Shahabuddin Hridoy

Shahabuddin Hridoy Official page of Shahabuddin Hridoy, an Educational Blogger, Free Thinker and Believer. (This Page is managed by Multiple Admins) He works for the students.
(1)

Shahabuddin Hridoy is an educational blogger. He writes educational content on his blog sites and he makes videos on his YouTube channel. Currently He studies BSc (Honours) in Botany at University of Chittagong, Bangladesh. Shahabuddin Hridoy is also a learner. Learning is always interesting for him. He always want to learn new things and improve his personal skills. He personally believes that learning new things don't go in vain.

এক ছিলেন এক অতি সৎ ও ধার্মিক যুবক। নাম তার জুনাইদ। সে ছিল গরিব, কিন্তু হৃদয়ে এমন ঈমানের নূর যে, মানুষ তাকে দেখলেই বলত, ...
30/12/2025

এক ছিলেন এক অতি সৎ ও ধার্মিক যুবক। নাম তার জুনাইদ। সে ছিল গরিব, কিন্তু হৃদয়ে এমন ঈমানের নূর যে, মানুষ তাকে দেখলেই বলত, “এ যেন জীবন্ত ওলি।” তার স্ত্রী ফাতেমাও ছিলেন অসম্ভব রূপসী এবং চরিত্রে পবিত্র। দুজনের সংসারে ছিল না অভাবের কষ্ট ছাড়া আর কিছু, কিন্তু ছিল অগাধ ভালোবাসা ও আল্লাহর প্রতি ভয়।

একালে এক ভয়ানক দুর্ভিক্ষ পড়ল। গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়ে গেল। জুনাইদের ঘরেও তিন দিন ধরে অন্নের একটি দানা নেই। ফাতেমা ক্ষুধায় কাতর হয়েও স্বামীকে বললেন, “আমি তো ক্ষুধায় মরব না। কিন্তু তুমি হজে যাওয়ার মানতো টাকা কোথায় পাবে? আল্লাহ যদি চান, একদিন না একদিন হজ করাবেন।”

জুনাইদ বললেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন বাইতুল্লাহ শরিফের দর্শন। যদি আল্লাহ এবার না নিয়ে যান, আর কবে নেবেন?”

ঠিক সেই সময়ে গ্রামের এক ধনী ব্যবসায়ী এসে বলল, “জুনাইদ, আমার কাফেলা হজে যাচ্ছে। তুমি আমার মালামালের দেখাশোনা করবে, বিনিময়ে তোমার হজের সব খরচ আমি দেব।” জুনাইদ আনন্দে কেঁদে ফেললেন।

হজে যাওয়ার আগে জুনাইদ স্ত্রীকে বললেন, “আমি না থাকতে আমার বড় ভাই হাসান তোমার দেখাশোনা করবে। সে আমার চেয়েও বেশি তোমাকে ভালোবাসে।”

কিন্তু হাসানের মনে ছিল কালো ছায়া। জুনাইদ চলে যেতেই সে ফাতেমার কাছে গিয়ে কুপ্রস্তাব দিল। ফাতেমা কঠোর গলায় বললেন, “আমার স্বামী তোমার ছোট ভাই, আমি তোমার ভাবি। আল্লাহর কসম, এমন কথা আর মুখে এনো না।”

হাসান লজ্জায় ও ক্রোধে জ্বলে উঠল। সে গ্রামে রটিয়ে দিল, “ফাতেমা চরিত্রহীনা। আমি নিজের চোখে দেখেছি সে পরপুরুষের সাথে...” চারজন দুর্নামকামী লোককে টাকা দিয়ে সাক্ষী বানাল। কাজী ফাতেমাকে রজমের (পাথর মারার) হুকুম দিলেন।

পাথরের আঘাতে ফাতেমা আধমরা হয়ে গেলেন। রাতের অন্ধকারে কবরখানার পাশে ফেলে দেওয়া হল তাঁকে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে ছিলেন। এক ফকির তাঁকে দেখতে পেয়ে কুড়িয়ে নিয়ে চিকিৎসা করলেন। অনেক দিন পর ফাতেমা সুস্থ হলেন।

সুস্থ হওয়ার পর ফকির বললেন, “বেটি, এখানে থাকলে আবার বিপদ হবে। তুমি আমার সাথে মদিনায় চলো।” ফাতেমা রাজি হলেন। পথে এক জায়গায় ডাকাত পড়ল। ফকিরকে হত্যা করল, আর ফাতেমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের সর্দারের হাতে তুলে দিল।

সর্দার ফাতেমার রূপ দেখে মুগ্ধ। বলল, “তুমি আমার বেগম হও।” ফাতেমা বললেন, “আমি বিবাহিতা।”। সর্দার হাসল, “তোমার স্বামী হয়তো মরেই গেছে।” ফাতেমা আবার প্রত্যাখ্যান করলেন।

তখন সর্দার রেগে গিয়ে তাকে একটা পুরনো কূপে ফেলে দিল। কূপটা এত গভীর যে নিচে পড়ে মানুষ আর বেঁচে না। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে কূপের নিচে একটা গুহা ছিল, আর সেখানে পানি। ফাতেমা বেঁচে গেলেন।

কয়েকদিন পর একদল মানুষ সেই কূপে পানি খুঁজতে এল। তারা ফাতেমাকে দেখে অবাক। তুলে নিয়ে এক শহরে বিক্রি করে দিল দাসী হিসেবে। ক্রেতা ছিল এক ইহুদি ধনী। তার স্ত্রী ছিল না, সে ফাতেমাকে বিয়ে করতে চাইল। ফাতেমা আবার না বললেন। তখন ইহুদি রাগ করে তাকে শেকলে বেঁধে রাখল।

একদিন ইহুদির বাড়িতে আগুন লাগল। সবাই পালাল, কিন্তু ফাতেমা শেকলে বাঁধা। তিনি আল্লাহকে ডাকলেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি যদি আমাকে নির্দোষ জেনে থাকো, আমাকে বাঁচাও।” সাথে সাথে শেকল খুলে গেল, আর আগুন তাঁকে স্পর্শ করল না। তিনি বেরিয়ে এলেন।

শহরের লোকেরা এই অলৌকিক ঘটনা দেখে তাঁকে “নবীর বোন” বলে ডাকতে লাগল। খবর রাজদরবারে পৌঁছাল। রাজা নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি ফাতেমাকে দেখে মুগ্ধ হলেন এবং বললেন, “আমি মরার আগে তোমাকেই রাজা বানিয়ে যাব।” লোকেরা প্রথমে অবাক হল, কিন্তু ফাতেমার ন্যায়পরায়ণতা, দয়া ও অলৌকিক ক্ষমতা দেখে সবাই মেনে নিল।

বহু বছর পর জুনাইদ হজ থেকে ফিরলেন। দেখলেন ঘর নেই, স্ত্রী নেই। ভাই হাসান অন্ধ ও পঙ্গু হয়ে পড়ে আছে। হাসান কাঁদতে কাঁদতে সব সত্য বলল। জুনাইদের মাথায় বাজ পড়ল।

তারপর শুনল এক নেককার রাজা আছেন, যাঁর দোয়ায় অসুখ সারে। তিনি হাসানকে, সেই ডাকাত সর্দারকে (যে এখন পঙ্গু), আর সেই ইহুদিকে (যে আগুনে পুড়ে বীভৎস হয়ে গিয়েছিল কিন্তু বেঁচে ছিল) নিয়ে সেই রাজার দরবারে হাজির হলেন।

