27/08/2026
রংপুরের ৪ জনকে হ***ত্যাকান্ডে গতকাল আদালতের জবানবন্দী ও তদন্তের পর কিছু তথ্য আপডেট হয়েছে ।
এই আপডেট তথ্যগুলোই ২৩ আগস্ট পুলিশের দেওয়া কিছু তথ্যকে খন্ডন করে এবং আবার আমাদের কিছু প্রশ্নকে ক্লিয়ার করে ।
এই হত্যা মামলার শুরু থেকে থেকে শেষ অবধি কিছু বিতর্কিত জিনিস আমি ক্লিয়ার করার চেষ্টা করি :
১। শার্ট ইস্যু : সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ।
বিভিন্ন গ্রুপ থেকে খুব জোরালো প্রচারণা চালানো হয় , পুলিশ কর্মকর্তা যে শার্ট গায়ে পরে বাসায় তদন্ত করতে যায় , ঐ একই শার্ট আসামীর গায়ে কেনো ?
পরবর্তীতে ঐ শার্ট গায়ে দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তা ভিডিও কল দিয়ে, শার্ট গায়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে প্রমাণ করেন এটা কাকতালীয় বিষয় ছাড়া কিছুই না ।
একই ডিজাইনের শার্ট অনেকেই পরে ।
২। মুখ ঝ*লসে দেওয়া :
প্রথমে প্রীতি চক্রবর্তীর বোন এবং পরে সিআইডি কর্মকর্তা সুমিত চোধুরী বলেন ,
'নিহতদের মুখমন্ডল দেখে মনে হয়েছে তাদের মুখ ঝ**লসে দেওয়া হয়েছে । মনে হচ্ছে তাদের মুখে কোনো দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে । '
এই তথ্যের উপর বেজ করে পরবর্তীতে একদল অনলাইনে গু*জব রটিয়ে দেয় এটা জ**ঙ্গীদের কাজ ।
কারণ জ***ঙ্গীরাই এমন করে ।
কিন্তু পরবর্তীতে ফরেনসিক রিপোর্টে ডাক্তার বাবুল কুমার বিশ্বাস জানায় ,
"কারো মুখ ঝলসানো হয় নি । কারো মুখেই কোনো রাসায়নিক পাওয়া যায় নি ।
মৃতদেহ ২-৩ দিন থাকার পর পঁচন পক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে মুখ প্রথমে ফ্যাকাসে হয় । তারপর ক্রমশ কালচে হয়ে যেতে থাকে । এই কারণের তাদের মুখ এমন হয়েছে । " (তথ্যসূত্র : ১)
পরে আমি পরে অনলাইনে সার্চ করেও একই তথ্য দেখতে পাই ।
৩। বৈদ্যুতিক লাইন কে এবং কেন বন্ধ করে ?
বাড়িতে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এই ভয়েই নিচতলায় নেমে বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ ।
( আদালতে দেওয়া জবানবন্দি)।
( তথ্যসূত্র :২)
৪ । প্রিয়ামকে কেনো হ*ত্যা করা হয় ?
আদালতের জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছে ,
"তারা নিচে নেমে এসে দেখে প্রিয়াম জেগে বিছানায় বসে আছে । প্রিয়াম সিদ্ধার্থকে চিনতো । সিদ্ধার্থের ছোটো ভাই প্রিয়ামের খেলার সাথী ।
এই থেকে সিদ্ধার্থ ভয় পেয়ে যায় তাকেও বালিশ চাপা দিয়ে হ**ত্যা করে । '
অথচ পুলিশ শুরুতে বলেছিলো, প্রিয়ামকে ঘুমন্ত অবস্থায় হ*ত্যা করা হয় । এই কারণেই প্রিয়ামকে হ**ত্যা করার লজিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না ।
( তথ্যসূত্র: ২)
৫ । খু*ন করার সময় ভিক্টিম স্বভাবতই চিৎকার করার কথা । চিৎকার করলে কেউ শোনে নি ?
গণপতি চক্রবর্তী চিৎকার করার সুযোগ পান । তবে তা খুব কম । পরে তার গলা পেঁ**চিয়ে ধরলে শব্দের নামে যা হয় তা কেবলই গোঙানি ।
তার ধস্তাধস্তিতে টিনেরও শব্দ হয় ।
এসবের শব্দের পরই ছুটে আসে তার স্ত্রী প্রীতি চক্রবর্তী । তাকে গামছা পেঁচিয়ে ও রশি পেঁচিয়ে হ*ত্যা করা হয় ।
আজ আদালতে জানিয়েছে , তাকে হ***ত্যা করতে সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে । ৪ মিনিটের মতো ।
তারও শব্দ শোনার পরই আগামী চক্রবর্তী যখন আসে তখন তার মুখ ও গলা একই সাথে চেপে ধরে মুগ্ধ ।
( তথ্যসূত্র: ২ )
৬। দুইজন মানুষ ৪ জনকে হ*ত্যা করেছিলো কিভাবে ?
