28/01/2025
মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ওরফে বাপপুতুল উলুম ক-মী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগ!!!
অভিযুক্ত ব্যক্তির নামঃ মৌলভী সুরত আলম, পিতাঃ-মৃত গোলাম হোসাইন,মাতাঃ-মৃত আজু মেহের, সাং-মৌলভীপাড়া,ডাকঘরঃ-মরিচ্যা-৪৭৫০, ৬নং ওয়ার্ড, ইউনিয়নঃ-হলদিয়াপালং,প্রধান শিক্ষক, মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, উপজেলাঃ-উখিয়া, জেলাঃ-কক্সবাজার।
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৫ ইং
বৃহস্পতিবার
শওকত আলম দিপু
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
উখিয়া উপজেলা হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মৌলভীপাড়া গ্রামে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে।জানা যায়, অত্র এলাকায় প্রাথমিক স্থরের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নামে ২০০০সালে এলাকাবাসীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিভিন্ন সহযোগিতার মাধ্যমে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।যার রেজিষ্ট্রেশন কোড-(৫৩১১৭) ইন নং-(৮০০৭৬৮) ই.এম.আই.এস কোড নং-(৪১২০১০৩১২)।প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা পি.আই ও অফিস থেকে মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন বরাদ্দ উত্তোলন করে।বরাদ্দকৃত খাত সমুহের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলা সরান্জাম সরবরাহ,সেফটি টাংকি নির্মান,মাটি ভরাট এবং বেঞ্চ সরবরাহের জন্য ৪০,০০০ হাজার টাকাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য গত ২০১৭-২০২০, অর্থ বছরে উপজেলা পি.আই ও অপিস থেকে বিভিন্ন বরাদ্দ দেওয়া হয়।এসব টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সংশ্লিষ্টতার বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান গোপনে এসব প্রকল্প উত্তোলন করে কোন কাজ ছাড়া সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে।পরবর্তীতে অত্র এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মুসল্লীগন থেকে মসজিদ ভিত্তিক চাঁদা কালেকশন ও পারস্পরিক সার্বিক সহযোগিতায় সেফটি টাংকি নির্মান প্রক্রিয়া সমাপ্ত করা হয়।মাটি ভরাটের বরাদ্দকৃত টাকা কাউকে হিসাব না দিয়ে আত্মসাৎ করে চলতি বছরে কারিতাস বাংলাদেশ এনজিওর সাহায্য পূনরায় অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেন। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবকবৃন্দ ও প্রকৃত দাতা সদস্যদের কোন তোয়াক্কা না করে সরকারি বাজেটের অর্থ এবং মাদ্রাসার প্রতি বার্ষিক বিভিন্ন আয় দীর্ঘ ২৪ বছর যাবৎ একই পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় স্থানীয় জনগনকে হিসাব না দিয়ে ওপর মহলকে ম্যানেজ করছি বলে বহাল তবীয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।স্থানীয় শাহা আলম নামে এক প্রবীণ মুরব্বি এবং প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্য(দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা নামে পরিচিত) যিনি প্রধান শিক্ষকের সুঃখ-দুঃখের সাথী ছিলেন,কভিড-১৯ বিবেচনায় সরকার কর্তৃক গত লকডাউনে তার নামে মসজিদ ভিত্তিক মুয়াজ্জিন পদে ৫,০০০+৫,০০০=১০,০০০ (দশ হাজার) নগদ টাকাসহ বিভিন্ন অনুদান আসলে সেই অনুদান তাকে না শুনিয়ে প্রধান শিক্ষক ইমাম,খতীব,মুয়াজ্জিনের ৩টি পদ তার অনুকুলে দেখিয়ে অনুদান উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করে। পাশাপাশি একের পর এক সরকারী বিভিন্ন বরাদ্দের আবেদন মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা নামে দাখিল করিয়ে তা উত্তোলন করে শেয়ার হোল্ডারের মাধ্যমে ব্যবসা বানিজ্য এবং নিজ ও পুত্রের নামে অসংখ্য জমি ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে। অত্র মাদ্রাসায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা অর্জনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন শ্রেনীতে ভর্তি হলে জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপির পরিবর্তে মূল কপি রেখে দিয়ে ফেরৎকালীন সময় জন প্রতি ৫০০-১০০০ টাকা ফিঃ আদায়সহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভিন্ন বোঝা চাপিয়ে দেয়।