Oh Really

Oh Really Oh Really!

07/01/2025

■■ শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে ইতিহাস বিকৃতি ও নোংরা মিথ্যাচারঃ ইতিহাসের আলোকে মিথ্যাচারিতার জবাব ■■
■■ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও লরেন্স লিফশুলজের বর্ণনামতে, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিলেন আওয়ামীলীগেরই অন্যতম শীর্ষ নেতা ও তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক ■■
- “এ প্রসঙ্গে বলে নেয়া ভালো যে, ফারুক-রশীদ মনে করতে পারে যে তারাই ঘটনার মূল শক্তি ও নিয়ন্ত্রক এবং তারাই খন্দকার মোশতাককে রিক্রুট করেছে। প্রকৃত প্রস্তাবে বলা যেতে পারে “More accurate it was Mustaque Ahmed and his political nexus who had taken them on board.” (সূত্রঃ ফ্যাক্টস এন্ড ডকুমেন্টস বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পৃষ্ঠা- ১১০ এবং Bangladesh: The Unfinished Revolution, Lawrence Lifschultz, Page- 102)
■■ জিয়াউর রহমান সংবিধান অনুযায়ী শূন্যতা পূরণের কথা বলেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার কথা, খন্দকার মোশতাকের নয় ■■
- শাফায়াত জামিলের বর্ণনা অনুযায়ী, ভোরবেলায় জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সংবাদ জানাবার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল এরকম- “So what? President is dead? Vice-President is there. Get your troops ready. Uphold the Constitution.” (সূত্রঃ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর, কর্নেল শাফায়াত জামিল, পৃষ্ঠা- ১০৩)। ঘটনার অন্য দুই প্রত্যক্ষদর্শী মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আমীন আহম্মেদ চৌধুরীও একইরকম বিবরণ দিয়েছেন।
এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, জিয়াউর রহমান সংবিধান অনুসরণ করার কথা বলেছেন, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছেন। সেসময় উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মোশতাক নয়। একজন সুশৃঙ্খল সেনানায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান সংবিধান অনুসরণের সময়োপযোগী ও সাহসী দিকনির্দেশনাই দিয়েছিলেন। যদিও বিদ্রোহীদের পূর্বপরিকল্পনা, আওয়ামীলীগের নিষ্ক্রিয়তা ও বাহিনী প্রধানদের রহস্যময় ভূমিকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি নয়, শপথ নিয়েছিলেন মোশতাক।
■■ রাষ্ট্রপতির হত্যাকান্ডের সংবাদ শোনার পর জিয়াউর রহমান সঠিক, সময়োপযোগী ও সংবিধানসম্মত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন ■■
- ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী আমীন আহম্মেদ চৌধুরীর বর্ণনা অনুযায়ী- “আমরা ড্রয়িংরুমে ঢুকলাম। শাফায়াত জামিল কোনায় গিয়ে দাঁড়ালেন। জিয়া স্লিপিং পোশাকে প্রায় দৌড়ে এলেন। তিনি তখন শেভ করছিলেন। এক গালে শেভ করছেন, অন্য গালে সাবান। এসেই বললেন, ‘শাফায়াত, হোয়াট হেজ হ্যাপেন্ড?’ শাফায়াত জামিল বললেন, ‘অ্যাপেরেন্টলি টু ব্যাটালিয়ন হ্যাজ স্টেজ আ কু।’ জিয়া বললেন, ‘শাফায়াত, উই আর নট ডেকোর, গেট ব্যাক দ্য ট্যাংকস।’ অর্থাৎ আমরা তো বসে থাকার জন্য এখানে আসি নাই, ট্যাংকগুলো এখনই ফেরত নিয়ে আসো। এ কথা বলার পরপরই শাফায়াত বললেন, ‘এইমাত্র রেডিওতে ঘোষণা করা হচ্ছে, দে হ্যাভ কিলড দ্য প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান’, অর্থাৎ ‘তারা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে।’ ‘সো হোয়াট, লেট ভাইস প্রেসিডেন্ট টেক ওভার’, অর্থাৎ ‘তাতে কী হয়েছে, উপরাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে দিন।’ এই কথাগুলো যখন হচ্ছিল, তখন কিন্তু রশিদ আরেকটা দরজার সামনে পিস্তল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।” (সূত্রঃ ১৯৭১ ও আমার সামরিক জীবন, আমীন আহম্মেদ চৌধুরী, পৃষ্ঠা- ১৫৮)
এখানে তিনটি বিষয় লক্ষ্যনীয়। প্রথমত, বিদ্রোহের কথা শোনার সাথেসাথেই জিয়াউর রহমান ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার শাফায়াত জামিলকে ট্যাংক ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, এখান থেকেও জানা গেল যে, জিয়াউর রহমান সংবিধান অনুযায়ী উপরাষ্ট্রপতির ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষপাতী ছিলেন। তৃতীয়ত, এই আলোচনা চলার সময়ে হত্যাকারীদের অন্যতম নেতা রশিদ পিস্তল হাতে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। সেই মুহুর্তের পরিস্থিতিগত বাস্তবতায় জিয়াউর রহমানের অতিবিপ্লবী হবার সুযোগ ছিল না। তাই তিনি কথোপকথনের ক্ষেত্রে কৌশলী ছিলেন, তবে নির্লিপ্ত নয়।
■■ খন্দকার মোশতাক তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে পছন্দ করতেন না। জিয়াউর রহমানও প্রথম সুযোগেই তাকে গ্রেফতার করেছিলেন ■■
- এসম্পর্কে সেনাবাহিনীর তৎকালীন ঢাকা স্টেশন কমান্ডার লে. কর্ণেল (অব.) এম. এ. হামিদ সাহেবের জবানিতে কিছু কথা শোনা যাকঃ