রাজা (যিনি ফাতেমা) সবাইকে চিনলেন, কিন্তু কেউ তাঁকে চিনল না। তিনি বললেন, “তোমরা পাপ স্বীকার না করলে দোয়া হবে না।” তিনজনেই কেঁদে কেটে নিজেদের জঘন্য কাজের কথা বলল।

তখন ফাতেমা পর্দা সরিয়ে বললেন, “আমিই সেই ফাতেমা। যাকে তোমরা মেরে ফেলেছিলে, বিক্রি করেছিলে, কূপে ফেলেছিলে।”

সবাই হতভম্ব। ফাতেমা দোয়া করলেন, তিনজনেই সুস্থ হয়ে উঠল। তারপর তিনি জুনাইদের হাতে রাজ্য তুলে দিয়ে বললেন, “আমার আর কিছু চাই না। আমি শুধু আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে চাই।”

বলেই তিনি সিজদায় পড়ে গেলেন এবং সেখানেই তাঁর রূহ কবজ করা হল।

লোকেরা কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আজ আমরা একজন ওলিয়ে কামেলাকে হারালাম।”

ধৈর্য আর তাকওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের কত উঁচুতে তুলে দেন, এ গল্প তারই প্রমাণ।

রুটি ও বিদ্রোহ  ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি, প্যারিস। রাস্তায় রুটির দাম আকাশছোঁয়া, শীতের হাওয়া ছুরির মতো কাটে, আর লা সেন নদীর ...
28/12/2025

রুটি ও বিদ্রোহ
১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি, প্যারিস। রাস্তায় রুটির দাম আকাশছোঁয়া, শীতের হাওয়া ছুরির মতো কাটে, আর লা সেন নদীর তীরে ভিড় জমছে হাজার হাজার ক্ষুধার্ত মানুষের। একবেলা রুটির জন্য মায়েরা বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে, বাবারা চোখে আগুন নিয়ে চিৎকার করছে—“Liberté! Égalité! Fraternité!” কিন্তু সেই স্লোগান যারা দিয়েছিল, তারাই এখন সিংহাসনে বসে হাসছে।

এই সময়েই এক অভিজাত ভোজসভায় গিয়েছিলেন ভিক্টর হুগো। লাল ভেলভেটের পর্দা, ক্রিস্টালের ঝাড়লণ্ঠন, টেবিলে ফরাসি ওয়াইনের সারি। অতিথিরা সবাই ‘সভ্য’ সমাজের মানুষ—ব্যাংকার, মন্ত্রী, কারখানার মালিক। তাদের মুখে একই কথা:
“দেশ এগোচ্ছে। একটু কঠোরতা দরকার। এই গরিবগুলো অলস। চুরি করে, মদ খায়, বিপ্লব করে। ওদের শাসন করা দরকার।”

হুগো চুপ করে শুনছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। গলা একটু ভারী, কিন্তু প্রতিটি শব্দ যেন ছুরি।

“আপনারা বলেন, গরিবরা অপরাধী।
কিন্তু বলুন তো—
যে মেয়েটি একটা রুটি চুরি করে তার সন্তানের মুখে দেওয়ার জন্য, আর যে ব্যাংকার লাখ লাখ ফ্রাঁ দুর্নীতি করে নিজের প্রাসাদ বানায়—কার অপরাধ বড়?

যে যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ‘আমার কাজ চাই’, আর যে মন্ত্রী পার্লামেন্টে বসে আইন পাশ করে যাতে তার বন্ধু শিল্পপতিরা আরও ধনী হয়—কার অপরাধ বড়?

ওরা রাস্তায় ছুরি নিয়ে দাঁড়ায় কারণ পেটে অন্ন নেই।
আর আপনারা বোর্ডরুমে কলম নিয়ে দাঁড়ান কারণ লোভ কখনো তৃপ্ত হয় না।”

ঘর নিস্তব্ধ। একজন মহিলা হাত কাঁপিয়ে ওয়াইনের গ্লাস ধরে রেখেছেন। হুগো জানালার দিকে এগিয়ে গেলেন। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তায় এক বুড়ি ময়লার স্তূপে কাগজ কুড়োচ্ছে। তার পায়ে ছেঁড়া কাপড় জড়ানো।

হুগো ফিসফিস করে বললেন,
“আমি তাকে দেখেছি। গতকাল। সেই বুড়ির বয়স আশি পেরিয়েছে। তার একটা মাত্র ছেলে ছিল—কারখানায় কাজ করত। দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ক্ষতিপূরণ? এক ফ্রাঁও না। কারণ কারখানার মালিক এই টেবিলেই বসে আছেন।”

তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন। চোখে আগুন।
“আপনারা বলেন সমাজ নষ্ট হচ্ছে গরিবদের জন্য।
কিন্তু সমাজ নষ্ট হয়েছে যখন আপনারা রাষ্ট্রের টাকায় প্রাসাদ বানান, আর একটা শিশু রাস্তায় মরে যায় কারণ তার মায়ের কাছে দশ স্যু ফ্রাঁও নেই ওষুধ কিনতে।

অপরাধ সবসময় রাস্তায় থাকে না।
অনেক বড় অপরাধ হয় এই ধরনের টেবিলে—যেখানে মানুষের কষ্ট নিয়ে হাসাহাসি করা হয়, আর ওয়াইনের গ্লাস ঠোকাঠুকি করে বলা হয়, ‘দেশ ভালো আছে’।”

তারপর হুগো চলে গেলেন। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেন গুলির আওয়াজের মতো লাগল।
পরদিন সকালে প্যারিসের রাস্তায় ব্যারিকেড উঠল। লাল পতাকা উড়ল। আর সেই বিপ্লবের আগুনে পুড়ে গেল জুলাই রাজের সিংহাসন।

কিন্তু আজ, দেড়শো বছর পরেও—
একই টেবিলে বসে একই ধরনের মানুষ একই কথা বলে:
“দেশ এগোচ্ছে। গরিবরা অলস। শৃঙ্খলা দরকার।”

আর কোথাও একটা গলির মোড়ে একটা মা তার শিশুকে কোলে নিয়ে কাঁদছে কারণ দুধের দাম বেড়ে গেছে।
আর কোথাও একটা বোর্ডরুমে হাসিমুখে সই হচ্ছে—যাতে আরও কিছু মানুষের চাকরি যায়, আর কিছু মানুষের ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ে।

ভিক্টর হুগো যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তিনি হয়তো আবার বলতেন—

“যদি কখনো সমাজে অপরাধ বাড়ে, তবে দোষ দিও না রাস্তার চোরকে।
দোষ দিও সেই ব্যবস্থাকে—যে মানুষকে রুটির জন্য চুরি করতে বাধ্য করে, কিন্তু বোর্ডরুমের চোরকে ‘সফল উদ্যোক্তা’ বলে পুরস্কৃত করে।”

রুটি এখনো অনেকের কাছে স্বপ্ন।
আর বিদ্রোহ?
সে এখনো জ্বলছে—কখনো রাস্তায়, কখনো মনে মনে।
শুধু দরকার একটা মানুষ, যে সাহস করে বলবে—
“এই অন্যায় আর নয়।”

বিখ্যাত সুফি রূপক-গল্প  নাম: “পাগল হাতি আর অন্ধ মানুষেরা”এক গ্রামের কাছে জঙ্গলে একটা পাগল হাতি ঢুকে পড়েছিল। গ্রামের লোকে...
27/12/2025

বিখ্যাত সুফি রূপক-গল্প
নাম: “পাগল হাতি আর অন্ধ মানুষেরা”

এক গ্রামের কাছে জঙ্গলে একটা পাগল হাতি ঢুকে পড়েছিল। গ্রামের লোকেরা কেউ কখনো হাতি দেখেনি। খবর ছড়িয়ে পড়ল, “একটা অদ্ভুত, বিশাল জন্তু এসেছে!”

