ্টির দিনে।
প্রলয়ের তখন বয়স কম।
সবে একটা জব হয়েছে ছোটোখাটো।
একদিন নাইট ডিউটি থাকায় বাড়ি ফিরতেই রাত।
অফিস থেকে বের হয়ে রিকশার জন্য দাঁড়িয়েছে সে।
আকাশে মেঘ ডাকছে। বৃষ্টি হবে। ফোন বের করে বারবার ঘড়ির টাইম দেখছিল। রাত ১০ টা বেজে ১২ মিনিট।
১০ মিনিট দাঁড়িয়েও যখন রিকশা পেল না, তখন ভাবলো হেঁটে সামনে গিয়ে দেখবে।
কিছুটা পথ হাঁটার পর খেয়াল করলো একটা মেয়ে সামনে থেকে কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে আসছে।
প্রলয় হাঁটার গতি কমিয়ে এনে মেয়েটাকে দেখলো।
মেয়েটা যখন তার কাছাকাছি এলো, হটাৎ হাঁটা থামিয়ে দিয়ে রাস্তার একপাশে গিয়ে বসে পড়লো।
প্রলয় ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
মেয়েটা কাঁদছে। প্রলয়ের সন্দেহ হলো মেয়েটার সাথে খারাপ কিছু হয়েছে কিনা!
এগিয়ে গেল সে।
ধীর স্বরে বলল, "শুনছেন?"
মেয়েটা তাকালো।
ওর চোখে ঘনো কাজল। মায়াবী মুখটা।
চোখের পানিতে ল্যাম্পপোস্টের আলোতে আরো সুন্দর লাগছে। প্রলয় থমকে গেল যেন এক মুহূর্তের জন্য।
তাকিয়েই রইলো। মেয়েটা উঠে দাঁড়ালো। প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে নাক টানছে।
প্রলয় বলল, "কে আপনি? নাম কী? বাসা কোথায়? এতো রাতে কী করছেন এখানে?"
মেয়েটা কান্নার চোটে কোনো কথা বলতে পারছে না।
প্রলয় তাকে এক বোতল পানি দিয়ে বলে, "এটা খেয়ে নিন।"
মেয়েটা এক মুহূর্ত কিছু না ভেবে পানি খায়। খেয়ে কিছুটা শান্ত হলে প্রলয় আবারো করে প্রশ্ন গুলো।
মেয়েটা বলল, "আমার নাম অদিতি। ঐ যে ঐদিকে একটা গলি দেখছেন!ঐখানে আমি থাকি। একজনের বাড়িতে ভাড়া থাকি আমি।
তিন মাস বাড়ির ভাড়া দিতে পারিনি। আসলে আমার কেউ নেই। টিউশন করাই আমি। কিন্তু তিনমাস হলো দুটো টিউশন বন্ধ হয়ে গেছে।বাকি দুটো দিয়ে কোনো মতে আমি আমার পড়াশোনা আর খাবারের খরচ চালাই।
এজন্য তিনমাস বাড়ির ভাড়া দিতে পারিনি।
বাড়িওয়ালা আজ রাত দশটা পর্যন্ত টাইম দিয়েছিল আমায় ভাড়া মেটাতে। আমি অনেকের কাছে ধার চেয়েছি। পাইনি। তাই আমায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।"
মেয়েটা আবারো কাঁদতে শুরু করলো।
প্রলয়ের ভীষণ মায়া হলো। বলল, "কাঁদবেন না প্লিজ। আপনার মা-বাবা বা পরিবারের অন্য কেউ নেই?"