‘‘কিন্তু জিয়ার অবস্থাও ছিল বেশ নড়বড়ে। চতুর খোন্দকার মোশতাক জেনারেল ওসমানীকে তার সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ করলেন। একই সাথে মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে 'চীফ অব ডিফেন্স স্টাফ' করে জিয়ার উপরে স্থান করে দিলেন। মোশতাক সামরিক ব্যাপারে জেনারেল ওসমানীকেই প্রাধান্য দিতেন। জিয়াকে তেমন পাত্তা দিতেন না। সরাসরি কথাও বলতেন না। এতে জিয়া ভেতরে ভেতরে প্রেসিডেন্ট মোশতাকের ওপর খুবই নাখোশ ছিলেন। এছাড়া জেনারেল ওসমানী ও খলিলুর রহমানের সাথেও জিয়ার এমনিতেই বনিবনা ছিল না। অথচ মোশতাক এদের কিনা তার উপরে স্থান দিয়ে তার ক্ষমতা খর্ব করার প্রয়াস পাচ্ছিলেন।
এ সময় আমি ছিলাম স্টেশন কমান্ডার। এই সুবাদে প্রায়ই জিয়ার সাথে এসব নিয়ে কথাবার্তা হতো। তার অফিসে গেলেই জিয়া রাগে গরগর করত। ওসমানী ও খলিলুর রহমানকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করত। আমাকে কয়েকবার ওসমানীর কাছে গিয়ে সরাসরি বুড়োকে সরে দাঁড়াবার কথা বলতে বলল। আমি শুধু হেসে তার রাগ থামাবার চেষ্টা করতাম। জিয়ার অবস্থা তখন খাঁচাবন্দি ব্যাঘ্রের মতো।’’ (সূত্রঃ তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে. কর্ণেল (অব.) এম. এ হামিদ, পৃষ্ঠা- ১১৬-১১৭)
এছাড়া জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের ক্ষমতা গ্রহণ করার পর অনতিবিলম্বে সেদিনই খন্দকার মোশতাককে গ্রেফতার করেন। এসম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন- “জিয়াউর রহমান সরকারপ্রধানের ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর একটি গ্রেপ্তার দিয়ে তাঁর কাজের অভিষেক হলো। ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় ঢাকা থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটা দল পাঠিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদকে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হলো।” (সূত্রঃ বিএনপি সময়-অসময়, মহিউদ্দিন আহমদ, পৃষ্ঠা- ৮৯)
■■ হত্যাকারীদের দলনেতা ফারুকের বর্ণনামতে, ১২ আগস্টের পূর্বে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে কাউকে অবহিত করেনি ■■
এসম্পর্কে জিয়া বিদ্বেষীরা বরাবরই এন্থনি মাসকারেনহাসের সাথে রশিদ ও ফারুকের কথিত এক‌টি সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করেন। কিন্তু এ প্রসঙ্গে রশিদ-ফারুক গংয়ের বক্তব্য খুবই বিভ্রান্তিকর। লে. কর্নেল এম. এ. হামিদ তাঁর বইতে উল্লেখ করেছেন- ‘‘অভ্যুত্থানের মূল নায়ক মেজর ফারুকুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তার গোপন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। অবাক হলেও সত্যি, তিনি তার পরিকল্পনার কথা ১২ আগস্টার আগে পর্যন্ত কাউকে জানাননি, অথবা কারো সাথে পাকাপাকি আলোচনাও করেননি। কারণ বাইরে ভেতরে যে অবস্থা ছিল, তাতে কাউকে বিশ্বাস করার উপায় ছিল না। যদিও ওই সময়ে বেশ কিছু বিক্ষুব্ধ তরুণ অফিসার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ খুঁজছিল। এদের মধ্যে কর্নেল আমিন, মেজর হাফিজ, গাফফার, নাসের, ডালিম, নূর প্রমুখ ছিলেন। মেজর রশিদ অবশ্য এতে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, ফারুকের মন্তব্য সঠিক নয়; তিনি নিজেই আলাদাভাবে বহু আগে থেকেই বিভিন্ন সমমনা আর্মি অফিসার এবং কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে গোপন আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন।
১২ আগস্ট ১৯৭৫। দিনটি ছিল মেজর ফারুকের বিবাহবার্ষিকী। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অফিসার মেসে বেশ বড় রকমের পার্টির আয়োজন করে মেজর ফারুক। অন্যান্যের মধ্যে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সবার অজ্ঞাতে ওই দিনই প্রথম ফারুক তার ভায়রা মেজর রশিদকে তার গোপন পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে। রশিদ প্রথমে চমকে যায়, কিন্তু পরে ফারুকের সাথে একাত্ম হয়। বলা যেতে পারে, ফারুকের প্রস্তাব কিছুটা বাধ্য হয়েই তাকে গ্রহণ করতে হয়। ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, আমি যখন রশিদকে প্রস্তাব দেই তখন কিছুটা চমকে উঠলেও যখন তাকে বলি, দেখ রশিদ, আমি ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছিই, মরি আর বাঁচি। তখন ধরা পড়লে আমি তোমার নাম বলবই কারণ তোমার সাথে এ নিয়ে কথা বলেছি। অতএব ভালো হয় যদি তুমিও যোগ দাও তোমার ইউনিট নিয়ে, তাহলে সাফল্য নিশ্চিত হবে। পার্টি শেষে অনেকক্ষণ তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। রশিদের কথা ছিল, এই কাজে আরও কিছু অফিসার দরকার এবং তা গ্রহণ করতে হবে। ফারুক তাতে রাজি হয়। সরকার উৎখাত অপারেশন পরিকল্পনার পুরো দায়িত্বভার মেজর ফারুকের হাতে থাকে এবং রাজনৈতিক দিক মেজর রশিদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।” (সূত্রঃ তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে. কর্নেল এম. এ. হামিদ, পৃষ্ঠা- ৩১ ও ৩২)।
তাহলে এক্ষেত্রে অবধারিত প্রশ্ন আসে, অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী ফারুক যদি ১২ আগস্টের আগে কাউকে কিছু না বলে থাকে, তাহলে জিয়া পূর্বে থেকে এরকম কিছু জানবেন কিভাবে?
