BD ACT

BD ACT আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর

02/10/2026

আগামী ৮ অক্টোবর ৩৮ তম ওরুছে ইমামে রাব্বানীতে আল্লামা আবেদ শাহ আল-মাদানী (রাঃ) এর ১১২ টি কারামত সম্বলিত কিতাব পাওয়া যাবে।

কুমিল্লায় আজ এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। জনাব মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন সাহেব ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত প্র...
13/09/2026

কুমিল্লায় আজ এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। জনাব মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন সাহেব ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি দ্বীনি মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে আনজুমানের নামে দান করে দিয়েছেন। ماشاء الله
উনার এই বিশাল মহিমান্বিত দানের কথা শুনে হুজুর কিবলা খুশি হয়ে বললেন,“আপনি তো একেবারে জান্নাত কিনে নিলেন!

দুনিয়ার এই স্বল্পমেয়াদী জীবনে মানুষ সম্পদ অর্জনের পেছনে ছোটে, কিন্তু কিছু বিরল ব্যক্তিত্ব সেই সম্পদকেই আখিরাতের পাথেয় হিসেবে গড়ে তোলেন। ইন শা আল্লাহ এই জমিতে বিশাল মাদ্রাসা গড়ে উঠবে, হাজারো হাজার শিক্ষার্থী সুন্নিয়ত ও মসলকে আলা হযরতের শিক্ষায় আলোকিত হয়ে সারা দেশে ইলমে দ্বীনের আলো ছড়াবে এবং এই খেদমতের সওয়াব উনার আমলনামায় অবিরত যুক্ত হতে থাকবে।

আল্লাহ তাআলা জনাব মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন সাহেবের এই মহান ত্যাগকে কবুল করুন এবং এটিকে উনার ও উনার পরিবারের জন্য উত্তম সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ৫২'র ভাষা শহীদদের খুনি। সে রফিক, সালাম, বরকত,জব্বার ও সফিউর সহ নাম না জানা আরো অনেক ভাষা শহীদদের হত...
13/09/2026

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ৫২'র ভাষা শহীদদের খুনি। সে রফিক, সালাম, বরকত,জব্বার ও সফিউর সহ নাম না জানা আরো অনেক ভাষা শহীদদের হত্যাকারী। বাংলাতে জন্মে যারা বাংলা ভাষা শহীদদের হত্যাকারীর প্রতি প্রেম দেখায় তাদের বাংলায় কথা বলা ও বাংলাদেশে থাকার নৈতিক কোন অধিকার নাই। তারা জিন্নাহর দেশ পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত।
-আল্লামা মুহাম্মদ মনির হোসাইন আল আবেদী
(সভাপতি- ইসলামিক যুবফ্রন্ট বাংলাদেশ)

জামাল উদ্দীন চৌধুরী ছিলেন সুন্নীয়তের রাজনৈতিক আন্দোলনের বীর সিপাহসালার: আল্লামা জুবাইরইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর পটিয়া উ...
06/09/2026

জামাল উদ্দীন চৌধুরী ছিলেন সুন্নীয়তের রাজনৈতিক আন্দোলনের বীর সিপাহসালার: আল্লামা জুবাইর
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর পটিয়া উপজেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মরহুম জামাল উদ্দীন চৌধুরীকে সুন্নীয়তের রাজনৈতিক আন্দোলনের একজন বীর সিপাহসালার হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংগঠনের মহাসচিব শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর। তিনি বলেন, জামাল উদ্দীন চৌধুরী ইসলামের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রাম সত্যসন্ধানী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টায় শান্তিরহাটস্থ খানকায়ে চিশতিয়া আলীয়া শরীফে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ পটিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মরহুম জামাল উদ্দীন চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, জামাল উদ্দীন চৌধুরী ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ও আদর্শনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী। সুন্নীয়তের আদর্শ ও ইসলামের মূলধারার চিন্তা-চেতনা প্রতিষ্ঠায় তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল নীতি, আদর্শ ও সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাতিল মতাদর্শের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মতো ত্যাগী ও আদর্শবান কর্মীর স্মৃতি সংগঠনের নেতাকর্মীদের পথচলায় প্রেরণা জোগাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি পরিবার ও শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা রোধ, এলপিজি গ্যাসের মূল্য কমানো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানান ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব।
স্মরণসভায় ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ পটিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এ এম মঈনউদ্দীন চৌধুরী হালিম পটিয়ার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পটিয়ায় চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, মাদকসেবন এবং চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পটিয়া গড়ে তুলতে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্মরণসভায় মরহুম জামাল উদ্দীন চৌধুরীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। বক্তারা তাঁর অসমাপ্ত সাংগঠনিক ও আদর্শিক কাজকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ পটিয়া উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

দাওয়াতী কর্মে নেতা-কর্মীদের জন্য এই ব্যক্তিত্ব অর্জন পূর্বশর্ত। কর্মী-সংগ্রাহকের যে যোগ্যতাগুলো এখানে আলোচিত হয়েছে, তা...
06/09/2026