" আমি মায়ের পেটে থাকতেই মারা গিয়েছে বাবা।মা আমার জন্মের সময়।
এজন্য সবাই আমায় আনলাকি মনে করে।
আমায় আমার নানু মানুষ করেছে। মাস ছয়েক আগে সেও মারা গিয়েছে। এরপর মামারা আমায় ঘার থেকে নামাতে বিয়ে দিতে চায় এক বয়স্ক লোকের সাথে। আমি তখন পালিয়ে আসি। নিজের মতো থাকতে শুরু করি। একটা ঘর ভাড়া নেই। টিউশন করাই। পড়াশোনাটা চালিয়ে যাই।"
মেয়েটা চুপ গেল। নাক টানছে।
প্রলয় বলল, "এখনকার মানুষের মাঝে আর মানবতা নেই। একা একটা মেয়েকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
আপনি এখন যাবেন কোথায়?"
অদিতি আবারো কান্না শুরু করলো।
"কাঁদবেন না প্লিজ। আমি চেষ্টা করবো আপনাকে হেল্প করতে।
আমার কিছু মেয়ে কলিগ আছে ওরা দুটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকে। শুনেছিলাম ওদের একটা বেড খালি আছে।
আমি কথা বলে দেখছি ঐখানে আপনাকে শিফট করা যায় কিনা।"
মেয়েটা কিছুটা আশার আলো পায়।
প্রলয় কথা বলে জানতে পড়লো জায়গাটা এখনো খালি।
প্রলয় বলল, "আপনি ওখানে থাকতে পারবেন। ঐ ফ্ল্যাটের আসেপাশে আপনাকে টিউশন ম্যানেজ করে দিতে বলবো ওদের। তাহলে আপনার আর কোনো সমস্যা থাকবেনা।"
অদিতি খুশি হলো ভীষণ। প্রলয়ের দু-হাত ধরে ধন্যবাদ দিলো।
প্রলয় স্নাল হাসলো।
একটা রিকশা দেখতে পেয়ে দাঁড় করায় প্রলয়। মেয়েটাকে উঠে বসতে বললে মেয়েটা বসছে না। জড়তা কাজ করছে।
প্রলয় বলল, "যেতে অনেকটা সময় লাগবে। আমায় একবার বিশ্বাস করে উঠে বসুন।
আপনার কোনো অপমান আমি করবোনা।"
মেয়েটা এবার উঠে বসলো। প্রলয় তার পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে মেয়েটার হাতে দিল। মেয়েটা চোখের পানি মুছলো।
রিকশা চলছিল। দমকা বাতাস এসে অদিতির চুল গুলো এলোমেলো করে দিচ্ছিলো। প্রলয়ের মুখে ঝাপ্টা লাগছিল।
প্রলয় আড় চোখে মেয়েটাকে দেখলো। টানা টানা দুটো চোখ। লম্বা চুল কোমরের নিচে। পরনের সাদা জামায় আরো সুন্দর লাগছিল। এ যেন সাক্ষাৎ কোনো পরি!
এটাই ছিল দুজনের প্রথম দেখা।
প্রলয় আনমনে হাসলো।
নিজের ভাবনায় এতক্ষন মশগুল ছিল সে। ফোনটা যে কখন থেকে ভাইব্রেট করছে তা খেয়াল করেনি।
ঘুম পাচ্ছে তার। বিছানায় মাথা দিতেই একটা মিষ্টি ঘ্রান ভেসে এলো। এটা প্রিয়তার শরীর থেকে পায় সে।
ঘ্রানটা তাকে মাতাল করে দেয়।
বালিশের কাছে প্রিয়তার একটা ওড়না পড়ে আছে। প্রলয় হাতে নেয় সেটা। নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রান নেয় গভীর ভাবে।
না আর পারছেনা সে।
ওড়নাটা গলার সাথে নিয়ে ফোনটা হাতে নেয়। প্রিয়তা কল করেছিল ভিডিও কল।
প্রলয় ব্যাক করে দ্রুত। প্রিয়তা রিসিভ করে কল।
প্রলয়কে তার ওড়না গলায় নিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে, "আপনি আমার ওড়না নিয়ে কী করছেন?"