■■ এন্থনি মাসকারেনহাস নিজেই একজন বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাংবাদিক, তার দেয়া তথ্যগুলোও বিভ্রান্তিকর ■■
- জিয়াউর রহমানের সমালোচকেরা বারবার যার বই ও সাক্ষাৎকারের রেফারেন্স ব্যবহার করে থাকে সেই এন্থনি মাসকারেনহাস নিজেই একজন বিতর্কিত সাংবাদিক। জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তাঁর বইতে লরেন্স লিপশুলজ ও এন্থনি মাসকারেনহাস সম্পর্কে লিখেছেন- ‘‘লন্ডনে থাকাকালীন আমার সঙ্গে বাংলাদেশ বিষয়ক দুজন প্রথিতযশা বিদেশি সাংবাদিকের ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়। এদের একজন লরেন্স লিপশুলজ এবং অন্যজন অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস। লরেন্স লিপশুলজের লেখা ‘বাংলাদেশ দি আনফিনিশড রেভুলিউশন’ বইটি অনেকেই পড়ে থাকবেন। আমার মনে হয়, ওই বইতে অনেক ভুল তথ্য আছে এবং তাঁর মতামতের সঙ্গে আমি একমত নই। এ সম্বন্ধে লন্ডনে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলাপ হয়েছিল। এমনকি তাঁর ওই বইয়ের ওপর আমাকে মতামত দেওয়ার জন্যও তিনি অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা, তাই কোনো মতামত দিতে অপারগতা জানাই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্যান্য ঘটনার প্রতি লিপশুলজের উৎসাহ থাকায় তাঁকে আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগতো। তাঁর রাজনৈতিক ধ্যানধারণায় আমার মনে হতো তিনি মার্কসবাদী। অবশ্য তাঁর বাবা-মা অনেক ধনী ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে লন্ডনে আমার পরিচয় হয়, যখন তাঁরা আমেরিকা থেকে সেখানে বেড়াতে আসেন। ঠাট্টাচ্ছলে আমি লিপশুলজকে প্রায়ই বলতাম, আমার বাবা-মা ধনী হলে আমিও তোমার মত মার্কসবাদী হতাম।
অ্যান্থনি ম্যাসেকারেনহাস বাংলাদেশে সমাধিক পরিচিত। বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর লেখা রেপ অফ বাংলাদেশ বইটি এবং ‘৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকার জন্য তাঁর এই ব্যাপক পরিচিতি। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানের করাচিতে একটি পত্রিকায় কাজ করতেন। এপ্রিল মাসে পালিয়ে লন্ডনে এসে সানডে টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশে পাকিস্তান বাহিনীর নৃশংসতা, বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিবরণী লিখে বিশ্ব-জনমতকে সজাগ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তিনি বাংলাদেশ এবং উপমহাদেশ সম্বন্ধে সানডে টাইমসে লিখতেন।
আমি লন্ডনে যাওয়ার পর বছরখানেকের মধ্যে লন্ডনস্থ সোনালী ব্যাংক ইউনিয়ন ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাঁধে। এর তদন্তের ভার দেওয়া হয় আমাকে। তদন্তের একপর্যায়ে সোনালী ব্যাংক ও ম্যাসেকারেনহাসের কিছু তথ্য আমার নজরে আসে। ম্যাসকারেনহাস সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার পাউন্ড ঋণ নিয়েছিলান। পরে তা সুদসহ ২৪ হাজার পাউন্ডে দাঁড়ায়। সেদিনের হিসেবে এই টাকার অংক বেশ বড়। ঋণ দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের নির্দেশে। তাঁকে ওই ঋণ পরিশোধের কথা বলা হলে তিনি তা ফেরত দিতে পরোক্ষভাবে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ উপরমহলের নির্দেশে ওই অর্থ দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এসব বিষয় জানার পর এবং অন্যান্য আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণের পর তাঁর সম্পর্কে আমার ধারণা অনেকটা বদলে যায়।
এ পর্যায়ে আমি সরকারকে অবহিত করি, তাঁকে যেন বাংলাদেশে তেমন গুরুত্ব দেয়া না হয়। পরে তাঁকে আর ঢাকাতে ততো গুরুত্ব কিংবা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি, যা বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সচরাচর দেওয়া হয় দেশে এলে। ম্যাসকারেনহাস সে সময় বাংলাদেশ থেকে ঘুরে গিয়ে মনঃক্ষুন্ন হয়ে কর্নেল ফারুকের এক‌টি সাক্ষাৎকার ছাপান। ওই সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্য ছিল তদানীন্তন জিয়া সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করা। আমি দূতাবাসের প্রেস কাউন্সিলর মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে (বর্তমানে ঢাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সম্পাদক) সানডে টাইমস পত্রিকার সম্পাদককে স্বাধীনতার পরপর ম্যাসকারেনহাস বাংলাদেশ থেকে যে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন সে সম্পর্কে পরোক্ষভাবে অবহিত করি। এসব জানার পর সানডে টাইমস পত্রিকার প্রধান সম্পাদক তাঁকে আর বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে ওই পত্রিকায় লিখতে দেননি।
ইতিমধ্যে একদিন ম্যাসকারেনহাস প্রেস কাউন্সিলর মাহবুবুল আলমকে টেলিফোনে খুব রাগান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষা ছিল, ‘হোয়াই মইন ইজ ট্রায়িং টু ও্যয়ারি মি?’ এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকারের পরোক্ষ মদদে ও পৃষ্ঠপোষকতায় ম্যাসকারেনহাস লেগ্যাসি অফ ব্লাড নামে আর এক‌টি পুস্তক রচনা করেন। বইটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করলে তাঁর লেখার উদ্দেশ্য ও প্রেরণা সহজেই অনুধাবন করা যায়।’’ (সূত্রঃ এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য স্বাধীনতার প্রথম দশক, মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম, পৃষ্ঠা- ১০০-১০১)
