06/09/2026
১। কোমল হৃদয় অর্জন ২। রুঢ় ও কঠিন ব্যবহার বর্জন ৩। অন্যের জন্য ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা এবং ৪। সকলকে সম্পৃক্ত করার স্বার্থে সকলের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করা।
বস্তুতঃ এই চারটি গুণই একজন মানুষের মধ্যে কোমলতার জন্ম দেয় এবং চরিত্র হতে কাঠিন্যকে দূর করে দেয় । তাই আন্দোলনের জন্য কর্মী সংগ্রহে আয়াতে কারীমায় বর্ণিত এই চারটি বৈশিষ্ট্য কর্মী সংগ্রাহকের জন্য অতীব প্রয়োজন। হৃদয়ের কোমলতাই এই গুনাবলী অর্জনের সহায়ক।
কোমলতা এবং শিষ্টাচারই হচ্ছে দাওয়াতের মুলনীতি । তাই আল্লাহ পাক এরশাদ করছেন-
رَبِّكَ هِيَ أَحْسَنُ ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي
اِنَّ رَبَّكَ هُوا علم بمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ اَعْلَمُ بِالمهتدين
অর্থাৎ;- আপনার রবের পথে আহ্বান করুন হিকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুণ পছন্দ যুক্ত পন্থায়, নিশ্চয়ই আপনার রব ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত আছেন । যে তারপথ হতে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে। (সূরা নাহ্ল)
বার প্রাণের চে প্রিয় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ভাইয়েরা! দাওয়াতী পদ্ধতি তথা কর্মী সংগ্রহের কাজে আলোচ্য আয়াতের মর্মবাণী আমার এই বইয়ের মূলকথা। এটি কর্মী সংগ্রহে আল্লাহ প্রদত্ত নীতিমালা। এখানে দাওয়াতের কাজে তিনটি বিষয়ের কথা উল্লেখ হয়েছে।
১। হিকমত
২। মাওয়েজাতুল হাছানা বা উত্তম উপদেশ
৩। উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক
কুরআন প্রদত্ত এই তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করলে কর্মী সংগ্রহে আমরা সফলকাম হব ইনশাআল্লাহ । অতএব দাওয়াতী এই তিনটি মৌলিক নীতি আমরা আর একটু ব্যাখ্যা
করি ।
প্রথমতঃ কর্মী সংগ্রহে আমাদেরকে হিমমত অবলম্বন করতেত হবে। তাফছীরে রুহুল মাআনীর লিখক বারে মুহীতের বরাত এনে হিকমতের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে-
9/
انها الكلام الصواب الواقع من النفس اجمل موقع مِـ
অর্থাৎ- এমন বিশুদ্ধ কালামকে হিকমত বলা হয়, যা মানুষের হৃদয়ে গ্রহণ করে নেয় । আর মাওয়েজাতুল হাছানা (উত্তম উপদেশ) সম্পর্কে মুফরাদাত, কামুস সহ অন্যান্য তাফসীরের কিতাবে যা বলা হয়েছে তার সারমর্ম হচ্ছে- এমনভাবে নছিহত করা যাতে প্রতিপক্ষের মন এ-কথা উপলব্ধি করে নেয় যে, এটি আমার ভালর জন্যই বলা হচ্ছে। নতুবা এতে নছিহতকারীর কোন স্বার্থ নেই এবং এ পর্যায়ে তার মন নছীহত কবূল করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে ।
এপর্যায়ে রহুল-মাআনীরে লেখক বলেন, মূলত হিকমত এবং নছিহত(উত্তম উপদেশ) এই দুটিই দাওয়াত পদ্ধতির মূলনীতি । তৃতীয়টি অর্থাৎ বিতর্ক মূলনীতির অন্তর্ভূক্ত নয় ।
আপদে সেবার মনোভাব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এ-বিষয়ে অসংখ্য হাদীছ এরশাদ হয়েছে। যেমন তিরমিজী শরীফের রেওয়ায়েতে এসেছে-
عَنْ عَبْدِ الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم
الراحِمُونَ يُرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ إِرْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي
اور
السماء الرحم شَجَنَةٌ مِن الرَّحْمنِ فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَهَا
قطعه الله
,
অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামএরশাদ করেছেন- দয়াশীলদের উপর দয়াল আল্লাহ দয়া করেন । যারা জমিনবাসী, তাদের উপর রহমত কর । যিনি আছমানে (অর্থাৎ আল্লাহ) তোমাদের উপর রহমত করবেন। রহম (দয়া) শব্দটি (আল্লাহর ছিফাতী নাম), রহমান হতে নিঃসৃত। অতএব যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক রাখবে। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। (তিরমিজী)
এই হাদীছের মর্মকথাই হচ্ছে মানবতার সেবা। এই সেবার মধ্য দিয়েই আমরা আল্লাহর রহমত কামনা করব এবং সৃষ্টির খেদমতের মধ্যে দিয়েই স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক বিন্যাস হবে । অন্য হাদীছে এরশাদ হচ্ছে-
ابن داودر عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبي صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَفْسَ عَنْ مُسْلِمٍ
اورد
كرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ الدُّنيا نَفسَ اللهُ عَنْهُ كَرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يُسر على معر في
1.2
شَرٍ فِى الدُّنْيَا يَسْرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ عَلَى
مسلم سر الله عليهِ في الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ
العبد في عون أخيه -
অনুবাদ ঃ ছায়্যিদুনা হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু
আপদে সেবার মনোভাব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এ-বিষয়ে অসংখ্য হাদীছ এরশাদ হয়েছে। যেমন তিরমিজী শরীফের রেওয়ায়েতে এসেছে-
عَنْ عَبْدِ الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم
الراحِمُونَ يُرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ إِرْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي
اور
السماء الرحم شَجَنَةٌ مِن الرَّحْمنِ فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَهَا
قطعه الله
,
অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামএরশাদ করেছেন- দয়াশীলদের উপর দয়াল আল্লাহ দয়া করেন । যারা জমিনবাসী, তাদের উপর রহমত কর । যিনি আছমানে (অর্থাৎ আল্লাহ) তোমাদের উপর রহমত করবেন। রহম (দয়া) শব্দটি (আল্লাহর ছিফাতী নাম), রহমান হতে নিঃসৃত। অতএব যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক রাখবে। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। (তিরমিজী)
এই হাদীছের মর্মকথাই হচ্ছে মানবতার সেবা। এই সেবার মধ্য দিয়েই আমরা আল্লাহর রহমত কামনা করব এবং সৃষ্টির খেদমতের মধ্যে দিয়েই স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক বিন্যাস হবে । অন্য হাদীছে এরশাদ হচ্ছে-
ابن داودر عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبي صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَفْسَ عَنْ مُسْلِمٍ
اورد
كرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ الدُّنيا نَفسَ اللهُ عَنْهُ كَرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يُسر على معر في
1.2
