13/10/2025
বাড্ডার রাজনীতির রূপান্তর: জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে কে এগিয়ে?
বাড্ডার রাজনীতি নিয়ে আলোচনা উঠলেই প্রথমে যে নামটি সবার মুখে আসে, তিনি হলেন ড. এম এ কাইয়ুম। তবে এখন আর তিনি কেবল বাড্ডার রাজনীতির নেতা নন; তিনি হয়ে উঠেছেন ঢাকা-১১ আসনের রাজনীতির এক শক্ত ভিত্তি, এমনকি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও তার প্রভাব স্পষ্ট।
ড. কাইয়ুম এখন যেন এক আঞ্চলিক সীমা পেরিয়ে শহরের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
কিন্তু তার পরের সারিতে বাড্ডার রাজনীতিতে যাদের নাম আলোচিত, তারা হলেন এজিএম শামসুল হক ও জনাব জাহাঙ্গীর মোল্লা।
দুজনই তাদের নিজ নিজ সময়ে আলো ছড়িয়েছেন, তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রজন্মের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের অবস্থানেও এসেছে ভিন্নতা।
এজিএম শামসুল হক একসময় বাড্ডার রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। নব্বই দশকে তিনি তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি ছিলেন — সেই সময়ের ছাত্র রাজনীতিতে তার ভূমিকা ছিল প্রভাবশালী। বাড্ডার বহু নেতাকর্মী তার হাতে গড়া, যাদের অনেকেই আজ দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন।
তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে সময় বদলেছে। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে তার উপস্থিতি এখন প্রায় অনুপস্থিত। অনেক তরুণ কর্মীই আজ তাকে নামেই শুধু চেনেন — বাস্তবে তার নেতৃত্বের ছোঁয়া তারা পাননি। ফলে বলা যায়, তার জনপ্রিয়তা এখন অতীতের আলোয় আবছা হয়ে আছে।
অন্যদিকে, জনাব জাহাঙ্গীর মোল্লা বর্তমানে বাড্ডার রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত মুখ। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুব রাজনীতি, আর এখন বিএনপি’র মূলধারায় তিনি এক শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তার সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, কর্মীদের প্রতি সম্মান, আর বন্ধুসুলভ আচরণ তাকে বাড্ডার তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করেছে।তাকে এখন কর্মী তৈরির কারিগর বলা হয়।
বাড্ডা থানার ছয়টি ওয়ার্ডেই তার সক্রিয় কর্মী-সমর্থক রয়েছে, বিশেষ করে ৩৭, ৩৮, ৪১ ও ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডে তার প্রভাব স্পষ্ট।
রাজনীতির মাঠে তার উপস্থিতি এখন দৃশ্যমান এবং দিন দিন তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে—বাড্ডার রাজনীতিতে প্রভাব ও জনপ্রিয়তার পাল্লা এখন জাহাঙ্গীর মোল্লার দিকে ঝুঁকেছে। পক্ষান্তরে এজিএম শামসুল হক যেন ইতিহাসের পাতায় ধীরে ধীরে স্থান করে নিচ্ছেন, মাঠের রাজনীতিতে নয়।
সময়ই বলে দেবে—এই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা জাহাঙ্গীর মোল্লা কতদূর ধরে রাখতে পারেন। তবে আপাতত বলা যায়, বাড্ডার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি।