02/09/2026
মাত্র ৩ বছরের মাথায় বাবা তাকে পরিত্যাগ করে। এরপর জীবনের পথে নানা সময়ে তিনজন সৎ বাবার সঙ্গে থাকতে হয়েছে, পাল্টাতে হয়েছে একাধিক স্কুল। আবার কখনও স্কুল থেকে তাকে বের করে দেওয়াও হয়েছে। কারণ ছোট বয়সে ভুগেছে ডিসলেক্সিয়া রোগে, যার কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারেনি কিয়ানু। সবকিছু মিলিয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সিদ্ধান্ত নেয় যে, পড়াশোনা ছেড়ে এবার অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে তাকে।
এরপর ক্যারিয়ারের একদম শুরুতেই সে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারায় ড্রা’গ ওভারডোজের কারণে। ৩৫ বছর বয়সে পরিবার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলো, কিন্তু সেই সুখ আসার আগেই তার সন্তানের মৃ’ত্যু হয় মায়ের গর্ভে। এরপর ভেঙে যায় সংসারও। পরবর্তীতে আবার বিয়ে করেছিলো, কিন্তু এবারও ভাগ্য সহায় হয়নি। গাড়ি দুর্ঘটনায় হারায় দ্বিতীয় স্ত্রীকেও।
শুনে মনে হচ্ছে আমরা হয়তো কোনো আ'ত্মহত্যা করা মানুষের কাহিনী বলছি, তাই না? না, এ গল্প এক যোদ্ধার—যিনি জীবনের প্রতিটি ধাপে আঘাত সহ্য করেও টিকে আছেন এবং আজ লাখো মানুষকে বাঁচতে সাহায্য করছেন। তিনি হচ্ছেন কিয়ানু রিভস, যাকে আপনারা জন উইক নামেও চেনেন।
সবকিছু হারিয়েও আজ সে বিশ্বের অন্যতম বড় অ্যাকশন স্টার এবং সবচেয়ে বেশি দানশীল অভিনেতাদের একজন। তিনি প্রায়ই বলেন—“টাকা এমন এক জিনিস, যেটা নিয়ে আমি সবচেয়ে কম ভাবি।” নিজের উপার্জনের বড় অংশ সে ডোনেট করে দেয়, সাহায্য করেন ক্যান্সার গবেষণা ও নানা চ্যারিটিতে। এভাবে অসংখ্য মানুষকে সে অদৃশ্যভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে অনেক বছর ধরে।
রিয়েল লাইফে সে যেমন হিরো, তেমনি রিল লাইফেও তার সাফল্যের কথা নতুন করে বলার নেই। বেশিরভাগ অভিনেতার ক্যারিয়ারে একটি আইকনিক চরিত্র পাওয়া যায়, কিন্তু কিয়ানু রিভসের আছে দুটি—দ্য ম্যাট্রিক্স-এর নিও এবং জন উইক-এর মিস্টার উইক।
দ্য ম্যাট্রিক্স শুধু সফল সিনেমা নয়, বরং চলচ্চিত্র ইতিহাসে মাইলফলক। এটাই প্রথম সিনেমা যেখানে স্লো-মোশন টেকনিক ব্যবহৃত হয়েছিল। তখনকার সময়ে এটি ছিল এক বিপ্লবী কাজ, যার হাত ধরে হলিউডে আজকের আধুনিক ভিএফএক্স নির্ভর চলচ্চিত্রের ধারা শুরু হয়। এই মুভির জন্য সে $১০০ মিলিয়নের বেশি উপার্জন করেছিল এবং তার একটা বড় অংশ ক্যান্সার রিসার্চের কাজে খরচ করেছিল।
আর জন উইক? এই ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাকশন ঘরানার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। গ্যাংস্টার কাহিনী, নিখুঁত ফাইট সিকোয়েন্স—সব মিলিয়ে জন উইক শুধু ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি, বরং বিশ্বজুড়ে কিয়ানু রিভসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আশ্চর্যের বিষয়, এখন তার বয়স ৬২, অথচ আজও নিজের মুভিতে অধিকাংশ স্টান্ট সে নিজেই করে। ম্যাট্রিক্স আর জন উইক-এর বাইরেও তার অসংখ্য স্মরণীয় কাজ রয়েছে। The Devil’s Advocate, Constantine, 47 Ronin এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
আজ সেই প্রিয় মানুষের জন্মদিন যে, জীবনের প্রতিটি আঘাত সয়ে গিয়েও হাল ছাড়েনি, বেঁচেছে নিজের জন্য এবং অন্যকে বাঁচানোর জন্য। শুভ জন্মদিন কিয়ানু রিভস, ৬২-এ পা দেওয়া এই সত্যিকারের হিরোকে জানাই অসংখ্য শুভকামনা। ❤️