شَرٍ فِى الدُّنْيَا يَسْرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ عَلَى
مسلم سر الله عليهِ في الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ
العبد في عون أخيه -
অনুবাদ ঃ ছায়্যিদুনা হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামা) হতে বর্ণনা করেছেন, যে কেউ কোন মুসলমানের দুনিয়াবী বিপদসমূহ হতে কোন বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তাআলা তার কিয়ামতের বিপদসমূহ হতে বিপদ দূর করবেন । যে কেউ দুনিয়ার কোন মুহতাজদারের উপর হাজত পূরণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুনিয়া এবং আখিরাতে হাজত পূরণ করবেন। আর যে দুনিয়ায় কোন মুসলমানের ভুল-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া এবং আখিরাতে তার ভুল- ত্রুটি গোপন রাখবেন । আর আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সাহায্য করেন, যতক্ষণ বান্দাহ তার মুমিন ভাইয়ের সাহায্যে থাকে । (তিরমিজী)
অতএব অন্যের প্রতি সহযোগীতার মনোভাব কর্মী সংগ্রাহককে অবশ্যই নিজের মাঝে তৈরী করতে হবে।
৯. তাকাব্বুরী বা গৌরব মানব চরিত্রের অত্যন্ত খারাপ দিক। একটি আন্দোলনের নেতা- কর্মীকে এই গৌরব জনবিচ্ছিন্ন করে দেয়। যে গৌরব করে, তার কোন কথাতেই মানুষের আস্থা থাকে না। গৌরব কারীর অবস্থান যত উঁচুতেই হউক, মানুষের অন্তরে তার স্থান থাকে না। তাকাব্বুরির কারণে ইবলিছ সম্মানিত স্থান হতে নিকৃষ্ট স্থানে পতিত হল, আর স্থায়ীভাবে লানতপ্রাপ্ত হল । গৌরবকারী ব্যক্তি কর্মী সংগ্রহ দূরের কথা, তার সাথে অন্যরা সহজে মিশতেও পারে না। কুরআনুল করীমে এরশাদ হচ্ছে-
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مُرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقُ الْأَرْضُ وَلَنْ تَبْلُغَ الجبال طولاً
অর্থাৎ- জমিনে দম্ভভরে পদচারন করো না, নিশ্চয়ই তুমি ভূ-পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না। আর উচ্চতায় তুমি কখনো পর্বতসম হতে পারবে না। (সূরা বনি ইসরাঈল) . অতএব কর্মী সংগ্রহে সংগঠনের প্রত্যেক ভাইকে অত্যন্ত বিনীতভাবেই নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে । অন্যদের সামনে নিজেকে ক্ষুদ্রভাবেই পেশ করতে হবে। এই ক্ষুদ্রত্বের মাঝেই অন্যরা আপনার মহত্ব অনুসন্ধান করে নিবে। সংগঠনের জন্য কর্মী সংগ্রহে আমরা একটু বিনীত এবং বিনম্র হতে অপমান কোথায়? আমরা সবাই জানি, নিজেকে বড় মনে করলে বড় হওয়া যায় না, বরং লোকেরা যাকে বড় মনে করে, সে-ই বড় হয়। নিজের মাঝে কোন গুণ থাকলেও এতে গর্ব করার কিছুই নেই। আপনি কি জ্ঞানী? কিন্তু আপনার থেকেও তো বড় জ্ঞানী আছে । আপনি কি সুন্দর? আপনার থেকেও তো সুন্দর লোক আছে। আপনি কি শক্তিশালী? আপনার থেকেও তো অনেক শক্তিশালী লোক আছে। আপনি কি অর্থশালী? আপনার থেকেও তো বেশী অর্থশালী লোক আছে। কুরআনুল করীমে এরশাদ হচ্ছে- অর্থাৎ- প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর মহাজ্ঞানী আছে । অতএব অহেতুক গৌরব ধরে রাখার চেয়ে বিনয়াবনত হওয়া মানুষের নিকট অধিক গ্রহণীয় । আল্লাহর নিকটও এটি প্রিয়। এ-গুণ যে নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতে পারবে, কর্মী সংগ্রহের মত কঠিন অথচ একটি সৃজনশীল কাজ তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। সুতরাং জ্ঞান-বুদ্ধি,