গ্রামের ছয়জন অন্ধ মানুষ (কেউ জন্মান্ধ, কেউ পরে অন্ধ হয়েছে) খুব উৎসুক হল। তারা বলল, “চল, আমরা গিয়ে হাত দিয়ে বুঝে আসি এই জন্তু কেমন।”

তারা হাতি যেখানে ছিল সেখানে গেল।

1. প্রথম জন হাতির পা ধরে বলল, “হাতি মানে একটা মোটা মোটা খুঁটি। যেন বড় গাছের গুঁড়ি।”
2. দ্বিতীয় জন হাতির পেট ধরে বলল, “তোমরা ভুল বলছ। হাতি হলো বিশাল একটা দেওয়াল।”
3. তৃতীয় জন শুড় ধরে বলল, “তোমরা সবাই ভুল। হাতি হলো একটা মোটা সাপ।”
4. চতুর্থ জন কান ধরে বলল, “হাতি হলো বিরাট পাখা। ঝাপটায় হাওয়া করে।”
5. পঞ্চম জন দাঁত ধরে বলল, “হাতি হলো শক্ত লোহার ছুরি বা বর্শা।”
6. ষষ্ঠ জন লেজ ধরে বলল, “তোমরা কেউ ঠিক বলোনি। হাতি হলো একটা রজ্জু (দড়ি)।”

তারপর শুরু হলো তুমুল ঝগড়া। প্রত্যেকেই নিজের কথায় এতটাই নিশ্চিত যে অন্যদের গালি দিতে লাগল, এমনকি মারামারি পর্যন্ত হলো। গ্রামের লোকেরা দেখে হাসতে লাগল।

ঠিক তখনই সেখানে একজন আলেম ফকির এসে দাঁড়ালেন। তিনি হেসে বললেন,
“তোমরা সবাই ঠিক বলছ, আবার সবাই ভুল বলছ। তোমরা হাতির এক একটা অংশ ধরেছ, কিন্তু কেউই পুরো হাতিকে দেখোনি। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা নিজেদের অংশকে পুরো হাতি ভেবে ঝগড়া করবে, ততক্ষণ তোমরা কেউ হাতিকে চিনতে পারবে না।”

তারপর ফকির হাতির মাহুতকে ডেকে হাতিটাকে পুরোপুরি দেখালেন। অন্ধরা হাত বুলিয়ে বুঝতে পারল—হাতি আসলে এই সবকিছুর সমষ্টি, কিন্তু তার চেয়ে অনেক বড়।

গভীর সুফি উপমা ও ব্যাখ্যা

- পাগল হাতি = আল্লাহ, সত্য, হক্ব (যিনি অসীম, অপার, যাঁকে কেউ পুরোপুরি বোঝে না)
- ছয়জন অন্ধ = আমরা সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী, দার্শনিক, বিজ্ঞানী—সবাই
- প্রত্যেকে যে অংশ ধরেছে =
- কেউ শরীয়ত ধরেছে (পা = নিয়ম-কানুন)
- কেউ হৃদয়ের ভালোবাসা ধরেছে (পেট = রহমত)
- কেউ যিকির-ফিকির ধরেছে (শুড়)
- কেউ সেবা-খেদমত ধরেছে (কান)
- কেউ জিহাদ বা সংগ্রাম ধরেছে (দাঁত)
- কেউ ত্যাগ-রিয়াযত ধরেছে (লেজ)

কিন্তু প্রত্যেকেই নিজের অভিজ্ঞতাকে “পুরো সত্য” ভেবে ঝগড়া করে। একে অপরকে কাফের, বিদআতি, ভ্রষ্ট বলে।

- ফকির = সিদ্দিকীন, ওলি-আল্লাহ, মুর্শিদ-এ কামেল—যিনি “বসিরতের চোখ” পেয়েছেন, যিনি পুরো হাতিকে দেখেছেন
- হাতির মাহুত = রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর ওয়ারিসগণ—যাঁরা হাতিকে পুরোপুরি চেনেন এবং দেখাতে পারেন

গল্পের শিক্ষা

1. আল্লাহকে কেউ পুরোপুরি বোঝে না। প্রত্যেকের কাছে তাঁর এক একটা রূপ প্রকাশ পায়।
2. নিজের অভিজ্ঞতাকে “একমাত্র সত্য” ভেবে অন্যকে ঝগড়া করা বোকামি।
3. যতক্ষণ “অন্ধ” থাকব, ততক্ষণ ঝগড়া। যখন মুর্শিদের হাত ধরে “চোখ” খুলবে, তখন দেখবে—সবাই একই হাতির অংশ ধরে কাঁদছে।
4. সব পথই শেষ পর্যন্ত একই সত্তার দিকে যায়, শুধু আমরা অংশ দেখি, পুরোটা দেখি না।

রুমি এই গল্পটি মসনবীতে লিখেছেন। তিনি বলেন:
“হাতি ঘরে অন্ধকারে ছিল, সবাই হাতড়ে হাতড়ে বোঝার চেষ্টা করছে।
যদি প্রত্যেকের হাতে একটা মোমবাতি থাকত, তবে ঝগড়া থাকত না।”

অর্থাৎ নূরে মুহাম্মাদী যার হৃদয়ে জ্বলে, সে আর ঝগড়া করে না—সে শুধু হেসে হেসে দেখে, সবাই একই আল্লাহকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকছে।

এই গল্প শুধু সুফিদের নয়—পৃথিবীর সব আধ্যাত্মিক পথের মানুষের জন্য একটা আয়না।

কুকুর ও মসজিদএক ছোট্ট শহরের প্রান্তে ছিল একটা পুরনো মসজিদ। সাদা মিনার, নীল গম্বুজ, আর চারপাশে বড় বড় গাছ। মসজিদের উঠানে স...
26/12/2025

কুকুর ও মসজিদ

এক ছোট্ট শহরের প্রান্তে ছিল একটা পুরনো মসজিদ। সাদা মিনার, নীল গম্বুজ, আর চারপাশে বড় বড় গাছ। মসজিদের উঠানে সবুজ ঘাস, আর দূরে একটা পুকুর। প্রতি জুমআয় মানুষের ঢল নামে, কিন্তু বাকি দিনগুলোতে মসজিদটা একটু নির্জন থাকে।

এক শুক্রবার আসরের নামাজের পর। আকাশে মেঘ জমেছে, বৃষ্টি নামার আগের সেই ভ্যাপসা গুমোট। মুসল্লিরা একে একে চলে গেছেন। মসজিদের মেহরাবের সামনে কার্পেটে এখনো নামাজের গন্ধ লেগে আছে। হঠাৎ মসজিদের দরজা দিয়ে ঢুকল পাঁচটা রাস্তার কুকুর। তাদের গা ভিজে চুপচুপে, কাদা মাখা। নেতা একটা কালো কুকুর, বয়স্ক, এক চোখে আঘাতের দাগ। বাকিরা তার পেছন পেছন।

তারা চুপচাপ এসে মেহরাবের সামনে দাঁড়াল। তারপর ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। ঠিক যেভাবে মানুষ সিজদা করে—কপাল ঠেকাল কার্পেটে। তাদের লেজ নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে, চোখ বন্ধ। মনে হচ্ছে যেন তারাও আল্লাহর সামনে নত। মসজিদের ভেতরটা একেবারে নিস্তব্ধ। শুধু দূরে আজানের শেষ অংশ মাইকে ভেসে আসছে।

মসজিদের খাদেম আব্দুল চাচা তখনো ছিলেন। তিনি দেখেই চেঁচিয়ে উঠলেন,
“এই! কী অপরাধ! কুকুর মসজিদে? বেরো! বেরো বলছি!”