"আপনার গায়ের ঘ্রান পাচ্ছিলাম। তাই সেটা অনুভব করছিলাম। কী আর করবো বলুন! আপনাকে তো পাচ্ছি না। আপনাকে ভীষণ দরকার ছিল এখন আমার।"
"চুপ করুন। উল্টোপাল্টা না বলে ঘুমোন গিয়ে।আপনি ভীষণ পাজি!"
"যাক বাবা!আমি কী করলাম? আপনিই তো আমায় কল করেছেন। "
"সে করেছিলাম একটা দরকারে। এখন দরকার মিটে গেছে। আপনি ঘুমোন।"
প্রলয় প্রিয়তার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। এরপর ফট করে বলল, "ওড়নাটা সরান।"
"ছি ছি। এসব কী বলছেন? কেউ চলে আসবে। আপনি ঘুমিয়ে জান।"
প্রলয় দৃঢ় গলায় বলল, "যেটা বলছি করুন। কাম ফার্স্ট।"
প্রিয়তা ধীরে ধীরে ওড়নাটা সরালো।
প্রলয় প্রগাঢ় দৃষ্টিতে কিছু যেন দেখলো। এরপর বলল,"ওটা কিসের দাগ? লাল লাল।ছোপ ছোপ। "
প্রিয়তা নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে বলল, "এটা? মনে নেই কিসের দাগ? এটা আপনি করেছেন। এমন অসংখ্য দাগ আছে আমার শরীরে।"
প্রলয় মুচকি হাসলো।
বলল, "সরি সরি। মনে ছিল না। ওগুলো দাগ না গাধা। ওগুলো হলো প্রলয় সরকারের চিহ্ন। এই চিহ্ন দেখলে যে কেউ বুঝে যাবে আপনি ম্যারিড। কেউ আর বদনজর দেবেনা। ওটা একটা প্রটেকশন দিয়ে দিয়েছি আপনাকে।"
ওর কথা শুনে হাসলাম আমি।
বললাম, "হয়েছে এখন রাখুন। রোজা আবার ব্যাচেলর পার্টি করবে।আমায় সেখানে থাকতে বলছে। কতবার বলছি আমি থাকবোনা। শুনছে না ও।"
প্রলয় বলল,"সমস্যা কী!ইনজয় করুন। "
আমি 'ঠিক আছে ' বলে কল কেটে দিলাম।
রোজা এলো ঘরে। বলল, "হলো বরের সাথে কথা? এইবার ঐ ঘরে চল। সবাই ওয়েট করছে তোর জন্য।
আর শোন তু্ই কিন্তু ওয়েস্টার্ন পড়বি। আমরা সবাই পড়েছি। তোর ড্রেস আমি বিছানায় রেখেছি। তাড়াতাড়ি পড়ে চলে আয়।"
এই বলে চলে গেল রোজা। আমায় কিছু বলার সুযোগই দেয়নি।
অনেক দিন ওয়েস্টার্ন পড়িনি আমি।
আজ পড়বো। ইতস্তত বোধ হচ্ছে। কিছু বলতেও পারছি না। এই মেয়েটা আমায় সত্যিই পাগল বানিয়ে দিচ্ছে। কিছু বললেই মন খারাপ করছে।বলছে ও চলে যাবে। ওর সাথে সবাই খারাপ ব্যবহার করছে। বাধ্য হয়ে ওর সব কথাই শুনতে হচ্ছে।
বিছানা থেকে ড্রেসটা নিলাম। একটা ক্রপ টপস। আর জিন্স।
পড়তে তো হবেই। পড়ে নিয়ে দরজা দিয়ে উঁকি দিলাম। কেউ নেই। দিলাম এক দৌড়।
সোজা ঘরে গিয়ে ঢুকে ঘনঘন শ্বাস নিতে লাগলাম।
সবাই আমাকে দেখে ভীষণ খুশি হলো।
রোজা আমার হাত ধরে বলল, "ওয়াও প্রিয়তা। ইউ লুকিং সো হট।"।
"হয়েছে আর পাম দিতে হবেনা। এইবার বল কী করতে হবে আমায়?"
