07/12/2025
★ বাবরি মসজিদ ★
২০১৯ সালে যখন সুপ্রিমকোর্টের চূড়ান্ত রায়ে মসজিদের মালিকানা হিন্দুদের ন্যস্ত করা হয় তখন সুপ্রিমকোর্ট তাঁর রায়ে স্বীকার করে নিয়েছে-
মসজিদটি সাড়ে চারশো বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অন্তত ১৮৫৭ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত নামাজ আদায়ের প্রমাণ কোর্টের কাছে আছে।
১৮৫৭ সাল থেকে নিয়মিত নামাজ আদায়ের প্রমাণ থাকার মানে এর আগে কি নামাজ আদায় হত না? অবশ্যই হত। কারণ এটা মসজিদ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
কোর্ট বলছে, ১৯৪৯ সালে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুসলমানদের ইবাদত থেকে বঞ্চিত করতেই মূর্তি স্থাপন এবং হাঙ্গামা করা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্ট ১৯৪৯ সালে মসজিদকে অবমাননা করা এবং পরে ১৯৯২ সালে মসজিদকে ভেঙে ফেলা এই দুই-ই ছিল আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন বলেও অভহিত করেছে।
দেশটিতে আইন করে বলা আছে ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট যে স্থাপনা যেই ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটা সেই ধর্মেরই প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে।
যা মসজিদ ছিল তা মসজিদই থাকবে, যা মন্দির ছিল তা মন্দিরই। কিন্তু সংখ্যাগুরুর হাতে আইন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ।
মাদ্রাজ ও উড়িষ্যা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি অশোক কুমার গাঙ্গুলি রায়ের পর সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,
'মসজিদ যদি আগেই ভাঙা না হত, আর হিন্দুরা সেটার দাবি নিয়ে আদালতে যেত, আদালত কি মসজিদ ভাঙার আদেশ দিতেন? সেটা তো সম্ভব ছিল না।'
তাঁর মতে, ন্যায় বিচার ছিল এখানে মসজিদকে পুনঃস্থাপিত করা। মসজিদ ধ্বংস করাকে যে আদালত মেজর ক্রাইম বলছে, সে আদালত যারা ধ্বংস করেছে তাদেরকেই মালিকানা দিয়েছে। সেটাও ধ্বংস করার ফলেই।
অর্থাৎ রায়টা ছিল বিচার মানছি কিন্তু তালগাছ আমার।
১৮৮৫ সালে মসজিদের পাশে মন্দির স্থাপনের জন্য মহন্ত রঘুবীর দাসের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল ফায়জাবাদ জেলা মেজিস্ট্রেট। পরে রাজ্য সচিবের কাছে সে আবেদন জানালে তাও নাকচ করা হয়।
উপনিবেশিক কালেও যখন মসজিদের প্রাঙ্গণে মন্দির স্থাপনের চেষ্টাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় নি, তখন আধুনিককালে এসে সেই মসজিদের মালিকানাই দিয়ে দেওয়া হলো- যারা মসজিদ ভেঙেছিল, সেই তাদেরই হাতে।
সুপ্রিমকোর্টের এই মামলা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়। তাঁদের সবাই লাভ করেন উচ্চ পদ অথবা চাকরির পর নতুন চাকরি।
প্রধান বিচারপতি ব্যতীত বাকি চার বিচারপতির দুজনকে পরবর্তীতে করা হয় প্রধান বিচারপতি। অবসরের পর একজনকে করা হয় ন্যাশনাল কোম্পানি ল আপিলাত ট্র্যাইবুনালের চেয়ারম্যান।
মামলায় একমাত্র মুসলিম বিচারপতি ছিলেন আব্দুল নাজের। তাঁকে দেশটির ৭০ বছরের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে কোনও প্রাদেশিক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছাড়াই সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরের পর তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশের গভর্নর করে নিয়োগ দেওয়া হয়।
যে দেশের সুপ্রিমকোর্ট এমন অন্যায়ের বৈধতা দেয়, অন্ধের মত অন্যায্য পক্ষপাতমূলক বিচার প্রদান করে- সেদেশের গণমাধ্যম সভ্য আচরণ করবে এমন প্রত্যাশার কারণ নেই।
মসজিদ ভাঙার ক্রিমিনাল কেইসে আদালতে ১০০ এর বেশি ভিডিও টেপ উপস্থাপন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করে নি।
৩৫১ জন সাক্ষী এবং ৮০০ ডকুমেন্টস উপস্থাপনের পরও আদালত সেদিনের মসজিদ ভাঙার সব অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এমনভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে যাতে কেউই সাজা না পায়।
এই মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে সংঘাতে প্রায় ২ হাজার মুসলমান প্রাণ হারায়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য নীরবে দাঁড়িয়ে এই উন্মত্ত হিন্দু জনতা কর্তৃক মসজিদ ভাঙাকে প্রত্যক্ষ করেছে।
দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে কোন মসজিদ নিয়ে কথা বলছি, আমাদের অনেকেই হয়ত সেটুকুও বলতে পারব না।
মি. সজীব ভাই