
16/08/2025
উত্তর মেসিডোনিয়ায়🇲🇰🇲🇰🇲🇰 এক রঙিন দিনলিপি
দুপুরবেলায় স্কপিয়ে পৌঁছে প্রথমেই চোখে পড়ল পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো শহর। ভর্দার নদী যেন অলস ভঙ্গিতে শহরের বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে, আর তার উপর দাঁড়িয়ে আছে স্টোন ব্রিজ—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অসংখ্য মানুষের পদচিহ্ন বহন করে চলা এক নীরব সাক্ষী।
সেতু পার হতেই ঢুকে পড়লাম ওল্ড বাজারে। পুরনো তুর্কি স্থাপত্য, কফির গন্ধ, রঙিন কারুকাজের দোকান আর বাজারের কোলাহল—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল যেন কয়েক শতাব্দী পেছনে চলে গেছি। এক দোকানির হাত থেকে চুমুক দিলাম তুর্কি কফিতে—গাঢ়, কষাটে আর ইতিহাসের স্বাদে ভরা।
দুপুর গড়িয়ে বিকেলে পৌঁছে গেলাম আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের বিশাল ভাস্কর্যের সামনে। শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা এই রথারোহী মূর্তি যেন জানিয়ে দিচ্ছে—এখানেই জন্ম নিয়েছিল সেই রাজপুত্র, যিনি একসময় অর্ধেক পৃথিবী নিজের পতাকায় ঢেকে ফেলেছিলেন।
পরদিন সকালে রওনা হলাম ওহরিদের পথে। রাস্তার দুইপাশে পাহাড়, উপত্যকা আর আঙুরলতার সারি—বাতাসে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ওহরিদ হ্রদের তীরে পৌঁছেই মন ভরে গেল। নীলাভ পানির গায়ে সূর্যের আলো পড়ে যেন সোনালি ঝিকিমিকি ছড়াচ্ছে। পাহাড়ের গায়ে দাঁড়ানো সেন্ট জন চার্চ থেকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনও স্বপ্নের রাজ্যে এসে পড়েছি।
সন্ধ্যায় হ্রদের ধারে স্থানীয় খাবারের দোকানে বসলাম। তাভ্চে গ্রাভ্চে আর আঙুরের রস দিয়ে ভরা গ্লাস—স্বাদে যেন পুরো দেশটাকে একবারে চেখে ফেললাম। পাশের টেবিলে বাজছিল লোকগীতি, আর কিছু তরুণ-তরুণী নাচছিল ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে।
ফেরার আগে মনে হল, উত্তর মেসিডোনিয়া শুধু একটি গন্তব্য নয়—এটি একটি সময়-সেতু। এখানে প্রতিটি পাথর, প্রতিটি জলধারা, প্রতিটি হাসি যেন অতীতের গল্প বলে যায়।
✍️✍️
গিলমান কাবীর