23/09/2026
বিএনপিকে ডুবাতে এবার ৩য় ফাঁদ!
১ম ফাঁদ : পে-স্কেল।
এটা ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে এই ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকটে আগের সরকারের তৈরি করি ফাঁদে পড়া ঠিক হয় নি। এই বাড়তি কয়েক লাখ কোটি টাকা আগামী ৪/৫ বছরে সরকার কোথা থেকে আদায় করবে? এবার বেসরকারিখাতে ১টাকা বেতন বাড়ে নাই, বাড়বেও না। অথচ জিনিসপত্রের দাম অন্তত ২০%-২৫% ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। এর অর্থ মোট চাকরিজীবীর ৯৫%-৯৭% যে বেসরকারি চাকরিজীবী তাদের বেতন অন্তত ৩০% কমে গেছে।
২য় ফাঁদ : তেলের দাম এক লাফে বৃদ্ধি
তেলের দাম বাড়া মানে হলে সবকিছুর দাম বাড়া। অথচ ৯৫% চাকরিজীবীর বেতন ১টাকাও বাড়ে নাই, সাধারণ মানুষের আয় বাড়া তো দূরের কথা - আয় কমেছে। এর মধ্যে আবার উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি।
বিপিসি বিগত বছরগুলোতে প্রচুর লাভ করেছে। আগামী ৩/৪ বছর লস দিলে খুব একটা ক্ষতি হতো না। পে-স্কেল মিনিমাম দিলেই এটা সম্ভব হতো। অথবা ধাপে ধাপে বাড়াতে পারতো।
এর সর্বব্যাপী ধাক্কা গতকাল থেকেই শুরু হয়ে গেছে। পরিবহনের ভাড়া ইতিমধ্যেই বেড়েছে। আরও বাড়বে। সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বাড়বে।
অথচ মানুষের আয় নাই। বেকারত্বের মহামারী চলছে। এমন অবস্থা কখনোই ছিলো না।
সরকারের ১ম ফাঁদ আর ২য় ফাঁদ এর ডাবল চাপে মানুষ চরম দুর্দশায় পড়বে এবং এ থেকে রিলিফ দেয়ার মতো কোন কিছুই সরকারের হাতে নাই।
এদিকে ঋণের পরিমাণ নাকি ১১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপির শেষ সময়ে যদি ঋণের পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, পুরো দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে।
তৃয় ফাঁদ : হকার এবং ব্যাটারি রিক্সা
এটা নিয়ে বিএনপি বিরোধী সব অপশক্তি বিশাল মাস্টারপ্ল্যান করেছে। জুলাই অভ্যূত্থানে সাধারণ মানুষ যে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছে - আগামী কোন আন্দোলনে সাধারণ মানুষ আর তাদের সন্তানরা জীবন দিতে রাস্তায় নামবে না।
কিন্তু বিএনপি সরকারকে ফেলতে হলে অপশক্তিগুলোর তো আন্দোলন করতে হবে।
সেখানে বড় যোগানদার হবে এই হকার আর রিক্সাচালকরা।
হকার এবং রিক্সাচালকদের পরিকল্পিতভাবে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। আবার এটাও সত্যি এই রিক্সাচালকদের একটা অংশ গত ১৫ বছর ও গত দেড় বছরের ক্ষমতাভোগকারীদের সুবিধাভোগীরা আছে।
ঢাকা উত্তরের প্রশাসক দেখলাম হকারদের বিরুদ্ধে বেশ ভালোভাবে নেমেছেন। নামার একটা সময় আছে এবং পদ্ধতি আছে। সামনে সিটি নির্বাচন আছে।
ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বিশাল মাস্টারপ্ল্যান আছে। সেই মাস্টারপ্ল্যানে এবার যেহেতু সাধারণ মানুষ আর তাদের সন্তানরা জীবন দেয়ার জন্য রাস্তায় নামবে না - তাহলে বিকল্প হিসাবে এরা কিন্তু হকার আর রিক্সাচালকদের টার্গেট করে রেখেছে। এবং এখানে এইসব অপশক্তিরও কিন্তু অনেক লোক আছে।
একটা গল্প দেখা যায় - বছরে ৪০০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ লস। আরে ভাই এর মাধ্যমে তো ২ কোটি লোক অর্থনীতির চরম দুর্দশায় বেঁচে থাকতে পারতেছে। ওদিকে ঋণ খেলাপিরা যে ১০ লাখ কোটি টাকা খেয়ে ফেলছে, ব্যাংক থেকে মানুষের আমানতের ১০-১৫ লাখ কোটি টাকা খেয়ে ফেলছে আগের সরকারগুলো,
আর সেই ব্যাংকগুলো বাঁচাতে এক একটা ব্যাংককেই আমাদের আমানতের ৫০০০-২৫০০০ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে এবং যা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম - সেগুলো নিয়ে এইসব অপশক্তি কিন্তু কথা বলে না।
সুতরাং খেলা পরিষ্কার।
হকার আর রিক্সাচালকদের যদি একসাথে ঢাকায় নামানো যায় - তাহলে বিরোধী শক্তিকে আর পায় কে। তাদের সাথে সব অপশক্তি তখন একসাথে নামবে।
৩য় ফাঁদে যদি বিএনপি পড়ে তবে,
বিএনপির যেমন চরম বিপদ হবে, বাংলাদেশেরও চরম বিপদ হবে।
বিএনপিকে বিপদে ফেলতে বিএনপির ভেতরের নানা গুপ্তরা যে কাজ করছে না, তা কিন্তু নিশ্চিত করে "না" বলা যাচ্ছে না।