08/09/2026
👉প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থেকে শুরু করে বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ চৌধুরী এ্যানিসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের সকল নেতৃবৃন্দ সব সময় বলে থাকে আওয়ামী লীগ দেশটাকে ধ্বংস করে গিয়েছে, তারা ধ্বংস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ তাদের দাবি আওয়ামী লীগ এতো পরিমাণ ঋণ করে গিয়েছে যে, তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।
এই বিষয়টা নিয়ে জনগণের মধ্যেও জল ঘোলাটে অবস্থা রয়েছে। বিএনপি এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মুখে এমন বারংবার বক্তব্য শুনে মানুষের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে যে, হয়তো সত্যি! আজ তাদের জন্য আমার এই লেখা। কিছু গাণিতিক হিসেব থাকবে,আশা করি পড়বেন-
শেখ হাসিনা যখন ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে তখন বাংলাদেশের মোট জিডিপি ছিল ৯১.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট ঋণ ছিল ৩৩.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
শেখ হাসিনা যখন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছাড়ে তখন বাংলাদেশের মোট জিডিপি ছিল ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট ঋণ ছিল ১৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ( তথ্যসূত্র ডেইলি স্টার ও দৈনিক ইত্তেফাক)
এখন আসি,
শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসে মোট ঋণ ছিল মোট জিডিপির-
(৩৩.৬৬×১০০)÷৯১.৬১= ৩৬.৭৩%
অর্থাৎ ৩৬.৭৩% শতাংশ ঋণ নিয়ে শাসন শুরু করেছিলেন।
শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন মোট ঋণ ছিল মোট জিডিপির-
(১৫৬×১০০)÷৪৫০= ৩৪.৬৬%
অর্থাৎ ৩৪.৬৬% ঋণ রেখে যান।
শেখ হাসিনা ১৭ বছরে ঋণের হার কমিয়ে আনে
৩৬.৭৩% - ৩৪.৬৬%= ২.০৭%
মানে ১৭ বছরে ঋণের হার ২.০৭% কমিয়ে এনেছেন, পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি করেছেন। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জিডিপির ৫০ শতাংশের নিচে ঋণের হারকে স্থিতিশীল অর্থনীতির মানদন্ডের নির্দেশক বলা হয়। সেখানে শেখ হাসিনা ৩৪.৬৬% ঋণের হার রেখে গিয়েছেন।
তিনি শুধু অসংখ্য মেগা প্রজেক্ট মানুষকে উপহার দেননি, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এনে দেশের অর্থনীতিকে একটি বৃহৎ ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ড. ইউনূসের এই অগ্রযাত্রা ভালো লাগেনি। তাই দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করতেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে কক্ষচ্যুত করেছে।