Gilmankabir গিলমান কাবীর

Gilmankabir গিলমান কাবীর When people needed us we stand beside them & help them. It’s A Non Profit Organisation.

উত্তর মেসিডোনিয়ায়🇲🇰🇲🇰🇲🇰 এক রঙিন দিনলিপিদুপুরবেলায় স্কপিয়ে পৌঁছে প্রথমেই চোখে পড়ল পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো শহর। ভর...
16/08/2025

উত্তর মেসিডোনিয়ায়🇲🇰🇲🇰🇲🇰 এক রঙিন দিনলিপি

দুপুরবেলায় স্কপিয়ে পৌঁছে প্রথমেই চোখে পড়ল পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো শহর। ভর্দার নদী যেন অলস ভঙ্গিতে শহরের বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে, আর তার উপর দাঁড়িয়ে আছে স্টোন ব্রিজ—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অসংখ্য মানুষের পদচিহ্ন বহন করে চলা এক নীরব সাক্ষী।

সেতু পার হতেই ঢুকে পড়লাম ওল্ড বাজারে। পুরনো তুর্কি স্থাপত্য, কফির গন্ধ, রঙিন কারুকাজের দোকান আর বাজারের কোলাহল—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল যেন কয়েক শতাব্দী পেছনে চলে গেছি। এক দোকানির হাত থেকে চুমুক দিলাম তুর্কি কফিতে—গাঢ়, কষাটে আর ইতিহাসের স্বাদে ভরা।

দুপুর গড়িয়ে বিকেলে পৌঁছে গেলাম আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের বিশাল ভাস্কর্যের সামনে। শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা এই রথারোহী মূর্তি যেন জানিয়ে দিচ্ছে—এখানেই জন্ম নিয়েছিল সেই রাজপুত্র, যিনি একসময় অর্ধেক পৃথিবী নিজের পতাকায় ঢেকে ফেলেছিলেন।

পরদিন সকালে রওনা হলাম ওহরিদের পথে। রাস্তার দুইপাশে পাহাড়, উপত্যকা আর আঙুরলতার সারি—বাতাসে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। ওহরিদ হ্রদের তীরে পৌঁছেই মন ভরে গেল। নীলাভ পানির গায়ে সূর্যের আলো পড়ে যেন সোনালি ঝিকিমিকি ছড়াচ্ছে। পাহাড়ের গায়ে দাঁড়ানো সেন্ট জন চার্চ থেকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনও স্বপ্নের রাজ্যে এসে পড়েছি।

সন্ধ্যায় হ্রদের ধারে স্থানীয় খাবারের দোকানে বসলাম। তাভ্চে গ্রাভ্চে আর আঙুরের রস দিয়ে ভরা গ্লাস—স্বাদে যেন পুরো দেশটাকে একবারে চেখে ফেললাম। পাশের টেবিলে বাজছিল লোকগীতি, আর কিছু তরুণ-তরুণী নাচছিল ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে।

ফেরার আগে মনে হল, উত্তর মেসিডোনিয়া শুধু একটি গন্তব্য নয়—এটি একটি সময়-সেতু। এখানে প্রতিটি পাথর, প্রতিটি জলধারা, প্রতিটি হাসি যেন অতীতের গল্প বলে যায়।
✍️✍️
গিলমান কাবীর

সফরের হাসি আর ধুলোমাখা সত্য✍️গিলমান কাবীর মানুষ ভাবে আমি ঘুরতে বের হয়েছি, অথচ আমি লড়াই করতে বের হয়েছি।পাসপোর্টে একের পর ...
13/08/2025

সফরের হাসি আর ধুলোমাখা সত্য
✍️গিলমান কাবীর

মানুষ ভাবে আমি ঘুরতে বের হয়েছি, অথচ আমি লড়াই করতে বের হয়েছি।
পাসপোর্টে একের পর এক সিল, মানচিত্রে নতুন দেশের নাম
ইতালি, পর্তুগাল,স্পেন, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া বুলগেরিয়া,সার্বিয়া মন্টিনেগ্রো, কসোভো,
শুনলেই অনেকে ঈর্ষাভরা হাসি দিয়ে বলে—
কি মজা! দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছো!

