15/09/2023
❤️❤️❤️❤️❤️সৃষ্টির পূর্বাবস্থা ❤️❤️❤️❤️❤️❤️
সৃষ্টির পূর্বাবস্থা কেমন ছিল,,কিভাবে বিশাল ব্রহ্মাণ্ড হতে সৃষ্টির প্রথম মানুষ সৃষ্টির ধারণা তৈরি হলো!!!
সাংখ্য দর্শন, মনুসংহিতা সহ অন্যান্য হিন্দুশাস্ত্রের সৃষ্টিক্রম বর্ণনা অনুযায়ী সৃষ্টির আদিতে স্থিত মূল প্রকৃতি ও পুরুষকে নিত্য সত্ত্বা বিদ্যমান ছিল।
এই নিত্য সত্ত্বার কোনো সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না।
এখানে প্রকৃতি হচ্ছে ত্রিগুণাত্বক এই ব্যাক্ত জগতের মূল কারণ যা অব্যাক্ত সূক্ষরূপে থাকে।
সত্ত্ব (প্রকাশ), রজঃ (প্রবৃত্তি) ও তমঃ (নিয়মাত্মক) এই তিনটি গুণ একে অন্যকে অভিভূত করে এই অব্যাক্ত জগৎকে প্রকাশ করে ব্যাক্ত করে।
এই প্রকৃতি ও প্রকৃতি হতে সৃ্ষ্ট বিকৃতি (ব্যাক্ত জগৎ) চেতনা রহিত অচেতন জড় রূপ।
তার সাথে পুরুষের সংযোগ ঘটে।
পুরুষ হচ্ছে সূক্ষ্ম, অব্যক্ত, নিত্য ও চৈতন্যরূপ সত্ত্বা। সৃষ্টির পূর্বে এই ভিন্ন অন্য কোনো সত্ত্বার অস্তিত্ব ছিল না।
ঋগ্বেদের নাসদীয় সূক্তের ১০ মন্ডলের ১২৯ সুক্তে বলা হয়েছে,
তৎকালে যাহা নাই তাহাও ছিল না,
যাহা আছে তাহাও ছিল না পৃথিবীও ছিল না,
অতি দূরবিস্তার আকাশও ছিল না।
আবরণ করে এমন কি ছিল?
কোথায় কাহার স্থান ছিল?
দূর্গম ও গম্ভীর জল কি তখন ছিল?।।
তখন মৃত্যুও ছিল না, অমরত্বও ছিল না, রাত্রি ও দিনের প্রভেদ ছিল না।
কেবল সেই একমাত্র বস্তু বায়ুর সহকারিতা
ব্যতিরেকে আত্মামাত্র অবলম্বনে নিশ্বাস প্রশ্বাস যুক্ত হয়ে জীবিত ছিলেন।
তিনি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না।
সাংখ্য দর্শনের বর্ণনায় প্রকৃতি ও পুরুষের সংযোগে ক্রমাণ্বয়ে ব্যাক্ত জগৎ সৃষ্টির হতে থাকে।
প্রকৃতি ও পুরুষের উভয়ের সংযোগে প্রথম যে তত্ত্বের উৎপন্ন হয় তার নাম মহাত্তত্ত্ব বা বুদ্ধিতত্ত্ব।
বর্ণনা অনুসারে ব্রহ্মই সেই প্রকৃতি-পুরুষের সংযোগকারী।
নাসদীয় সুক্তে আরও বলা আছে,
সর্বপ্রথমে অন্ধকারের দ্বারা অন্ধকার আবৃত ছিল। সর্বত্রই চিহ্ন বর্জিত ও চতুর্দিক জলময় ছিল। অবিদ্যমান বস্তু দ্বারা সেই সর্বব্যাপী আচ্ছন্ন ছিলেন। তপের প্রভাবে সেই এক বস্তু জন্মিলেন।
— ঋগ্বেদ, ১০। ১২৯। ৩
মহত্যাদির সৃষ্টি
এই মহৎ তত্ত্ব হতে ত্রিগুণাত্বক অহঙ্কারতত্ত্ব অর্থাৎ সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক গুণসম্পন্ন অহংকারের উৎপত্তি হয়।
অহংকার হতে সত্ত্বগুণের প্রাবল্যে পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক) পঞ্চকর্মেন্দ্রিয় (হস্ত, পদ, বাক, পায়ু, উপস্থ), এবং উভয়েন্দ্রিয় (মন) মিলে মোট একাদশ ইন্দ্রিয়ের উৎপত্তি হয়।
তমগুণের প্রাবল্যে পঞ্চতন্মাত্র (শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ) উৎপন্ন হয়।
আবার এই পঞ্চতন্মাত্র হতে ব্রহ্মই যথাক্রমে পঞ্চ স্থুলভূত (আকাশ, বায়ু, অগ্নি, অপ বা জল ও পৃথিবী) সৃষ্টি করেছেন।
