20/04/2026
https://dailyasiabani.com/details.php?id=62881
অঝোরে শিশুর মতো কাঁদলেন বেগম খালেদা জিয়ার ধমক আমান উল্লাহ আমানের আর পিছনে তাকাতে হয়নি
Date : 07-01-2026
মিয়া আবদুল হান্নান :
---------------------------- হঠাৎ একদিন ম্যাডাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তোমাকে কেরানীগঞ্জ থেকে সংসদ নির্বাচন করতে হবে। আমি বললাম, ম্যাডাম আমার তো নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেই। সবেমাত্র ডাকসু নির্বাচন শেষ হলো। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিলাম। এই অবস্থায় আমি কীভাবে নির্বাচন করি? ম্যাডাম একটু ধমকের সুরে বললেন, `আমি যা বলি তোমার মানতে হবে।
সেই ১৯৯০ সালের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্বলিত ও বেগম খালেদা জিয়া রাজপথ থেকে আমান উল্লাহ আমানকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী করে ঢাকা -৩ আসনের নির্বাচনে বিপুল ভোটের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ বাঘের সাথে লড়াই করে বিজয়ী হয়ে মহান জাতীয় সংসদে জায়গা করে দিয়ে তিনি ক্ষান্ত হয়নি আমাকে মন্ত্রী বানিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিজ নিয়োজিত রেখেছেন আমান উল্লাহ আমানকে। আলহাজ আমান উল্লাহ আমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে ঘুমিয়ে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার কবর জেয়ারত করতে গিয়ে অঝোরে শিশুর কেঁদে কেঁদে দুই চোখে গড়িয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি ফেলতে ফেলতে বলেন, পূর্বে আমার গর্ভধারিণী মা`কে হারিয়েছি। আজ আমার আরেক মা, যে মায়ের হাতের ছোঁয়ায় আজ আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। সে ই মাকে আজ কবরে রেখে গেলাম। প্রিয় নেত্রীর এই চিরবিদায় মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে অনেকের। সেই মায়ের জন্য কাদঁছে বাংলাদেশ। মাকে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ আপনি জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব আমীন, আমীন।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পরে ৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি যে অংশগ্রহণ করবো এটা আমার মাথায়ই ছিল না। ডাকসুর ভিপি হয়েছি মাত্র ছয় মাস হলো। তখন আমি ছাত্রদলের কেন্দীয় সংসদের আহ্বায়ক। নবীন একজন ছাত্রদল কর্মী। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। এরশাদ পতনের পর আমার একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়েছিল কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা ঈদগা মাঠে। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা, তারা মুহূর্মুহু করতালির মাধ্যমে আমাকে বরণ করে নিয়েছিল।
আমি যখন বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে উঠছিলাম এবং যখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম, তখন কেরানীগঞ্জের হাজার হাজার জনগণ `আমানকে চাই, আমানকে চাই` বলে স্লোগান দিতে থাকে। এখানে আমাদের আরো কয়েকজন সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন। আমি সেদিকে যেতে চাচ্ছি না। সেই দিনের সেই জনমত জরিপ ও কেরানীগঞ্জের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা দেশনেত্রী, আপোসহীন নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জানতে পারলেন।
হঠাৎ একদিন ম্যাডাম আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তোমাকে কেরানীগঞ্জ থেকে সংসদ নির্বাচন করতে হবে। আমি বললাম, ম্যাডাম আমার তো নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেই। সবেমাত্র ডাকসু নির্বাচন শেষ হলো। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিলাম। এই অবস্থায় আমি কীভাবে নির্বাচন করি? ম্যাডাম একটু ধমকের সুরে বললেন, `আমি যেটা বলি সেটা তোমাকে শুনতে হবে। আমি শুনি শুধু বাঘ বাঘ, সে বাঘকে তোমার শিকার করতে হবে।` ওই এলাকায় সংসদ নির্বাচন করতেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসিন মন্টু । সবাই তাকে বাঘ বলেই ডাকতো। আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক, আমাকে মনোনয়ন বোর্ডে যেতে হয়নি। ধানমন্ডির ২৭-এর পাশে বিএনপি নেতা জুলমত আলী খানের বাসায় স্থায়ী কমিটির মিটিং ডেকে আমাকে ও তৎকালীন যুবদলের সভাপতি মির্জা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ আমাদের তিনজনকে ডেকে নিলেন। স্থায়ী কমিটির মিটিং শেষে নিচে নেমে স্থায়ী কমিটির সদস্য পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান বললেন, আমাদের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমান উল্লাহ আমান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেরানীগঞ্জ থেকে অংশগ্রহণ করবেন। ডাকসুর নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর কেরানীগঞ্জবাসী কর্তৃক প্রদত্ত জিনজিরা হাইস্কুল মাঠে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান
তখন আমি ম্যাডামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং কিছু বলতে চাইলাম কিছু বলার আগেই ম্যাডাম বললেন, `হ্যাঁ, তুমি কেরানীগঞ্জ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচন করবে। আমি বললাম, তাহলে ম্যাডাম আমার একটু কথা আছে। শ্রদ্ধেয় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দাদা আমার সিনিয়র। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দাদাকে মন্ত্রিত্ব দিতে হবে।
ম্যাডাম মা মাটি মানুষের নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বললেন, `ঠিক আছে, আমি দেখবো, তোমরা কাজ করো।` সেদিন বিএনপি জয়ী হয়েছিল গয়েশ্বর দাদা মন্ত্রী হয়েছিল।
চলমান : ৫৮ পর্ব।