দাওয়াতী কর্মে নেতা-কর্মীদের জন্য এই ব্যক্তিত্ব অর্জন পূর্বশর্ত। কর্মী-সংগ্রাহকের যে যোগ্যতাগুলো এখানে আলোচিত হয়েছে, তা নিতান্তই মৌলিক বিধায় আমি এখানে এগুলোকেই আলোচনায় এনেছি । নতুবা এর বাইরেও অনেক এমন বৈশিষ্ট্য আছে, যে গুলো আমাদেরকে অর্জন করতে হবে । আর প্রয়োজনই আমাদেরকে সে বৈশিষ্ট্যাবলী অর্জনে সাহায্য করবে। সবগুলো লিখিতভাবে আলোচনায় আনা সম্ভব নয়। স্থান-কাল-পাত্র এবং পরিবেশই আমাদেরকে প্রয়োজনীয় বিষয়ের তাগিদ দিবে। শুধু প্রয়োজন সঠিক বিবেক-বিবেচনার। খিদমতে দ্বীনের কাজে আল্লাহ পাক আমাদের শুন্যতাগুলো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা দিয়ে পূর্ণ করে দিক । আমিন! এখন আসুন, আমরা দাওয়াতকৃত ভাইদের বহুমুখী বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনায় প্রবিষ্ট হই । কারণ মনে রাখতে হবে, আপনি যাকে আপনার সংগঠন ও আদর্শের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন, আদর্শিক এবং নৈতিক দিক হতে সে একজন রোগী-ব্যাধিগ্রস্থ । দৈহিক রোগ হতে আদর্শের রোগ তথা চিন্তা-চেতনার রোগ, বিশ্বাসের দৈন্যতা অনেক মারাত্মক। সমাজতন্ত্র কারও মানসিকতাকে বিকার গ্রস্থ করেছে । কাউকে আধুনিক গণতন্ত্র, কাউকে উগ্র জাতীয়তাবাদ আবার কেউবা ইসলাম নামে বাতিল ফেরকাহ্ দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছে। আবার কেউবা রাজনৈতিক সাংগঠনিক ধ্যান-ধারনা একেবারেই লালন করে না। বরং ঘৃনা করে। এখন আমরা যদি দাওয়াত দিতে গিয়ে ভাইদের চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস এবং চরিত্রকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের দাওয়াতী কর্মও ব্যর্থ হবে। অতএব কার মধ্যে কি দূর্বলতা বিরাজ করছে, প্রথমতঃ অবশ্যই তা বুঝে নিতে হবে। আর সে আঙ্গিকেই তার সাথে কথা বলতে হবে। উল্লেখ্য যে, কোন আমলটি আফজল? ছাহাবায়ে কেরামের এ- প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহর পিয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন আমলের কথা বলেছেন। এ জাতীয় পরস্পর বিরোধী হাদিছের সমন্বয় করতে গিয়ে মুহাদ্দিছগণ নানা ধরনের সুন্দর সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তম্মধ্যে একটি হচ্ছে- যার মধ্যে আল্লাহর রাছূল যে বিষয়ে আমলের ত্রুটি দেখেছেন, তাকে সে আমলে উজ্জিবীত করার জন্য ঐ আমলটিকেই আফজল এরশাদ করেছেন। বুঝা গেল, দাওয়াতকৃত ব্যক্তির চিন্তা- চেতনা এবং আমলের ক্ষেত্রে ত্রুটি কোথায়, তা দাওয়াতকারীকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে। আর সেভাবেই তাকে সুপথে তথা দ্বীনের আন্দোলনের পথে নিয়ে আসার জন্য মানসিক এবং নৈতিক চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
দাওয়াতকৃত কর্মীর সমস্যা কোথায়, তা প্রথমতঃ উপলব্ধি করাই হচ্ছে দাওয়াতে দ্বীনের মহান দায়িত্বে সফল হওয়ার প্রাথমিক স্তর। আর এই উপলব্ধি হতে হবে দরদী অন্তর নিয়ে । কারণ কারও প্রতি খারাপ ধারনা, শত্রুতা, হিংসা অথবা সামান্যতম আন্তরিকতার অভাব নিয়ে মোটিভেশনের মত কঠিন কাজ সম্ভব নয় । অতএব এক্ষেত্রে আন্তরিকতা এবং দাওয়াতী ভাইদের চরিত্র উপলব্ধি করাই হচ্ছে কাউকে সত্যের পথে নিয়ে আসার সরলপথ ।
দাওয়াতকৃত সর্বস্তরের ভাইদের মন-মানসিকতাকে আমরা নিম্নের স্মারকে বর্ণিত শ্রেণী বিন্যাসে আলোচনা করতে পারি।
দাওয়াতকৃত কর্মী
রাজনৈতিক
অরাজনৈতিক
ইসলামী দলের কর্মী
বস্তুবাদী দলের কর্মী
আস্তিক
নাস্তিক
ধার্মিক
অধার্মিক
জাতীয়তাবাদী
ধর্মনিরপেক্ষতা বাদী
সমাজতন্ত্রী
এখন আসুন, আমরা উল্লেখিত শ্রেণী বিন্যাসকে আমাদের দাওয়াতী কর্মের নিরিখে আলোচনায় নিয়ে আসি। এতে কার নিকট কিভাবে দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে। তথা কোন শ্রেণীর নিকট কোন ধরনের দাওয়াতী পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারব।
উক্ত শ্রেণীবিন্যাসে আমি প্রথমেই রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক এই দু’ধারার চিন্তা চেতনার মানুষের শ্রেণীভাগ উল্লেখ করেছি। প্রথমতঃ এই দু'ভাগে ভাগ করে আমি এ-বাস্তবতাই বুঝাতে চাই, একজন রাজনৈতিক কর্মীর চিন্তা-চেতনা, মন মানসিকতা, যোগ্যতা, বিজ্ঞতা তথা তার সার্বিক জীবনবোধ যে পথে ধাবিত, একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির জীবন বোধ সে পথে মোটেই ধাবিত নয়। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পেতে আপনি যে টেকনিকে অগ্রসর হবেন, অন্য একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সে টেকনিক মোটেই কার্যকর নয় । কারণ দুজনের জীবনবোধই সম্পূর্ণ আলাদা । তবে যেহেতু একজন রাজনৈতিক কর্মীর মন-মানসিকতা এবং রক্তের বিন্দুতে বিন্দুতে রাজনীতির স্রোতই প্রবাহিত,সেহেতু তার প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক আলোচনা, যুক্তি নির্ভর উপস্থাপনা, সমাজ মুক্তির চিন্তাও তার নিকট ভাল লাগবে। কারণ সে একান্তই ব্যক্তি স্বার্থের পায়রবি করছে না, বরং ব্যক্তি স্বার্থের উপর সমাজ-রাষ্ট্র নিয়েও তার ভাবনা আছে । অতএব যে কোন রাজনৈতিক দর্শন যেটি সমাজ সংস্কারের চিন্তা এনে দেয়, সেটি যে কোন দলের রাজনৈতিক কর্মীর মনকেই একটু না একটু নাড়া দেয় । আর এখান হতেই অর্থাৎ এ-রাজনৈতিক দূর্বলতা কাজে লাগিয়েই একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া যায়।