তিনি ঝাঁটা হাতে এগিয়ে গেলেন। পেছনে আরো দু-তিনজন মুসল্লি যারা যেতে ভুলে গিয়েছিল, তারাও এসে দাঁড়াল। কেউ পাথর কুড়োচ্ছে, কেউ চেঁচাচ্ছে, “নাপাক! মসজিদ নোংরা হয়ে যাবে!”

কালো কুকুরটা তবু মাথা তুলল না। সিজদা থেকে ধীরে ধীরে মাথা তুলে সোজা হয়ে বসল। তার এক চোখ দিয়ে যেন পানি গড়াচ্ছে—বৃষ্টির পানি না কাঁদছে কে জানে! সে গম্ভীর গলায় বলল,
“চাচা, আমরাও তো আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি যখন ডাকেন, তখন তো সবাইকে ডাকেন। মানুষকে ডাকেন, পাখিকে ডাকেন, গাছকেও ডাকেন। আমরা কি তার সৃষ্টি নই?”

খাদেম চাচা থমকে দাঁড়ালেন। ঝাঁটা হাতে মাঝপথে থেমে গেল। বাকি মানুষগুলোও চুপ। কুকুরটা আবার বলল,
“তুমি যে কার্পেটে নামাজ পড়, এই কার্পেটের নিচে যে মাটি, সেই মাটিতেই তো আমরা জন্মেছি, সেই মাটিতেই খেলি, সেই মাটিতেই মরব। আল্লাহ যদি আমাদের নাপাক মনে করতেন, তাহলে আমাদের এই পায়ের তলায় মাটি বানাতেন না।”

একটা ছোট কুকুর, যার গায়ে সাদা দাগ, সেও মাথা তুলে বলল,
“আমরা যখন রাস্তায় কষ্ট পাই, তখনও তো আকাশের দিকে তাকাই। মনে মনে বলি, ‘হে আল্লাহ, আমাদেরও তো একটু ভালোবাসা দাও।’ আজ বৃষ্টিতে ভিজে এসেছি, কোথাও আশ্রয় নেই। মসজিদের দরজা খোলা দেখে ভাবলাম, যিনি সবার, তার ঘরে বোধহয় আমাদেরও জায়গা আছে।”

মসজিদের ভেতরটা যেন আরো নিস্তব্ধ হয়ে গেল। খাদেম চাচার হাত থেকে ঝাঁটা পড়ে গেল মাটিতে। তিনি চুপচাপ বসে পড়লেন সামনের কার্পেটে। একজন বুড়ো মুসল্লি, যিনি সারাজীবন মসজিদের সেবা করেছেন, চোখ মুছে বললেন,
“আমরা ভুল করছিলাম বোধহয়। আল্লাহ তো কাউকে তাড়ান না। তিনি তো সবাইকে ডাকেন। আমরাই একে অপরকে বিচার করি, দূরে ঠেলি।”

তিনি উঠে গিয়ে মসজিদের পাশের রান্নাঘর থেকে কিছু রুটি এনে কুকুরগুলোর সামনে রাখলেন। কুকুরগুলো লেজ নেড়ে খেতে লাগল। কালো কুকুরটা শেষবারের মতো তাকাল মেহরাবের দিকে, তারপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল। বাকিরাও তার পেছন পেছন।

বাইরে তখন বৃষ্টি নেমেছে জোরে। কিন্তু মসজিদের ভেতরে যেন একটা আলো জ্বলে উঠল। খাদেম চাচা বললেন,
“আজ থেকে এই মসজিদের দরজা কারো জন্য বন্ধ থাকবে না। মানুষ হোক, পশু হোক—যে আল্লাহর খোঁজে আসবে, তার জায়গা হবে।”

সেই থেকে শহরের লোকে বলে, ওই মসজিদে কুকুরও নামাজ পড়ে। আর যারা শোনে, তারা হাসে না, চুপ করে মাথা নিচু করে। কারণ তারা জানে—আল্লাহ সবাইকে ডাকেন, শুধু আমরাই একে অপরকে তাড়াই। গল্পটি নিয়ে কেউ ভুল কিছু মন্তব্য করবেন না, এই গল্পটি শিক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে।

সাপ ও করাত  অনেক দিন আগের কথা। এক গ্রামে ছিল এক দরিদ্র কাঠুরে, নাম তার রহিম। বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেত। প্র...
25/12/2025

সাপ ও করাত

অনেক দিন আগের কথা। এক গ্রামে ছিল এক দরিদ্র কাঠুরে, নাম তার রহিম। বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেত। প্রতিদিন ভোরবেলা একটা পুরনো করাত কাঁধে নিয়ে সে জঙ্গলে চলে যেত গাছ কাটতে। যা কাঠ পেত, তাই বেচে দু’মুঠো ভাতের ব্যবস্থা করত।

একদিন সকাল থেকে বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল, কিন্তু করাতটা যেন আর কাটছেই না। দাঁতগুলো এত ভোঁতা হয়ে গেছে যে, গাছের গায়ে ঘষলেও শুধু চিঁ চিঁ শব্দ আর ধোঁয়া বেরোচ্ছে, কিন্তু গাছের খানিকটা চামড়াও ওঠে না। রহিমের ঘামে শরীর ভিজে চুপচুপ। সে বসে পড়ল একটা শিমুল গাছের তলায়।

হঠাৎ চোখ পড়ল, গাছের গোড়ায় একটা বিরাট কালো গোখরো সাপ এঁকেবেঁকে শুয়ে আছে। সূর্যের আলো পড়ে তার শরীর চকচক করছে। ফণা তুলে সাপটা জিভ বের করে চারদিক দেখছে। সাধারণত রহিম সাপ দেখলেই লাঠি তুলে নিত, কিন্তু আজ তার মাথায় অন্য বুদ্ধি এল।

সে হাত জোড় করে নরম গলায় বলল,
“ওগো সাপ ভাই, আমি তোমার কোনো অনিষ্ট করব না। তুমি তো এত ধারালো, তোমার দাঁত-জিভ যা ইচ্ছে তাই কাটে। আমার এই করাতটা একদম ভোঁতা হয়ে গেছে। একটু শান দিয়ে দাও না! তোমার এক জিভের ছোঁয়ায় নিশ্চয়ই আবার নতুনের মতো হয়ে যাবে। আমি গরিব মানুষ, আমার আর তো কোনো উপায় নেই।”

সাপটা প্রথমে চুপ করে রইল। তারপর ফোঁস ফোঁস শব্দ করে হাসল। লালচে চোখ দিয়ে রহিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
“মানুষের জাতটা বড্ড বোকা। তুই জানিস না, আমার জিভে শুধু বিষ আর বিষ? তবু বলছিস শান দিতে? আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি শান দেব। কিন্তু যা হবে তার দায় আমার নয়।”

