22/09/2026
দয়িতা আর নীলাদ্রির মধ্যে বন্ধুত্বটা ঠিক কবে থেকে যে হয়েছিল সেটা হয়তো ওরা নিজেরাও জানে না। খুব আবছা আবছা মনে আছে দয়িতার ক্লাশ ওয়ানের বিস্কুট দৌড় প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে খুব কাঁদছিলো ও। নীলাদ্রি বিস্কুট দৌড়ে ফার্স্ট হয়েছিল। দয়িতার কান্না দেখে ছোট্ট নীলাদ্রি নিজের প্রাইজের হলদে রঙের টিফিনবক্সটা দয়িতার হাতে তুলে দিয়ে বলেছিল ,কাঁদিস না ,এই নে ...তোর কাছে রাখ,আমার মানেই তো তোর।
নেহাতই কথার কথা, ছেলেভোলানো কথা।তাও আবার একটা বছর পাঁচেকের ছেলের মুখের কথা, তবুও দয়িতার বিশ্বাস জন্মেছিল, নীলাদ্রি আর ওর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।নীলাদ্রির সব কিছুতেই যেন দয়িতার অধিকার। সেই শুরু নীলাদ্রির ওপর দয়িতার গার্জেনগিরি ফলানো।
একদিন দয়িতাকে রাস্তায় একটা ছেলে বলেছিলো, চম্পা লাগছে মালটাকে! নীলাদ্রি তাকে মেরে তার নাক দিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছিল। দয়িতাকে কিছু বলার অধিকার যেন শুধু নীলাদ্রিরই।
ক্লাস ইলেভেনে দয়িতা প্রথম প্রেমে পড়ে। গৌরব বলে একটি ফার্স্ট ইয়ারে ছেলের।
ছেলেটা যাকে বলে ম্যাচো হ্যান্ডু। মেয়েদের হার্ট থ্রব। দয়িতার নাচের প্রোগ্রাম দেখতে এসেই পরিচয় হয়েছিল, দয়িতার সাথে।
গৌরবের সাথে নীলাদ্রির পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল দয়িতাই।
প্রেমের প্রথম মাস উজ্জাপনের দিনেই গৌরবকে উদোম পিটিয়ে ছিল নীলাদ্রি।
দয়িতা লাভারের এ হেন অপমান দেখে নীলকে বলেছিল, তুই বন্ধু না শত্রু?
কেন তুই গৌরবকে মেরেছিস?
নীল কোনো কথা না বলে,শুধু গৌরবের ফোনটা কেড়ে নিয়ে দেখিয়েছিল, দয়িতার মত খান ছয়েক মেয়েকে একই msg সেন্ড করছে গৌরব।
প্রেমের ইতি টেনেছিলো দয়িতা।
কলেজে গিয়েও আরেকবার দয়িতা প্রেমে পড়বে পড়বে এমত অবস্থায় নীলাদ্রি আর অনুষ্কার প্রেমটা ঠেকাতেই হবে পণ করে দয়িতার আর প্রেম করা হলো না। অনুষ্কা একদিন দয়িতার কাছে বলেছিল, জানিস দয়িতা আমার নীলাদ্রিকে বড্ড ভালো লাগে। কি ইনোসেন্ট ছেলে, কত কেয়ারিং! দয়িতা আগ্রহ ভরে জিজ্ঞেস করেছিল,তুই কি করে জানলি নীল কেয়ারিং?