মাসকারেনহাসের বইয়ের উদ্ধৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফারুক লে. হামিদকে বলেছিল- ‘‘ও ব্যাটা মিথ্যাবাদী, আন্ধা হাফিজ এটা-ওটা যা-তা গল্প বানিয়েছে।’’ (সূত্রঃ তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে. কর্নেল এম. এ. হামিদ, পৃষ্ঠা- ৫৬)
জেনারেল নুরুল ইসলাম শিশু ২৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ সালে তাঁর বাসভবনে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেন-
১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি/মার্চে আমি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের লবিতে বসে চা পান করছিলাম। আমার সাথে আরও দু’জন বেসামরিক আমলা। পেছনের টেবিলে বসে ২ বিদেশী ও অন্য একজন বাংলাদেশী চা পান করছেন। হঠাৎ আমার বন্ধুটি পেছনের টেবিলের এক বিদেশীর দিকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞেস করলেনঃ
Do you know him?
আমি বললাম, না চিনি না।
তিনি বললেন, আশ্চর্য! তুমি চেননা! ইনি বিখ্যাত ব্যক্তি, A Legacy of Blood-এর লেখক এন্থনী ম্যাসকারেনহাস।
সাথে সাথে আমার রক্ত মাথায় উঠে গেল। আমি সাথে সাথে উঠে সোজাসুজি তার কলার চেপে ধরলাম এবং বললামঃ
Do you know me?
সে উত্তর দিল 'No'.
রাগে উত্তেজনায় আমি কাঁপছি। বললাম তুমি জেনারেল নুরুল ইসলাম শিশুকে চিন না। অথচ তোমার বইতে লিখেছ তুমি কয়েক ডজন সামরিক অফিসারের সাক্ষাৎকার নিয়েছো। বিদেশ গিয়ে ফারুক রশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছো। তারা বলেছে বাংলাদেশে ১৭/১৮ টি ক্যু হয়েছে। জেনারেল জিয়া শত শত সৈনিককে ফাঁসি দিয়েছেন। অথচ তুমি আমাকে চিন না! আমার চেয়ে জিয়ার সময়ের ঘটনাবলী আর কে বেশী জানে?
তোমাকে এই সমস্ত মিথ্যা লেখার জন্য কে কত টাকা দিয়েছে আমি জানতে চাই। নতুবা তোমাকে আমার বাসায় নিয়ে বন্দী করে রাখব। দেখি কোন বাপের বেটা তোমাকে ছাড়াতে আসে। এ বলে তাকে আমি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে ১০/১২ ফুট নিয়ে এলাম। এর মধ্যে অনেক লোক জড়ো হল। অবশেষে ম্যাসকারেনহাস সমবেত লোকদের সামনে তার দোষ স্বীকার করল এবং কার প্ররোচনায় এসব মিথ্যা কথা লিখেছে তাও বলল। অঙ্গীকার করলো সে তার বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে সব সত্য কথা লিখবে। কিন্তু তা আর হয়নি। বাংলাদেশ থেকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার কিছুদিন পর ম্যাসকারেনহাস মারা যায়।
■■ স্বাধীনতার পর সেনাপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লংঘনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে বঞ্চিত করা হয়েছিল ■■
- এসম্পর্কে জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যটি প্রনিধানযোগ্য- ‘‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পদোন্নতিপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল, কর্ণেল ও পরে ব্রিগেডিয়ার শফিউল্লাহকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয় এবং সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। জিয়াউর রহমান এবং শফিউল্লাহ একই দিনে পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমি কাকুলে যোগদান করেন ও একই দিনে কমিশন পেয়ে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে নিয়োগ পান। (তখন নিয়মিত কমিশনের জন্য সামরিক অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল দুবছর, পরে আমাদের সময়ে তা বাড়িয়ে আড়াই বছর করা হয়)। আর্মিতে অফিসারদের জ্যেষ্ঠতা নির্ণয় করা হয় তাঁদের সামরিক প্রশিক্ষণের সার্বিক ফলাফলের ভিত্তিতে। একই দিনে জিয়াউর রহমান ও শফিউল্লাহ কমিশন পেলেও প্রশিক্ষণের ফলাফলের ভিত্তিতে জিয়াউর রহমানকে জ্যেষ্ঠতা প্রদান করা হয়। জেনারেল জিয়া জ্যেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে আর্মিতে রেখে জেনারেল শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করায় নৈতিক দিক দিয়ে সেনাবাহিনী পরিচালনায় স্বভাবতই তাঁর দূর্বলতা থাকার কথা।
এ নিয়োগ সম্পর্কে পরবর্তীকালে আমি কথা প্রসঙ্গে জেনারেল রবকে জিজ্ঞাসা করি। উত্তরে তিনি আমাকে জানান, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ মুজিবের কাছে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সিনিয়র অফিসারদের তালিকা তিনি এবং জেনারেল ওসমানী নিয়ে গেলে শেখ মুজিব শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করেন। এ ব্যাপারে তাঁর এবং জেনারেল ওসমানীর কোনো সুপারিশ ছিল না বলে তিনি আমাকে জানান।’’ (সূত্রঃ এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য স্বাধীনতার প্রথম দশক, মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম, পৃষ্ঠা- ৪০-৪১)
■■ সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হয়েও জিয়াউর রহমান ছিলেন 'কর্মহীন', হয়েছিলেন নিগ্রহের শিকার ■■
