21/09/2026
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর শিক্ষার্থী রাইসা শাম্মা আইইএলটিএসে ৯-এর মধ্যে ৯ পেয়েছেন। তাঁর মতে, এই অসাধারণ সাফল্য শেষ মুহূর্তের কোনো প্রস্তুতির ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও ইংরেজি ভাষার সাথে নিয়মিত যোগাযোগের ফসল। তিনি মনে করেন, পরীক্ষায় ভালো করার জন্য শুধু কৌশল জানাই যথেষ্ট নয়, বরং ভাষার সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
লিসেনিং ও রিডিংয়ে দক্ষতা বাড়াতে তিনি ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ইংরেজি কনটেন্ট শোনা এবং বই পড়ার ওপর জোর দিয়েছেন। সাবটাইটেল ছাড়া সিনেমা দেখা বা পডকাস্ট শোনার মাধ্যমে তিনি লিসেনিং আয়ত্ত করেছেন এবং মক টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। অন্যদিকে, রিডিংয়ের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে শব্দ মুখস্থ না করে বিভিন্ন বই পড়ার মাধ্যমে বাক্যের প্রেক্ষাপটে শব্দের ব্যবহার শেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যা স্বাভাবিকভাবেই শব্দভান্ডার ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
রাইটিং অংশে ভালো করার জন্য রাইসা গ্রামার, বিশেষ করে বাক্য গঠন (Sentence Structure) ও টেন্সের ভিত্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কঠিন বা জটিল শব্দ ব্যবহারের চেয়ে একটি লেখাকে কতটা পরিষ্কার, যুক্তিসঙ্গত ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি, রাইটিং টাস্কে কোনো গ্রাফ বা চার্ট দেওয়া হলে শুধু সংখ্যা উল্লেখ না করে, সেগুলোর পেছনের কারণ ও পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে।
স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান পরামর্শ হলো—ভয় না পেয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলা শুরু করা এবং মুখস্থ উত্তরের বদলে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা। আশপাশের মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নিজের চিন্তা ইংরেজিতে প্রকাশ করার চর্চা এই দক্ষতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে। পরিশেষে রাইসা বিশ্বাস করেন, ভাষাগত দক্ষতা রাতারাতি তৈরি হয় না; বরং ছোট ছোট অভ্যাস, নিয়মিত চর্চা এবং শেখার আগ্রহই একসময় বড় সাফল্য এনে দেয়।