পক্ষান্তরে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি ততটুকু সমাজ সচেতন নয় বিধায় বা সমাজ দ্রষ্টা নয় বিধায় তার নিকট রাজনৈতিক আবেদন একটু কঠিনই বটে । এ ছাড়াও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের রাজনীতি সম্পর্কে একটা ঘৃণা ছাড়াও অহেতুক ভয়ও আছে। তবে একথাও সত্য, রাজনৈতিক কর্মীরা কোন না কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকে বিধায় যুক্তির কাছে হার মানলেও দলের প্রীতি তাকে দূর্বল করে রাখে। প্রিয় দল এবং স্মৃতিময় পরিবেশ ছেড়ে আরেকটি দলের পরিবেশে আসার মত মনস্তাত্মিক শক্তি তৈরী করতে তার কষ্ট হয় । আবার অনেক সময় ভিন্ন দলের সাথে গভীরভাবে যুক্ত কোন কর্মীকে নিজ দলে আনার জন্য টার্গেট করা নানাবিধ ক্ষতির কারণও হতে পারে । তবে আদর্শিক এবং নৈতিক শক্তি এত মহান যে, এর কাছে যে কোন মানুষই বিলম্বে হলেও নতি স্বীকার করতে বাধ্য ।
একজন রাজনৈতিক কর্মী সংগঠনের দাওয়াত এবং আদর্শে উজ্জীবিত হলে যতটুকু ফায়েদা হবে, অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে সে পর্যায়ে বা সে রাজনৈতিক মানসিকতায় উন্নীত করতে তার পেছনে সংগঠনকে অনেক সময় দিতে হবে । কারণ অরাজনৈতিক মস্তিষ্কে রাজনৈতিক বীজ বপন করা কঠিন ব্যাপার। তার মস্তিষ্কের জমি রাজনীতির জন্য তৈরী নয় কারণে প্রথমতঃ তা রাজনীতির বীজ বপনের জন্য তৈরী করতে হবে । আর এই তৈরী হওয়া পর্যন্ত আপনাকে ধৈর্য্যের সাথে কাজ করে যেতে হবে । অনেক ধরণের হাস্যকর প্রশ্নই তার নিকট হতে আসবে কিন্তু হতাশ হলে চলবে না । অপরপক্ষে একজন রাজনৈতিক কর্মী যুক্তি নির্ভর, সাহসী এবং ত্যাগী, তার মানসিকতা রাজনীতির জন্য সম্পূর্ণ তৈরী । শুধু মস্তিষ্কের জমিনে সে যে আদর্শের বীজ বপন করেছে, তা সরিয়ে আপনি কৌশলের সাথে ইসলামী আদর্শের বীজ বপন করে দিতে পারলেই সে মুহুর্তেই ত্যাগী হয়ে উঠবে। তবে এ-কথা সত্য, রাজনৈতিক হউক আর অরাজনৈতিক ভাই হউক, কর্মী সংগ্রহকারী যদি তার নিজস্ব যোগ্যতা এবং ব্যক্তিত্ব ধরে রেখে ধৈর্য্য না হারিয়ে এখলাছ সহকারে কাউকে হেদায়তের পথে আনার জন্য লেগেই থাকে, তাহলে অন্ধকার বিদীর্ণ করে একজন ভাই আলোর পথে আসবেই । আর আপনিও পাবেন তজ্জন্য আল্লাহ তাআলার তরফ হতে নেক বদলা ।
এখন আসুন কোন ভাইকে সংগঠনের একান্ত কর্মী হিসাবে পেতে হলে প্রথমেই যে বিষয়টি প্রয়োজন, তা হচ্ছে আল্লাহর রহমত কামনা । আল্লাহ তায়ালার রহমত ব্যতিরেকে কাউকে হেদায়তের পথে আনা সম্ভব নয় । অতএব কাউকে হেদায়তের পথে আনার ব্যাপারে নিজের যোগ্যতা-বিজ্ঞতার উপর ভরসা না করে বরং আল্লাহর রহমতই কামনা করতে হবে। একমাত্র তাঁরই রহমতের উপর ভরসা করতে হবে ।
তাই যাকে আপনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে পাওয়ার নিয়ত করেছেন, তার নিকট দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার পূর্বে আপনার দাওয়াতী কাজ যেন যথাযথ হয়, আর আল্লাহ পাকও যেন সে ভাইয়ের অন্তরকে আপনার দাওয়াতের মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেন, তজ্জন্য অন্তর পরিবর্তনকারী মহান আল্লাহর দরবারে আরজী পেশ করুন।
অত:পর আপনার দাওয়াতী অপারেশন শুরু করার পূর্বে দেখতে হবে, যাকে আপনার দাওয়াত দেয়ার জন্য টার্গেট করেছেন, তিনি কি রাজনৈতিক ব্যক্তি, না অরাজনৈতিক । যদি তিনি রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ কর্মী হয়ে থাকেন, তাহলে দেখতে হবে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কি ইসলামী দলের সাথে না বস্তুবাদী দলের সাথে । যদি তার সম্পৃক্ততা তথাকথিত কোন ইসলামী দলের সাথে হয়ে থাকে, তাহলে এই টার্গেটে আপনি কামিয়াব হওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই জটিলতা আছে । একটি ইসলামী দল হতে আরেকটি ইসলামী দলে আনাই ফ্যাসাদের ব্যাপার। কারণ ইসলামের নামে একটি বিষের টেবলেট সে ইতিমধ্যেই গিলে ফেলেছে । এখন এটা তার মন-মেজাজ মানসিকতাকে এমনভাবে আচ্ছাদিত করে রেখেছে যে- এ-অবস্থা হতে বের হওয়াই