- এ প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন- ‘‘চিফ শফিউল্লাহ ও ডেপুটি চিফ জিয়ার মধ্যে মানসিক দূরত্ব ক্রমবর্ধমান ছিল। ডেপুটি চিফ অব স্টাফ পদটি এ সময় অলংকারিক রূপ পরিগ্রহ করে। সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কোনো ফাইল জিয়ার কাছে আসতো না। চিফ তাঁকে বাইপাস করে সিজিএস এবং দুজন পিএসও (প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার) এজি, সিওএলের মাধ্যমে যাবতীয় কাজ পরিচালনা করতেন। প্রকৃতপক্ষে কর্মহীন জিয়ার একমাত্র দায়িত্ব ছিল চারটি ক্যাডেট কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানরূপে দায়িত্ব পালন করা। এ দায়িত্বকে জিয়া সিরিয়াসলি নিয়েছিলেন। প্রতি মাসেই তিনি একটি ক্যাডেট কলেজ ভিজিট করতেন এবং কলেজের দৈনন্দিন কার্যক্রম, পাঠ্যক্রম, শৃঙ্খলা ইত্যাদি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে খতিয়ে দেখতেন।’’ (সূত্রঃ সৈনিক জীবন গৌরবের একাত্তর রক্তাক্ত পঁচাত্তর, হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, পৃষ্ঠা- ১৪১-১৪২)
■■ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সুশৃঙ্খল সেনানায়ক, সেনাবাহিনীতে কখনোই কোনরূপ বিশৃঙ্খলাকে তিনি প্রশ্রয় দেননি ■■
- জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সুশৃঙ্খল সেনানায়ক। সেনাবাহিনীতে কখনোই তিনি কোন বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেননি। মেজর ডালিমের সাথে আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম মোস্তফার ছেলের আলোচিত দ্বন্দ্বের ঘটনায় উস্কানি দেয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে বরং সেনা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর ছিলেন। ঘটনাটি ছিল এরকম- ‘‘এক সন্ধ্যায় মেজর ডালিমের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীতে তোলপাড় সৃষ্টি হলো। ইস্কাটন লেডিস ক্লাবে ডালিমের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। তাঁর বিদেশ-প্রত্যাগত লম্বা চুলধারী শ্যালক অনুষ্ঠান উপভোগ করছিল। ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফার পুত্র ডালিমের শ্যালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে ডালিম শ্যালকের পক্ষ নিয়ে গাজীপুরকে চড় মারেন। পুত্রের নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী সাহেব একটি মাইক্রোবাসে দলবল নিয়ে এসে ডালিমকে চুল ধরে মাইক্রোবাসে তুলে নেন। ডালিমের স্ত্রী নিম্মি স্বামীকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এলে তাঁকেও জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। ডালিমের শাশুড়ি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ট ছিলেন। এই সুবাদে ডালিমেরও ৩২ নম্বরে যাতায়াত ছিল। গাজী একপর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সস্ত্রীক ডালিমকে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। ইতিমধ্যে ডালিমকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে খবর পেয়ে সেনানিবাসে মিলিটারি পুলিশের অফিসার কমান্ডিং মেজর আমিনুল ইসলাম গাজী গোলাম মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে ডালিমকে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালান।
৩২ নম্বরে গিয়ে ক্রন্দনরত ডালিমের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে গাজীর বিরুদ্ধে নালিশ জানান। প্রধানমন্ত্রী উভয়কে সান্ত্বনা দেন এবং বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পরদিন সকালে ডালিম সেনা হেডকোয়ার্টারে এসে অফিসারদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর প্রতি আগের রাতের দুর্ব্যবহারের বর্ণনা দিলে সব অফিসার উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাঁরা এর প্রতিকারের জন্য দলবদ্ধভাবে সিনিয়র অফিসারদের কাছে ধরনা দেন। ডালিম জনা দশেক মেজর পদবীর অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ঘরে ঢুকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দুর্বৃত্তদের দুর্ব্যবহারের ঘটনা বর্ণনা করেন। এরশাদ উত্তেজিত স্বরে বলেন, ‘This is too much.’ আমি চিফকে বলেছি আপনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শক্ত প্রতিবাদ জানান। আমরা এনশিওর করব যে আপনাকে (চিফকে) সরিয়ে দিলে কোন সেকেন্ড লেফটেন্যান্টও চিফের চেয়ারে বসবে না। ক্ষুব্ধ অফিসাররা এরশাদকে অনুরোধ করেন তিনি যেন তাঁদের ডিসিএএস ও সিএএসের অফিস রুমে নিয়ে যান।
এরশাদ ক্ষুব্ধ অফিসারদের নিয়ে ডিসিএএস জিয়ার রুমে প্রবেশ করেন। আমিও পেছন পেছন গেলাম। ডালিম গত রাতের ঘটনা জিয়ার কাছে বর্ণনা করেন। জিয়া খুবই বিরক্ত, তাঁর সামনে উপবিষ্ট কর্নেল এরশাদকে বললেন, ‘এতে হইচই করার কী আছে। আপনি নিজে শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজি, অথচ আপনিই তো শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন। Go back to your place for work.’’ (সূত্রঃ সৈনিক জীবন গৌরবের একাত্তর রক্তাক্ত পঁচাত্তর, হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, পৃষ্ঠা- ১৫২-১৫৩)
■■ জিয়াউর রহমানের ওপর ছিল কড়া গোয়েন্দা নজরদারি ■■