রহিম ভাবল, সাপ বুঝি মজা করছে। সে খুশিতে করাতটা সাপের সামনে মেলে ধরল। সাপটা ফণা নামিয়ে, লম্বা চেরা জিভ বের করে করাতের দাঁতগুলোয় বারবার বুলিয়ে দিতে লাগল। প্রতিবার জিভের ছোঁয়ায় করাতের লোহায় একটা অদ্ভুত শব্দ হচ্ছিল—ঝিরঝির ঝিরঝির।

কিছুক্ষণ পর সাপ থামল। বলল, “হয়ে গেছে। এবার কাট।”

রহিম করাতটা তুলে আবার গাছে ঠেসে ধরল। কিন্তু অবাক কাণ্ড! যত জোরে টানছে, ততই করাত পিছলে যাচ্ছে। দাঁতগুলো যেন গলে আরও মসৃণ, আরও ভোঁতা হয়ে গেছে। একটু আগে যেখানে খানিকটা দাগও পড়ছিল, এখন তো গাছের গায়ে আঁচড়ের চিহ্নও পড়ছে না। করাতটা যেন মোমের তৈরি!

রহিমের মাথায় রাগ চড়ে গেল। সে চিৎকার করে উঠল,
“এটা কী করলি রে দুষ্ট সাপ! আমার করাতটা পুরোপুরি নষ্ট করে দিলি! এখন আমি কী করে খাব? আমার ছেলেমেয়েরা না খেয়ে মরবে!”

সাপটা তখন আস্তে আস্তে ফণা তুলে, ঠান্ডা গলায় বলল,
“আমি তো আগেই বলেছিলাম, ভাই। আমার স্বভাবই হল বিষ ছড়ানো। আমার জিভে যা আছে তাই দিয়েছি। তুই যদি মধু চাস, তবে ভ্রমরের কাছে যাস। বিষাক্ত সাপের কাছে মধু আশা করিস কেন? যার যেমন স্বভাব, সে তেমনই কাজ করে। আমি অন্যায় করিনি, তুই নিজের বোকামি করেছিস।”

এই বলে সাপটা গড়ন গড়ন করে গাছের গুঁড়ির ফাঁকে অদৃশ্য হয়ে গেল।

রহিম সেদিন খালি হাতে বাড়ি ফিরল। বউয়ের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। বউ হেসে বলল, “তুমি কি ভেবেছিলে সাপ সাধু হয়ে যাবে? বিষধরের কাছে কখনো ভালো আশা করতে নেই।”

সেই থেকে গ্রামে একটা কথা প্রচলিত হয়ে গেল—
যার স্বভাবই বিষাক্ত, তার কাছ থেকে মধু আশা করা বোকামি।
যে যেমন, তাকে তেমনি ভাবে গ্রহণ করতে হয়। তার থেকে বেশি আশা করলে নিজেরই ক্ষতি।

“সাপ ও করাত” গল্পের শিক্ষা বিস্তারিত ব্যাখ্যা

মূল শিক্ষা এক লাইনে:
**“যার স্বভাবই বিষাক্ত, তার কাছ থেকে মধু আশা করা বোকামি।”**

এই একটা বাক্যের মধ্যে জীবনের একটা খুব গভীর ও বাস্তব সত্য লুকিয়ে আছে। এর বিভিন্ন স্তরে ব্যাখ্যা করা যায়:

১. স্বভাব পরিবর্তন করা যায় না সহজে
- সাপের জিভে বিষ থাকাটা তার প্রকৃতি, তার জন্মগত ধর্ম। সে ইচ্ছে করলেও মধু দিতে পারবে না।
- ঠিক তেমনি মানুষের মধ্যেও কিছু স্বভাব-চরিত্র এমন থাকে যা খুব কমনেই বদলায়—লোভ, হিংসা, বিশ্বাসঘাতকতা, পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যা, বিষোদ্গার ইত্যাদি।
- এমন মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা, সততা, সাহায্য বা উপকার আশা করলে শেষে নিজেরই ক্ষতি হয়।

২. ভুল মানুষের ওপর ভরসা করার পরিণতি
- কাঠুরে জানত সাপ বিষধর, তবু তার কাছে “শান দেওয়া” চাইল। এটা ছিল তার নিজের বোকামি ও অবাস্তব আশা।
- জীবনে আমরা প্রায়ই এমন করি—যে বারবার ঠকিয়েছে, মিথ্যে বলেছে, কষ্ট দিয়েছে, তার কাছ থেকে আবার “এবার বদলে যাবে” ভেবে সুযোগ দিই। ফলাফল? আবার বিষ খেয়ে মরি।

৩. “যে যেমন, তাকে তেমনি গ্রহণ করো—বেশি আশা কোরো না”
- সাপকে দোষ দেওয়া যায় না। সে তার স্বভাবমতো কাজ করেছে। দোষ কাঠুরের, যে সাপের কাছে মধু খুঁজছিল।
- কোনো মানুষকে জোর করে “ভালো” বানানোর চেষ্টা না করে তার আসল রূপটাই মেনে নিতে হয়। যদি তার স্বভাব বিপজ্জনক হয়, তবে দূরে সরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. বাস্তব জীবনে এই শিক্ষার প্রয়োগ
- বিষাক্ত বন্ধু/আত্মীয়: যে সবসময় গীবত করে, ঈর্ষা করে, পিঠে ছুরি মারে—তার কাছে আন্তরিকতা আশা করা বৃথা।
- কর্মক্ষেত্রে: যে সহকর্মী বা বস সবসময় ক্রেডিট কেড়ে নেয়, অন্যায় করে—তার কাছে ন্যায়বিচার আশা করলে নিজের ক্ষতি।
- সম্পর্কে: যে সঙ্গী বারবার প্রতারণা করেছে, তার কাছে বিশ্বস্ততা আশা করা সাপের কাছে মধু চাওয়ার মতোই।
- রাজনীতি/সমাজে: যে নেতা বা দল শুধু বিষ ছড়ায়, বিভাজন করে—তার কাছে ঐক্য বা কল্যাণ আশা করা নিছক মূর্খতা।

সার কথা
এই গল্প আমাদের শেখায় বাস্তববাদী হতে।
মানুষকে বদলানোর স্বপ্ন দেখার আগে তার আসল স্বভাব চিনে নাও।
যদি দেখো তার স্বভাবই বিষাক্ত—তবে দূর থেকে সম্মান করো, কাছে এসে ভালোবাসা বা উপকার আশা কোরো না।
নইলে শেষে করাতের মতো তোমার জীবনের সব ধারই নষ্ট হয়ে যাবে।

তাই বাংলার প্রবাদটাই সবচেয়ে সঠিক—
“সাপের জাত যেমন, তার বিষ ছাড়ে কখনো কম নয়।"

একদা এক বুদ্ধিমান শেয়াল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে চারদিকে সতর্ক চোখে তাকাচ্ছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল দূরে—দুটি প্রাণী পাশাপাশি হে...
24/12/2025

একদা এক বুদ্ধিমান শেয়াল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে চারদিকে সতর্ক চোখে তাকাচ্ছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল দূরে—দুটি প্রাণী পাশাপাশি হেঁটে আসছে। কাছে আসতেই শেয়ালের চক্ষু চড়কগাছ! একটি হিংস্র নেকড়ে আর একটি বলিষ্ঠ কুকুর—যারা জন্ম-জন্মান্তরের শত্রু—তারা যেন বহুদিনের অন্তরঙ্গ বন্ধু, কাঁটছে হাসি-খুশি, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

শেয়ালের কৌতূহল চরমে পৌঁছাল। সে ছুটে গিয়ে তাদের সামনে দাঁড়াল আর বলল,
“হে দুই বীর! তোমাদের মধ্যে যে শত্রুতা ছিল পাহাড়সম, আজ তা কী করে মধুর বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হল? কে এই অসম্ভব মিলনের সেতুবন্ধন করল?”

কুকুরটা একটু হেসে, লেজ নেড়ে উত্তর দিল,
“ভাই শেয়াল, আমাদের এই বন্ধুত্বের একটিই কারণ—রাখালের সাথে শত্রুতা। নেকড়ে আর রাখালের দুশমনি তো সেকাল-একালের কথা, নতুন করে বলার নয়। কিন্তু আমার সাথে রাখালের শত্রুতা বেঁধেছে মাত্র গতকাল।”

“কাল রাতে এই আমার আজকের বন্ধু নেকড়ে ভেড়ার পালে হানা দিয়ে একটা মিষ্টি ভেড়ার বাচ্চা ধরে পালাচ্ছিল। আমি আমার কর্তব্যবোধে তার পিছু ধাওয়া করলাম। কিন্তু ধরতে পারলাম না। খালি হাতে ফিরে এসে দেখি, রাখাল কোনো কৈফিয়ত শোনার ধৈর্য না করে আমাকে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করতে লাগল! যে আমি তার সম্পদ রক্ষা করি বলে রাত জেগে পাহারা দিই, সেই আমাকেই সে এমন নির্মম শাস্তি দিল।

তখন আমার মনে হল—যে মালিক আমার আনুগত্যের এই দাম দেয়, তার সেবা আমি আর করব না। আমি তার সাথে সমস্ত বন্ধুত্ব ছিন্ন করলাম আর তার চিরশত্রু নেকড়ের সাথে হাত মিলালাম। এখন আমরা দুজনে এক। রাখাল যদি আবার ভেড়া হারায়, তাতে আমার আর মাথাব্যথা নেই।”

নেকড়েটা মুচকি হেসে বলল, “আমিও আর একা নই। এখন আমার সঙ্গে আছে রাখালেরই প্রাক্তন রক্ষক।”

শেয়াল মাথা নেড়ে বিদায় নিল। মনে মনে ভাবল,
“এই তো জগতের নিয়ম!”

রূপকথার শিক্ষা (যা জামী রহ. স্পষ্টভাবে লিখেছেন):

যারা শত্রু, তার সাথে এমন বন্ধুত্ব করো যাতে সে কখনো তোমাকে আঘাত করার সুযোগ না পায়।
আর যে তোমার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী, তার সাথে কখনো এমন অবিচার বা খারাপ ব্যবহার করো না, যার ফলে সে জেদ করে তোমারই শত্রুর সাথে গিয়ে মিলিত হয় এবং তোমারই ক্ষতি করে।

হাতী ও অন্ধদের গল্প (বোস্তান)এক দেশে একটা বিরাট হাতী এল। লোকে কখনো হাতী দেখেনি। গ্রামের কয়েকজন অন্ধ মানুষের মনে বড় কৌতূহ...
23/12/2025

হাতী ও অন্ধদের গল্প (বোস্তান)

এক দেশে একটা বিরাট হাতী এল। লোকে কখনো হাতী দেখেনি। গ্রামের কয়েকজন অন্ধ মানুষের মনে বড় কৌতূহল জাগল, “হাতীটা দেখি কেমন জিনিস!”

তারা হাতীশালার কাছে গেল। হাতীটা অন্ধকার ঘরে বাঁধা। একেকজন একেক অংশ ধরে “দেখতে” লাগল।

- প্রথম জন হাতীর পা ধরে বলল, “হাতী তো ঢোলের মতো! মস্ত বড় স্তম্ভ!”
- দ্বিতীয় জন কান ধরে বলল, “আরে না! হাতী তো বিশাল চাঁইয়ের মতো! চ্যাপটা আর নরম।”
- তৃতীয় জন শুড় ধরে বলল, “তোমরা ভুল বলছ! হাতী তো লম্বা নলের মতো, যে নল দিয়ে পানি টানে আর ছিটায়।”
- চতুর্থ জন পিঠ ধরে বলল, “হাতী তো মস্ত বড় তক্তার মতো, একদম সমতল।”
- পঞ্চম জন লেজ ধরে বলল, “তোমরা সবাই ভুল! হাতী তো রশির মতো, পাতলা আর লম্বা।”

এইভাবে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধরা অংশকে পুরো হাতী মনে করে ঝগড়া শুরু করল। কেউ কাউকে মানতে চায় না। শেষে মারামারিও লেগে গেল।

শেখ সা'দী (রহ.) বললেন:

যারা চোখে দেখে না, তারা একটা জিনিসের একটা অংশ ধরে
পুরো জিনিসটাকেই সেই অংশ মনে করে।
আংশিক জ্ঞান নিয়ে যারা বড়াই করে, তাদের অবস্থাও এই অন্ধদের মতোই।
যদি তাদের হাতে একটা মোমবাতি থাকত (অর্থাৎ নূরে ইলম ও বাসীরাত),
তবে এত ঝগড়া-বিবাদ হতো না।

শিক্ষা:
- আংশিক জ্ঞান অতি বিপজ্জনক। একটা বিষয়ের একটা দিক দেখেই পুরোটা বুঝে ফেলার চেষ্টা করলে মারাত্মক ভুল হয়।
- সত্য জানতে গেলে পূর্ণ দৃষ্টি লাগে, অহংকার নয়।
- যারা আলেম নন, কিন্তু আলেমের মতো ফতোয়া দেন, তাদের অবস্থা এই অন্ধদের মতো।

এক গাঁয়ে ছিল এক সরলমনা লোক, নাম তার আব্দুর রহমান। সে বাজারে একটা মোটা-তাজা ভেড়া বেচতে নিয়ে যাচ্ছিল। ভেড়ার গলায় মজবুত দড়ি...
22/12/2025

এক গাঁয়ে ছিল এক সরলমনা লোক, নাম তার আব্দুর রহমান। সে বাজারে একটা মোটা-তাজা ভেড়া বেচতে নিয়ে যাচ্ছিল। ভেড়ার গলায় মজবুত দড়ি বাঁধা, আব্দুর রহমান সামনে হাঁটছে আর দড়ি টেনে টেনে ভেড়াকে নিয়ে চলছে। ভেড়াটা মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়াচ্ছিল, ঘাসের গন্ধ পেয়ে মুখ ঘুরাচ্ছিল, কিন্তু দড়ির টানে আবার পেছনে পেছনে আসছিল। পথটা নির্জন, দু’পাশে ধু ধু মাঠ আর দূরে কয়েকটা বক গাছের ছায়া।

হঠাৎ পেছন থেকে একটা ছায়া এসে দাঁড়াল। এক ধূর্ত চোর, যার নাম লোকে রাখত ‘কালা শয়তান’। চোরের হাতে ধারালো ছোরা। সে চুপিচুপি এগিয়ে এল, এক টানে দড়ি কেটে দিল আর ভেড়াটাকে কোলে তুলে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল ঝোপের আড়ালে। আব্দুর রহমান কিছুই টের পেল না। তার হাতে শুধু দড়ির টুকরো ঝুলছে, হালকা-হালকা লাগছে।

কিছুদূর যেতে না যেতেই সে পেছন ফিরে তাকাল। ভেড়া নেই! দড়ির মুখ খালি! সে চিৎকার করে উঠল, “হায় আল্লাহ! আমার ভেড়া কোথায় গেল?” এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করল। মাঠে, ঝোপে, গাছের তলায়—কোথাও কিছু নেই। তার মন ভেঙে গেল। একটা ভেড়াই ছিল তার সারা দিনের উপার্জন।

দৌড়াতে দৌড়াতে সে এসে পড়ল একটা পুরনো কুয়োর পাশে। কুয়োটা গভীর, চারপাশে শ্যাওলা পড়ে সবুজ হয়ে আছে। সেখানে এক লোক বসে আছে, মাথায় হাত দিয়ে হায়-হুতাশ করছে। তার পরনে দামি জোব্বা, কোমরে রেশমি কাঁথা বাঁধা—দেখে মনে হয় বড়োলোকের ছেলে। লোকটা কাঁদছে আর বলছে, “হায় হায়! আমার সর্বনাশ হয়ে গেল! আমার সব শেষ!”

আব্দুর রহমান দয়ার্দ্র হয়ে এগিয়ে গেল। “ভাইজান, কী হয়েছে? এভাবে কাঁদছ কেন?”

লোকটা (যে আসলে সেই চোর) চোখ মুছে, করুণ স্বরে বলল, “ভাই, আমি একটা ভারী বিপদে পড়েছি। আমার কোমরে বাঁধা টাকার থলিটা হঠাৎ ছিঁড়ে এই কুয়োর মধ্যে পড়ে গেছে। থলির ভেতর একশো স্বর্ণমুদ্রা! আমার সারা জীবনের সঞ্চয়। আমি সাঁতার জানি না। এখন কী করি? যদি তুমি নেমে আমার থলিটা তুলে দাও, আমি তোমাকে খুশি হয়ে পাঁচ ভাগের এক ভাগ—মানে পুরো বিশটা স্বর্ণমুদ্রা—বখশিশ দেব!”

আব্দুর রহমানের চোখ চকচক করে উঠল। বিশটা স্বর্ণমুদ্রা! একটা ভেড়ার দাম দু’তিন দিনারের বেশি না। অর্থাৎ বিশটা মানে প্রায় দশটা ভেড়া! সে মনে মনে হিসেব করতে লাগল, “আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ একটা দরজা বন্ধ করেছেন, কিন্তু দশটা দরজা খুলে দিয়েছেন। একটা ভেড়া গেছে, বদলে দশটা ভেড়ার দাম পাব! এ যে আল্লাহর বিশেষ রহমত!”

লোভে তার বুক দুরদুর করতে লাগল। সে আর দেরি করল না। তাড়াহুড়ো করে জোব্বা, লুঙ্গি, জুতো সব খুলে কুয়োর পাড়ে রাখল। তারপর দড়ি ধরে আস্তে আস্তে কুয়োর ভেতর নামতে লাগল। পানি ঠান্ডা, অন্ধকার। সে হাতড়ে হাতড়ে থলি খুঁজতে লাগল। কিন্তু কিছুই পেল না। শুধু শ্যাওলা আর পাথর।

এদিকে উপরে চোরটা হো-হো করে হেসে উঠল। সে আব্দুর রহমানের খুলে রাখা সমস্ত কাপড়-চোপড়, জুতো, এমনকি তার কোমরের ছোট্ট পয়সার থলিটাও তুলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেল।

অনেকক্ষণ পর আব্দুর রহমান বুঝতে পারল, কিছুই নেই। সে চিৎকার করে উঠল, “ভাই! থলি কোথায়?” কোনো সাড়া নেই। সে কোনোমতে দড়ি ধরে উপরে উঠে এল। উঠে দেখে—কুয়োর পাড়ে একটা কাপড়ের টুকরোও নেই। তার শরীরে শুধু ভিজে কোঁচা। ভেড়া গেছে, কাপড় গেছে, এখন সে সম্পূর্ণ ন্যাড়া!

সে বসে পড়ল কুয়োর পাড়ে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, কিন্তু এবার আর লোভের নয়—লজ্জা আর অনুতাপের। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “ইয়া আল্লাহ! আমি লোভে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তুমি আমাকে শিক্ষা দিয়েছ।”

গল্পের শিক্ষা

১. লোভ মানুষের সাধারণ বুদ্ধিকে ঢেকে দেয়। যে লোক ভেড়া হারিয়ে দুঃখ করছিল, সেই লোভে পড়ে নিজের শেষ সম্বলটুকুও হারাল।
২. শয়তান কখনো চোরের রূপে আসে, কখনো দুঃখী-কাতর সাহায্যপ্রার্থীর রূপে। তার ছলনা ধরা খুব কঠিন।
৩. এই ধোঁকা থেকে বাঁচার একমাত্র পথ—প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর কাছে পানাহ মাঙ্গা। কারণ শয়তানের আসল রূপ একমাত্র আল্লাহই জানেন।

আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে লোভের ধোঁকা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

ফরাসী লেখক Turtuffe একটা কথা বলেছিলেন—"তোমার আয়না তোমার চেহারার ক্ষুদ্র ক্ষত দেখতে সাহায্য করে, কিন্তু তোমার চশমা তা কর...
21/12/2025

ফরাসী লেখক Turtuffe একটা কথা বলেছিলেন—
"তোমার আয়না তোমার চেহারার ক্ষুদ্র ক্ষত দেখতে সাহায্য করে, কিন্তু তোমার চশমা তা করে না।"

চশমা বলেন বা আয়না বলেন, যেখানে আপনি নিজেকে সঁপে দিবেন, ওখানেই আপনার দূর্বলতা সনাক্ত হবে।

যার কাছে বা যাদের সামনে আপনি নিজের হতাশা/ কষ্টের জায়গা/ দূর্বলতার জায়গা/আনন্দের খাত কিংবা দৈনন্দিন অভ্যাস ব্যক্ত করছেন মূলত সে ই আপনার ক্ষ'তি'টা করতে পারবে।

আর,
যাকে বা যাদেরকে দূরত্বে রেখেছেন, নিজের সম্পর্কে ধোঁয়াশায় রেখেছেন, তারা আপনাকে নিয়ে শত শত ছক আঁকলেও , পিছে আ'ঘা'ত করতে শতবার ভাববে!

"সুতোয় যখন কাপড় বুনবেন, সুঁচ-ই জানবে কাপড়ে কত ফোঁড়। সুতোর বান্ডিল সেলাইয়ের নিখুঁত কাজ দূর থেকে দেখলেও ফোঁড়ের হিসাব জানবে না।"

অতএব,
রাজনীতি বলুন বা পেশাগত জীবন বলুন, সব জায়গায় আপনার কাছে ভিড়তে পেরেছে ওরকম লোকই আপনার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, আপনার hidden enemy, dormant competitor.

তাই, কাদেরকে নিয়ে চলবেন/ বলবেন/বসবেন, তা যদি নিজের Sense of humor দিয়ে সময়মত count করতে না পারেন, তাহলে হয়ত সাক্ষী হবেন চরম ক্ষ'তি'র। যে ক্ষ'তি'র ক্ষ'তি'পূরণ করার মত কোনো দৌলত এ জাহানে নেই !!!!