মুশকিল । এর ব্যাপারে আপনাকে অবশ্যই ছবরের সাথে অগ্রসর হতে হবে । আপনি যদি হুট করেই তাকে আপনার সংগঠনের দাওয়াত দিয়ে দেন, সেও হুট করেই বলবে আমি তো একটি ইসলামী সংগঠনে আছিই, আমাকে আবার আর একটি ইসলামী সংগঠনে যেতে হবে কেন? আর যদি আপনি হুট করে তার সংগঠন এবং আন্দোলনকে বাতিল বলে মন্তব্য করেন, সেও আপনার ব্যাপারে অথবা আপনার সংগঠনের ব্যাপারে একই মন্তব্য করতে বিলম্ব করবে না। আর এতে দাওয়াতের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে । শুধু তাই নয়, বরং শত্রুতার সম্পর্ক শুরু হবে এখান থেকেই । অন্যদিকে আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই তাকে আপনার হক সংগঠনে পেতে চান,আর তাকে না-হকের আচ্ছন্নতা হতে বের করে আনতে চান, তাহলে ধৈর্য্যের সাথে আপনি তাকে সময় দিতে হবে । যাতে সে আপনার বিশ্বাসের আলোকিত পথে তার বিশ্বাসকে নিয়ে আসতে পারে ।
এ-ক্ষেত্রে তার সাথে রাজনীতির বাইরে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু ভুলেও তার দূর্বল জায়গায় আঘাত করবেন না। এতে সে মূহুর্তে সেনসেটিভ হয়ে উঠতে পারে। বরং যে বিষয়গুলো নিয়ে আপনার আর তার মধ্যে চিন্তার ঐক্য রয়েছে, সেগুলোর আরও পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই আপনি তার থেকে সময় নিতে পারেন। তা ছাড়াও একেবারে নিরাপদ ভাষায় ইসলামী আন্দোলন এবং সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা, মুসলিম বিশ্বের সমস্যা, অরাজনৈতিক বিষয়াদি তার একান্ত ব্যক্তিগত সুবিধে-অসুবিধে এসব কিছুর উপর খোলা মনে আলাপ করতে পারেন। এতে তার মনের সংকীর্ণতা, আড়ষ্টতা বা অন্য যে কোন দূর্বলতা বা দুরত্ব কমে আসবে এবং আপনার উপর অজান্তেই তার একটা আস্থা জন্মাবে। এই আস্থাটুকু কিন্তু তাকে আপনার কাংখিত আদর্শে উজ্জীবিত করার জন্য মূল ভিত্তি।
এখন তার সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক রেখে আপনি অপেক্ষা করুন, দেখবেন সে নিজেই আপনার কাছে আপনার সংগঠন, সংগঠনের উদ্দেশ্যে আদর্শ সম্পর্কে জানতে চাইবে । আর এতেই তার সাথে তার মাধ্যমেই আপনার মূল আলোচনা আরম্ভ হয়ে গেল । উভয়ই ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়া সত্ত্বেও আপনি কেন আপনার দলটি চয়েজ করেছেন, সেটি নিয়েই আপনি কথা বলতে পারেন । তবে তার দল নিয়ে এখনও নেগিটিভ মন্তব্য করা ঠিক হবে না। বরং আপনার দলের নীতি-আদর্শ এবং অন্যান্য দলের তুলনায় স্বীয় দলের আদর্শিক বৈশিষ্ট্য তার সামনে তুলে ধরুন। সুবিধে মত আপনার সংগঠনের উন্নতমানের প্রকাশনা-সাহিত্য সামগ্রী তাকে উপহার দিন । ভাল মনে করলে আপনার সংগঠনের কোন আকর্ষণীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে তাকে দাওয়াত করুন। এতে সে তার মনের অজান্তেই ধীরে ধীরে আপনার সংগঠনের প্রতি দূর্বল হতে থাকবে । এখন আপনাকেই উপলব্ধি করতে হবে তার সংগঠনের নেগিটিভ দিকগুলো তাকে বুঝানোর সময় এসেছে কি আসে নাই । যদি দেখতে পান যে ইতিমধ্যেই সে মানসিকতা তার মধ্যে তৈরী হয়ে গেছে, তাহলে সে পথে আপনি অগ্রসর হতে পারেন অতীব সন্তর্পনে। কিন্তু এ-ক্ষেত্রে কোন রকমের ভুল হলে ওর মন বেঁকে বসতে পারে এবং আপনার দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টা আর তৈরী করা পরিবেশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে মূহুর্তেই । এমতাবস্থা উভয়ের জন্যই পীড়াদায়ক হবে। তাই কোন অবস্থাতেই সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কোন ভূমিকা যেন আপনার পক্ষ হতে তৈরী না হয় । একটি কথা মনে রাখবেন, কাউকে আপনার সংগঠনে আনার জন্য কোন প্রকার টেনশনে ভুগবেন না। এর ফল ভাল নয়, দেখতেও অসুন্দর । তবে আল্লাহর ওয়াস্তে তার সাথে সম্পর্ক রেখে আশাবাদী হতে দোষ কোথায়?
।
এত সতর্কতার পরও যে কোন মুহূর্তে যে কোন কারণে উভয় দলের আদর্শ নিয়ে বিতর্ক এসে যেতে পারে। অথবা এমনও তো হতে পারে আপনি নিজেকে যথেষ্ট সংবরণ করেছেন, কিন্তু এরপরও তার পক্ষ হতেই কোন অনাকাংখিত ঘটনা তৈরী হয়ে গেল । এমতাবস্থায়ও ধৈর্য্য হারালে আপনি হেরে যাবেন। জানি আমি, এটা খু-বই কষ্টের। একপ্রকার অসম্ভবও নয় কি? এতদসত্ত্বেও একজন দ্বীনের মুজাহিদের জন্য এটি আসল জিহাদ । এখানে আপনার নাফসের উপর আপনি জয়ী হতে পারলে ওর নাফসও আপনার আদর্শের কাছে পরাভূত হবে। অতএব দ্বীনের খাতিরে ধৈর্য্য ধারণ করতে এই শক্তিটুকুন আপনাকে অর্জন করতে হবে। দেখবেন সে লজ্জিত হবে। আর যদি তার তাকদিরে হেদােয়তের পথ নাই-ই থাকে এতেও আফসোসের বা অসফলতার কিছুই নেই। আপনি তো আপনার দায়িত্ব আদায় করেছেন, তজ্জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আপনার জন্য রয়েছে নির্ধারিত নিয়ামত ।