তারা দেখে না ছবির বাইরে থাকা বাস্তবতা।

ইতালির ব্যস্ত শহরে বা পর্তুগালের পুরনো রাস্তায় হালাল খাবারের দোকান পাওয়া যায়,
তাই খাওয়ার ঝামেলা তুলনামূলক কম।
কিন্তু বলকান অঞ্চলে—সার্বিয়া, মন্টিনেগ্রো, কসোভো—
খাবারের ক্ষেত্রে হালাল পাওয়া যেন এক অসম্ভব কাজ।
কখনো সারাদিন শুধু পানির ওপর ভরসা,
কখনো রাতে খাবার বলতে শুকনো রুটি আর এক কাপ চা।
কাজের ফাঁকে খাওয়ার সময় পেলেও, উপযুক্ত খাবারের দোকান না পেয়ে ফাঁকা পেটে মিটিং শেষ করতে হয়েছে।

এক শহরের হোটেল রুম গুছিয়ে উঠতেই পরের ফ্লাইট বা বাসের সময় চলে আসে।
ট্রলি ব্যাগে জামাকাপড়ের সাথে গুছিয়ে রাখা থাকে অনিদ্রা, ক্লান্তি আর অগোছালো দুশ্চিন্তা।
দিন শেষে ঘুম আসে না, আসে পরের দিনের পথের হিসাব।

এই সফর আমার কাছে বিলাস নয়—
এটা এক অবিরাম সংগ্রাম।
প্রতিটি দেশ আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার পেছনে থাকে শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ আর বেঁচে থাকার লড়াই।

মানুষ ছবির হাসি দেখে,
কিন্তু ধুলোমাখা সত্য দেখে না।
on the way to North machodania 🇲🇰🇲🇰

🚗 চাকার ঘূর্ণি পেরিয়ে কসোভো – এক সড়কযাত্রার দিনলিপিবলকান উপদ্বীপে ভ্রমণ মানেই যেন পাহাড়, নদী আর ইতিহাসের অদৃশ্য সেতুত...
12/08/2025

🚗 চাকার ঘূর্ণি পেরিয়ে কসোভো – এক সড়কযাত্রার দিনলিপি

বলকান উপদ্বীপে ভ্রমণ মানেই যেন পাহাড়, নদী আর ইতিহাসের অদৃশ্য সেতুতে হাঁটা। এবার আমার গন্তব্য কসোভো— তবে আকাশপথে নয়, সড়কপথে। চাকার ঘূর্ণি আর রাস্তার বাঁকে বাঁকে খুলে যাচ্ছিল নতুন নতুন দৃশ্যপট।

সীমান্ত চেকপোস্ট পার হওয়ার সময়, কসোভোর পতাকার নীল-সোনালি রঙ যেন দূর থেকেই চোখে পড়ল। ছোট্ট ভূখণ্ড, কিন্তু ভেতরে কত গল্প লুকিয়ে আছে তা কেবল ইতিহাসই জানে।

প্রথমেই প্রিস্টিনার পথে চলতে চলতে রাস্তার দুই ধারে চোখে পড়ল পাহাড়ের সারি, আর মাঝে মাঝে ছোট ছোট গ্রাম। প্রতিটি গ্রাম যেন নিজস্ব ছন্দে চলছে— , কোথাও মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি, কোথাও আবার গির্জার ঘণ্টাধ্বনি,।

শহরে ঢুকতেই চোখে পড়ল আধুনিক ভবন, শিল্পকর্মে ভরা দেয়াল, আর তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো উসমানীয় যুগের স্থাপত্য। মনে হলো, কসোভো যেন সময়ের দুই প্রান্তকে একসাথে বেঁধে রেখেছে।

প্রিজরেন শহরের দিকে এগোতে গিয়ে রাস্তার বাঁকগুলো যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো— পাহাড়ি পথ, সবুজের সমারোহ, আর ওপরে নীল আকাশ। শহরে ঢুকে উপরের দুর্গ থেকে নিচের পুরো প্রিজরেন দেখে মনে হলো, এ জায়গাটা গল্প বলার জন্যই তৈরি।