عليم ذى علم
,
নেতৃত্ব, অর্থ, প্রতিষ্ঠা, প্রতিপত্তি ইত্যাদির অহেতুক গৌরব বাদ দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে একেবারেই মাটির মানুষ হয়ে যেতে হবে। বিনম্র মানুষের সামনে সবাই বিন হয়। আর তাকাব্বুরীর উগ্র ঘোড়ায় চড়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করা যায় সত্য, কিন্তু দ্বীনের দাওয়াতের মত পবিত্র সৃষ্টিশীল কাজ অসম্ভব। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে হতে হবে গর্ব-গৌরব বিবর্জিত বিনয়ী স্বাভবের এক মহান ব্যক্তিত্ব । এতে অন্যরা ইসলামী আন্দোলনের দিকে সহজেই ধাবিত হবে ।
•
১০. কাউকে নিজের আন্দোলনের কর্মী বানাতে হলে তার কাছে নিজের আন্দোলনের কথা বলতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধু একনাগাড়ে নিজের কথা বললে আর অন্যকে কথা বলার সুযোগ না দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই নিজের কথা অন্যকে শুনাতে হলে অন্যের কথা আপনার নিকট ভাল লাগুক আর নাই লাগুক, অবশ্যই শুনতে হবে। নতুবা কেউ আপনার কথা শুনতেই চাইবে না । শুনলেও শুধুই শুনার জন্যই শুনা, মনের কানে শুনবে না। আপনি বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন, আরেকজন শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে যাবে। কারুরই কোন ফায়েদা হবে না। মূলতঃ উভয়েরই আলোচনার মধ্য দিয়েই একটা সত্য বেরিয়ে আসে। আর সে সত্যই হয় সবার নিকট গ্রহণযোগ্য ।
অনেকেরই লাগাতার কথা বলার বদ অভ্যাস আছে, কিন্তু শুনবার নেক অভ্যাসটা নেই । এটা ভীষণ বিরক্তিকর। কাউকে সংগঠনের সাথে যুক্ত করতে হলে দাওয়াত দেয়ার পর তার অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত তার সকল কথা শুনার ধৈর্য্য আপনাকে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে ওর মনের মেঘ এমনিতেই অনেকটা কেটে যাবে । আর বাকীটা কেটে যাবে আপনার যৌক্তিক এবং বিনয়ী আলোচনার মধ্য দিয়ে।
একটি কথা মনে রাখবেন কাউকে সত্য পথের সাথে যুক্ত করতে হলে তার অপ্রয়োজনীয় অনেক কথাই আন্তরিকতার সাথে আপনাকে শুনতে হবে, কিন্তু আপনি একটি অপ্রয়োজনীয় কথাও বলতে যাবেন না। অহেতুক কথা বলা মানে সত্যের পথে কারও আসার পথকে অমসৃন করে দেয়া । শুধু কথা শুনার ভান করলেই হবে না, বরং আপনি তাকে বুঝতে দিতে হবে যে, শুনার জন্য আপনার আন্তরিকতা আছে এবং তার উদ্দেশ্যের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা আছে। এক পর্যায়ে সেই-ই আপনার বক্তব্য শুনার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠবে এবং নিজের অধিক কথা বলার জন্য লজ্জিত হবে। এ-দূর্বলতার সুযোগেই আপনি তাকে আদর্শের পথে নিয়ে আসার পরিবেশ তৈরী করতে পারবেন ।
,
একটি লোককে সত্য পথে আনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন শেষ হয়ে যেতে পারে-এতে কিন্তু অধৈর্য্য হলে চলবে না। কারণ কাজটিই প্রচন্ড ধৈর্য্যের। অধৈৰ্য্য হওয়া মানে নিজের কাছেই নিজে পরাজিত হওয়া। আবার অন্যজনের কথা শুধু শুনলেই হবে না, বরং নিজেকেও কথায় শরীক হতে হবে। অতিরিক্ত কথা বলা যেমন বিরক্তিকর, একেবারে না বলাটাও বিরক্তিকর । এক্ষেত্রে কথার ভারসাম্য রক্ষাই হচ্ছে উত্তম পন্থা । কর্মী সংগ্রহের