ধারাবাহিক ভাবে পোষ্ট করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

১। কোমল হৃদয় অর্জন ২। রুঢ় ও কঠিন ব্যবহার বর্জন ৩। অন্যের জন্য ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা এবং ৪। সকলকে সম্পৃক্ত করার স্বার্...
06/09/2026

১। কোমল হৃদয় অর্জন ২। রুঢ় ও কঠিন ব্যবহার বর্জন ৩। অন্যের জন্য ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা এবং ৪। সকলকে সম্পৃক্ত করার স্বার্থে সকলের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করা।
বস্তুতঃ এই চারটি গুণই একজন মানুষের মধ্যে কোমলতার জন্ম দেয় এবং চরিত্র হতে কাঠিন্যকে দূর করে দেয় । তাই আন্দোলনের জন্য কর্মী সংগ্রহে আয়াতে কারীমায় বর্ণিত এই চারটি বৈশিষ্ট্য কর্মী সংগ্রাহকের জন্য অতীব প্রয়োজন। হৃদয়ের কোমলতাই এই গুনাবলী অর্জনের সহায়ক।
কোমলতা এবং শিষ্টাচারই হচ্ছে দাওয়াতের মুলনীতি । তাই আল্লাহ পাক এরশাদ করছেন-
رَبِّكَ هِيَ أَحْسَنُ ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي
اِنَّ رَبَّكَ هُوا علم بمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ اَعْلَمُ بِالمهتدين
অর্থাৎ;- আপনার রবের পথে আহ্বান করুন হিকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুণ পছন্দ যুক্ত পন্থায়, নিশ্চয়ই আপনার রব ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত আছেন । যে তারপথ হতে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে। (সূরা নাহ্ল)
বার প্রাণের চে প্রিয় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ভাইয়েরা! দাওয়াতী পদ্ধতি তথা কর্মী সংগ্রহের কাজে আলোচ্য আয়াতের মর্মবাণী আমার এই বইয়ের মূলকথা। এটি কর্মী সংগ্রহে আল্লাহ প্রদত্ত নীতিমালা। এখানে দাওয়াতের কাজে তিনটি বিষয়ের কথা উল্লেখ হয়েছে।
১। হিকমত
২। মাওয়েজাতুল হাছানা বা উত্তম উপদেশ
৩। উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক
কুরআন প্রদত্ত এই তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করলে কর্মী সংগ্রহে আমরা সফলকাম হব ইনশাআল্লাহ । অতএব দাওয়াতী এই তিনটি মৌলিক নীতি আমরা আর একটু ব্যাখ্যা
করি ।
প্রথমতঃ কর্মী সংগ্রহে আমাদেরকে হিমমত অবলম্বন করতেত হবে। তাফছীরে রুহুল মাআনীর লিখক বারে মুহীতের বরাত এনে হিকমতের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে-
9/
انها الكلام الصواب الواقع من النفس اجمل موقع مِـ
অর্থাৎ- এমন বিশুদ্ধ কালামকে হিকমত বলা হয়, যা মানুষের হৃদয়ে গ্রহণ করে নেয় । আর মাওয়েজাতুল হাছানা (উত্তম উপদেশ) সম্পর্কে মুফরাদাত, কামুস সহ অন্যান্য তাফসীরের কিতাবে যা বলা হয়েছে তার সারমর্ম হচ্ছে- এমনভাবে নছিহত করা যাতে প্রতিপক্ষের মন এ-কথা উপলব্ধি করে নেয় যে, এটি আমার ভালর জন্যই বলা হচ্ছে। নতুবা এতে নছিহতকারীর কোন স্বার্থ নেই এবং এ পর্যায়ে তার মন নছীহত কবূল করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে ।
এপর্যায়ে রহুল-মাআনীরে লেখক বলেন, মূলত হিকমত এবং নছিহত(উত্তম উপদেশ) এই দুটিই দাওয়াত পদ্ধতির মূলনীতি । তৃতীয়টি অর্থাৎ বিতর্ক মূলনীতির অন্তর্ভূক্ত নয় ।
আপদে সেবার মনোভাব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এ-বিষয়ে অসংখ্য হাদীছ এরশাদ হয়েছে। যেমন তিরমিজী শরীফের রেওয়ায়েতে এসেছে-
عَنْ عَبْدِ الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم
الراحِمُونَ يُرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ إِرْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي
اور
السماء الرحم شَجَنَةٌ مِن الرَّحْمنِ فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَهَا
قطعه الله
,
অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামএরশাদ করেছেন- দয়াশীলদের উপর দয়াল আল্লাহ দয়া করেন । যারা জমিনবাসী, তাদের উপর রহমত কর । যিনি আছমানে (অর্থাৎ আল্লাহ) তোমাদের উপর রহমত করবেন। রহম (দয়া) শব্দটি (আল্লাহর ছিফাতী নাম), রহমান হতে নিঃসৃত। অতএব যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক রাখবে। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। (তিরমিজী)
এই হাদীছের মর্মকথাই হচ্ছে মানবতার সেবা। এই সেবার মধ্য দিয়েই আমরা আল্লাহর রহমত কামনা করব এবং সৃষ্টির খেদমতের মধ্যে দিয়েই স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক বিন্যাস হবে । অন্য হাদীছে এরশাদ হচ্ছে-
ابن داودر عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبي صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَفْسَ عَنْ مُسْلِمٍ
اورد
كرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ الدُّنيا نَفسَ اللهُ عَنْهُ كَرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يُسر على معر في
1.2
شَرٍ فِى الدُّنْيَا يَسْرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ عَلَى
مسلم سر الله عليهِ في الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ
العبد في عون أخيه -
অনুবাদ ঃ ছায়্যিদুনা হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু
আপদে সেবার মনোভাব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এ-বিষয়ে অসংখ্য হাদীছ এরশাদ হয়েছে। যেমন তিরমিজী শরীফের রেওয়ায়েতে এসেছে-
عَنْ عَبْدِ الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم
الراحِمُونَ يُرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ إِرْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي
اور
السماء الرحم شَجَنَةٌ مِن الرَّحْمنِ فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَهَا
قطعه الله
,
অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামএরশাদ করেছেন- দয়াশীলদের উপর দয়াল আল্লাহ দয়া করেন । যারা জমিনবাসী, তাদের উপর রহমত কর । যিনি আছমানে (অর্থাৎ আল্লাহ) তোমাদের উপর রহমত করবেন। রহম (দয়া) শব্দটি (আল্লাহর ছিফাতী নাম), রহমান হতে নিঃসৃত। অতএব যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রাখবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক রাখবে। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। (তিরমিজী)
এই হাদীছের মর্মকথাই হচ্ছে মানবতার সেবা। এই সেবার মধ্য দিয়েই আমরা আল্লাহর রহমত কামনা করব এবং সৃষ্টির খেদমতের মধ্যে দিয়েই স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক বিন্যাস হবে । অন্য হাদীছে এরশাদ হচ্ছে-
ابن داودر عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبي صلى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَفْسَ عَنْ مُسْلِمٍ
اورد
كرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ الدُّنيا نَفسَ اللهُ عَنْهُ كَرْبَةٌ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ يُسر على معر في
1.2
شَرٍ فِى الدُّنْيَا يَسْرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ عَلَى
مسلم سر الله عليهِ في الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ
العبد في عون أخيه -
অনুবাদ ঃ ছায়্যিদুনা হযরত আবু হুরায়রা (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামা) হতে বর্ণনা করেছেন, যে কেউ কোন মুসলমানের দুনিয়াবী বিপদসমূহ হতে কোন বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তাআলা তার কিয়ামতের বিপদসমূহ হতে বিপদ দূর করবেন । যে কেউ দুনিয়ার কোন মুহতাজদারের উপর হাজত পূরণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুনিয়া এবং আখিরাতে হাজত পূরণ করবেন। আর যে দুনিয়ায় কোন মুসলমানের ভুল-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া এবং আখিরাতে তার ভুল- ত্রুটি গোপন রাখবেন । আর আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সাহায্য করেন, যতক্ষণ বান্দাহ তার মুমিন ভাইয়ের সাহায্যে থাকে । (তিরমিজী)
অতএব অন্যের প্রতি সহযোগীতার মনোভাব কর্মী সংগ্রাহককে অবশ্যই নিজের মাঝে তৈরী করতে হবে।
৯. তাকাব্বুরী বা গৌরব মানব চরিত্রের অত্যন্ত খারাপ দিক। একটি আন্দোলনের নেতা- কর্মীকে এই গৌরব জনবিচ্ছিন্ন করে দেয়। যে গৌরব করে, তার কোন কথাতেই মানুষের আস্থা থাকে না। গৌরব কারীর অবস্থান যত উঁচুতেই হউক, মানুষের অন্তরে তার স্থান থাকে না। তাকাব্বুরির কারণে ইবলিছ সম্মানিত স্থান হতে নিকৃষ্ট স্থানে পতিত হল, আর স্থায়ীভাবে লানতপ্রাপ্ত হল । গৌরবকারী ব্যক্তি কর্মী সংগ্রহ দূরের কথা, তার সাথে অন্যরা সহজে মিশতেও পারে না। কুরআনুল করীমে এরশাদ হচ্ছে-
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مُرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقُ الْأَرْضُ وَلَنْ تَبْلُغَ الجبال طولاً
অর্থাৎ- জমিনে দম্ভভরে পদচারন করো না, নিশ্চয়ই তুমি ভূ-পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না। আর উচ্চতায় তুমি কখনো পর্বতসম হতে পারবে না। (সূরা বনি ইসরাঈল) . অতএব কর্মী সংগ্রহে সংগঠনের প্রত্যেক ভাইকে অত্যন্ত বিনীতভাবেই নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে । অন্যদের সামনে নিজেকে ক্ষুদ্রভাবেই পেশ করতে হবে। এই ক্ষুদ্রত্বের মাঝেই অন্যরা আপনার মহত্ব অনুসন্ধান করে নিবে। সংগঠনের জন্য কর্মী সংগ্রহে আমরা একটু বিনীত এবং বিনম্র হতে অপমান কোথায়? আমরা সবাই জানি, নিজেকে বড় মনে করলে বড় হওয়া যায় না, বরং লোকেরা যাকে বড় মনে করে, সে-ই বড় হয়। নিজের মাঝে কোন গুণ থাকলেও এতে গর্ব করার কিছুই নেই। আপনি কি জ্ঞানী? কিন্তু আপনার থেকেও তো বড় জ্ঞানী আছে । আপনি কি সুন্দর? আপনার থেকেও তো সুন্দর লোক আছে। আপনি কি শক্তিশালী? আপনার থেকেও তো অনেক শক্তিশালী লোক আছে। আপনি কি অর্থশালী? আপনার থেকেও তো বেশী অর্থশালী লোক আছে। কুরআনুল করীমে এরশাদ হচ্ছে- অর্থাৎ- প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর মহাজ্ঞানী আছে । অতএব অহেতুক গৌরব ধরে রাখার চেয়ে বিনয়াবনত হওয়া মানুষের নিকট অধিক গ্রহণীয় । আল্লাহর নিকটও এটি প্রিয়। এ-গুণ যে নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতে পারবে, কর্মী সংগ্রহের মত কঠিন অথচ একটি সৃজনশীল কাজ তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। সুতরাং জ্ঞান-বুদ্ধি,
عليم ذى علم
,
নেতৃত্ব, অর্থ, প্রতিষ্ঠা, প্রতিপত্তি ইত্যাদির অহেতুক গৌরব বাদ দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে একেবারেই মাটির মানুষ হয়ে যেতে হবে। বিনম্র মানুষের সামনে সবাই বিন হয়। আর তাকাব্বুরীর উগ্র ঘোড়ায় চড়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করা যায় সত্য, কিন্তু দ্বীনের দাওয়াতের মত পবিত্র সৃষ্টিশীল কাজ অসম্ভব। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে হতে হবে গর্ব-গৌরব বিবর্জিত বিনয়ী স্বাভবের এক মহান ব্যক্তিত্ব । এতে অন্যরা ইসলামী আন্দোলনের দিকে সহজেই ধাবিত হবে ।
•