- এসম্পর্কে লে. কর্নেল হামিদ তাঁর বইতে লিখেছেন- ‘‘...ডেপুটি চীফ হিসেবে তাঁর ক্ষমতা ছিল সীমিত এবং তখনকার সময় প্রায় ক্ষমতাহীন ও একঘরে। এছাড়া তাঁর ওপর টিকটিকিদের ছিল কড়া নজর।’’ (সূত্রঃ তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে. কর্নেল এম. এ. হামিদ, পৃষ্ঠা- ২৯) এরকম নজরদারীর মাঝে ও কোনঠাসা পরিস্থিতিতে কোন ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত হওয়ার প্রশ্ন তোলা নিতান্তই বাতুলতা।
■■ সেনাবাহিনীর মধ্যে তখন ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল ■■
- সেনাবাহিনীর সেসময়কার পরিস্থিতি বুঝতে সেদিনের বিডিআর প্রধান ও শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমানের এক‌টি বর্ণনা শোনা যাক- ‘‘তবে পঞ্চম বেঙ্গলে যাওয়ার ও আসার সময় এক‌টি দৃশ্য দেখে মনটা আঁতকে উঠেছিল। যাওয়ার সময় এক‌টি প্রশিক্ষণ মাঠের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিছুসংখ্যক সৈনিক সেখানে প্রশিক্ষণরত ছিল। তাদের প্রায় সবাই দেখলাম লুঙ্গি পরা। কেউ লুঙ্গি কাছামারা অবস্থায় কেউ বা লুঙ্গিটা খাটো করে হাঁটু অবধি তুলে রাইফেল ধরে প্রথামাফিক দাঁড়িয়ে আছে। সবার হাতেই রাইফেল, যদিও পুরোনো মডেলের। খালি পা, লুঙ্গি ও গেঞ্জি অথবা হাফশার্ট পরা, রাইফেল হাতে নিয়মিত সৈনিক আমি ইতিপূর্বে দেখিনি। চমকে উঠে সালামকে জিজ্ঞেস করাতে তিনি বললেন, ‘‘এদের এখনো উর্দি দেয়া সম্ভব হয়নি। কাপড়ের অভাব।’’ (সূত্রঃ কাছে থেকে দেখা ১৯৭৩-১৯৭৫, মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমান, পৃষ্ঠা- ২৪)
সশস্ত্র বাহিনীর বেতন নির্ধারণেও গাফিলতি ছিল দৃশ্যমান। এসম্পর্কে খলিলুর রহমান বলেন- ‘‘সশস্ত্র বাহিনীর বেতন স্কেল নির্ধারণের জন্য কমিটি গঠন সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের আরও একটি উদাহরণ। সারা বিশ্বেই সশস্ত্র বাহিনীর বেতনকাঠামো সিভিল সার্ভিসের বেতন কাঠামো থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এর প্রধান কারণ সৈনিকেরা বিনা মূল্যে খাদ্য ও বাসস্থান পায়, যাতে যেকোন মুহুর্তে হঠাৎ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেও সম্মুখযুদ্ধরত সৈনিকের আহার সরবরাহ ঠিক থাকে ও তাদের ফেলে আসা পরিবারগুলোর জন্য দুঃশ্চিন্তা থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া তিন বাহিনীর পদকাঠামো, যোগ্যতা ও পেশাকাঠামো ইত্যাদির মধ্যেও ভিন্নতা আছে, যে কারণে এদের বেতন নির্ধারণ অনেকটা জটিল এবং সিভিল কর্মচারীর বেতনকাঠামো, গ্রেড ইত্যাদি থেকে একেবারেই আলাদা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, স্বাধীন বাংলাদেশের কর্মচারীদের জন্য যে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়, সেই একই কমিশনকে সশস্ত্র বাহিনীর বেতনকাঠামো নির্ধারণেরও দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছিল এক অদ্ভূত সিদ্ধান্ত।..সৈনিকদের একদল মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আর বাকি সৈনিকেরা পাকিস্তানে আটক অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, অর্থাৎ সাধারণ সৈনিকেরা অর্থনৈতিকভাবে চরম দুরবস্থার ভেতর দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল। অথচ বেতন বোর্ডের কাজের অগ্রগতির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না।’’ (সূত্রঃ কাছে থেকে দেখা ১৯৭৩-১৯৭৫, মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমান, পৃষ্ঠা- ২৪)
সেনাবাহিনীর ক্ষুব্ধতার আরেকটি কারণ ছিল- রক্ষীবাহিনী। ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত এসম্পর্কে বলেছেন- ‘‘পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের পরই প্রথম দেখলাম জাতীয় রক্ষীবাহিনী নামক অত্যন্ত সুসজ্জিত, সুশৃঙ্খল এক‌টি বাহিনী যার গায়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম, হাতে ভারতীয় আধা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম। রক্ষীবাহিনীর সব অফিসারই শুধু মুষ্টিমেয় সামরিক অফিসার ছাড়া ভারতের দেরাদুনের ব্যাটল স্কুল থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং সরাসরি রক্ষীবাহিনীর ব্যাটালিয়নগুলোতে নিয়োজিত করা হতো। তবে নিয়োগের পূর্বে সাভারের রক্ষীবাহিনী ট্রেনিং ক্যাম্পে কিছুদিন অন্যান্য প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তখনকার সেনা ব্যাটালিয়নগুলো থেকে সুসংগঠিত ছিল। প্রসঙ্গত ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে ১৭ ব্যাটালিয়ন আর সেনাবাহিনীতে ১৬ টি ইনফেনট্রি ব্যাটালিয়ন ছিল।..সেনাবাহিনীতে প্রায়ই অফিসার ও জওয়ানদের মধ্যে রক্ষিবাহিনীর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আভাস পাওয়া যেত। অনেক ক্ষেত্রে সোচ্চার হতেও দেখা যেত। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যবৃন্দ ছুটি কাটিয়ে ইউনিটে ফেরত আসার পর রক্ষীবাহিনী কর্তৃক গ্রামে-গঞ্জের নিরীহ জনগণকে হয়রানি করার খবর গল্পের আকারে সৈনিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ত। অনেক ক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের পরিবার পরিজনের উপর অত্যাচারেরও অভিযোগ লিখিতভাবে উত্থাপিত হতো, কিন্তু কখনই প্রতিকার পাওয়া যেতো না। সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব থাকলেও রক্ষীবাহিনীর কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সবাই একমত পোষন করত। সব সদস্যেরই দৃঢ় বিশ্বাস রক্ষীবাহিনীর budget, defence budget থেকে অনেক বেশি ছিল। রক্ষীবাহিনীর রসদ থেকে শুরু করে সব সরঞ্জামের প্রাধিকার ছিল অন্যান্য বাহিনীর উর্ধ্বে। তখন সেনাবাহিনীতে ইউনিফর্মের ঘাটতি পূরণের জন্য কিছু কিছু ভারত থেকে আনানো হলেও এগুলোর সাইজ এত ছোট ছিল যার বেশির ভাগই সঠিক মাপে লাগত না। গুজব রটানো হলো যে, ভারত ইচ্ছে করে সে দেশের সেনাবাহিনীর বাতিলকৃত পোশাক পাঠায় বলেই এরূপ অবস্থা। তবে এটা সত্য যে, তখন জুতা থেকে রাইফেল পর্যন্ত প্রচুর ঘাটতি ছিল আর এ ঘাটতি মিটাতে এসব সরঞ্জাম আমদানি করা হতো ভারত থেকে যার বেশির ভাগ দ্রব্যই ছিল নিম্নমানের। প্রসঙ্গত বলতে হয় যে, এ প্রচারণা এত বেশি বেশি হতে থাকল যে, আস্তে আস্তে সমগ্র সেনাবাহিনী ভারত বিদ্বেষী হয়ে উঠল’’ (বাংলাদেশ রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫-৮১, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন, পৃষ্ঠা- ৩০-৩১)
■■ শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী, বঙ্গভবনে খন্দকার মোশতাকের ছত্রছায়ায় অবস্থানরত বিদ্রোহী অফিসারদের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর ছিলেন। শাফায়াত জামিলসহ কিছু অফিসারদের মোশতাক-ফারুক-রশীদ চক্রবিরোধী ভূমিকায় তিনি উৎসাহ যুগিয়েছেন ■■
- শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নিয়ম অনুযায়ীই জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হন। কিন্তু মোশতাক সরকার ও বিদ্রোহী অফিসারদের সাথে তাঁর ভাল সম্পর্ক ছিল না। এক্ষেত্রে দুটি ঘটনা প্রনিধানযোগ্যঃ
‘‘১৯ আগস্ট সেনাসদরে আরেকটি মিটিং হয়। বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলাে মিটিংয়ে। সেনাপ্রধান সভায় ঢাকাস্থ সকল সিনিয়র অফিসারকে তলব করেন। তিনি মেজর রশিদ ও ফারুককে সঙ্গে করে কনফারেন্স রুমে এলেন। বললেন, প্রেসিডেন্ট মােশতাকের নির্দেশে রশিদ ও ফারুক সিনিয়র অফিসারদের কাছে অভ্যুত্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করবে। রশিদ তার বক্তব্য শুরু করলো। সে বললাে, সেনাবাহিনীর সব সিনিয়র অফিসার এই অভ্যুত্থানের কথা আগে থেকেই জানতেন। এমন কি ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডারও (অর্থাৎ আমি) এ বিষয়ে অবগত ছিলেন। রশিদ আরাে দাবি করলাে, প্রত্যেকের সঙ্গে আগেই তাদের আলাদাভাবে সমঝােতা হয়েছে। উপস্থিত অফিসারদের কেউই এই সর্বৈব মিথ্যার কোনাে প্রতিবাদ করলেন না। একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না কেউ। কিন্তু আমি চুপ করে থাকতে পারলাম না। নীরব থাকা সম্ভব ছিল না আমার পক্ষে। ফারুক-রশিদের মিথ্যে বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আমি সেদিন বলেছিলাম, “You are all liars, mutineers and deserters. You are all murderers. Tell your Mustaque that he is an usurper and conspirator. He is not my President. In my first opportunity I shall dislodge him and you all will be tried for your crimes.” আমার কথা শুনে তারা বাক্যহীন হয়ে পড়ে এবং বিষন্ন মুখে বসে থাকে। পরবর্তী সময়ে জীবন বাজি রেখে সে কথা রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করি আমি। যাই হােক, আমার তীব্র প্রতিবাদের মুখে মিটিং শুরু হতে-না-হতেই ভেঙে গেলাে। সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ উঠে গিয়ে তার কক্ষে ঢুকলেন। উপপ্রধান জিয়া অনুসরণ করলেন তাকে। আমি তখন স্বভাবতই বেশ উত্তেজিত। তাদের দুজনের প্রায় পেছনে পেছনেই গেলাম আমি। সেনাপ্রধানের কক্ষে ঢুকতেই জিয়া আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, “শাফায়াত, একেবারে ঠিক আচরণ করেছো ওদের সঙ্গে। একদম সঠিক কাজটা করেছো। কিপ ইট আপ। ওয়েল ডান!” (সূত্রঃ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর, কর্নেল শাফায়াত জামিল, পৃষ্ঠা- ১১১)
উপরোক্ত বইয়ের ১২০ ও ১২১ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ‘‘পনেরাে আগস্টের অভ্যুত্থানকারীদের সঙ্গে এরশাদের ঘনিষ্ঠতা ও তাদের প্রতি তার সহমর্মিতা লক্ষণীয়। পরবর্তী সময়ের দুটো ঘটনা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রথমটি, খুব সম্ভবত, মেজর জেনারেল জিয়ার সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পরবর্তী দ্বিতীয় দিনের ঘটনা। আমি সেনাপ্রধানের অফিসে তার উল্টোদিকে বসে আছি। হঠাৎ করেই রুমে ঢুকলেন সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ মেজর জেনারেল এরশাদ। এরশাদের তখন প্রশিক্ষণের জন্য দিল্লিতে থাকার কথা। তাকে দেখামাত্রই সেনাপ্রধান জিয়া বেশ রূঢ়ভাবে জিগ্যেস করলেন, তিনি বিনা অনুমতিতে কেন দেশে ফিরে এসেছেন। জবাবে এরশাদ বললেন, তিনি দিল্লিতে অবস্থানরত তার স্ত্রীর জন্য একজন গৃহভৃত্য নিতে এসেছেন। এই জবাব শুনে জিয়া অত্যন্ত রেগে গিয়ে বললেন, আপনার ম

