16/09/2026
ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে এবার লড়াইটা শুধু গোল আর অ্যাসিস্টের নয়। লড়াইটা ক্লাবের সাফল্য বনাম বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সেরও। আর এই সমীকরণেই হঠাৎ করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন লিওনেল মেসি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—মেসির হাতে কি সত্যিই আবার উঠতে পারে ব্যালন ডি’অর? নাকি এবার অন্য কোনো তারকার পালা?
মনোনীত ৩০ ফুটবলারের মধ্য থেকে বিশ্বের ১০০ জন ক্রীড়া সাংবাদিক বেছে নেবেন সেরা ১০ জনকে। এরপর ভোটে পাওয়া পয়েন্টের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে বিজয়ী।
বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত পারফরম্যান্স। আর এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে একটি টুর্নামেন্ট—বিশ্বকাপ।
কারণ ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এবার এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ক্লাবে দুর্দান্ত করা অনেকেই বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী আলো ছড়াতে পারেননি। আবার বিশ্বকাপে যারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন, তাদের অনেকের ক্লাব মৌসুমে রয়েছে বড় ঘাটতি।
রদ্রি তার বড় উদাহরণ। বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেও ক্লাবের হয়ে পুরো মৌসুম খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে।
লামিন ইয়ামালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা। ক্লাবে দুর্দান্ত ফর্ম, কিন্তু চোট তার ধারাবাহিকতায় বাধা দিয়েছে। বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যক্তিগত অর্জন ছিল মাত্র এক গোল।
আর এই জায়গাতেই মেসির প্রোফাইলটা বেশ আলাদা।
ইন্টার মায়ামির হয়ে ওই সময়ের মধ্যে ৪৪ গোলের পাশাপাশি ৩০টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। শুধু ক্লাব ফুটবলেই নয়, বিশ্বকাপেও ছিলেন কার্যকর। আর্জেন্টিনার হয়ে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলকে নিয়ে গেছেন ফাইনাল পর্যন্ত।
অর্থাৎ একদিকে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান, অন্যদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চ—দুই জায়গাতেই মেসির নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে।
তবে ব্যালন ডি’অরের হিসাব কখনোই এত সহজ নয়।
মেসির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা—বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। তার ওপর ইন্টার মায়ামি খেলছে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে। ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্সের তুলনায় ভোটাররা মেজর লিগ সকারকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ওসমান দেম্বেলের ট্রফির ঝুলি বেশ ভারী।
পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে শুরু করে লিগ ওয়ান, ট্রফি দে চ্যাম্পিয়নস, সুপার কাপ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ—এক মৌসুমে একের পর এক শিরোপা জিতেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল—তিন ম্যাচেই গোল করেছেন।
বিশ্বকাপেও ৬ গোল রয়েছে তার নামের পাশে। তবে চারটি গোল এসেছে নরওয়ে ও ইরাকের বিপক্ষে গ্রুপপর্বে। নকআউট পর্বে আর গোলের দেখা পাননি তিনি।
তারপর হ্যারি কেইন।
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে হয়তো সবচেয়ে ভয়ংকর নামগুলোর একটি। বায়ার্নের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগেই ১৪ গোল। সঙ্গে লিগ ও কাপের শিরোপা। বিশ্বকাপেও ৬ গোল।
কিন্তু কেইনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন—বড় দুই মঞ্চে শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পেরেছেন? চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপ—দুটিতেই শেষ হয়েছে সেমিফাইনালে।
তাহলে ভোটাররা কী দেখবেন?
ট্রফির সংখ্যা, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান, চ্যাম্পিয়নস লিগের পারফরম্যান্স, নাকি বিশ্বকাপে একজন ফুটবলারের প্রভাব?
এই প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করে দিতে পারে এবারের ব্যালন ডি’অরের ভাগ্য।
ভোটের সময়ও ফুরিয়ে আসছে। এরপর ২৬ অক্টোবর লন্ডনে যখন ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে, তখন পরিষ্কার হয়ে যাবে—এই জটিল সমীকরণে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন পারফরম্যান্সকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন।
আর সেই তালিকায় লিওনেল মেসির নাম কতটা ওপরে থাকে—সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় প্রশ্ন।