কসোভোর প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে মনে করিয়ে দিল, ভ্রমণ শুধু গন্তব্য নয়— পথের প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি শ্বাসে মিশে থাকা অনুভূতিই আসল ভ্রমণ। আর এই সড়কযাত্রা আমাকে সেই অনুভূতি দিয়েছে, যা হয়তো বিমানে বসে কখনো পাওয়া যায় না।

✍️গিলমান কাবীর
১২/০৮/২০২৫

কালো পাহাড়ের রূপকথা 🇲🇪🇲🇪অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের নীল বুক জুড়ে, বালকান উপদ্বীপের দক্ষিণে, এক ক্ষুদ্র দেশ নীরবে দাঁড়িয়ে আছে—মন...
11/08/2025

কালো পাহাড়ের রূপকথা 🇲🇪🇲🇪

অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের নীল বুক জুড়ে, বালকান উপদ্বীপের দক্ষিণে, এক ক্ষুদ্র দেশ নীরবে দাঁড়িয়ে আছে—মন্টিনেগ্রো। তার চারপাশে উঁচু-নিচু পাহাড়, যাদের মাথায় কখনো সবুজ বন, কখনো তুষারের সাদা মুকুট। বিকেলের সূর্য যখন পশ্চিমের দিকে হেলে পড়ে, তখন পাহাড়গুলো গাঢ় কালো ছায়ায় ডুবে যায়—হয়তো সেখান থেকেই এ নাম, Monte Negro, কালো পাহাড়।

ইতিহাস বলছে, এই দেশ একসময় ছিল অদম্য দুর্গ—ওসমানীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এর মানুষ পাহাড়ের পথ চেনে, নদীর বাঁক চেনে, আর শত্রুর হাত থেকে আপন ভূমি বাঁচাতে জানে। কিন্তু আজ, বন্দুকের জায়গা নিয়েছে গিটার, তলোয়ারের জায়গা নিয়েছে হাইকিং স্টিক।

মন্টিনেগ্রোর সকাল শুরু হয় সমুদ্রের গর্জন আর পাহাড়ি পাখির ডাক দিয়ে। উপকূলের শহর কোটরে ঢেউ আছড়ে পড়ে প্রাচীন পাথরের দেয়ালে, আর দূরে ভেসে আসে তাজা মাছের গন্ধ। ভেতরের দিকে, সবুজ উপত্যকা পেরিয়ে পৌঁছানো যায় ডুরমিটার ন্যাশনাল পার্কে—যেখানে নীল হ্রদের পাড়ে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন আকাশ আর পানি একে অপরকে আলিঙ্গন করছে।

এখানকার মানুষের জীবনমান সহজ কিন্তু শান্ত। বড় শহরের কোলাহল নেই, আছে ছোট্ট বাজার, স্থানীয় কফিশপ, আর খোলা চত্বর যেখানে বিকেলের পর সবাই আড্ডা দেয়। অপরাধের হার কম, নিরাপত্তা এতটাই স্বাভাবিক যে রাতের বেলায় রাস্তার ধারে বসে কেউ সমুদ্র দেখতে পারে নিশ্চিন্তে। এখানকার মানুষ উষ্ণ, অতিথিপরায়ণ, আর প্রকৃতিকে ভালোবাসে—যেন পাহাড়ের মাটি তাদের রক্তে মিশে আছে।

গ্রীষ্মে সৈকত ভর্তি হয় পর্যটকে, সাগরের জল স্বচ্ছ কাঁচের মতো। শীতে পাহাড়ি গ্রাম ঢেকে যায় সাদা তুষারে, চিমনি থেকে ধোঁয়া ওঠে ধীরে ধীরে, আর বাতাসে ভেসে আসে ভাজা রুটির গন্ধ।

মন্টিনেগ্রো শুধু একটি দেশ নয়—এ যেন একটি জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে ইতিহাসের আঁচড়, প্রকৃতির রঙ, আর মানুষের হাসি মিলে তৈরি হয় এক অবিনশ্বর চিত্র।