অনুষ্কা লাজুক মুখ করে বলছিল,সেদিন আমি আর মা বাসে করে ফিরছিলাম। নীলাদ্রি বসে ছিল একটা সিটে। আমাকে দেখেই হাত নেড়ে ডেকে নিজের সিটটা ছেড়ে দিলো মাকে। আর আমার হাত থেকে ভারি ব্যাগটা নিয়ে গোটা রাস্তাটা এলো জানিস। মাও বলছিল,ছেলেটা বড় ভালো,এখনকার যুগে এমন ভদ্র ছেলে পাওয়া মুশকিল।
কোনো কারণ ছাড়াই অনুষ্কার মুখে নীলাদ্রির গুণগান শুনে হঠাৎ করেই অনুষ্কার গলা টিপে ধরতে ইচ্ছে করছিল দয়িতার। তবুও মুখে হাসি টেনে বললো, বেশ তোর কথা আমি নীলকে বলবো।
অনুষ্কা গদগদ হয়ে বলেছিল, এই সত্যি বলিস কিন্তু। অনুষ্কার মা যেন জামাই নির্বাচন করেই ফেলেছে।
অবশ্যই বলেছিল দয়িতা নীলকে অনুষ্কার কথা,তবে সেটা অন্যভাবে।
এই নীল তুই আমাদের ইকোনমিক্স অনার্সের অনুষ্কাকে চিনিস?
নীলা খুব স্বাভাবিক গলায় বলল,ওমা চিনবো না কেন ?তোর সাথে তো ঘুরতেও দেখেছি ওকে। সেদিন বাসে...
এক ধমকে নিলাদ্রিকে থামিয়ে দিয়েছিল দয়িতা। থাক! লোকের ব্যাগ কেন বয়ে এনেছিস সেটা আমার না জানলেও চলবে। তবে অনুষ্কা থার্ড ইয়ারের প্রতাপদার সাথে প্রেম করে জানিস তো !!
নীলের মুখে কোনো ভাবান্তর না দেখে একটু আশ্বস্ত হয়েছিল দয়িতা। ওদিকে অনুষ্কা সমানে নীলের নামে জিজ্ঞেস করেই যায়। নীল কি খেতে ভালোবাসে, নীলের ফেবারিট কালার কি?
নীলের ফেবারিট কালার রেড শুনে আজকাল অনুষ্কা প্রায়ই রেড চুড়িদার পরে কলেজে আসছে।
এসব সামলাতে সামলাতে শেষ পর্যন্ত গোটা কলেজটা আর কারোর প্রেমে পরা হলো না দয়িতার।
দিনদুই ধরে নীলের শরীরটা খুবই খারাপ। দয়িতা বিকালের দিকে ওদের বাড়ি গিয়েছিল , নীলকে অমন ভাবে মুখ শুকনো করে শুয়ে থাকতে দেখে দয়িতার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল। একবার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে দয়িতার পায়ে আঘাত লেগেছিল। দয়িতা স্কুলে যেতে পারছিল না, তখন নীল রোজ বিকেলে সেদিনের স্কুল টাস্কের সাথে বিজয়দার বানানো আলুকাবলী ঠোঙায় করে লুকিয়ে আনতো দয়িতার জন্য।
এই নীল কি খেতে ইচ্ছে করছে বল না রে!
করুন মুখে নীল বলেছিল, মুখে কিছুই ভাললাগছে না রে। তবে ঝালঝাল চাউমিন হলে মন্দ হয়না।
পরেরদিন দয়িতা নিজের হাতে চাউমিন বানিয়ে নিয়ে নীলের বাড়িতে হাজির।
খুব গর্ব করে বলেছিল, আমি বানালাম তোর জন্য। আনন্দে নীল হেসে উঠেছিল, খুব তৃপ্তি করেই খেয়েছিল দয়িতার বানানো চাউমিন। সেদিন বাড়ি ফেরার পর মা বলেছিল ,দয়িতা তুই তো নীলের চাউমিনে নুনই দিস নি রে। কড়াই এ যেটুকু পড়েছিল, মা নাকি মুখে দিয়ে দেখেছে ,একেবারে নুন হয়নি।
নিজের মনেই হেসেছিল,দয়িতা। নীল বোধহয় ওর সব অত্যাচার সহ্য করার জন্যই জন্মেছে।
নীলের দেওয়া আর দয়িতার ওর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া গিফটের বাক্সে কি নেই, ছোট বড় ম্যাগনেট, তাসের ম্যাজিক, প্লাস্টিকের ফুল। কিছু নীল ওকে দিয়েছিল,কিছু দয়িতা কেঁদেছিল বলে বাধ্য হয়েছিল। আর কিছু দয়িতা জোর করে কেড়ে নিয়েছিল।
কত কত স্মৃতির ভিড়ে ওদের বন্ধুত্ব আজও একই রকম।
একবার নীলের একটা ইয়েলো টিশার্ট খুব পছন্দ হয়েছিল দয়িতার। নীল কিছুতেই দেবে না। ওটা ওরও খুব পছন্দের। তখন দয়িতা ক্লাস নাইন। শেষে নীলের শার্টের বোতাম টেনে ছিঁড়ে দিয়েছিল দয়িতা। বোতাম গুলো এখনো আছে দয়িতার কাছে,আর দুটো বোতাম ছেড়া শার্টটা নীলের কাছে।
নীল টাও কিছু কম প্রতিশোধ নেয়নি তা নয়। দয়িতার একটা লং স্কার্টকে কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছিল নীল। দয়িতা নীলের মা মানে আন্টিকে নালিশ করে বেশ করে মার খাইয়ে ছিল ওকে। শেষে নীলের গায়ে মারের লাল দাগগুলো দেখে নিজেই কেঁদে অস্থির হয়েছিল।
ইউনিভার্সিটিতে ঢুকলেই একটা নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে, অনুষ্কার ঘ্যানঘ্যানানি। সেই যে কলেজের থার্ড ইয়ার থেকে নীলের প্রতি ক্রাশ খেয়ে আছে মেয়েটা সেটা এখনো যাবার নয়। কোনোদিন সামনা সামনি নীলকে কিছু বলতে পারেনি,শুধু দয়িতার কানের কাছে বলেই চলেছে। আজ যেমন বললো, জানিস দয়িতা আজ নীল ল ডিপার্টমেন্ট থেকেই আমার দিকে তাকাচ্ছিল।
দয়িতা বললো, নীলের বয়েই গেছে তোর দিকে তাকাতে !! মনের মধ্যে অকারণ রাগটা আবার বাসা বাঁধছে।
অনুষ্কা বেশ জোর দিয়েই বললো, হ্যারে সত্যিই নীল আমার দিকে তাকিয়েছিল।
বিকেলে নীলাদ্রি ফোন করে দয়িতাকে বলল, তোর বন্ধু অনুষ্কার সাথে একটু কথা বলবো ,এরেঞ্জ করে দিবি রে!
দয়িতা ব্যস্ততার ভান করে বললো, আমি ওসব পারবো না। ইচ্ছে হলে নিজে বলে নিস।
সারারাত বিছানায় ছটফট করছিল দয়িতা। কারণটা ওর অজানা। তবে কোনো একটা উঁচু পাহাড়ের মাথা থেকে পা পিছলে পরে যাচ্ছে,অথচ হাত বাড়িয়েও কিছু ধরতে পারছে না। অজানা এক কষ্ট যেন দয়িতাকে আষ্ঠেপিষ্ঠে বেঁধে ফেলছে। অনেক চেষ্টা করেও নিঃশ্বাস নিতে পারছে না ও।