পঞ্চতন্মাত্র হতে পঞ্চস্থুলভূতের সৃষ্টি।
শব্দতন্মাত্র হতে আকাশ; শব্দ ও স্পর্শ তন্মাত্র হতে বায়ু; শব্দ, স্পর্শ ও রূপতন্মাত্র হতে তেজ; শব্দ, স্পর্শ, রূপ ও রসতন্মাত্র হতে জল সৃষ্টি হয়।
পরব্রহ্মই সেই জলকে ধারণ করলেন।
এরপর তিনিই সেই জলে জগৎ বীজরূপ ইচ্ছাশক্তি স্থাপন করলেন।
এই বীজ ক্রমে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে সুবর্ণময় এক অণ্ডে পরিণত হয়।
একে পবিত্র বেদে হিরণ্যগর্ভ বা ব্রহ্মাণ্ড এবং আদিতে ছিলেন বলে তাকে আদিত্য বলা হয়েছে।
সেই সূবর্ণময় অণ্ড বিশাল জলরাশিকে নিজগর্ভমধ্যস্থ করল।
সেখানে পরব্রহ্মই অবস্থান করলেন এবং তিনি ব্রহ্ম নামে পরিচিত হলেন।
সৃষ্টির কারণরূপ সেই জলকে 'নারা' বলা হয়েছে।
এই “নারা“-জলসমূহে প্রথম অয়ন বা আশ্রয় ছিল বলে ব্রহ্মকে নারায়ণও বলা হয়ে থাকে।
এই অণ্ড ক্রমাণ্বয়ে জল, বহ্নি বা অগ্নি, বায়ু ও আকাশ দ্বারা ক্রমে আবৃত হল।
এরপর শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধতন্মাত্র হতে ত্রিগুণাত্বক পৃ্থিবীর উপাদান উৎপন্ন হল।
ব্রহ্ম সংবৎসরকাল পর অণ্ডকে ভাগ করে উর্ধ্বভাগ সৃষ্টি শক্তিরূপ ব্রহ্মা, মধ্যভাগ স্থিতিশক্তিরূপ বিষ্ণু,
এবং অধোভাগে ধ্বংশ শক্তি বা প্রলয় শক্তিরূপ শিব প্রকটিত হল।
মনুসংহিতায় বলা হয়েছে উর্ধখণ্ডে স্বর্গলোক,
নিম্নখণ্ডে ভূলোক এবং মধ্যভাগে আকাশ, অষ্টদিক ও শাশ্বত জলস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
অণ্ড ভাগের সময় একপ্রকার তরঙ্গ রশ্মির উদ্ভব হয়। এরপর ব্রহ্ম বিন্দু থেকে সবকিছু গতিময় বা ব্যাপ্ত হয়, অব্যাক্ত হতে সমস্তকিছু ব্যাক্ত হতে থাকে, সৃষ্টি হয় বিভিন্ন গ্রহ, নক্ষত্র ও জগতের।
বিভিন্ন গ্রন্থে ব্রহ্মকে প্রথম জন্মগ্রহণকারী ও
গৌণ স্রষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর শুরুর সময়কে কল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবরণে বলা হয়েছে, মহাবিশ্বকে প্রথমে তিনি তিন ও পরে চৌদ্দ লোকে ভাগ করেন এবং
মহাবিশ্বকে গুণ ও পূর্ণ করার জন্য প্রথম জীবিতসত্তা সৃষ্টি করেন।
বিবরণে বলা হয়েছে, ব্রহ্ম তমসাচ্ছন্ন পৃথিবীকে চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্রমন্ডলী দ্বারা আলোকিত করেন। সৃষ্টি-বিস্তারের জন্য প্রথমে তিনি ঋষিগণ সৃষ্টি করেন, কিন্তু এরা বংশবিস্তারে অনাগ্রহী হয়ে তপস্যায় মগ্ন হয়। এতে ব্রহ্মা নিজ মূর্তি থেকে "শতরূপা ও স্বয়ম্ভুব মনু" নামক নারী ও পুরুষ সৃষ্টি করেন।
(সৃষ্টির প্রথম নারী পুরুষ হলেন এরাই)
এদের প্রিয়ব্রত ও উত্তানপাদ নামক দুই পুত্র এবং আকুতি, দেবাহুতি ও প্রসূতি নামে তিন কন্যার জন্ম হয়।
এভাবে পৃথিবীতে মানুষের বংশ বিস্তার শুরু হয়।
Correction and collected!!!!
Forgive wrongs!!
Don,t cut,copy paste...
Share!!!!
#ব্রহ্মাণ্ড
#ঈশ্বর
#বেদ
#হিন্দু
#মনু
#শতরূপা
#ব্রহ্মা
#বিষ্ণু
#সৃষ্টিকর্তা
#সৃষ্টি