আগের স্টেটমেন্টটা খেয়াল করুন । কাউকেই একসাথে হ**ত্যা করতে হয় নি ।
গণপতি বাবুকে হ**ত্যার পরই প্রীতি চক্রবর্তী ও আগামী চক্রবর্তী আসে ।
প্রীতি চক্রবর্তী ও আগামী চক্রবর্তীর আসা সময়ের ভেতর গ্যাপ কম ছিলো ।
তাও প্রীতিকে দুজনে মিলে হ**ত্যা করতে হলেও আগামীকে চক্রবর্তীকে মুগ্ধ একই হ*ত্যা করে ।
আর প্রীতম তো রীতিমত বাচ্চাই , রুমে একাই ছিলো...
৭ । ছাদে ফেলা রাখা লাশ কেউ দেখলো না কেনো এই ২-৩ দিনে ?
আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতি চক্রবর্তীকেও ছাদেই হ*ত্যা করা হয় ।
কিন্তু ছাদে থাকলে লা**শ কেউ দেখে ফেলতে পারে তার ভয়ে তাদের লা**শ সিঁড়িতে এনে রাখা হয় । গণপতি চক্রবর্তীর লাশ ছাদের এক কোণে রাখা হয় ।
( তথ্যসূত্র :২ )
৮ । পাশের ছাদের তৃতীয় তলা থেকে ২য় তলায় কিভাবে লাফিয়ে আসলো?
আবার কিভাবে ২য় তলা থেকে ৩য় তলায় কিভাবে লাফিয়ে গেলো ?
আসলে পাশের তৃতীয় তলা ভবন নির্মাণাধীন । এর ২য় তলায় কোনো রুম নেই । সেখানে মানুষ থাকে না।
আজ একজন সাংবাদিক কয়েকটা ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে এতটুকু এনশিওর করছে ,
বিল্ডিং দুইটা যে কেউ চাইলেই এই ভবন থেকে ঐ ভবনে অনায়সে আসতে যেতে পারবে ।
( ছবিতে সংযুক্ত)
৯।
আজ সন্ধ্যায় ডোমের সাক্ষাৎকার নিয়ে ৭১ এর সাংবাদিক প্রচারণা করলো এই মেয়ের ভ্যাজাইনায় বীর্য পাওয়া গেছে ।
কিন্তু একটু আগেই ইত্তেফাকে দেখলাম , ডাঃ বাবুল কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন এই ধরনের কিছু পাওয়া যায় নি ।
আর যদি শেষমেষ এটাও প্রুভ হয় , ধর্ষ**ণ হয়েছে —
তাহলে দিনশেষে তার দায় খুনীদের কাঁধেই চলে যাবে । যেহেতু তারা ইতোমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে হ*ত্যা করার ....
১০. যদিও একদল দাবি করেছে , গণপতির লাশ ছাদে পাওয়া যায় নি । রুমে পাওয়া গেছে ।
কিন্তু ফ্যাক্ট চেক করে The Dissent জানিয়েছে ,
লাশ ছাদেই পাওয়া গেছে ।
এখন অবধি অমীমাংসিত বিষয় :
১। সিদ্ধার্থের বাবা দাবি করছে তার ছেলে ঘিয়া রঙের গেঞ্জি পরেছে । তার গায়ে এই শার্ট কোত্থেকে আসলো ?
২। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজগুলোর ভিডিও পাবলিশ করা । এগুলো করলেই ঘটনা অনেকাংশে ক্লিয়ার হয় ।
৩। বাড়ির কাজ করার জন্য গণপতি বাবু ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছিলেন ১৫ লাখ । সেই টাকা কোথায় কেউ জানে না ।
৪। নির্মাণাধীন ভবনে সেবন না করে কেনো এই ভবনে আসলো?
আমার মনে হচ্ছে এটা সাইকোলজিক্যাল কমফোর্ট জোন ক্রিয়েটের জন্য ।
*** গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট :
১। ভিডিও সাক্ষাৎকারে সিদ্ধার্থের পরিবার জানিয়েছে ,
ঘটনার দিন রাত এগারোটার পর সিদ্ধার্থ ঘর থেকে বের হয়ে যায় । সে সারারাত সীমান্ত দাসের কাছে থাকার কথা , কারণ সকালে তাদের খেলা আছে ।
এবং...সে পরদিন ১২ টার কাছাকাছি সময়ে ঘরে ফেরে।
কিন্তু সীমান্ত দাসের মা বলছে ,
"সিদ্ধার্থ রাত এগারোটার পর এসেছিলো । কিন্তু চলে গেছে সাথে সাথে । সে এখানে থাকে নি । খামাকাই আমার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে । "
আর পুলিশি রিপোর্ট বলছে ,
সিদ্ধার্থ বাসা থেকে বের হওয়ার পর সীমান্ত নামের একজনের কাছে যায় । তার কাছ থেকেই ইয়াবা আনে । তারপর মুগ্ধকে ডেকে আনে একসাথে ইয়াবা সেবনের জন্য ।
এরপর সীমান্ত দাস নিজেই গতকাল আদালতে স্বীকার করে , "তার দুই বন্ধু তার কাছে ঐদিন রাতে ইয়াবার জন্য আসে । "
( তথ্যসূত্র : ৩ )
আমি একটু এড করি ।
ধরে নি সিদ্ধার্থ খুনী না । জাস্ট ইয়াবা সেবন করেছিলো। কিন্তু রাতে সে ঘরে ফেরে নি । সে সীমান্তের কাছেও থাকে নি ।
সে তাহলে কোথায় ছিলো ?
ঘটনার রাতে ১১ টা থেকে সিদ্ধার্থের ঘরে না থাকা , রাতে ইয়াবা সেবন করা , ইয়াবার আলামত ছাদে পাওয়া যাওয়া , বেলা বারোটায় সিদ্ধার্থের ঘরে ফেরা —
এতগুলা ঘটনা কাকতালীয় ?
২। সিদ্ধার্থ আর মুগ্ধ চোরাইকৃত স্বর্ণ পূর্ণিমা কাকির বাড়ির পাশে পু্ঁতে রাখে । পরে তাদের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তা উদ্ধার করে ।
৩। যে বাড়ির সামনে থেকে মুগ্ধকে গ্রেফতার করা হয় , তিনি ঐ শ্মশানের ডোম মোহন্ত ।
তার মতে , পুলিশ তাড়া করলে মুগ্ধ এসে তার কাছে আশ্রয় চায় । সে জল চায় আর চিৎকার করে।
'আমি তো ঘটনা একটা ঘটাই ফেলছি । আমি তো মার্ডার করে ফেলছি।"
পরে মোহন্ত বাবুই এই কথা শুনে অভিশাপ দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় দরজা না খুলে।
( তথ্যসূত্র : ৪)
আসলে শুরুর দিকে এই জিনিসগুলো নিয়ে আমিও নিজে অনেক ধোঁয়াশায় ছিলাম । তথ্যগুলোর অপেক্ষা করছিলাম ।
কিন্তু যতোই জবানবন্দি ও তদন্ত করা হচ্ছে ,
ততোই এটা হ*ত্যার দায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাসের দিকে ঝুঁকতেছে....
উপসংহার :
অনলাইনে একটার পর একটা গুজব রটিয়ে বারবার এটা প্রুভ করার চেষ্টা করা হচ্ছিলো —
'এই কাজ জ***ঙ্গিদের । সিদ্ধার্থ আর মুগ্ধরা এই কাজ করতেই পারে না । '
কেনো ?
সনাতন ধর্ম পালনকারীরা মানুষ না ?
ওরা ইশ্বর ? ওরা পাপ কাজ করতে পারে না ?
শুধু এই বছরেই—
লক্ষ্মীপুরে একজন অন্তর মজুমদার ৪ জনকে কুপিয়ে হ*ত্যা করে নি ?
হাসপাতালে দুইজন সনাতনী একজন মুসলিম নারীকে ধর্ষ**ণ করে নি ?
দুইদিন আগে দেখলাম , চট্টগ্রামের ফিনলে সিনেমা কমপ্লেক্সে এক সনাতনী মেয়েদের ওয়াশরুমে ক্যামেরা বসিয়ে এডাল্ট ভিডিও করার ট্রাই করছে।
এসব পাপ না ?
আমি যা বলছি তা সনাতনী বি**দ্বেষ না বরং ফ্যাক্ট।
পাপী হিন্দু ধর্মেও আছে । মুসলিম ধর্মেও আছে ।
এটা মেনে নেন । এটাই ফ্যাক্ট ।
কিন্তু নিজেদের ইমেজ রক্ষা করতে , অন্যকে কাউন্টার করতে কেউই এসব মানতে চায় না....
আমি দেখলাম , গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের নৃ**শংস মৃত্যুতে অনেক সনাতনী এত দুঃখ পায় নি ,
যতো দুঃখ পেয়েছে যখন তারা দেখলো হ*ত্যাকারী দুইজন কোনো মুসলিম না , সনাতনী....
অথচ কেবল একজন সনাতনী না ,
একজন ভালো মানুষ হইলেই আপনার প্রথমে গণপতি বাবু ও তার পরিবারের জন্য দুঃখ পাওয়ার কথা যে ওয়েতে তাদের হ*ত্যা করা হয়েছে.....
অপরাধী হিন্দু মুসলিম যে'ই হোক , তার ফাঁসি চাওয়ারই কথা ।
দুইদিন আগে তো লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় আমরা এমনটাই শুনেছিলাম - অপরাধী জাত ধর্ম হয় না।
যাইহোক , আপনাদের এই খেলায় ,
অলরেডি ভারতে " বাংলাদেশে জঙ্গী*দের হাতে চারজন সনাতনী হ*ত্যা " এই স্টেটমেন্ট এস্টাবলিশ করা শেষ ।
বিঃ দ্রঃ
১। খবরের সোর্সগুলা এড করে দিচ্ছি ।
আপনার পাল্টা যুক্তি দেওয়ার অপশন আছে ।
২। কিছু ইনফরমেশন ভিডিও সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া হয়েছে ।