একটা সবুজ মাঠের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দয়িতা। আরেকটু পিছলেই খাদ। অনেক দূরে পিছন ফিরে চলে যাচ্ছে নীল। দয়িতা হাতটা বাড়তে গেল এমন সময় অনুষ্কা এসে দাঁড়িয়েছে নীলের ঠিক সামনে। স্বপ্নটা দেখেই ধড়ফড় করে উঠে পড়ল দয়িতা।
ইউনিভার্সিটি গিয়েই দৃশ্যটা চোখে পড়লো ওর। অনুষ্কা আর নীল দেবদারু তলায় দাঁড়িয়ে গল্প করছে। অনুষ্কার গালে লজ্জা লজ্জা লালের ছোঁয়া। ওকে দেখে দুজনেই হাত নাড়লো।
কয়েকদিন ধরেই ক্লাসে আসছে না দয়িতা। নীলের ফোন রিসিভ করছে না পর্যন্ত।
অনুষ্কা আর নীলাদ্রি এই প্রথম একসাথে রাস্তায় বেরিয়েছে।
অনুষ্কা বললো, চলো ফুচকা খাই। ফুচকা খেতে গিয়েও বিপত্তি। নীল বলে বসলো,আরেকটু বেশি করে টক দিন, দয়িতা বেশি টক পছন্দ করে।
অবাক চোখে তাকিয়ে অনুষ্কা বললো, নীল আমি দয়িতা নই, আমি বেশি টক পছন্দ করি না।
আইসক্রিম খেতে গিয়েও নীল বললো, অনুষ্কা চকলেট ফ্লেবার খাও ,দয়িতা চকলেট ভালোবাসে।
অনুপস্থিত থেকেও প্রতিটা মুহূর্তে যেন দয়িতার উপস্থিতি ভীষণ ভাবে অনুভব করলো অনুষ্কা। নীলাদ্রি যেন দয়িতার সমার্থক। দয়িতা ঠিক যা যা পছন্দ করে নীলাদ্রিও তাই। দয়িতা ঠিক যেগুলোতে বিরক্তি প্রকাশ করে নীলাদ্রিরও বিরক্তির কারণগুলো একই। ঘন্টা পাঁচেক নীলাদ্রির সাথে কাটিয়ে অনুষ্কার মনে হলো দয়িতার প্রতিশব্দ হলো নীলাদ্রি। এরা দুজনে হয়তো এটা জানেই না।
অনুষ্কা নীলের চোখের দিকে পূর্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, নীলাদ্রি তুমি কি দয়িতাকে ভালোবাসো?
নীলাদ্রি অন্যমনস্ক ভাবে বললো ,দয়িতা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।
কথাটা বলেই ফোনে দয়িতার নাম্বারে রিং করতে শুরু করলো। কেন দয়িতা ওর ফোন ধরছে না বলে উতলা হয়ে উঠলো। আজ ই যেতে হবে দয়িতার বাড়িতে।
অন্যমনস্ক নীলাদ্রির পাশে হাঁটছে অনুষ্কা।
দুজনেই ভীষণ চুপচাপ। হঠাৎ আচমকা অনুষ্কা বললো, নীলাদ্রি তোমার সব থেকে কাছের মানুষ কে?
কুইক উত্তর এলো ,দয়িতা।
অনুষ্কা একটা ট্যাক্সি ধরে একাই বাড়ি ফিরে এলো। আজও ও নীলের ফেবারিট রং রেড কালারের কুর্তি পরেছিল। যদিও নীল একবারের জন্যও ওকে সুন্দর লাগছে বলেনি।
দয়িতার ঘরে দুজনে দুটো চেয়ারে চুপটি করে বসে আছে ।দয়িতা আর নীল সামনাসামনি। দয়িতার মা কফি রেখে গেছে। কেউ একটা শিপও খায় নি। কফি ঠান্ডা হচ্ছে। নিশ্চুপ দুটো মানুষ। সেই ছোট্ট বেলার দস্যি দামাল বন্ধু দুটো নয়। আজকের নীল আর দয়িতা দুজনেই নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে। ওরা নিজেরাও জানে না এই মুহূর্তে ঠিক কি বলা উচিত। এতদিন পর্যন্ত ওরা জানতো ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড। মাত্র কয়েকদিন আগেই ওরা টের পেয়েছি মনের অলিন্দে শুধু একটা নামেরই আনাগোনা শুরু হয়েছে। বন্ধুত্বের সম্পর্ককে সামনে রেখে হঠাৎ করেই বসন্ত বাতাস বইতে শুরু করেছে। দয়িতার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে বেশ লজ্জিত। নীলকে যে সে ভালোবাসে এটা ভাবতেই কেমন একটা লজ্জা করছে ওর। আবার সত্যিটাকে অস্বীকারও করা যাচ্ছে না।