যেকোনো মানুষকে কাছে ভিড়তে দেয়ার আগে অবশ্যই তাকে প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখুন, প্রয়োজনে তার অতীত অবস্থান সম্পর্কে জানুন। নিজে বাঁচুন, সাথে নিজ পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

"আপন মানুষ কম থাকুক,
তবে বিশ্বাসঘাতক জীবনে না থাকুক।"

-সংগৃহীত।

টাইটানিক ডুবছিল সেই রাতে, চারদিকে ছিল শুধু অন্ধকার আর হিমশীতল সমুদ্র। কিন্তু তার কাছাকাছি আরও তিনটি জাহাজ ছিল। তিন রকম ম...
21/12/2025

টাইটানিক ডুবছিল সেই রাতে, চারদিকে ছিল শুধু অন্ধকার আর হিমশীতল সমুদ্র। কিন্তু তার কাছাকাছি আরও তিনটি জাহাজ ছিল। তিন রকম মানুষের প্রতিচ্ছবি। তিন রকম জীবনদর্শন।

প্রথম জাহাজের নাম ছিল **স্যাম্পসন**। মাত্র সাত মাইল দূরে। তারা বেআইনিভাবে সিল শিকার করছিল। টাইটানিকের আটটা রকেট আলোর ঝলকানি তারা স্পষ্ট দেখেছিল। কিন্তু ভয় পেল—যদি ধরা পড়ে যায়? যদি লাইসেন্সহীন শিকারের কথা প্রকাশ হয়ে যায়? তাই চুপিচুপি জাহাজের মুখ ঘুরিয়ে নিল উল্টো দিকে। দূরে সরে গেল।
আজও এমন অনেক স্যাম্পসন আমাদের চারপাশে আছে। নিজের স্বার্থ, নিজের নিরাপত্তা, নিজের লাভ—এর বাইরে কিছু দেখে না। অন্যের মৃত্যু যেন তাদের কাছে শুধুই একটা দূরের আলোর ঝলক।

দ্বিতীয় জাহাজটি ছিল **ক্যালিফোর্নিয়ান**। মাত্র চোদ্দ মাইল দূরে। চারদিকে জমাট বরফ। টাইটানিকের রকেট দেখে রেডিও অপারেটর বারবার খবর দিয়েছিল ক্যাপ্টেন স্ট্যানলি লর্ডকে। কিন্তু ক্যাপ্টেন বললেন, “এত রাতে বরফের মধ্যে ঝুঁকি নেব না। সকালে দেখা যাবে।” তারপর শুয়ে পড়লেন। নাবিকরাও মনে মনে সায় দিল—বোধহয় এতটা গুরুতর কিছু নয়।
এই ক্যালিফোর্নিয়ানও আজ বেঁচে আছে আমাদের মধ্যে। “এখন সময় নয়”, “পরে দেখা যাবে”, “আমার একার চেষ্টায় কী হবে”, “ঝুঁকি অনেক”—এইসব অজুহাতে আমরা দায়িত্ব এড়াই। বিবেককে ঘুম পাড়িয়ে দিই।

আর তৃতীয় জাহাজটি ছিল **কার্পাথিয়া**। সে যাচ্ছিল উল্টো দিকে। দূরত্ব ছিল প্রায় আটান্ন মাইল। রেডিওতে টাইটানিকের সিওডি (CQD) আর পরে এসওএস (SOS) শুনে ক্যাপ্টেন আর্থার রোস্ট্রন হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন ডেকে। প্রার্থনা করলেন। তারপর নির্দেশ দিলেন—সবচেয়ে জোরে গতিতে এগিয়ে চলো। বয়লারে অতিরিক্ত কয়লা ঢোকাও। লাইফবোট তৈরি করো। ডাক্তার-নার্স প্রস্তুত।
তারা বরফের মধ্যে দিয়ে ছুটল। যেখানে অন্যরা ভয় পেয়েছে, সেখানে তারা ঝুঁকি নিল। চার ঘণ্টার একটু বেশি সময়ে আটান্ন মাইল পেরিয়ে পৌঁছল। আর ঠিক সময়ে পৌঁছে ৭০৫ জন মানুষের প্রাণ বাঁচাল।

তিনটি জাহাজ। তিন রকম মানুষ।
একদল নিজের স্বার্থ বাঁচাতে পালাল।
একদল অজুহাত দেখে ঘুমিয়ে রইল।
আর একদল কিছু না ভেবে ছুটে গেল।

আজও জীবন একটা টাইটানিকের মতোই ডুবছে কোথাও না কোথাও। কারো স্বপ্ন, কারো আশা, কারো জীবন।
তুমি কোন জাহাজ হবে?

স্যাম্পসন?
ক্যালিফোর্নিয়ান?
নাকি কার্পাথিয়া?

ইতিহাস হয়তো সবার নাম মনে রাখে না। কিন্তু যারা ছুটে যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যকে বাঁচাতে, তাদের নাম মুখে মুখে ফেরে সাধারণ মানুষের। চিরকাল।

তুমি যখন পরের বার কারও বিপদ দেখবে, মনে রেখো—
দূরত্ব কখনো বাধা নয়,
অজুহাত কখনো শেষ হয় না,
কিন্তু সাহস আর মানবিকতার একটা ছোট্ট পদক্ষেপই পারে হাজারো জীবন বদলে দিতে।

তুমি কার্পাথিয়া হও।
বিশ্বের এখনও খুব দরকার তোমার মতো কিছু জাহাজ।

পিঁপড়ারা সর্বদা তাদের দলের লিডারকে অনুসরণ করে। সেই দলনেতা তার শরীর থেকে নিঃসৃত ফেরোমন নামক একপ্রকার হরমোনের ঘ্রাণ আদান প...
19/12/2025

পিঁপড়ারা সর্বদা তাদের দলের লিডারকে অনুসরণ করে। সেই দলনেতা তার শরীর থেকে নিঃসৃত ফেরোমন নামক একপ্রকার হরমোনের ঘ্রাণ আদান প্রদানের মাধ্যমে তার পুরো দলকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পথ প্রদর্শন করে নিয়ে যায়।

তবে কোনো কারণে যদি দলের নেতা হারিয়ে যায়, তাহলে পিঁপড়ার দল অনুসরণ করার জন্য কাউকে খুঁজে পায় না। তখন তারা কিছুটা অন্ধের মতো তাদের সামনের সঙ্গীর পিছু পিছু ছুটে চলে। এভাবে প্রত্যেক পিঁপড়া যখন সামনের পিঁপড়াকে অনুসরণ করা শুরু করে তখন শেষ পর্যন্ত তারা আর সামনে এগোতে পারে না — ছোট্ট একটা গন্ডির মধ্যে সর্পিলাকারে ঘুরতে থাকে।

এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একসময় পিঁপড়াদের সমস্ত শক্তি ক্ষয় হয়ে যায় এবং তারা একে একে বেঘোরে প্রাণ হারায়। একে Ant Mill নামে অভিহিত করা হয়।

মূলত পিঁপড়ারা একজন উপযুক্ত দলনেতা ছাড়া সম্পূর্ণরূপে অসহায়। তেমনি বাস্তব জীবনেও একজন ভালো লিডারের ভূমিকা অপরিসীম, হোক সেটা খেলার মাঠ বা অন্য কোনো জায়গা।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ ওসমান হাদির আত্মত্যাগকে কবুল করুন, শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এব...
18/12/2025

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ ওসমান হাদির আত্মত্যাগকে কবুল করুন, শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নিন। আমিন।

Address

Uttara Division, Bangladesh
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shahabuddin Hridoy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Shahabuddin Hridoy:

Share