সার্বিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, অত্র মাদ্রাসার আবু জাফর নামে ৫ম শ্রেনীর সাবেক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ছেলের ইউনিক আইডি করার জন্য জন্ম নিবন্ধন উত্তোলন করতে গেলে মূল জন্ম সনদ ফেরত চাইলে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় কানের দুল বন্ধক রেখে জন্মনিবন্ধন উদ্ধার এর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধান টিম ঐ অভিভাবক থেকে বিষয়টি জানতে গেলে তিনি বলেন,শুধু আমার ব্যাপারে নয় অন্যান্য যে সব অভিভাবক থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদের মূল কপি জমা নিয়েছে তাদের প্রত্যেককে আমার মত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।এতে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অভিযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আমার স্বামী আমাকে তিনি মৌলানাসাব বলে চিন্তা করে অভিযোগ না দেয়ার জন্য বারন করে দেয়।
অনুসন্ধানকালে আরোও দেখা যায়,সম্প্রতি মাধ্যমিক স্থরের শিক্ষার্থীদের জন্য ০৮/০৭/২০২০ খ্রিঃ তারিখে উখিয়া উপজেলার রাজস্ব তহবিল থেকে পার্শ্ববর্তী #মৌলভীপাড়া_আদর্শ_নুরানী_মাদ্রাসার জন্য ১০ জোড়া শ্রেনী বেঞ্চ তালিকায় আসলে অত্র মাদ্রাসার নাম কেটে দিয়ে প্রত্যয়ন পত্রে মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ব্যবহার করে সাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ১০ জোড়া প্লাস্টিক এর শ্রেণী বেঞ্চ উত্তোলন করে।পরবর্তীতে তা মৌলভীপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শ্রেনী কক্ষে জব্দ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।উপজেলা পি.আই ও অফিস থেকে তথ্য প্রযুক্তির ক্লাস পরিচালনার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে একটি ল্যাপটপ উপহার দিলে তা নিজ পুত্রকে ফরইভার কোম্পানির কাজে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দেয় বলে জানা যায়।
একদিকে মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক, অন্যদিকে মৌলভীপাড়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার নাম ও সুপার ব্যবহার করে রশিদ বই চাপিয়ে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদা আদায়সহ প্রতি বছর অনৈতিকভাবে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করে আসছে।স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় সরকার প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি মাসে ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে মাসিক ফিঃ আদায় এর নিয়ম-নীতি না থকলেও মাসে প্রতিজন ছাত্র-ছাত্রী থেকে ৩০০-৫০০ টাকা জোরপূর্বক ফিঃ আদায় করে।
সরেজমিনে, পরিদর্শনকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমানে,২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা মেধা ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করিলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি রেজিস্টারে নকল নাম ব্যবহার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষক নিজ দস্তকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। বৃত্তি প্রাপ্তদের মধ্যে মদিনা মনোয়ারা,পিতা-ওবাইদুল হক,মাতা-সাজেদা বেগম, প্রাপ্ত ভাতা=১০৮০০ টাকা (৩বছর),ইয়াছমিন আকতার,পিতাঃনুরুল ইসলাম,মাতা-আয়েশা বেগম,প্রাপ্ত ভাতা=৩৬০০টাকা(১বছর),তাহেরা বেগম,পিতা-জাফর আলম,মাতা-রহিমা খাতুন, প্রাপ্ত ভাতা=২৭০০ টাকা(১বছর), এহসান মুহতাব তামিম,পিতা-রশিদ আহমদ, মাতা-আনজুমান আরা,প্রাপ্ত ভাতা=২৭০০ টাকা(১বছর),সর্বসাং- মৌলভীপাড়া, সর্বমোট=২২,৫০০ টাকা আত্মসাৎ করে।