নীলাদ্রিও বেশ বুঝেছে এই কদিনে দয়িতাকে না দেখে কি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে ওর মনে। অনুষ্কাকে ভালবাসে মনে করে সম্পর্কটা এগোতে যেতেই মারাত্মক আঘাত টা এলো নীলের জীবনে। অনুষ্কার সব কিছুই নীলের থেকে আলাদা। বারবার অতিপাতি করে খুঁজেও অনুষ্কার মধ্যে দয়িতার ছায়া দেখতে পায়নি নীল। অথচ মনের মধ্যে শুধু একটাই অবয়ব আঁকা। সেই ক্লাস টুয়ের ছিচকাঁদুনে মেয়েটা,কখনো ক্লাশ এইটের সেই প্রথম শাড়ির লজ্জা পাওয়া মেয়েটা ,কখনো আবার উদ্ভিন্ন যৌবনা কলেজের তন্বী। যার চোখের আগুনে নীল ধ্বংস হতে পারে নিমেষে। সব মুখগুলো কোনো একটা বিন্দুতে মিশে গিয়ে একটাই অবয়ব গঠন করেছে, সেটা দয়িতার।
নিস্তব্ধতা ভেঙে নীলাদ্রিই প্রথম কথা বলে উঠলো, এই তুই অনুষ্কাকে বলেছিলি,আমার ফেবারিট কালার রেড? আমি যে রেড দুচোখে দেখতে পারি না তুই জানিস না?
দয়িতা ঘাড় নেড়ে বললো, আমি কি করে জানবো তোর কি রং পছন্দ?
তুই জানিস না ?তাহলে দোকানে গিয়ে প্রথমেই কেন সাদা-কালোর কম্বিনেসন খুজিস নিজের কুর্তিতে?
কেন তোর আলমারিতে বেশির ভাগ ড্রেস ওই একই কম্বিনেসনের!
তুই জানিস না বল, আমি ইডলি খাইনা! মোমো খেতে ভালোবাসি? অনুষ্কা ইডলি বানিয়ে এনেছিল আমার জন্য।
দয়িতা রাগী মুখে বললো, বেশ করেছি মিথ্যে বলেছি।
নীলাদ্রি বললো,কেন বলেছিস সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি?
তুই জানিস নীল কেন মিথ্যে বলেছি অনুষ্কার কাছে!
নীলাদ্রি খুব আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো ,কবে প্রথম বুঝতে পারলি তুই?
যেদিন ওই লোকাল ট্রেনে তোকে ওই মেয়েটা হ্যান্ডসাম বলেছিল সেদিন প্রথম গা জ্বলে গিয়েছিল। ওদিন থেকে ...
তুই কবে থেকে বুঝতে পারলি নীল?
ওই যেদিন তুই গৌরবকে মেরেছি বলে আমার ওপর রাগ করেছিলি সেদিন সন্ধ্যেবেলা মনে হচ্ছিল গৌরবকে আমি একটু কমই মেরেছি,আরেকটু মারতে হত।
আর আগেও দুটো হাত মিলিত হয়েছে বহুবার। এই প্রথম ওদের দুটো হাতের ছোঁয়ায় নতুন গল্প বলতে শুরু করলো। ভালোবাসি না বলেও বোধহয় অফুরন্ত ভালোবাসা যায়।
নীল বললো,আমার শার্টের বোতাম দুটো ফেরত দিবি পেত্নী।
উহু আগে আমার স্কার্টটা জোড়া লাগিয়ে দে।
ছোট্ট ছোট্ট ভালোলাগাগুলো মিলে মিশে এক অদ্ভুত কষ্ট কষ্ট সুখে মিশে যাচ্ছে ওরা।
গল্প: অধিকারবোধ
লিখেছেন: অর্পিতা_সরকার
গল্প কালেক্টেড