11/05/2023
বাংলাদেশের বিবেচনায় মেয়র কোনো আইনপ্রণেতা নন; বরং তিনি পার্লামেন্টে প্রণীত ইসলামি ও অনৈসলামি আইনসমূহের সেবকমাত্র। এ মর্মে তাকে শপথ নিতে হয় এবং এর ওপরই তাকে রুটিরুজি দেওয়া হয়। তিনি শুধু জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিই নন; বরং কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন, ভাতা ও সুবিধাভোগী সহযোগীও বটে। এ কারণে অফিসে মাথার ওপর প্রধানমন্ত্রীর ছবিও টানিয়ে রাখতে হয়। (হুজুরের মাথার ওপর নারীর ছবি নিয়ে যখন ফাতওয়া দেবেন নারী নেতৃত্ব হারাম, তখন দৃশ্যটা কেমন হবে?)
দ্বীন প্রতিষ্ঠা বলতে যা বোঝায়, প্রচলিত কাঠামোর ভেতরে থেকে একজন মেয়র তা পারে না। তবে কেউ মেয়র হলে তার শক্তি ও ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জনমত গঠন করতে পারে, নিজ দলের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে পারে। তবে ইসলামের পক্ষে এমন কোনো কাজ করতে পারে না, যা প্রচলিত আইন সমর্থন করে না। সুতরাং মেয়রের বিজয় মানে ইসলামের বিজয়, মেয়রকে ভোট দেওয়া মানে দীন প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোট দেওয়া, বিষয়টা এমন নয়। উপরন্তু যারা নারী নেতৃত্ব হারাম মনে করে এবং নারীদের সঙ্গে জোট করার কারণে ইতিপূর্বে শাইখুল হাদিস রাহ., মুফতি আমিনি রাহ. ও আল্লামা কাসেমি রাহ.-সহ সকলের উলঙ্গ নিন্দা করেছে; এবার তারাই নারীর অধীন মেয়র হতে যাচ্ছে, বিষয়টা চমৎকার।
হ্যাঁ, এটা ঠিক, ফাসেক সেক্যুলারদের চাইতে সুন্নতি লেবাসের সেক্যুলাররা এক বিবেচনায় ভালো। তারা হয়তো দুর্নীতি করবে না, মাদক নির্মূল করবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বতোভাবে কাজ করবে। অবশ্য এই মেয়র তো আইনই জানে না। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নিজেই যা মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছে। যে যা জানে না, সে তা প্রতিষ্ঠা করবে কীভাবে? অবশ্য হতে পারে, আরবি পড়তে না জেনেও যেমন শাইখুল হাদিস হয়ে গেছে; তাহকিকের ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মুফতি দাবি করে বসে আছে; মেয়রের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটলে অস্বাভাবিক না।
আগামীতে আমরা সুন্নতি লেবাসের অনেক চমক হয়তো দেখতে পাব। সুন্নতি পহেলা বৈশাখ, সহিহ দেশীয় দিবস, ভিন্নমত দমনের জুব্বা-পাগড়ি পরা পদ্ধতি (যেমনটা রাশেদ খানের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে), নিজ দলের বাইরের সাহসী আলিমদের সাইজ করার নিত্যনতুন ফাতওয়াভিত্তিক কর্মসূচি। আগে লোকে যা করত হারাম ভেবে, এমন অনেক কিছুই হয়তো আগামীতে করবে হালাল ভেবে। অবশ্য রাষ্ট্রপতি হতে চাওয়া ব্যক্তিকে মেয়র পদ দিয়ে সন্তুষ্ট করে দেওয়া কম বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়। আজকের মেয়র নাকি আগামীর এরদোয়ান, যেমন আজকের চা-বিক্রেতারা আগামী দিনের মোদি।
ক্ষমতাসীনদের আনুকূল্য নিয়ে আগামী নির্বাচনে হয়তো মেয়র পদটাই পেয়ে যাবে। কওমি-জননী উপাধিদাতাও যেমন এমপি না হতে পারলেও জাতীয় খতিব হওয়ার সৌভাগ্য ঠিকই পেয়েছে। পতিতালয়, মদের বার, সিনেমা হল, অপসংস্কৃতির আখড়া ও এগুলোর ধ্বজাধারীদের হ্যান্ডেল করা হয়তো মেয়র সাহেবের জন্য খানিকটা জটিল হবে। তবুও ওভারঅল জনগণের অকল্যাণ আগের তুলনায় কম হবে এবং বরিশাল সিটির উন্নয়ন বাড়বে, এমনটাই অনুমেয়।
ভিন্নমতের আলিমদের হ্যান্ডেল করার যোগ্যতাও মেয়র সাহেবের কম না। কাউকে সাইজ করে আর কাউকে নাতনির বাবার ওলিমায় দাওয়াত দিয়ে, কারও ওপর অদৃশ্য হুকুম জারি করিয়ে আর কাউকে পদ-পদবী বা খ্যাতির লোভ দেখিয়ে লাইনে আনার নজির দুনিয়ায় কম না। তারা হুবহু এভাবেই রোল প্লে করবে, তা অবশ্য জরুরি না। কেউ নির্বাচনে পদপ্রার্থী হয়ে জান নিয়ে পালিয়ে বেড়াবে আর কেউ অদৃশ্য থেকে মালপানি বা নিদেনপক্ষে শক্ত সমর্থন পাবে, কেউ মুখ খুললেই জেলের ভাত খাবে আর কেউ মাইক ফাঁটালেও দিনশেষে গলায় গলায় ভাব দেখিয়ে এক টেবিলে খাবার খাবে। এটাই রাজনীতি, এটাই পলিটিক্স। আমজনতা এত প্যাঁচ অবশ্য বোঝে না। তাই তারা হাতির বাইরের দাঁত দেখে সরল মনেই অনেক স্বপ্ন বোনে। এটা তাদের দোষ না। তারা তো ইখলাসের সাথেই সারাদিন গালিগালাজ ও কমেন্টযুদ্ধ করে।
শুভ কামনা হবু মেয়র সাহেবের জন্য। জয় হোক জনতার, জয় হোক ইআবা'র। হেরে যাবে আমাদের হিংসা, জিতে যাবে গালিবাজ দলান্ধদের ভালোবাসা।
copy From
Ali hasan usama