11/09/2026
পাটের আঁশ থেকে তৈরি হবে পরিবেশবান্ধব পলিথিনের বিকল্প—একসময় এই স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সোনালি ব্যাগ’। কিন্তু কোটি কোটি টাকা খরচ করে গবেষণার পর সেই উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল!
কেন বন্ধ হলো সোনালি ব্যাগ তৈরির প্রকল্প? যে ব্যাগকে একসময় পলিথিনের বিকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছিল, সেটিই কেন বাজারে আসতে পারল না?
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান পাটের পলিমার থেকে এই ব্যাগ তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিলেন। এরপর এটি বাস্তবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে গবেষণা প্রকল্প হাতে নেয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। দুই দফায় এই প্রকল্পে দেওয়া হয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।
দীর্ঘ গবেষণার পর অন্তর্বর্তী সরকার আমলে প্রকল্পটির চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়। আর সেখানেই সামনে আসে বেশ কিছু বড় সমস্যা।
প্রথম সমস্যা—ব্যাগটির উৎপাদন খরচ।
গবেষণায় উঠে আসে, প্রতিটি সোনালি ব্যাগ তৈরি করতে খরচ হতে পারে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। অর্থাৎ সাধারণ বাজারের প্রচলিত ব্যাগের তুলনায় এর দাম অনেক বেশি। ফলে এত বেশি দামে সাধারণ মানুষ এই ব্যাগ কিনবেন কি না, সেটিই হয়ে দাঁড়ায় বড় প্রশ্ন।
কিন্তু শুধু দামই কি সোনালি ব্যাগ বন্ধ হওয়ার কারণ?
আরও একটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয় উদ্বেগ।
বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাগ তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনে এসব রাসায়নিকের কয়েকটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ফলে সামনে আসে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি—পলিথিনের পরিবেশগত ক্ষতি কমানোর জন্য যে বিকল্প তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই বিকল্প উৎপাদনেই যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তাহলে সেটি বাজারে আনা কতটা নিরাপদ?
এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে গবেষণা প্রকল্পটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে আরেকটি প্রশ্ন।
সোনালি ব্যাগের উদ্ভাবক ড. মোবারক আহমদ খান অবশ্য প্রকল্পটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাগ উৎপাদনে কিছু রাসায়নিকের প্রয়োজন ছিল ঠিকই, কিন্তু ব্যবহৃত সব রাসায়নিকই যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর—এমন দাবির সঙ্গে তিনি একমত নন।
অর্থাৎ, কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত থেমে গেল মূলত উৎপাদন খরচ, বাজারজাতকরণ এবং রাসায়নিক ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের কারণে।
যে ‘সোনালি ব্যাগ’ একসময় বাংলাদেশের পাটশিল্পের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে আলোচনায় এসেছিল, সেটি এখন কেন আর বাজারে দেখা যাবে না—এই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।