22/05/2023
উন্নয়নের 'কিংবদন্তি’ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা
কাজী মশিউর রহমান জয়, সাবেক সহ -সম্পাদক ,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
দিনটি ছিল রোজ শনিবার ১৭ মে ১৯৮১। সকাল থেকেই মেঘাছন্ন আবহাওয়া ও ঝড়বৃষ্টি। তারই মধ্যে রয়েছে স্বৈরাচার মেজর জিয়ার পুলিশি বাধা। ঝড়বৃষ্টি আর স্বৈরতান্ত্রিকতার এ কালো ছায়া সেদিন লাখ লাখ গণতন্ত্রকামী নেতা কর্মীদের মিছিল গতিরোধ করতে পারেনি।
ভোররাতে নেতা কর্মীরা ছুটে গিয়েছিল কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে। সবারই অপেক্ষা কখন আসবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা।অপেক্ষার প্রহর প্রেরিয়ে বিকাল ৪ টা ২০ মিনিটে পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে ও বাঙালির জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের সদন নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশর মাটিতে আলো হয়ে ফিরে আসলেন বাংলার মা,মাটি ও মানুষের নেত্রী আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক পর্যন্ত রাস্তাগুলো রুপ নিয়েছিল জনসমুদ্রে। সেদিন প্রায় ১৮ লক্ষ নেতা কর্মী প্রিয় নেত্রীকে বরণ করে নিতে এক কাতারে সামিল হয়েছিল। তখন স্বাধীনতার অমর স্লোগান " জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু " ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ বাতাস।
লাখো জনতার কন্ঠে বজ্রধ্বনি ঘোষিত হয়েছিল ' পিতৃহত্যার বদলা নিতে / লক্ষ ভাই বেঁচে আছে, শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। বিমানবন্দর থেকে ধানমন্ডি ৩২নং পর্যন্ত মানবঢাল তৈরি করে প্রিয় নেত্রীকে সাদরে গ্রহণ করেছিল নেতা কর্মীরা। পিতার গড়া স্বাধীন দেশে আসার পর তার পৈত্রিক বাড়ি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় প্রবেশ করতে দেয়নি স্বৈরশাসক মেজর জিয়া। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাড়িতে প্রবেশ না করতে পেরে প্রিয় নেত্রী ফিরে যান সুধাসদনে। তারপর স্বৈরশাসক মেজর জিয়া প্রিয় নেত্রীকে পদে পদে সকল কার্যক্রমে বাধা দিতে থাকে। তখন দূরদিনে প্রিয় নেত্রীর একমাত্র সম্বল ছিল দলের নিবেদিত নেতা কর্মীরা।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের (১৭ মে ১৯৮১ সালের) আগে ৫ মে বিশ্ববিখ্যাত পত্রিকা 'নিউজউইক' এ সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, জীবনের ঝুঁকি আছে তা জেনেও তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯৮৩ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সামরিক শাসন জারি থাকা অবস্থায় একমাত্র শেখ হাসিনাই সাভার স্মৃতিসৌধ গিয়েছিলেন। তখন প্রিয় নেত্রী বলেন, 'আমি সামরিক শাসন মানি না, মানবো না। বাংলাদেশে সংসদীয় ধারার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করবোই করবো। তাই তো কবি ত্রিদিব দস্তিদার শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে লিখেছেন " আপনিই তো বাংলাদেশ "। এক দিকে সামরিক স্বৈরশাসক সরকারের মৃত্যুর হুমকি অন্য দিকে মৌলবাদী জামায়াত গোষ্ঠীর দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র। তবে এ ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে বিরামহীন বিস্ময়কর ছুটে চলার নামই শেখ হাসিনা।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিলঃ ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পার্বত্য শান্তি চুক্তি,খাদ্যশস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতুর(বঙ্গবন্ধু সেতু) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা।
এরপর ২০০৯ সালে ২৯ ডিসেম্বর থেকে বর্তমান পর্যন্ত সরকার গঠন করে বর্তমানে দেশের জিডিপি ৭.২৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পূর্বে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে বিশ্বে বাংলাদেশর অবস্থান ৪৪তম। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ ৪৬০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে মৌলবাদী জঙ্গি দমন, করোনা মহামারি পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের সলক পেশার মানুষকে বিনামূল্যে করোনার প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে এটা বিশ্বে বিরল উদাহরণ। করোনা মহামারিতে যখন সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ, তখনও ডিজিটাইজেশন করে অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারী ক্ষমতায়নের বার্তা নিয়ে সুদক্ষ্য যে নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সুউচ্চ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। এখানে ঘর সামলে নারীরা এখন বিমানের ককপিটে। যে মেয়েদের পড়াশুনা এ সমাজে নিষিদ্ধ ছিল,খেলাধুলা তো দূরের ব্যাপার সেই দেশে সালমা বাহিনীদের ক্রিকেট বিজয় আজ বাংলাদেশে গর্ব করার মতো। তাই তো সবসময় সামাজিক বাধা ভেঙে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কিছু বাধা আসে, আসবে। সেই বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে। ইসলাম ধর্মে নারীর অধিকারের কথা স্বরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী- পুরুষের পাশাপাশি কাজ করার সব বন্দোবস্ত করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন,বিশ্বাসটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিনিস। নারীরা ভোগের বস্তু না, নারীরা সহযোদ্ধা, সহযোগী। সহযাত্রায় চলতে হবে।নারীদের সমান অধিকার দিতে হবে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে চিন্তা -চেতনা পরিবর্তনে কাজ করেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইন করেছি, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন করলে হবে না, মানসিকতা ও বদলাতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের জন্য দিন রাত পরিশ্রম সততা ও আদর্শের সাথে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলাদেশ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন করে গত বছর ২৫ জুন ২০২২ পদ্মা শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। তারপর রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ সারা দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে রাস্তাঘাট ও বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে যা ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নয়নের পথে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মানুষের মাথাপিছু আয় ২৮১৪ মার্কিন ডলার।
এতকিছুর পরও দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি - জামাতের কেউ কেউ মানুষের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে বলতে চাইছে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হবে। তবে এর সঠিক জবাবটা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচক ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন 'যদি শেখ হাসিনা না থেকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতো তাহলে শ্রীলঙ্কার আগেই বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যেত। তিনি বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন।
আজ সরকারের সমালোচকেরাও এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গুনের কারনে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ আজ অনন্য উচ্চতায় চলে গেছে। বঙ্গবন্ধু না হলে যেমন বাংলার মানুষ আরও হাজার বছর পরাধীনতায় থাকতো ঠিক তেমনি ১৭ মে যদি শেখ হাসিনা বাংলার মাটিতে না ফিরতেন তবে বাংলাদেশ পাকিস্তানে ফিরে যেত। প্রিয় নেত্রী আকাশ সমান কষ্ট বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। একজন শেখ হাসিনা আছেন বলেই আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারি। আমরা গর্ব করে বলতে পারি আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি। পরিশেষে একটা কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মননের কবি, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক কবি, শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও সততার কবি। মহান আল্লাহ দরবারে একটাই ফরিযাদ যেন প্রিয় অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ রেখে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যান আরও উচ্চতায়।ল