25/05/2026
আরো একটা ঈদ সামনে এসে দাঁড়াল... 🌙
সময় নাকি নদীর মতো বয়ে যায়— না, সময় তো আজ তীরের বেগে ছুটছে। কিন্তু এই সময়ের নির্মম হিসাব, কোটি মানুষের বুকের ভেতরে জমে থাকা কান্নার হিসাব— সেগুলো কি হারিয়ে যায়? না। প্রকৃতির মহানিয়মে সব জমা থাকে মহাকালের খাতায়। ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর, সে কড়ায়-গণ্ডায় সব হিসাব তুলে রাখে।
আজ বুকের ভেতরটা হু-হু করে ওঠে, যখন পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকাই। এই তো সেদিনের কথা— মাত্র কয়েক বছর আগের। গ্রাম হোক কিংবা শহরের অলিগলি, সবখানেই ছিল প্রাণের স্পন্দন।
কুরবানির ঈদের তখনও আট-দশদিন বাকি, অথচ চারদিক উৎসবের আলোয় মুখর থাকত। মাইকের চেনা আওয়াজে ভরে যেত চারপাশ। ঈদের কয়েকদিন আগে আমাদের মহল্লাগুলোই যেন ছোট ছোট পশুর হাট হয়ে উঠত।
চোখের সামনে আজও ভাসে— রাস্তা দিয়ে একের পর এক ট্রাক যাচ্ছে, গরুর গাড়ি যাচ্ছে। আর একদল নিষ্পাপ শিশু হুল্লোড় করতে করতে দৌড়ে যাচ্ছে গাড়ির পেছনে। কৌতূহলী চোখে জিজ্ঞেস করছে— “ভাই, কত নিলেন?” ওপাশ থেকে হাসিমুখে উত্তর আসত— “একচল্লিশ!” বা “দেড় লাখ!”
কী এক অদ্ভুত মায়া ছিল, কী অদ্ভুত সম্পর্ক ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের!
সকাল-সন্ধ্যা মহল্লার বাচ্চারা দল বেঁধে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি ঘুরে বেড়াত। বন্ধুরা মিলে হাটে হাটে ঘুরত। পশু কেনা শুধু কেনা ছিল না— সেটা ছিল উৎসব খুঁজে বেড়ানো, আত্মার মিলনমেলা।
আর আজ?
বুক চাপড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করে। ঈদের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি, অথচ চারদিকে কেমন নিস্তব্ধতা। নেই সেই চেনা উদ্দীপনা, নেই আগের মতো আনন্দের ঢেউ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো— আনন্দ আসবে কীভাবে? আকাশ থেকে তো আনন্দ ঝরে পড়ে না।
আজ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। যে মানুষটা নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সে কীভাবে কুরবানির হাটে যাবে? কোটি কোটি মানুষ আজ দু'মুঠো খাবারের জন্য নিজের জীবনটাই প্রতিদিন কুরবানি দিয়ে যাচ্ছে।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত মানুষ খেটে যাচ্ছে; অথচ স্বস্তি নেই, সুরাহা নেই। মানুষের জীবন ঢেকে গেছে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
আজ ঈদের উৎসবের চেয়ে— দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাটাই যেন সবচেয়ে বড় উৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবুও মনে রাখবেন— মানুষের দীর্ঘশ্বাস কখনো হারিয়ে যায় না। মায়ের কান্না, বাবার অসহায়ত্ব, শিশুর মলিন মুখ— কোনো কিছুই বৃথা যায় না।
ইতিহাস বড় নির্মম। সে কাউকে ছাড় দেয় না। যারা মানুষের মুখের হাসি কেড়ে নেয়, একদিন মহাকালের আদালতে তাদেরও জবাব দিতেই হবে।
— ইতিহাস অপেক্ষা করে। ⏳