রোজা আমার হাত ধরে মাঝখানে নিয়ে গিয়ে বলল, "লেটস ডান্স বেইব।"
ওরা নাচতে লাগলো। খুব সাউন্ডে গান বাজছে।
সবাই খুব আনন্দ করছে।
আমি চুপচাপ রইলাম। ওরা অনেক সময় নাচ-গান করলো। এইটা একটা গার্লস পার্টি চলছিল।
ওদের নাচের পালা শেষ হলো।
রোজা বলল, "এখন আমরা একটা গেম খেলবো।"
চরম বিরক্ত নিয়ে বললাম, "এখন আবার গেম? ঘুমোবি কখন তোরা?
কাল কতো কাজ আছে।
কাল কিন্তু হলুদ হবে। অনেক প্রেশার। রাত তো অনেক হলো। এইবার ঘুমোনা সবাই।"
আমার এক কাজিন বলল, "প্লিজ আপু। মেনে নাওনা। এইটাই লাস্ট। গেমটা খেলেই ঘুমিয়ে যাবো আমরা।
জাস্ট আধঘন্টা সময় লাগবে। তুমি না থাকলে খেলা জমবে না।"
রোজা আমায় উস্কে দিতে বলল, "এই বাদ দে। প্রিয়তা ভয় পায়। ও পারবেনা।"
কথাটা আমার ইগোতে লাগলো ভীষণ। বললাম, "প্রিয়তা মেহজাহ পারেনা এমন কোনো খেলা নেই। আমি বসছি। তোরা সব প্রস্তুতি নে।"
গিয়ে বসলাম। রোজা একটা বোতল নিয়ে এলো।
সবাই গোল হয়ে বসে বলল, "ট্রুথ ওর ডেয়ার খেলা হবে। আশা করি সবাই এই খেলার নিয়ম জানে।
কিন্তু এইখানে আর একটা রুলস অ্যাড হবে। সবাইকে একবার ট্রুথ নেওয়ার পর একবার করে ডেয়ার নিতে হবে। এবং সেটা অবশ্যই ফুলফিল করতে হবে।"
আমি মাথা নাড়লাম।
বোতল সবার আগে আমি ঘোরালাম। আমার এক কাজিন বনাম অন্য কাজিন। ও ট্রুথ নিলে ওকে বলা হলো বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা ওর।
সবাই হইহই করে উঠলো। ও লজ্জা মিশ্রিত হেসে বলল 'আছে। '
এইবার আবারো বোতল ঘোরানো হলো।
আমি আর আমার ঐ কাজিন।
আমায় প্রশ্ন করলো প্রলয়কে আমি কতোটা ভালোবাসি।
বললাম, "ঠিক ভালোবাসি কিনা জানিনা। তবে ওকে দেখলে আমার মাঝে একটা মানসিক শান্তি আসে। ও আমার আশেপাশে থাকলে আমি ভরসা পাই। নিজেকে চিন্তা মুক্ত মনে হয়। মনে হয় আমি দূর আকাশের সবচেয়ে সুখী পাখিটা।"
এইভাবে একে একে সবাই ট্রুথ বলল। এইবার ডেয়ার নেওয়ার পালা।
প্রথমেই রোজা।ডেয়ারটা আমি দেব।
কিছুক্ষণ ভেবে বললাম,"তোর ডেয়ার হলো এখন থেকে কাল রাত পর্যন্ত আমায় আর তোর বরের কোনো কিছু পছন্দ করতে বলবিনা।"
রোজা মুখটা পাঁচ বানিয়ে নিল।সবাই আমরা হাসতে লাগলাম।বেচারা নিজেই ফেঁসে গেল।
রোজা বলল,"কিন্তু এখনোতো আমার বরের নাগড়া কেনা হয়নি।তু্ই পছন্দ না করে দিলে কিভাবে কিনবো?