✍️✍️গিলমান কাবীর
১১/০৮/২০২৫

🕯️ রক্তে লেখা বসনিয়া: এক হারিয়ে যাওয়া শহরের কাহিনিতুষারঢাকা পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এক শহর—স্রেব্রেনিৎসা। ঘরবাড়িগুলো ছিলো সাদ...
06/08/2025

🕯️ রক্তে লেখা বসনিয়া: এক হারিয়ে যাওয়া শহরের কাহিনি

তুষারঢাকা পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এক শহর—স্রেব্রেনিৎসা। ঘরবাড়িগুলো ছিলো সাদামাটা, কিন্তু হৃদয়গুলো ছিলো আশায় পূর্ণ।
মুসলিম, খ্রিষ্টান, সবাই একসাথে ছিলো এক সময়। কিন্তু হঠাৎই সেই পাহাড়ের ওপারে যুদ্ধের ঘনঘটা শোনা গেলো।

১৯৯২ সাল।
যুগোস্লাভিয়া ভেঙে পড়ছে, আর বসনিয়া বলছে—“আমি স্বাধীন হতে চাই।”
কিন্তু স্বাধীনতার এই উচ্চারণ যেন কারো সহ্য হলো না।

সার্ব বাহিনীর চোখ রাঙানি, কামানের গর্জন, আর আগুনে ঝলসে উঠলো বসনিয়ার আকাশ।
নদীর ধারে থাকা মসজিদগুলোতে আর মাগরিবের আযান শোনা যায় না, শোনা যায় শুধু নারীদের কান্না আর শিশুর চিৎকার।

এভাবেই স্রেব্রেনিৎসা আশ্রয় হয়ে ওঠে হাজার হাজার মুসলিম পুরুষ, নারী, শিশুর।

"এখানে জাতিসংঘ আছে," তারা ভেবেছিল।

কিন্তু ১৯৯৫ সালের এক গ্রীষ্মের দুপুরে,
সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচ ঢুকলেন শহরে।
শান্তির প্রতীক জাতিসংঘ তখন নীরব, আর মৃত্যুর প্রতীক নেমে এল সার্বীয় সৈন্যদের গাড়িবহরে।

পুরুষদের আলাদা করা হলো।
“তাদের শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে,” বলা হলো মায়েদের।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বনের ভেতরে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল শহর।
একদিনে, ৮,০০০ এর বেশি মুসলিম পুরুষ আর কিশোর হত্যা করা হয়।
শত শত নারীর সম্ভ্রম হরণ হয়।
নদীর জল রক্তে লাল হয়ে ওঠে।

---

⏳ অনেক বছর পর...

বিশ্ব চুপ ছিলো, কিন্তু সময় ছিলো না।

এই রক্তাক্ত ইতিহাসই বলে,

বসনিয়ার স্বাধীনতা দাঁড়িয়ে আছে রক্তে লেখা এক চিঠির ওপর।”

---

📖 এই উপন্যাস সত্য,

নাম নেই সেই ছেলেটার, যে মায়ের হাত ছেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মুখ মনে নেই সেই বৃদ্ধার, যিনি তিন ছেলেকে হারিয়ে আজও ফিরে আসার আশায় বেঁচে আছেন।

কিন্তু তারা ছিলো মানুষ।
আর বসনিয়ার ভূমি তাদের রক্তে স্নাত হয়ে আজও কাঁদে...
চলবে ধারাবাহিক ইনশা'আল্লাহ
গিলমান কাবীর
০৬/০৮/২০২৫

সার্বিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যসার্বিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক দেশ, যার ইতিহাস প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে আ...
03/08/2025

সার্বিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সার্বিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক দেশ, যার ইতিহাস প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ভৌগোলিক অবস্থান বলকান অঞ্চলে হওয়ায় সার্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের সংঘর্ষস্থল এবং সাংস্কৃতিক মিলনের স্থান ছিল।