১০. কাউকে নিজের আন্দোলনের কর্মী বানাতে হলে তার কাছে নিজের আন্দোলনের কথা বলতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধু একনাগাড়ে নিজের কথা বললে আর অন্যকে কথা বলার সুযোগ না দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই নিজের কথা অন্যকে শুনাতে হলে অন্যের কথা আপনার নিকট ভাল লাগুক আর নাই লাগুক, অবশ্যই শুনতে হবে। নতুবা কেউ আপনার কথা শুনতেই চাইবে না । শুনলেও শুধুই শুনার জন্যই শুনা, মনের কানে শুনবে না। আপনি বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন, আরেকজন শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে যাবে। কারুরই কোন ফায়েদা হবে না। মূলতঃ উভয়েরই আলোচনার মধ্য দিয়েই একটা সত্য বেরিয়ে আসে। আর সে সত্যই হয় সবার নিকট গ্রহণযোগ্য ।
অনেকেরই লাগাতার কথা বলার বদ অভ্যাস আছে, কিন্তু শুনবার নেক অভ্যাসটা নেই । এটা ভীষণ বিরক্তিকর। কাউকে সংগঠনের সাথে যুক্ত করতে হলে দাওয়াত দেয়ার পর তার অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত তার সকল কথা শুনার ধৈর্য্য আপনাকে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে ওর মনের মেঘ এমনিতেই অনেকটা কেটে যাবে । আর বাকীটা কেটে যাবে আপনার যৌক্তিক এবং বিনয়ী আলোচনার মধ্য দিয়ে।
একটি কথা মনে রাখবেন কাউকে সত্য পথের সাথে যুক্ত করতে হলে তার অপ্রয়োজনীয় অনেক কথাই আন্তরিকতার সাথে আপনাকে শুনতে হবে, কিন্তু আপনি একটি অপ্রয়োজনীয় কথাও বলতে যাবেন না। অহেতুক কথা বলা মানে সত্যের পথে কারও আসার পথকে অমসৃন করে দেয়া । শুধু কথা শুনার ভান করলেই হবে না, বরং আপনি তাকে বুঝতে দিতে হবে যে, শুনার জন্য আপনার আন্তরিকতা আছে এবং তার উদ্দেশ্যের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা আছে। এক পর্যায়ে সেই-ই আপনার বক্তব্য শুনার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠবে এবং নিজের অধিক কথা বলার জন্য লজ্জিত হবে। এ-দূর্বলতার সুযোগেই আপনি তাকে আদর্শের পথে নিয়ে আসার পরিবেশ তৈরী করতে পারবেন ।
,
একটি লোককে সত্য পথে আনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন শেষ হয়ে যেতে পারে-এতে কিন্তু অধৈর্য্য হলে চলবে না। কারণ কাজটিই প্রচন্ড ধৈর্য্যের। অধৈৰ্য্য হওয়া মানে নিজের কাছেই নিজে পরাজিত হওয়া। আবার অন্যজনের কথা শুধু শুনলেই হবে না, বরং নিজেকেও কথায় শরীক হতে হবে। অতিরিক্ত কথা বলা যেমন বিরক্তিকর, একেবারে না বলাটাও বিরক্তিকর । এক্ষেত্রে কথার ভারসাম্য রক্ষাই হচ্ছে উত্তম পন্থা । কর্মী সংগ্রহের
কাজে এ বিষয়টি অবশ্যই প্রত্যেক ভাইকে মনে রাখতে হবে।
১১. সর্বোপরি কর্মী সংগ্রহে সমস্ত গুনাবলী অর্জনের সাথে সাথে যে বিষয়টি আমাদেরকে অর্জন করতে হবে, তা হচ্ছে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব । কথা-বার্তা, চাল-চলন, আচার-আচরণ, পোষাক-পরিচ্ছদ সার্বিক বিষয়ে সংগঠনের কর্মীদেরকে ব্যক্তিত্বশীল হতে হবে। ব্যক্তিত্বহীন লোক যতই জ্ঞানী হউক না কেন, যত বড় পদেই তিনি আসীন হউক না কেন, তার কথায় কোন আবেদন থাকে না । সংগঠনের গণসংযোগের কাজ করার ক্ষেত্রে এটি আরও অধিক সত্য। কারণ সংগঠন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের দাওয়াত এমন এক বিষয় যে, সবাই দাওয়াত প্রদানকারীর চরিত্রে, বিজ্ঞতায় এবং সার্বিক ব্যক্তিত্বে অন্য দশজনের তুলনায় আলাদা কিছু আশা করে। বিশেষতঃ আদর্শিক রাজনীতি তথা ইসলামী রাজনীতির ক্ষেত্রে এটি শতভাগ সত্য। আদর্শের রাজনীতির দাওয়াত দিয়ে সেখানে আবার অবাঞ্চিত গোঁজামিলের কোনই স্থান নেই। সকলেই আশা করবে যিনি এত সুন্দর আদর্শের দাওয়াত দিচ্ছেন, ব্যক্তি জীবন হতে সমাজ জীবন পর্যন্ত তথা জীবনের সর্ব বিভাগে তিনি নিজেই আদর্শস্থানীয় কিনা। এ-সব বিচারে কর্মী সংগ্রাহকের ব্যক্তিত্বের প্রতি যদি অন্যদের শ্রদ্ধা- আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তাদেরকে কর্মীর কাতারে নিয়ে আসতে বিলম্ব হওয়ার কথা
নয়।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে,যারা আদর্শের রাজনীতি করে তাদের ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে তাকওয়ার উপর ভিত্তি করেই । তাকওয়াবিহীন ব্যক্তিত্ব স্থায়িত্ব লাভ করে না । ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার জন্য তাকওয়ার সাথে আর যে বিষয়টি অতীব জরুরী, তা হলো জ্ঞান । আর তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে উত্তম রুচিবোধ। মোটকথা তাকওয়া জ্ঞান আর রুচিবোধই হলো ব্যক্তিত্ব। এটি মানুষকে যেমন অনেক উঁচুতে নিয়ে যায়, তেমনি এই ব্যক্তিত্বের অভাব মানুষকে অনেক নিচের বাসিন্দাতে পরিণত করে।
ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোকের কথা হয় বিশ্বাসযোগ্য। অপরপক্ষে ব্যক্তিত্বহীন লোক ভাল কথা বললেও কেউ তা বিশ্বাস করতে পারেনা। এতে প্রকারান্তরে সংগঠনই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে তিলে তিলে। এজন্য নিজের সামনে কোন মহান ব্যক্তিত্বের দৃষ্টান্ত থাকতে হবে । তাছাড়া জীবনের কোন একটি সময়ে আদর্শবান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অহেতুক ব্যক্তিত্ব চেহারায় ধরে রাখাটা ব্যক্তিত্ব নয়। ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ মৌলিক বিষয় । এটি সত্ত্বাগতভাবে গড়ে উঠবে। এখানে কৃত্তিমতার এতটুকুন স্থান নেই । কৃত্রিম আচরণ ব্যক্তিত্ব তৈরী করার সহায়ক তো নয়ই, বরং মানুষকে আরো হালকা করে দেয়। ব্যক্তিত্ব কোন একাডেমিক অর্জনের বিষয় নয়। বরং যে কথা পূর্বে বলে এসেছি, তাকওয়া জ্ঞান আর রুচিবোধের সাথে যখন আল্লাহর রহমত শামেল হয়, তখন একজন লোক মর্যাদাশীল এবং ব্যক্তিত্ববান হয়ে মহীয়ান হয়ে উঠে । দাওয়াতী কর্মে নেতা-কর্মীদের জন্য এই ব্যক্তিত্ব অর্জন পূর্বশর্ত।