ঠিক আছে আমার বরকে বলবো প্রিয়তা তোমায় নাগড়া ছাড়াই বিয়ে করতে বলেছে।"
চেঁচিয়ে উঠে বললাম,"কখন বলেছি আমি এই কথা?মিথ্যা বললে তোর দাঁত ভেঙে দেব।"
দুজনের জগড়ায় বাকি সবাই মজাই পাচ্ছে।
বোতল ঘোরাতেই এইবার আমার ডেয়ার।চিন্তায় পড়ে গেলাম।না জানি কী দিয়ে বসে আমায়।
কাজিন বলল, "তোমার ডেয়ার হলো তোমার হোয়াটসআপে চ্যাটলিস্টে যে প্রথমে আছে তাকে লিখতে হবে 'তোমায় ভালোবাসি আমি। কিন্তু বলতে পারিনি। আজ বলছি তোমায়। ভালোবাসবে কী আমায়?'
বললাম,"ঠিক আছে।"
ফোন হাতে নিতেই আমার কাজিন নিয়ে নিল ফোনটা। বলল, "তুমি চিটিং করতে পারো।
আমি লিখবো।"
আমি তাতেও রাজি হলাম। ও আমার ইনবক্স এ ঢুকে বলল, "বাহ্ কতো প্রেম।"
আমি হাসলাম।
প্রলয়ই আছে আমার চ্যাটলিস্টের প্রথমে। একটু আগেই কথা হয়েছে আমাদের।
বরকে ভালোবাসার কথা বলাই যায়।
ও মেসেজ টা লিখে ফোনটা ওর কাছেই রাখলো। আমরা আবারো খেলায় মন দিলাম।
এইভাবে এক ঘন্টা পার হয়ে গেল।রাত তখন দুটো ছুঁই ছুঁই।
বললাম, "আমি আর খেলতে পারবোনা।ঘুমে তাকাতে পারছিনা।"
রোজাও হাই তুলে বলল, "আমিও ভীষণ টায়ার্ড।"
আমি জামাটা বদলে এসে সেখানেই শুয়ে পড়লাম। বাড়ি আমার। যেখানে সেখানে ঘুমোলেও কোনো সমস্যা নেই। রোজাও আমার পায়ের কাছে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম দুজনেই। কে কোথায় শুয়েছে সেই খেয়াল নেই।
পাখির কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙলো আমার।
উঠে বসলাম। অবাক হলাম। আমার গায়ে চাদর দেওয়া।
কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি খালিই শুয়েছিলাম। তাহলেই কাঁথা দিয়েছে কে?
পেছনে তাকাতেই দেখলাম রোজাও শুয়ে আছে। ওর গায়েও কাঁথা টানা।
মনে হয় ও দিয়েছে। একটু নিশ্চিন্ত হলাম।
মা এলো। আমায় দেখে বলল, "উঠে গেছিস!হাত মুখ ধুয়ে নে। রোজাকে জাগিয়ে দে। নিচে এসে ব্রেকফাস্ট করে নে। কাজ আছে অনেক।"
মা চলে যেতে নিল।আমি মাকে ডাকলাম। মা পেছন ফিরে ভ্রু উঁচিয়ে কী হয়েছে জানতে চাইলো।
আমি ধীর পায়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
বললাম,"আচ্ছা মা প্রলয়কে তোমরা আগে থেকে চিনতে?"
"হটাৎ এই প্রশ্ন?"
"এমনিতেই।জানতে ইচ্ছে হলো।"
"তোর বাবা চিনতো।
ব্যবসায়িক কাজে একবার আমাদের বিরাট লস ঠেকিয়ে ছিল প্রলয়।
একটা ডিলের পেছনে অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছিল তোর বাবা। কিন্তু হটাৎ কোনো কারণে সেই ডিলের বাকি পার্টনার গুলো ডিলটা ছেড়ে দেয়। ঐখানে আমাদের অনেক টাকা ইনভেস্ট ছিল।
কাজ আরো বাকি ছিল।
ইনভেস্টার পাওয়া যাচ্ছিলো না।কোনোভাবে কাজটা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের বিশাল লস হয়ে যেত। উঠে দাঁড়াতে পারতাম কিনা সন্দেহ।
তখন প্রলয় আমাদের হেল্প করে। ওর রেফারেন্স এ ইনভেস্টার পাই।
ও নিজেও ইনভেস্ট করে।"
"তারপর?"
"তার সপ্তাহ দুয়েক পরে প্রলয় নিজেই তোর বাবার কাছে তোকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
প্রথমে আমি একটু নাকোচ ছিলাম। কিন্তু যখন তোর বাবা আমায় আস্বস্ত করলো তখন আর নিষেধ করিনি।
বিয়ে হয়ে গেল তোদের।"
আমি মাথা নিচু করে চুপ রইলাম।
মা আমায় বলল, "তু্ই কী সুখী নোস মা? আমরা কী কোনো ভুল করলাম?"
আমি ফিক করে হেসে দিয়ে মায়ের কাঁধ ধরে বললাম,"তোমাদের কোনো সিদ্ধান্ত কখনো ভুল ছিল নাকি মা?
আমি ভীষণ ভালো আছি। প্রলয় অনেক ভালো। আমার অনেক কেয়ার করে। "
মা হাসলো আমার গাল টেনে দিয়ে বলল, "ভয় পাইয়ে দিস আমায়।"
সে চলে গেল। আমি রুমে এসে রোজাকে ডাকলাম। ও উঠছেই না।
কানের কাছে বললাম, "বিয়ে করবিনা রোজা?"
ও সাথে সাথে উঠে গেল।
লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে মাথায় গায়ের চাদর টেনে নিয়ে বলল, "বর চলে এসেছে? চল আমি রেডি। ঘোমটা দিয়েছি চল।"
আমি হাসতে লাগলাম।
রোজা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো।
চারপাশ থেকে বলল, "ওহ এই রুমে আমরা?
মজা করছিস? একটু হলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত।"
বললাম, "ফ্রেশ হয়ে আয়। নিচে যেতে হবে। সবাই মনে হয় উঠেই গেছে।"
রোজা হাঁটতে নিয়ে মাথা থেকে চাদরটা নিল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "এটা এলো কোথা থেকে?
তু্ই দিয়েছিস?"
বিস্ময়ের স্বরে বললাম, "না তোহ। আমি তো ঘুমিয়েছিলাম। আমার গায়ে ছিল চাদরটা টানা। ভাবলাম তু্ই দিয়েছিস।"
"আমি দেইনি। আমিও ঘুমিয়ে ছিলাম। টায়ার্ড ছিলাম খুবই।
এই চাদর, কাঁথা গুলোতো ঐ পাশের ঘরে ছিল। যেখানে ভাইয়া থাকছে।
এগুলো এখানে এলো কী করে?"
দুইজনে ভাবতে লাগলাম কে দিলো তাহলে।
তখনি আমার আর কাজিনরাও ঘরে এলো।
ওরা সবাই অন্য ঘরে চলে গিয়েছিল ঘুমোতে।
বললাম, "তোদের মাঝে কেউ কী রাতে এই রুমে এসেছিলি?"
ওরা বলল, কেউ আসেনি ওরা।তাহলে এলো টা কে?
(এই পর্বের আরেকটা পার্ট আসবে। ঐটা লিখতে একটু টাইম লাগবে। তাড়াতাড়ি দিয়ে দেব। কারেন্ট থাকেনা। বাচ্চা ঘুমায়না। আমি খুবই সমস্যায় আছি।
ফোনে চার্জ থাকেনা।)