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাস

সার্বিয়ার প্রাচীন ইতিহাস শুরু হয় ইলিরিয়ান এবং থ্রাসিয়ান জাতির মাধ্যমে, পরবর্তীতে এটি রোমান সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে। মধ্যযুগে সার্বিয়া একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়, বিশেষ করে স্টেফান নেমনজার সময়ে, যিনি সার্বিয়ান অটোকেফাল (স্বাধীন) চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩শ ও ১৪শ শতকে সার্বিয়ান সাম্রাজ্য তার শিখরে পৌঁছায়, বিশেষ করে সম্রাট স্টেফান দুসানের নেতৃত্বে।

অটোমান ও অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় যুগ

১৪৫৯ সালে সার্বিয়া অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আসে এবং কয়েক শতাব্দী ধরে তুর্কি শাসনের অধীন ছিল। এই সময়ে অনেক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটে। ১৯শ শতকে সার্বিয়া ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের দিকে অগ্রসর হয় এবং ১৮৭৮ সালে বার্লিন চুক্তির মাধ্যমে সার্বিয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

আধুনিক যুগ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সার্বিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং যুদ্ধের পর এটি যুগোস্লাভিয়ার অংশ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী সমাজতান্ত্রিক যুগ সার্বিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ১৯৯০-এর দশকে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে গেলে সার্বিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যদিও এ সময় বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও কসোভোর সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়।

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

সার্বিয়ার ঐতিহ্য ধর্ম, সংগীত, নৃত্য, স্থাপত্য ও লোককাহিনির মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পায়। এখানকার প্রধান ধর্ম খ্রিষ্টান অর্থোডক্স, যার প্রতিফলন দেখা যায় অসংখ্য গির্জা ও মঠে। ঐতিহ্যবাহী সার্বিয়ান সংগীত, যেমন "গুসলে" নামক বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে পরিবেশিত গান, জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সার্বিয়ান খাবারও তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচায়ক, যা তুর্কি, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় ও স্লাভিক প্রভাবে গঠিত। ‘চেভাপচিচি’, ‘সরমা’, ও ‘প্লেস্কাভিৎসা’ এখানকার জনপ্রিয় খাবার।

গিলমান কাবীর
০৪/০৮/২০২৫

পর্তুগাল: প্রকৃতির কবিতা যেখানে জলে, পাথরে, আলোতে...পর্তুগাল — নামটা উচ্চারণেই যেন বাতাসে লবণের গন্ধ আসে, আটলান্টিকের ঢে...
02/08/2025

পর্তুগাল: প্রকৃতির কবিতা যেখানে জলে, পাথরে, আলোতে...

পর্তুগাল — নামটা উচ্চারণেই যেন বাতাসে লবণের গন্ধ আসে, আটলান্টিকের ঢেউ এসে ছুঁয়ে যায় হৃদয়।
এ যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক জলরঙের ক্যানভাস, যেখানে আকাশ ও সমুদ্র মিলেমিশে রচনা করেছে চিরন্তন প্রেমকাব্য।

সিনত্রার পাহাড়ে কুয়াশার মতো স্বপ্ন নামে প্রতিদিন। রাজকীয় প্রাসাদ আর ছায়াঘেরা বনজঙ্গল যেন কোনো প্রাচীন রূপকথার পাতায় লুকিয়ে থাকা এক মায়ার শহর।
লিসবনের রঙিন রাস্তাগুলো—সেই পুরনো ট্রাম, দেয়ালের আজুর টাইলস, আর বাঁক খাওয়া পথ যেন সময়কে আটকে রেখেছে এক চিরন্তন বিকেলের মধ্যে।

দূরে, ডউরো নদীর উপত্যকা জুড়ে আঙুরের গাছেরা দাঁড়িয়ে আছে এমন ভঙ্গিতে, যেন তারা জানে তাদের রসে জন্ম নেবে এক বোতল পর্তুগিজ কবিতা—যাকে এই পৃথিবী চেনে “Port Wine” নামে।

