17/09/2026
Respect all mother's 🧑🍼🫄🤱একজন নারী যখন মা হন, তখন শুধু তাঁর জীবনটাই বদলে যায় না—বদলে যায় তাঁর শরীরও।
গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া, ঘুমহীন রাত, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন—সবকিছুর ছাপ কোথাও না কোথাও থেকে যায়।
একটি নতুন জীবনকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পাওয়া সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এক অপার আশীর্বাদ। একজন নারীর শরীরের মাধ্যমে একটি নতুন প্রজন্ম পৃথিবীর আলো দেখে—এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!
এই সৌভাগ্য সবার জীবনে আসে না। আর যাদের জীবনে আসে, তারাও কখনো কখনো এই আশীর্বাদের মূল্যটা ভুলে গিয়ে মায়ের বদলে যাওয়া শরীরটাকেই দেখতে শুরু করে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, একজন মায়ের এই পরিবর্তনগুলোকে আমরা অনেক সময় ভালোবাসা আর সম্মানের চোখে দেখার বদলে বিচারের চোখে দেখি।
“আগের মতো নেই কেন?”
“ওজন এত বেড়ে গেল কেন?”
“আগের ফিগারটা কোথায়?”
“নিজেকে একটু মেইনটেইন করা উচিত।”
এই কথাগুলো হয়তো বলার সময় খুব সাধারণ মনে হয়। কিন্তু একজন মায়ের জন্য এগুলো কখনো কখনো নিজের শরীর, নিজের আত্মবিশ্বাস এবং নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
একটা কথা আমরা ভুলে যাই—এই শরীরটাই তো একটা জীবনকে পৃথিবীতে এনেছে।
এই শরীরটাই একটা সন্তানকে ধারণ করেছে, জন্ম দিয়েছে, রাতের পর রাত জেগেছে, ক্লান্ত হয়েছে, আবার পরদিন উঠে দাঁড়িয়েছে।
তাই একজন মায়ের শরীরকে “আগের মতো” করার চাপ না দিয়ে,
“তুমি কেমন আছো?”—এই প্রশ্নটা করি।
মায়েদের শরীর কোনো before-and-after ছবি নয়।
মায়েদের শরীর কোনো public property নয়।
আর একজন নারীর মূল্য তার ওজন, কোমরের মাপ বা চেহারার পরিবর্তনে কখনোই নির্ধারিত হয় না।
আমি একজন মা। আমিও জানি, মা হওয়ার পর নিজের জন্য সময় বের করা কতটা কঠিন। কখনো নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ আসে, কখনো আসে না। কখনো নিজের শরীরকে ভালো লাগে, কখনো নতুন শরীরটাকে চিনতেই একটু সময় লাগে।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি—মায়েদের একে অপরকে বিচার নয়, বরং একটু বেশি বোঝাপড়া, একটু বেশি ভালোবাসা আর একটু বেশি support দেওয়া দরকার।
কারও শরীর নিয়ে মন্তব্য করার আগে একবার ভাবুন—
আপনার একটা কথা হয়তো তার কাছে শুধু একটা কথা নয়।
চলুন, মায়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য করার সংস্কৃতি বদলাই।
তাদের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন না তুলে, তাদের শক্তিটাকে উদযাপন করি।
কারণ মা হওয়ার পর একজন নারী “কম সুন্দর” হয়ে যান না—তিনি শুধু জীবনের একটা অসাধারণ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে বদলে যান