এসব ভাতা অভিভাবকরা জানার পর তা খুঁজ নিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তাদেরকে প্রতি মাসে মাসিক ফিঃ দিয়েছি বলে তাড়িয়ে দেয়।এমনকি টাকা আদায়ের এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি করতে গিয়ে দফা দফা জগড়া বিবাদেও লিপ্ত হয়।সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক এক অভিভাবক থেকে বিষয়টি জানতে গেলে তিনি প্রধান শিক্ষকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রাপ্ত ভাতা আদায় ও দূর্নীতির আগ্রাসন জানিয়ে দেয়ার জন্য অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।অভিযোগ দায়ের করারা জন্য মহোদয় বরাবর চলে গেলে এতে স্থানীয় (পি.আই ও অফিস) এক চাকরিজীবি নির্যাতিত ঐ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীকে বিষয়টি তিনি সমাধান করবে বলে ধামা চাপা দিয়ে অভিযোগ না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে সেখান থেকে অর্থাৎ উপজেলা থেকে তাড়িয়ে দেয়।পরবর্তী বছরে ঐসব শিক্ষার্থীদের ১বছর ব্যতীত ২ বছেরর ভাতা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ফিরে পায় বলে অভিভাবক থেকে জানা যায়।এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা খুশিতে আত্মহারা হয়ে বিতর্কিত ঐ প্রধান শিক্ষকের প্রতি আর কোন অভিযোগ দায়ের করেননি।নীতিমালা অনু্যায়ী প্রতি দুই বছর পর পর নির্বাচন এর মাধ্যমে কমিটি পরিবর্তন ও নতুন কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও প্রধান শিক্ষক নীতিমালা তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একই কমিটি বার বার নবায়ন করে ২০২২ সালে এসে তোফায়েল আহমদকে সভাপতি নির্বাচন করে তা গোপনে বিলোপ্ত করে দেয়।একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় পাঁচ জন শিক্ষক রেজিস্ট্রারভুক্ত থাকলেও মাদ্রাসার প্রধানসহ নিয়মিত ২জন শিক্ষক ব্যতীত অবশিষ্ট ৩জন শিক্ষক প্রতিদিন অনুপস্থিত থাকে এমন অভিযোগ উঠে।রেজিস্ট্রারভুক্ত পাঁচ জনের মধ্যে ১|প্রধান শিক্ষক (নিয়মিত) ২| হোসাইন আহমদ বাদশা (নিয়মিত) ৩|রাজিয়া আকতার বকুল (অনিয়মিত) ৪|ইয়াছমিন আকতার (অনিয়মিত) ৫|নাম না জানা----------(অনিয়মিত)। আবার অনেকেই ৫নং এ প্রধান শিক্ষকের ছেলে এহাশুনাল করিম কষর ওরফে গাধা কষর আছে বলে মন্তব্য করেছেন। ৩জন শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় মাদ্রাসার প্রায় কচিকাঁচা ১০০-১৫০জন শিক্ষার্থী যথাযথ পাঠ না পেয়ে জীবনের মূল্যবান সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।যেখানে শিক্ষক বিহীন একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় পাঠদান পেতে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছে সেখানে একইসাথে ৬ষ্ট,৭ম ও ৮ম শ্রেনীর ক্লাস সংযুক্ত করে শিক্ষক বিহীন নিয়মিত দাখিল শাখাও ব্যবসার উদ্দেশ্য পরিচালনা করে আসছে।উপজেলা প্রশাসন অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে যেদিন পরিদর্শনে আসার ইশারা পেলে অনিয়মিত শিক্ষকগুলো আগের দিন এসে মাদ্রাসায় হাজিরা দেয়।পরবর্তী দিন আবার নির্দিষ্ট স্থানে চলে যায়।এভাবে প্রধান শিক্ষক জাতিকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে একের পর এক শিক্ষক বানিজ্য করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠে।
এতে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ,অভিভাবকবৃন্দ ও দাতা সদস্যরা এইসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইতিবাচক পরামর্শ প্রদান করিলে প্রধান শিক্ষক তাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা-হামলাসহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। যার কারনে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনিয়ম-দূর্নীতির সাতে জড়িত প্রধান শিক্ষককে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শাস্তিমূলক অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে।