06/01/2026
অজানা এক বাস্তব সত্য ইয়াজুজ–মাজুজ।
মানুষ সাধারণত মনে করে—ইয়াজুজ–মাজুজ কেবল ভয় দেখানোর একটি বিষয়, বা খুব দূরের কেয়ামতের গল্প। কিন্তু কোরআন–হাদিস, ইতিহাস, যুক্তি ও বাস্তবতা একসাথে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়—এই বিষয়টি যতটা অবহেলা করা হয়, ততটা সাধারণ নয়।
এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে এমন কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানবো, যেগুলো মানুষ সবচেয়ে বেশি জানতে চায়! আমার গবেষণা, বিশ্লেষণ ও যুক্তির আলোকে পরিষ্কার উত্তর দেওয়া চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ্।
১️/ ইয়াজুজ–মাজুজ আসলে কারা?
কোরআন অনুযায়ী, ইয়াজুজ ও মাজুজ কোনো রূপক চরিত্র নয়। তারা মানুষই, তবে স্বাভাবিক মানুষের মতো নয়। তারা আদম (আ.)-এর বংশধর, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড চরম ধ্বংসপ্রবণ। তারা আসবে অস্বাভাবিক বিশাল সংখ্যায়! ছড়িয়ে পড়বে পুরো পৃথিবীতে। তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও সভ্যতার কোনও তোয়াক্কা থাকবেনা! ধ্বংসই তাদের আসল স্বভাব।
একটি উদাহরণ দিলে আরও ভালোভাবে বুঝবেন!
যেমন—একটি পিঁপড়ার দল একসাথে হলে বড় খাবারকে মুহূর্তে শেষ করে দেয়। একেকটি পিঁপড়া দুর্বল হলে, সংখ্যার কারণে ভয়ংকর।
ইয়াজুজ–মাজুজ ঠিক তেমনই—ব্যক্তিগত শক্তিতে নয়, সংখ্যা ও বিশৃঙ্খলায় ভয়াবহ।
২️/অনেকে জানতে চান, তারা এখন কোথায় আছে?
কোরআনের স্পষ্ট বর্ণনায় আছে—তারা একটি দেয়ালের পেছনে আটকে আছে। এই দেয়াল তৈরি করেছিলেন যুলকারনাইন (আ.)। এটি এমন এক শক্তিশালী দেয়াল, যেটা পাহাড়ি দুই প্রান্তের মাঝে
লোহা ও গলিত তামা দিয়ে নির্মিত! সাধারণ দেয়ালের মতো নয়।
এবার অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, স্যাটেলাইট কীংবা আধুনিক বিজ্ঞান এটি খুঁজে পায়না কেন?
এই প্রশ্ন আমিও গভীর ভাবে চিন্তা করেছিলাম! হঠাৎ মনে হল, আজ আমরা যেমন গভীর সমুদ্রের ৯৫% জানি না, তেমনি পৃথিবীর বহু দুর্গম অঞ্চল এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত নয়। তাই হতে পারে সেই দেয়াল “স্যাটেলাইটের কাছেও অজানা”।
স্যাটেলাইটে দেখা না গেলে যে কোরআনের বিষয় অস্বীকার করবেন, তা'তো বৈজ্ঞানিকভাবেও দুর্বল।
৩️/ যুলকারনাইনের দেয়াল কি এখনো আছে?
নির্দ্বিধায় উত্তর হল হ্যাঁ! কোরআন অনুযায়ী দেয়ালটি এখনো আছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে, উক্ত দেয়ালটি এখনো ভাঙা হয়নি, বরং সময় শেষ হলে আল্লাহ নিজেই তা ভেঙে দেবেন।
আমি জানি, অনেকে সাধারণ ভাবে ভাবছেন এতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পৃথিবীতে ঘটছে, বড় বড় পাহাড়, দালানকোটা ভেঙ্গে পড়েছে, কিন্ত সেই দেয়াল ভাঙছে না কেন? এটির উত্তর একটি উদাহরণ দিলেই বুঝে যাবেন!
যেমন একটি টাইম-লক সেফটি।
মানুষ যতই চেষ্টা করুক, সময় না আসা পর্যন্ত সেই লকার খোলা যাবে না! বিশেষ প্রয়োজনে খুলতে হলেও সেই লকারের এক্সপার্ট লাগবে৷
ইয়াজুজ–মাজুজের দেয়ালও তেমনই, মানুষ বা অন্য কোনও শক্তির বাইরে! সেটা শুধু আল্লাহর সময়ের অধীন।
৪️/ ইয়াজুজ–মাজুজ কবে বের হবে?
হাদিস থেকে জানা যায়, ঈসা (আ.) দুনিয়ায় আসার পর, দাজ্জালের মৃত্যুর পর, কেয়ামতের একেবারে কাছাকাছি সময়।
কিন্ত ইয়াজুজ-মাজুজ প্রতিদিন দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করে বেরিয়ে আসতে চায়, কিন্তু তারা “ইনশাআল্লাহ” বলেনা তাই পরের দিন মহান আল্লাহ সেই দেয়াল পুনরায় গঠন করে দেন৷ যেদিন তারা ইনশাআল্লাহ্ বলবে, সেদিনই বের হতে পারবে৷
এখানে আমাদের জন্য রয়েছে গভীর একটি শিক্ষা!
এটি শেখায়, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো শক্তিই চূড়ান্ত নয়।
৫️/ তারা বের হলে পৃথিবীতে কী ঘটবে?
তাদের বের হওয়া মানেই, চারিদিকে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ,
খাদ্য ও পানির সংকট, সভ্যতার পতন ঘটবে।
মানুষ এতটাই অসহায় হবে যে— ঈসা (আ.) ও মুমিনরা পাহাড়ে আশ্রয় নেবেন।
এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে এটি কীভাবে সম্ভব?
যেমন মনে করুন, আজকের আধুনিক পৃথিবী যদি হঠাৎ বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও খাদ্য সরবরাহ হারায়,
মাত্র কয়েকদিনেই সভ্যতা ভেঙে পড়বে।ইয়াজুজ–মাজুজ ঠিক তেমনি, পৃথিবীতে এসে কল্পনার বাহিরে একের পর এক বৈশ্বিক বিপর্যয় ঘটাবে।
তবে তারা পৃথিবীতে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেনা, কারণ একটা পর্যায়ে আল্লাহ বিশেষ এক প্রকার পোকা দিয়ে মহামারির মতো তাদের ধ্বংস করবেন। এই ধ্বংসকারী পোকা বা মহামারী মানুষের কোনও ক্ষতি করবেনা।
মানুষ নয়, অস্ত্র নয় শুধুমাত্র আল্লাহর হুকুমেই তারা ধ্বংস হবে৷
৬️/ তারা কি কোনো আধুনিক জাতির সাথে সম্পর্কিত?
এটি মানুষের সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্ন। এই প্রশ্নে বিস্তারিত আলোচনা করলে স্ট্যাটাস বড় হয়ে যাবে তাই সংক্ষিপ্ত উত্তর দিচ্ছি।
তারা কোনও আধুনিক জাতি না! সরাসরি কোনো বর্তমান জাতি বা দেশের সাথে মিলিয়ে ফেলা সঠিক নয়। কেউ চীন, কেউ মঙ্গোল, কেউ আধুনিক শক্তিধর জাতির সাথে মিল খোঁজে, কিন্তু এগুলো মানুষের অনুমান, নিশ্চিত দলিল নয়।
ভাবুনতো, যে জাতি কোরআন অনুযায়ী এখনো বন্দি,
তারা প্রকাশ্যে রাজনীতি, প্রযুক্তি বা বিশ্বব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেবে—এটা যৌক্তিক কি-না?
তবে পুরো আলোচনায় আমাদের শিক্ষা হল: ইয়াজুজ–মাজুজ কেবলই ভবিষ্যতের ভয় নয়, বরং আল্লাহর তরফ থেকে অগ্রিম একটি সতর্কবার্তা! প্রত্যেক সভ্যতা অহংকারে ধ্বংস হয়ে যায়৷ শুধু
সংখ্যা আর ক্ষমতা দিয়ে শক্তি নয়, নৈতিকতাই আসল শক্তি। আল্লাহ চাইলে সবচেয়ে অদম্য শক্তিও মুহূর্তে শেষ করে দিতে পারেন। এই বিষয়ে জানার অর্থ শুধু কৌতূহল নয়, বরং নিজেকে সংশোধনের প্রস্তুতি।
মুসলিম হয়েও আজ যারা বলেন “এসব কল্পনা” তাদের উদ্যেশ্য ছোট করে বলি!
কোরআনের কোন আয়াত কল্পনা?
আজ না হোক, কাল— এই সত্য প্রকাশ পাবেই।
মনে রাখবেন,
জ্ঞানী সে নয়, যে সবকিছু অস্বীকার করে।
জ্ঞানী সে, যে আল্লাহর সতর্কবার্তা থেকে শিক্ষা নেয়।
- ঈশান মাহমুদ ✍️
(প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর)
মহান আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন! পড়ুন আমিন। লিখাটি ভালো লাগলে লিখে যান 👇মাশাআল্লাহ
আপনাদের প্রশ্ন থাকলে বা অন্য কোনও বিষয়ে জানার থাকলে বলুন! আর দ্বীন প্রচারের কাজে সবাই মিলে শেয়ার করে দিন৷ 💕
#ইয়াজুজ_মাজুজ
#শেষ_যুগের_সত্য
#কিয়ামতের_আলামত
#অজানা_বাস্তবতা
#ইসলামিক_রিসার্চ
#ইসলামিক_রিসার্চ