ধারাবাহিক ভাবে পোষ্ট করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

05/09/2026

৮ অক্টোবর, হযরত আবু নছর সৈয়দ আবেদ শাহ আল-মাদানী (রহ.)-এর উরস ইমামে রাব্বানী রহঃ ও হিজবুর রাসুল দঃ সমাবেশ।

এ উপলক্ষে আয়োজকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ভক্ত, আশেক ও অনুসারীদের উরস শরিফে অংশগ্রহণের জন্য **সাদর আমন্ত্রণ ও দাওয়াত** জানিয়েছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পবিত্র উরস শরিফে অংশগ্রহণের মাধ্যমে হযরত আবু নছর সৈয়দ আবেদ শাহ আল-মাদানী (রহ.)-এর স্মরণ, দোয়া ও আধ্যাত্মিক ফয়েজ-বরকত লাভের সুযোগ রয়েছে। তারা উরস শরিফে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি কামনা করেছেন।

নাহমাদুহু ওয়া নুছাল্লি আ'লা রাসূলিহিল কারিমযে কোন আন্দোলনকে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছুতে হলে বিশাল কর্মী বাহিনীর প্রয়োজনীয়ত...
31/08/2026

নাহমাদুহু ওয়া নুছাল্লি আ'লা রাসূলিহিল কারিম
যে কোন আন্দোলনকে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছুতে হলে বিশাল কর্মী বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য । আদর্শনিষ্ঠ, দক্ষ আর নিবেদিত প্রাণ ঝাঁকে ঝাঁকে কর্মী না থাকলে সংগঠনের আন্দোলনী কর্মসূচীর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয় । মূলতঃ মাঠ কর্মীরাই হচ্ছে একটি আন্দোলনের শক্তিশালী ভিত্তি । সারাদেশে সংগঠনের আওয়াজ পৌছে দিবে তারাই। তারাই সংগঠনের শ্রেষ্ঠ মিডিয়া। আসলে ব্যক্তিগতভাবে কোন বৃহৎ কাজ আন্জাম দেয়া সম্ভব নয়, বরং তজ্জন্য প্রয়োজন সাংগঠনিক শক্তির । আর সুসংগঠিত শক্তির মূল কথাই হল একটি সুশৃংখল কর্মীবাহিনী। এ- জন্যই আল্লাহ পাক এরশাদ করছেন-
وَلْتَكُن مِنْكُمْ أُمَّةً يَدَعُونَ إِلى الخَيْرِ وَيَأمرون بالمعرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ
المفلحون وأولئك هم المنكر واولئك
অর্থাৎ- ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক (কর্মীবাহিনী) থাকতে হবে, যারা ভাল কাজের প্রতি আহ্বান করবে, সৎকর্মের প্রতি নির্দেশ দিবে এবং মন্দ কাজ হতে বারণ করবে; আর তারাই সফলকাম।' (আলে ইমরান)
আমর বিল মারুফ বা ভাল কাজের আদেশ এবং নাহী আনিল মুনকার বা মন্দ কাজের বারণ-ই হচ্ছে একজন মুমিনের ঈমানের দাবী এবং মুসলমানদের সামাজিক আন্দোলনের মূলকথা। আর এ-কাজ আন্জাম দেয়ার জন্য যে একটি উম্মাহ বা কর্মী বাহিনীর প্রয়োজন, তা আমরা কুরআনুল করীমের উক্ত আয়াত হতে বুঝতে পারি। আর অত্র আয়াত দ্বারা এ কথাও সাব্যস্ত হল যে, এ-কর্মীবাহিনীতে যারা- শরীক হয়ে উক্ত কাজ আন্জাম দিবে, তারাই কামিয়াব।
এখন আসুন, একটি সংগঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ কঠিন কাজটি হলো কর্মী সংগ্রহ। ভূমিগত পরিমাপ এবং জনসংখ্যার উপর নির্ভর করেই সংগঠনের কর্মী সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয় । এ-লক্ষ্য নির্ধারণের পরিমাপ কি? কি আশ্চৰ্য্য! পরিপূর্ন কিতাব কুরআনুল কারীমে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে । এরশাদ হচ্ছে-
يايها النَّبِى حَرِّضِ المَومِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ تَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ
A
يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ - وَإِن يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ يغلبوا الفا من الذين كفروا بانهم قوم لا يفقهون - التَنْ خَفَفَ اللهُ عَنكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيْكُمْ ضَعْفًا - فَإِن يَكُن منكُمْ مِائَة صابِرَة يَغْلِبُوا مِائتين وإن يَكُنْ مِنْكُمْ اَلْفَ يَغْلِبُوا الفين باذن
الله والله مع الصابرين (سورة الانفال)
অর্থাৎ- হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করুন । তোমাদের মধ্যে যদি বিশজন দৃঢ় ব্যক্তি থাকে, তবে দু'শর বিরুদ্ধে জয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ লোক থাকে, তবে জয়ী হবে হাজার মানুষের মোকাবিলায় । কেননা ওরা জ্ঞানহীন । এখন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি দেখেছেন যে, তোমাদের মধ্যে দূর্বলতা আছে। কাজেই তোমাদের মাঝে যদি ধৈৰ্য্যশীল একশ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে দু'শ এর উপর জয়ী হবে। আর যদি তোমরা এক হাজার হও, তবে আল্লাহর হুকুমে দু'হাজারের উপর বিজয়ী হবে । আর আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন ।' (সুরা আনফাল) এ আয়াতের আলোকেই আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কর্মীবাহিনীর আনুপাতিক কিন্তু এ সংখ্যা নিরুপণ করতে পারি। সংখ্যা অর্জিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আন্দোলন কামিয়াব হয়ে গেল । বরং মাত্র এটি আন্দোলন কামিয়াব করার হাতিয়ার । তাছাড়া আন্দোলন সফলতার সিঁড়িতে পা রাখার পর এটিকে সকল চক্রান্ত হতে রক্ষা করে স্থায়ীত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে এই সংগ্রামী কর্মীবাহিনীই পালন করবে অবিচল পাহারাদারের ভূমিকা। অতএব আন্দোলনের মাঠ যেমন কর্মীরাই তৈরী করবে,
আবার এই মাঠ ধরেও রাখবে তারাই। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ-বিষয়ে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সকল কর্মসূচী প্রদান করবে। আর কর্মীরা তা বাস্তবায়ন করবে। এক কথায় বললে বলতে হয়, কর্মীরাই সংগঠনের প্রাণশক্তি । কর্মীদের নামই সংগঠন- কর্মীদের নামই আন্দোলন ৷
আর শুধু বিশাল কর্মীবাহিনী হলেই চলবে না । এই বাহিনীকে হতে হবে আদর্শনিষ্ঠ, নিবেদিত। নতুবা কর্মীবাহিনীই হতে পারে আন্দোলনের ভরাডুবির কারণ। এ- জাতীয় হাজারো দৃষ্টান্ত আমাদের দেশের রাজনীতিতেই বিদ্যমান। কর্মীরাই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায় চরম ত্যাগ স্বীকার করার মধ্য দিয়ে। আবার অনেক সময় এরাই আদর্শচ্যূত হয়ে আন্দোলনের জন্য ডেকে আনে ভরাডুবি । অতএব কর্মীবাহিনীর ক্ষেত্রে দুটো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
১. কর্মী সংগ্রহ পদ্ধতি
২. কর্মীদের আদর্শিক বৈশিষ্ট্য
দ্বিতীয় বিষয়টির উপরে ‘ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের বৈশিষ্ট্য' নামে একখানা বই লেখার পর প্রথম বিষয়টির উপরও আরেকটি বই লেখা হয়ে পড়ে সময়ের দাবী-কর্মীদের দাবী। কারণ দুটো বই মিলেই বিষয়টি হবে পরিপূর্ণ। সংগঠনের একজন কর্মীর প্রধান কাজই হচ্ছে সংগঠনের জন্য আরেকজন কর্মী সংগ্রহ করে দেয়া । একজন কর্মী সংগ্রহ করা মানে একটি পরিবারে সংগঠনের একজন প্রতিনিধি তৈরী করা । রাষ্ট্র-বিজ্ঞানের ভাষায় পরিবার নিয়েই সমাজ আর সমাজ নিয়েই রাষ্ট্র । যার মানে পরিবারই হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের মূল অবকাঠামো । অতএব প্রতিটি পরিবারে একজন কর্মী সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে মূলতঃ সমাজ এবং রাষ্ট্রই যে কন্ট্রোল হবে, তা বলাবাহুল্য । কিন্তু গায়ের জোরে কর্মী সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আবার সব ক্ষেত্রে যুক্তির জোরেও কর্মী সংগ্রহ করা যায় না। এটি একদিকে যেমন আদর্শিক তেমনি অন্যদিকে মনস্তাত্মিকও বটে! আর এক্ষেত্রে প্রচন্ড ধৈর্য্য এবং উদারতাই হল মূলধন । অতএব কর্মী সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংগ্রহকারীর ভূমিকা এবং যোগ্যতা অতীব গুরুত্বপূর্ণ । যদি টার্গেটকৃত কাউকে সংগঠনের কর্মী করে নিতে কেউ ব্যর্থই হয়, তাতে হতাশ হলে চলবে না এবং টাগেটকৃত ব্যক্তির উপর রাগান্বিতও হওয়া যাবে না। বরং নিজের কৌশলগত দূর্বলতা খুঁজে বের করে পূনরায় অগ্রসর হতে হবে । এখানে মূল কথা হল, কর্মী সংগ্রহের প্রচেষ্টায় ব্যর্থতা বলতে কিছুই নেই। বরং এ-প্রচেষ্টায় হতাশা আসাটাই ব্যর্থতা। অতএব আন্তরিকতা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াতেই অর্ধেক সফলতা নিহিত। এখন কর্মী সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় প্রবিষ্ট হওয়ার পূর্বে আমরা দু'টো বিষয় পর্যালোচনায় আনতে পারি ।
১. কর্মী সংগ্রহকারীর নিজস্ব যোগ্যতা
২. টার্গেটকৃত কর্মীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
বস্তুত: এ-দু'টো বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনার মধ্য দিয়েই কর্মী সংগ্রহের পদ্ধতি আমাদের সামনে পরিস্কার হয়ে যাবে। কর্মী সংগ্রহের ক্ষেত্রে টার্গেটকৃত ব্যক্তির চেয়ে সংগ্রহকারীর যোগ্যতা এবং বিজ্ঞতার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ । কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ-যোগ্যতার অভাবে আমরা কর্মী সংগ্রহ দূরের কথা, উল্টো অনেক সংগৃহীত কর্মীকেই হারাতে হয়। যা সংগঠনের জন্য কল্যাণ তো নয়ই বরং অকল্যানই ডেকে আনে । তাই আমি প্রথমেই কর্মী সংগ্রহকারীর নিজস্ব যোগ্যতা নিয়ে আলোচনায় আসছি। কর্মী সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে একজন ভাইকে অবশ্যই দাওয়াতী পদ্ধতি রপ্ত করার সাথে সাথে ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং গুণাবলী অর্জন করে নিতে হবে। যে সমস্ত গুণাবলী আপনার অজান্তেই অন্যকে আপনার আদর্শের প্রতি ধাবিত করবে। এর সাথে আপনি যখন সুনির্দিষ্ট দাওয়াতী নীতি অবলম্বন করে কর্মী সংগ্রহে প্রবৃত্ত হবেন, তখন আশাব্যঞ্জক সাড়া পাবেন এবং শত ভাগ ফল আসবে। এখন দাওয়াতকৃত নতূন ভাই দাওয়াতকারী কর্মীর মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো আশা করে, তা আমি নিম্নে ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করছি।
ধারাবাহিক ভাবে পোষ্ট করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BD ACT posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to BD ACT:

Shortcuts

Share