19/10/2025
বিল্ডিং এর এক আন্টি বাসায় এসেছেন মরিচ নিতে।
আমি তখন মাত্র প্রতি ঘরের ফ্যান মুছে ফ্যানের নিচে বসেছি।
কাঁচা মরিচ উনাকে একটা বাটিতে দেয়ার পর উনি চলে যাওয়ার সময় বললেন - সকাল থেকে ঘর ই গুছাইছো? রান্না করো নাই?
আমি বললাম করছি আন্টি। এখন জুবিনকে গোসল করিয়ে খাওয়াবো। তারপর আমি গোসল করে খাবো।
আন্টি থেমে গেলো।
দরজার হাতল ধরে বলল - এইটা ভুল মা।
আমি একটু থতমত খেয়ে গেলাম।
আর জিজ্ঞেস করলাম - কেন আন্টি?
তিনি বলল - তোমার খিদা লাগে নাই?
আমি বললাম - লেগেছে। কিন্তু ওকে না খাওয়ায় তো আমি খাই না।
তিনি বলল - এটাই ভুল। আমরা সব মায়েরা এই ভুল করি। বাচ্চাকে এই অভ্যাসে অভ্যস্ত করি যে তুমি আমার প্রথম প্রায়োরিটি। এই অভ্যাস টা থেকেই যায়। বড় হলে ছেলে যখন তোমাকে একটুও ছিটাফোঁটা কোন অবহেলা আঘাত করবে তখন তুমি এই দিনের কথা মনে করে কষ্ট পাবে। ভাববে ওকে না খাইয়ে আমি খাই নাই। কত কষ্ট করছি। কিন্তু উচিৎ হচ্ছে ছোট থেকেই বুঝানো ক্ষুধা তোমারও লাগে। আর একসাথে খেতে হয়। বাড়ির একজন কাজ করলে আরেকজনের অপেক্ষা করতে হয়। কারণ এটা ফ্যামিলি। সবাই একসাথে খাওয়ার অভ্যাস না করলে ও যখন বড় হবে তখন নিজের পরিবারের সাথেও একই কাজ করবে। ভাববে আমাকে আমার বৌ আগে খেতে দিবে। যেভাবে আমার আম্মু করতো। এরপর সে খাবে। ক্ষুধা শুধু তার একা লাগে না। সবার লাগে। এটা তোমাকে আস্তে আস্তে ওকে বুঝাতে হবে। দুইজন গোসল করে একসাথে খেতে বসো। এক নলা ওকে দিবা এক নলা নিজে খাবা। আর খাওয়ার সময় বলবা - আম্মু আজকে অনেক কাজ করেছি। তুমি যে আম্মুর কাজ শেষ হওয়ার জন্য ওয়েট করেছো এইজন্য থ্যাংকিউ। দেখবা ও উৎসাহ পাবে। সবসময় একসাথে খাবা। খাওয়ার সময় গল্প করবা। এতে বন্ডিং বাড়বে। আগেও খেতে বসবা না আবার পরেও না।আর এটাতেই ও অভ্যস্ত হবে।
আমি শুধু শুনলাম। কিছু বললাম না।
নরমালি আমার আলগা উপদেশ খুব বেশি পছন্দ না। কিন্তু আজকে উনি এতো সুন্দর করে বুঝিয়ে গেলেন যা সত্যিই আমাকে ভাবাচ্ছে। এভাবে তো কোনদিন ভেবে দেখি নাই।
আমি উনাকে শুধু থ্যাংকিউ বললাম।
সত্যিই কত কিছু শেখার বাকি জীবনে।