আর আছে আলগার্ভ, যেখানে খাঁজকাটা পাথুরে উপকূল আর স্বচ্ছ সবুজজল একত্রে গড়ে তুলেছে এক স্বর্গীয় নিসর্গ। সূর্য যখন অস্ত যায়, সাগরের সীমানায় ছড়িয়ে পড়ে আগুনরঙা আলো—সেই দৃশ্য যেন ঈশ্বরের হাতের ছোঁয়া পাওয়া এক মহাকাব্যিক দৃশ্যপট।

পর্তুগাল প্রকৃতিকে সাজিয়ে রেখেছে অপার মমতায়।
এই দেশ চোখে দেখার জায়গা নয়, হৃদয়ে অনুভব করার এক নিরব নৈসর্গ।

২০২৫/০৮/০২
---

#নৈসর্গিক_সৌন্দর্য #ভ্রমণ #সাহিত্যচর্চা

26/02/2025

সুলতান মেহমেদ অল্প বয়সে অকল্পনীয় দূরদর্শী ছিলেন। তার মন্ত্রী-পরিষদও তার পরবর্তী পদক্ষেপ বা চিন্তা ধরতে পারতেন না।

এত দূরদর্শী, জ্ঞানী এবং ইমানদার হবার কারণেই ২১ বছর বয়সে হাজার বছরের দূর্ভেদ্য নগরী কনস্টান্টিনোপল জয় করেছিলেন৷

তার মত সুলতান হাজার বছরে একজন আসে।

আলহামদুলিল্লাহ অন্যান্য বছরের মত এই বছর ও আমরা অল্প পরিসরে কিছু আল্লাহর বান্দার সাথে ইফতার সামগ্রী শেয়ার করলাম।রব্বে কার...
12/03/2024

আলহামদুলিল্লাহ
অন্যান্য বছরের মত এই বছর ও আমরা অল্প পরিসরে
কিছু আল্লাহর বান্দার সাথে ইফতার সামগ্রী শেয়ার করলাম।
রব্বে কারীম আমাদের শ্রম মেধা শক্তি তার পথে কবুল করুন।

17/02/2024

📍ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের আদালতে দেয়া বক্তৃতা আবার আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে:

"আমার বিচার করার তুমি কে? আমেরিকার বিক্রি করা কুকুর। আমি জানি। আমি ইহুদিদের লক্ষ্য করে যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি তা তোমাকে বিরক্ত করেছে। তুমি যে রক্ত ​​বয়েছ তাতে তুমি ডুবে যাবে, ইসরায়েলের কুকুর।"

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিখ কৃষকদের কাছে যেতে ও তাদের কথা শুনতে ...
16/02/2024

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিখ কৃষকদের কাছে যেতে ও তাদের কথা শুনতে বলেছেন। তিনি বলেন, কৃষকদের দাবী ন্যায্য ও তা অবহেলা করবেন না। জুলুম করবেন না। তিনি বলেন, জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মোদি এখন জালিম স্বৈরাচারের মতো আচরন করছে।

শতবছর পর আফগানিস্তান আবার ভারতের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ভারতকে জ্ঞান দিচ্ছে। দিন বদলাচ্ছে। তাই না?

14/02/2024

💠 ভারতের উত্তরাখন্ডে পুলিশের আগ্রাসনে ৬ জন মুসলিম নিহত হন

ঘটনার শুরু গত বৃহস্পতিবার থেকে। সেদিন ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার হালদওয়ানি শহরের বানভুলপুরা এলাকায় হি*ন্দু^ত্ব*বা-দী প্রশাসন মুসলিমদের মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করে দেয়।

উক্ত ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিমরা এর প্রতিবাদ করলে হি*ন্দু^ত্ব*বা-দী প্রশাসন এর বিপরীতে গুলি চালায়। যার ফলে ৬ জন মুসলিম প্রাণ হারান।

