11/03/2026
চিত্রার যাওয়ার কথা ছিলো একা। তার বান্ধবী লিলি, তার মামার মাধ্যমে একটা কেবিন পুরোটাই নিয়ে দেওয়ার কথা, কিন্তু ঐ কেবিনে আরও একজন যাচ্ছেন চিত্রার সাথে, তিনি আবার ফেমাস গনিতবিদ, কিন্তু সিগারেটের পর সিগারেট তার পুরো জার্নিতে চলে।
চিত্রা বুড়োকে নিয়ে বিরক্ত, সে ক্যাফেতে কফি নিয়ে বসে আছে, কফি তার পছন্দ না তাই সে কফিতে চুমুক দিবে না। একটু পর চিত্রার সামনের সীটে এসে বসলো আশহাব, ডাক্তার আশহাব। বেচারা তার মা কে নিয়ে যাচ্ছে, মায়ের ভয়ে সে অনেককিছু করতে পারেন না। তার মা আবার ভীষন বিরক্ত এই ট্রেন জার্নিতে, কারন ট্রেনের তাদেরই কামড়ায় একটা লাশ যাচ্ছে, এটা কোনো কথা! তার মায়ের কথা হলো, লাশ যাবে একটা মাইক্রো ভাড়া করে, এতোগুলা মানুষকে কষ্ট দিবে, একটু পরই লাশের গন্ধ বের হবে।
এদিকে চিত্রার কেবিনটা কয়েক ঘন্টা পর বদলে দিবে, কারন এক কেবিনে মন্ত্রী সাহেব ও তার স্ত্রী যাচ্ছেন, তারা সামনের কয়েকটা স্টেশন পরেই নামবে। একই কামড়ায় আরও যাচ্ছে এক দল ইয়াং তরুন-তরুনী, একটা পরিবারের তিন সদস্য, স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তান। এই পরিবারের নারী সদস্য আবার হুইলচেয়ারে যাতায়েত করে, তার ভেতরে একটা কষ্ট!
এক এক অন্যরকম জার্নির গল্প, এক জার্নিতে আমাদের কত অজানা মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে, আবার কেউ কেউ এসে মন-মেজাজ খারাপ করে দেয়।
কিছুক্ষন উপন্যাস পড়েছি অনেক আগে, গত শুক্রবার আবার পড়লাম এবং টিজার দেখে মুগ্ধ ও হলাম। হুমায়ুন আহমেদ স্যার চলে যাওয়ার পর আর কেউ তেমন সাহিত্য থেকে সিনেমা সেভাবে বানায়নি, তানিম নূর বানাচ্ছেন। টিজার দেখে মনে হইলো, তিনি একটা ফ্রেম এবং একটা চরিত্রেও ছাড় দেননি। গল্পের নায়ক-নায়িকা আশহাব-চিত্রা হলেও, প্রতিটা চরিত্রই এই জার্নিতে গুরুত্বপূর্ণ। একটা রিফ্রেসিং সিনেমা দেখতে হলে বনলতা এক্সপ্রেস অবশ্যই ঈদের জন্য গুড চয়েজ।
টিজারে মোশাররফ করিমকের মেকাপ নিয়ে আমার একটু আপত্তি আছে, বই পড়ার সময় যেভাবে কল্পনা করেছি সেভাবে লাগেনি। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হলো, এই চরিত্র বই পড়ার সময় আমি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়কেই বারবার চোখে দেখেছি।
এক সিনেমায় দেশের সেরা সব তারকারা, আর কি লাগে ভাই! শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, মম, বাঁধন, শ্যামল মাওলা, ইনতেখাব দিনার আরও এক ঝাঁক নতুন মুখ। এতো বড় স্টার কাস্ট সিনেমা এর আগে বাংলাদেশে সম্ভবত হয়নি।
এই ঈদে বনলতা এক্সপ্রেস গুড চয়েজ হতে চলেছে।