প্রেম করার চেয়ে প্রেমে পড়ার মুহূর্তটা কেন বেশি সুন্দর?প্রেমে পড়া হলো জীবনের এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে সবকিছুই যেন নতুন মন...
07/12/2024

প্রেম করার চেয়ে প্রেমে পড়ার মুহূর্তটা কেন বেশি সুন্দর?

প্রেমে পড়া হলো জীবনের এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে সবকিছুই যেন নতুন মনে হয়। এই অনুভূতি স্বপ্নময়, মুগ্ধতাপূর্ণ এবং এক ধরনের উত্তেজনায় ভরা। এটি ঠিক সেই সময়, যখন আপনি কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন, কিন্তু সেটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে দ্বিধা থাকে। এই অনুভূতির সৌন্দর্য অন্যরকম, কারণ তখন সবকিছুই আবেগময়, রহস্যময়, এবং কল্পনার রঙে রাঙানো।

প্রেমে পড়ার মুহূর্তের সৌন্দর্য:
1. হৃদয়ের প্রথম কাঁপন:
প্রেমে পড়ার সময় প্রথম যে অনুভূতিটা আসে, তা হলো একধরনের মিষ্টি উত্তেজনা। হৃদয় দ্রুত স্পন্দিত হয়, এবং প্রতিটি ছোট ছোট বিষয়েই আনন্দ পাওয়া যায়।

2. অজানা আকর্ষণ:
এটি এমন এক আকর্ষণ যা হয়তো আপনি নিজেও বুঝতে পারেন না। কারও হাসি, কথা, কিংবা ছোটখাটো অভ্যাস হঠাৎ আপনার মনে দাগ কাটতে শুরু করে। সেই আকর্ষণটাই আপনাকে এক অনন্য অনুভূতির দিকে নিয়ে যায়।

3. কল্পনায় ভেসে থাকা:
প্রেমে পড়ার সময় মানুষ বাস্তবতার চেয়ে কল্পনায় বেশি বাঁচে। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়, "তাকে বললে কেমন হবে?" কিংবা "সে কী ভাববে?"—এসব ভাবনায় মনে এক অদ্ভুত আনন্দ তৈরি হয়।

4. নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার:
প্রেমে পড়ার মুহূর্তে নিজের মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। নিজেকে আরও সুন্দর, আরও ভালো করার চেষ্টা শুরু হয়। হয়তো তার পছন্দের রঙ পরা বা তার কথাগুলো মনে মনে বারবার বলা—এসব ছোট ছোট ব্যাপার জীবনের রঙ বদলে দেয়।

5. বিশেষ অনুভূতি:
মনে হয়, পৃথিবীতে কেউ যেন আপনার জন্যই তৈরি হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়, "সে কি আমাকে নিয়েও ভাবছে?"—এই প্রশ্নটাই এক মধুর উত্তেজনা এনে দেয়।

প্রেম করার সময়ের বাস্তবতা:
যখন প্রেম সম্পর্ক শুরু হয়, তখন সম্পর্কের গভীরতা বাড়তে থাকে। প্রেম করার সময় দায়িত্ব, প্রতিশ্রুতি, এবং কখনো কখনো বাস্তবতার চাপ আসতে পারে। তবে প্রেমে পড়ার মুহূর্তের সেই নির্মল, নির্ভেজাল আনন্দ এবং প্রথম আবেগের তুলনা যেন কোনো কিছুতেই হয় না।

কেন প্রেমে পড়া বেশি সুন্দর?
• প্রেমে পড়ার সময় কোনো জটিলতা থাকে না।
• সবকিছুই স্বপ্নময় এবং নতুন মনে হয়।
• অনুভূতিগুলো বিশুদ্ধ এবং স্বাধীন থাকে।
• প্রতিদিন মনে হয়, "সে কি আমার মতোই অনুভব করছে?"—এমন মধুর প্রশ্নই হৃদয়কে বেঁধে রাখে।

প্রেমে পড়ার মুহূর্ত হলো জীবনের এক স্বপ্নিল অধ্যায়। এটি এমন এক স্মৃতি, যা সারাজীবন মনে থাকে। তাই প্রেম করার চেয়ে প্রেমে পড়ার সেই প্রথম মুহূর্তগুলোই বেশি সুন্দর। ❤

19/09/2024

"যুদ্ধ শুরু হলে রাজনীতিবিদেরা অস্ত্র দেয়, ধনীরা রুটি দেয় কিন্ত গরীবেরা তাদের সন্তানদের দেয়, যুদ্ধ করার জন্য!

যুদ্ধ শেষ হলে রাজনীতিবিদেরা হাত মেলায়, ধনীরা রুটির দাম বাড়ায় আর গরীবেরা তাদের সন্তানদে কবর খোজে!" 😥
-সার্বিয়ান প্রবাদ

পাওয়ার, অর্ডার এন্ড জাস্টিসের শেষ ক্লাশে 'আংকেল স্যাম' সম্পর্কে পড়াইছে। যদিও আমার টপিকস ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ।
08/08/2024

পাওয়ার, অর্ডার এন্ড জাস্টিসের শেষ ক্লাশে 'আংকেল স্যাম' সম্পর্কে পড়াইছে। যদিও আমার টপিকস ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Oh Really posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

l="false"> Add listing
  • Login
  • Subscribe

    We will notify you when anything happens in Dhaka.