12/08/2026
মাঝরাত। চারদিক নিঝুম। শুধু শিবালয়ের আরোয়া ইউনিয়নের সেই ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বারান্দায় একটা অ"স্থি'র পায়ের শব্দ। একজন বাবা ছটফট করছেন । ভেতরে তার স্ত্রী য'ন্ত্র'ণা'য় কাতর। ডাক্তাররা আগেই হাত তুলে দিয়েছেন, "শহরে নিয়ে যান, সিজার করতে হবে।" কিন্তু এই গরিব দিনমজুরের পকেটে তখন এক হাজার টাকাও নেই।
শহরের হাসপাতালের খরচ মেটানো তার পক্ষে অসম্ভব। ঠিক তখনই দে'ব'দূ'তে'র মতো ঘরের দরজা খুলে হাসিমুখে বের হলেন এক নারী। পরম মমতায় বললেন, "ভয় পেয়ো না বাবা। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো, মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ থাকবে। "তিনি আর কেউ নন, তিনি আরজুমান্দ হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম।
সিজারিয়ান অপারেশনের এই আধুনিক যুগে, যেখানে প্রসব মানেই লাখ টাকার বাণিজ্য আর কা'টা'ছেঁ'ড়া'র আ"ত'ঙ্ক, সেখানে তিনি এক জী'ব'ন্ত রূ"প"ক"থা। দীর্ঘ ৩৬ বছরের কর্মজীবনে যিনি নিজের সুখ-আরাম বি'স'র্জ'ন দিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিশুকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক উপায়ে, কোনো কা"টা"ছেঁ"ড়া ছাড়া ।
নিলুফা বেগমের কাছে প্রতিটি প্রসব ছিল একেকটি যু"দ্ধ। আর সেই যু"দ্ধে তার অ"স্ত্র ছিল কেবল ধৈর্য, অভিজ্ঞতা আর মাতৃত্বের খাঁটি ভালোবাসা। কত রাত যে তিনি না ঘুমিয়ে প্রসূতি মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে কাটিয়েছেন, তার কোনো হিসাব নেই।
যখন কোনো অসহায় পরিবার টাকার অভাবে দিশেহারা হয়ে যেত, নিলুফা বেগম তখন তাদের আশার আলো দেখাতেন। তার দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় একে একে ১০ হাজার মা মৃ'ত্যু'র দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন হাসিমুখে, কোলে নিয়েছেন তাদের কলিজার টুকরোকে । সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মায়েদের প্রতি তার দায়িত্ববোধ থেকে অবসর নেননি।
আজও নিজের উদ্যোগে, ছেলের সহযোগিতায় অত্যন্ত স্বল্প খরচে নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কারণ তার কাছে মানবসেবা কোনো পেশা নয়, এটি তার জীবনের ব্র'ত। আজ ১০ হাজার সন্তান এই পৃথিবীতে বুক ফুলিয়ে বেঁচে আছে, যাদের প্রথম কান্নার সাক্ষী ছিলেন এই মহিয়সী নারী। হুমায়রা নিলুফা বেগম আমাদের সমাজের সেই আসল নায়িকা।
যিনি দেখিয়েছেন—টাকা কিংবা প্রযুক্তির চেয়েও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর সততা কত বেশি শক্তিশালী হতে পারে। স্যালুট এই মানবিক মাকে!
এই ডাক্তারের জন্য দোয়া আর শুভকামনা রইল। 💗❤️
#কপি