হি*ন্দু^ত্ব*বা-দীদের বক্তব্যঃ

এ বিষয়ে নৈনিতালের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বন্দনা সিং এর বলেছে, “এটি কোন সাম্প্রদায়িক দা*ঙ্গা নয় এবং এভাবে যেন বিষয়টি না দেখা হয়। বরং ঘটনাটি ‘ধর্মীয় স্থান হিসেবে নিবন্ধিত নয় বা এ জাতীয় কোন স্বীকৃতিও সরকার দেয়নি’ এমন একটি স্থাপনা ভেঙে ফেলার সরকারী অভিযানের সাথে যুক্ত।” সে আরও বলে, “কেউ কেউ এই স্থাপনাকে মাদ্রাসা বলে।”

স্থানীয়দের বক্তব্যঃ

এ বিষয়ে স্থানীয়দের ভাষ্য হলো, হলদওয়ানির বানভুলপুরা এলাকার ধ্বংসকৃত মসজিদ ও মাদ্রাসাটি প্রায় দুই দশকের পুরনো। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে এই বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও স্থাপনাগুলিকে তারা অন্যায়ভাবে ভেঙ্গে ফেলেছে।

তারা আরও বলেছে, পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন তারা সবাই মুসলিম।

বানভুলপুরার ‘মালিক কা বাগিচার’ বাসিন্দা নাজমা খানম (২১) বলেন, “পুলিশ যখন বুলডোজার নিয়ে আসে তখন পুরুষরা বাইরে কাজে ছিল। আমরা মহিলারা যখন বাধা দিতে যাই তখন তারা আমাদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে” ।

হালদওয়ানির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাকিল আহমাদ বলেন, “হাইকোর্ট এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। শুনানির পরবর্তী তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্রশাসন যখন এসেছিল তখন আমরা তাদের অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধ করি। আমরা তাদের বলি যে, আদালতের সিদ্ধান্ত যদি আমাদের বিরুদ্ধে যায় তবে আমরা আপনাদের কাজে বাধা দেব না। কিন্তু তারা কোন কথা শোনেনি। তারা যদি হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতো তাহলে আজ কোনো সমস্যাই হতো না।”

‘দেখামাত্র গুলি’র নির্দেশ

এদিকে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছে, সরকার দা*ঙ্গাকারী ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এক বিবৃতিতে সে বলেছে, “উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও পাথর ছোড়ার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক দা*ঙ্গাকারীকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্টকারী কোনো দুর্বৃত্তকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এছাড়া রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ‘দেখামাত্র গুলি চালানোর’ নির্দেশও জারি করেছে উত্তরাখণ্ডের হি*ন্দু^ত্ব*বা-দী সরকার। নির্দেশ জারির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ৬ জন মুসলিমকে গুলি করে মেরেছে হি*ন্দু^ত্ব*বা-দী প্রশাসন।

ভাইরাল হওয়া ঘটনাসমূহ

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে হি*ন্দু^ত্ব*বা-দী প্রশাসনকে ভারী গুলি বর্ষণ করতে দেখা গেছে।

দেখামাত্র গুলির নির্দেশ থাকার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপর এক ভিডিওতে উগ্র হি*ন্দু^ত্ব*বা-দীদের মুসলিমদের দোকান ও বাড়িঘর লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে দেখা যায়। সেসময় তাদেরকে ‘কাটুয়া (মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপমানসূচক শব্দ), আমরা তোদের বোনদের ধর্ষণ করবো’ বলতে শোনা যায়।

এছাড়া আরও কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে হি*ন্দু^ত্ব*বা-দী প্রশাসন ও হিন্দু সন্ত্রা*সীদের মুসলিম নারীদের লাঠিপেটা, গুলি বর্ষণ, মুসলিমদের বাড়িঘরে পাথর নিক্ষেপ এবং মসজিদ ও মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য যে, স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, হি*ন্দু^ত্ব*বা-দী প্রশাসনের সাথে স্থানীয় হিন্দু সন্ত্রা*সীরাও যৌথভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এছাড়া ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ভিডিওতেও সিভিল পোশাক পরিহিত ব্যক্তিদের মুখ বাঁধতে দেখা গিয়েছে।

Address

Dhaka
1361

Telephone

+8801625161266

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gilmankabir গিলমান কাবীর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Gilmankabir গিলমান কাবীর:

Share

Category