কাজে এ বিষয়টি অবশ্যই প্রত্যেক ভাইকে মনে রাখতে হবে।
১১. সর্বোপরি কর্মী সংগ্রহে সমস্ত গুনাবলী অর্জনের সাথে সাথে যে বিষয়টি আমাদেরকে অর্জন করতে হবে, তা হচ্ছে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব । কথা-বার্তা, চাল-চলন, আচার-আচরণ, পোষাক-পরিচ্ছদ সার্বিক বিষয়ে সংগঠনের কর্মীদেরকে ব্যক্তিত্বশীল হতে হবে। ব্যক্তিত্বহীন লোক যতই জ্ঞানী হউক না কেন, যত বড় পদেই তিনি আসীন হউক না কেন, তার কথায় কোন আবেদন থাকে না । সংগঠনের গণসংযোগের কাজ করার ক্ষেত্রে এটি আরও অধিক সত্য। কারণ সংগঠন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের দাওয়াত এমন এক বিষয় যে, সবাই দাওয়াত প্রদানকারীর চরিত্রে, বিজ্ঞতায় এবং সার্বিক ব্যক্তিত্বে অন্য দশজনের তুলনায় আলাদা কিছু আশা করে। বিশেষতঃ আদর্শিক রাজনীতি তথা ইসলামী রাজনীতির ক্ষেত্রে এটি শতভাগ সত্য। আদর্শের রাজনীতির দাওয়াত দিয়ে সেখানে আবার অবাঞ্চিত গোঁজামিলের কোনই স্থান নেই। সকলেই আশা করবে যিনি এত সুন্দর আদর্শের দাওয়াত দিচ্ছেন, ব্যক্তি জীবন হতে সমাজ জীবন পর্যন্ত তথা জীবনের সর্ব বিভাগে তিনি নিজেই আদর্শস্থানীয় কিনা। এ-সব বিচারে কর্মী সংগ্রাহকের ব্যক্তিত্বের প্রতি যদি অন্যদের শ্রদ্ধা- আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তাদেরকে কর্মীর কাতারে নিয়ে আসতে বিলম্ব হওয়ার কথা
নয়।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে,যারা আদর্শের রাজনীতি করে তাদের ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে তাকওয়ার উপর ভিত্তি করেই । তাকওয়াবিহীন ব্যক্তিত্ব স্থায়িত্ব লাভ করে না । ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার জন্য তাকওয়ার সাথে আর যে বিষয়টি অতীব জরুরী, তা হলো জ্ঞান । আর তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে উত্তম রুচিবোধ। মোটকথা তাকওয়া জ্ঞান আর রুচিবোধই হলো ব্যক্তিত্ব। এটি মানুষকে যেমন অনেক উঁচুতে নিয়ে যায়, তেমনি এই ব্যক্তিত্বের অভাব মানুষকে অনেক নিচের বাসিন্দাতে পরিণত করে।
ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোকের কথা হয় বিশ্বাসযোগ্য। অপরপক্ষে ব্যক্তিত্বহীন লোক ভাল কথা বললেও কেউ তা বিশ্বাস করতে পারেনা। এতে প্রকারান্তরে সংগঠনই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে তিলে তিলে। এজন্য নিজের সামনে কোন মহান ব্যক্তিত্বের দৃষ্টান্ত থাকতে হবে । তাছাড়া জীবনের কোন একটি সময়ে আদর্শবান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অহেতুক ব্যক্তিত্ব চেহারায় ধরে রাখাটা ব্যক্তিত্ব নয়। ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ মৌলিক বিষয় । এটি সত্ত্বাগতভাবে গড়ে উঠবে। এখানে কৃত্তিমতার এতটুকুন স্থান নেই । কৃত্রিম আচরণ ব্যক্তিত্ব তৈরী করার সহায়ক তো নয়ই, বরং মানুষকে আরো হালকা করে দেয়। ব্যক্তিত্ব কোন একাডেমিক অর্জনের বিষয় নয়। বরং যে কথা পূর্বে বলে এসেছি, তাকওয়া জ্ঞান আর রুচিবোধের সাথে যখন আল্লাহর রহমত শামেল হয়, তখন একজন লোক মর্যাদাশীল এবং ব্যক্তিত্ববান হয়ে মহীয়ান হয়ে উঠে । দাওয়াতী কর্মে নেতা-কর্মীদের জন্য এই ব্যক্তিত্ব অর্জন পূর্বশর্ত।
ধারাবাহিক ভাবে পোষ্ট করা হবে, ইনশাআল্লাহ।