19/05/2026
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল ও ফজিলত
বাংলাদেশে আমল কবে থেকে শুরু হবে?
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, হিজরি মাসের হিসাব চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে জিলহজ মাসের আমল শুরু হবে জিলহজ মাসের ১ তারিখের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর মাগরিবের সময় (অর্থাৎ প্রথম রাত) থেকে।
২০২৬ সালের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। যেদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশে জিলহজের চাঁদ দেখা যাবে, সেদিন সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু করে টানা ১০ জিলহজ (ঈদুল আজহার দিন) পর্যন্ত এই আমলগুলো জারি থাকবে।
✅ জিলহজের ১০ দিনের ফজিলত ও সওয়াব (কুরআন ও হাদিসের আলোকে) এই দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর কাছে বছরের অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে বেশি প্রিয়। এর সওয়াব ও গুরুত্ব নিচে সুনির্দিষ্ট রেফারেন্সসহ দেওয়া হলো:
১. দুনিয়ার সেরা ১০ দিন এবং আল্লাহর কসম
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই দিনগুলোর শপথ করেছেন, যা এর মহিমাকে প্রমাণ করে।
"কসম ভোরবেলার এবং দশ রাতের।"
— সূরা আল-ফজর, আয়াত: ১-২
(হাফেজ ইবনে কাসীর (রহ.)-সহ অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে 'দশ রাত' বলতে জিলহজের প্রথম ১০ দিনকেই বোঝানো হয়েছে।)
২. জি%হাদের চেয়েও বেশি সওয়াব
এই দিনগুলোতে নেক আমল করলে আল্লাহর কাছে যে সওয়াব পাওয়া যায়, তা সাধারণ সময়ের জি%হাদের চেয়েও উত্তম।
হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জিলহজের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।" সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জি%হাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন, "আল্লাহর পথে জি%হাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান ও মাল নিয়ে জি%হাদে বের হয়েছে এবং এর কোনো কিছুই আর ফেরত নিয়ে আসেনি (অর্থাৎ শহী%দ হয়েছে)।"
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৯৬৯।
৩. পূর্বের ও পরের ১ বছরের গুনাহ মাফ (আরাফার দিনের রোজা)
এই ১০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ৯ জিলহজ (আরাফার দিন)। এই দিনে রোজা রাখার বিশেষ সওয়াব রয়েছে।
হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "আমি আশা করি আল্লাহ এর উসিলায় বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।"
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ১১৬২।
(উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ৯ জিলহজ যেদিন পড়বে, সেদিন রোজা রাখতে হবে। তবে যারা হজ্জের মাঠে আরাফায় উপস্থিত থাকবেন, তাদের জন্য এই রোজা নয়।)
৪. নফল ইবাদতের ফজিলত
জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা এবং রাতের ইবাদতের আলাদা বিশেষ সওয়াব রয়েছে (১০ জিলহজ ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম)।
হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জিলহজের (প্রথম) দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো দিনের ইবাদতের চেয়ে বেশি প্রিয়। এর প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমান।"
রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ৭৫৮।
(নোট: এই হাদিসটির সনদ মুহাদ্দিসগণের মতে দুর্বল বা জঈফ, তবে জিলহজ মাসের সাধারণ ফজিলত ও নেক আমলের উৎসাহ হিসেবে এটি গ্রহণযোগ্য এবং প্রথম ৯ দিন নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।)
✅ এই ১০ দিনে আপনার করণীয় আমলসমূহ
১. বেশি বেশি জিকির করা (তাকবীর, তাহমিদ, তাহলিল): এই দিনগুলোতে চলতে-ফিরতে, ঘরে ও বাজারে উচ্চস্বরে বা মনে মনে বেশি বেশি তাকবীর পড়া সুন্নত।
তাকবীর: "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।"
রেফারেন্স: মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ৫৪৪৬।
২. ১ থেকে ৯ জিলহজ রোজা রাখা: বিশেষ করে ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) রোজা কোনোভাবেই মিস করা উচিত নয়।
৩. চুল, নখ ও পশম না কাটা: যারা কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, জিলহজের চাঁদ দেখার পর (১ জিলহজ) থেকে শুরু করে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, গোঁফ বা চামড়ার অংশ কাটা থেকে বিরত থাকা সুন্নত।
রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৯৭৭।
৪. বেশি বেশি নফল ইবাদত ও তাওবা: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ার পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, ইশরাক, দান-সদকা করা এবং পূর্বের গুনাহের জন্য খাঁটি মনে তাওবা করা।
৫. ১০ জিলহজ কো%রবানি করা: সামর্থ্যবানদের জন্য জিলহজের ১০ তারিখ ঈদের নামাজের পর কো%রবানি করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এuবং এটি ইবরাহীম (আ.)-এর মহান সুন্নত।