23/09/2026
সরকারি বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ, অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের নির্দেশ
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির অধিকাংশ কয়েক বছর আগে গঠিত। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
চিঠিতে পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক ওই তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে তাদের সমর্থক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর অনেকে আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় কমিটির সভায় তাদের অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও তাদের সভায় ডাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে বলে তারা জানান।
সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব কারণে পুরোনো কমিটি বহাল রেখে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন বাস্তবতায় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, সাধারণত এসব কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় বিভিন্ন কমিটি দীর্ঘ সময় পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে আগের সরকারের সময়ের প্রতিনিধিরাও অনেক কমিটিতে রয়ে গেছেন। এখন এসব কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় জেলা প্রশাসকদের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি এবং আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কমিটি।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসকেরা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি এবং ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও ডিসিরা।
সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে কমিটি পুনর্গঠনে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—অনেক কমিটির দীর্ঘদিন সভা না হওয়া এবং কিছু কমিটিতে আগের সরকারের সময়ের প্রতিনিধিদের থেকে যাওয়া। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।