Arif's Voice

Arif's Voice আসসালামু আলাইকুম।

বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে বুঝলাম যে, প্রফেসর ইউনুস এখনো তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন নাই।এইটা ট্রুলি একটা ক্রাই...
24/05/2025

বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে বুঝলাম যে, প্রফেসর ইউনুস এখনো তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন নাই।

এইটা ট্রুলি একটা ক্রাইসিস, যার পরিণতি বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বাংলাদেশের জনগণ, রিফর্ম, এক্সপেক্টেড নেক্সট উইনার বিএনপি এবং এক্সপেক্টেড বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি ও অন্যান্য দলের জন্যে খারাপ।
খুব খারাপ।
একটাই উইনার তারা, যারা বাংলাদেশকে কমপ্লিটলি ডিস্টাবিলাইজ করে বিভিন্ন ধরনের চিত্তসুখ পাবে এবং সেইটাকে বিপ্লবের নামে ইন্টেলেকচুয়ালাইজ করবে।

প্রফেসর ইউনুসের প্রধান ইস্যু হচ্ছে ~ম্যান্ডেট ~আমি যদি আমার কাজের সুযোগ না পাই, তাহলে আমি কেন থাকবো?

কারন তিনি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশকে সংস্কারের মাধ্যমে পাল্টে দেওয়ার যে সুযোগ এসেছে, সেইটা সম্পন্ন করে যেতে যে কোনো পরিবর্তনের পূর্ণ ম্যান্ডেট বাংলাদেশের মানুষ তাকে দিয়েছে।

সেই ম্যান্ডেটকে যদি আর্মি, বা বিএনপি বা কোনো শক্তি আন্ডারমাইন করে, তখন তিনি তাদের কন্ডিশনে থাকবেন না। উনার কথা হইলো, "তাহলে তোমরা তোমাদের মতো চালাও। আমি এইভাবে কাজ করবো না।"

এমনকি নির্বাচনের একটা নির্দিষ্ট তারিখ বা মাস ঘোষণা করাটাকে তিনি মনে করেন, তার কাজের জন্যে একটা কন্ডিশন আরোপ করা, যে কন্ডিশনে তিনি বাংলাদেশের চিফ অ্যাডভাইজার হন নাই।

এইটা ট্রুলি একটা ক্রাইসিস। কারণ, তিনি তার জায়গায় খুব স্থির রয়েছেন।

উনার সাথে যারা নেগোশিয়েট করছেন, তাদের তাকে বুঝাতে হবে যে, "স্যার, আপনার পরিবর্তনের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে, কিন্তু নির্বাচিত বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, কারোরই ইউনিল্যাটারাল অ্যাকশনের ম্যান্ডেট থাকে না। প্রাকৃতিকভাবে সীমা আরোপিত হয়।"

উন্নয়নের গল্পের ফানুসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনমানুষের যে রিয়ালিটি আড়াল করেছেন তা হলো, আজকে অল্প শিক্ষিত ৪ কোটি ব্যক্তির ডিসেন্ট ওয়ার্ক নাই। তারা ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করে, আধপেটা থাকে। বিয়ে করতে পারছে না।
বিদেশেও যেতে পারছে না, দেশেও কাজের সুযোগ নাই।
কোনো টেকনিক্যাল স্কিল নাই, কিন্তু ফেসবুক চালাতে পারে।

এই বিশাল জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করে, আমেরিকা সেন্ট মার্টিনে একটা ঘাঁটি করতে চায়। পোর্টের অপারেশনের দায়িত্ব বিদেশিদেরকে দেওয়া মানে সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দেওয়া, আরাকানে মানবিক কোরিডোর হচ্ছে আমেরিকার বার্মা এক্ট একজিকিউশানের গোপন ষড়যন্ত্র।

তারা প্রফেসর ইউনুস নয়, নির্বাচিত কোন সরকারও যদি এই ধরনের কিছু করতে যায় সেইটা এপ্রুভ করবেন না।

ফলে, প্রফেসর ইউনুসের যদি পূর্ণ ম্যান্ডেট থাকেও, তার উপরে ন্যাচারাল লিমিট আছে।

তিনি জানেন না, নির্বাচন ডিসেম্বর-এ হবে—এই বক্তব্য চার বার এডিট করলে, বা সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করালে, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই সিগন্যাল যায়, তার ক্ষমতা থেকে নামার ইচ্ছা নাই এবং তখন তারা তাদের রাজনীতি করবে।

বাংলাদেশের বিগত কয়েক মাসে চিফ প্রভোকেটররা —যারা সেনাবাহিনীতে আপার লেভেলে তাদের পছন্দ মতো ব্যক্তি বসানোর জন্যে ক্রমাগত ক্যাম্পেইন করে গেছে—তাদের মাস্টারমাইন্ডকে সেনাবাহিনীর উপরে বসালে সেনাবাহিনিও রিঅ্যাক্ট করবে।

এইগুলো ন্যাচারাল লিমিটস।
তাকে বুঝাতে হবে, অবশ্যই আপনার সংস্কারের পূর্ণ ম্যান্ডেট আছে কিন্তু সকল ম্যান্ডেটের ন্যাচারাল লিমিট আছে। এই লিমিট একটা রাজনৈতিক দলকেও মানতে হয়, বাংলাদেশের বিপ্লব-পরবর্তী ঐক্যের প্রতীক প্রফেসর ইউনুসের উপরেও আরোপিত হয়।

পলিটিকাল সেটেলমেন্ট কিভাবে কাজ করে, সেইটা নিয়ে প্রফেসর মুস্তাক খানের গবেষণা বৈশ্বিক অ্যাকাডেমিক সার্কেলে গ্রহণযোগ্য হয়েছে—সেইটা এরশাদ আমলের ক্ষমতার ব্যালেন্সের উপরে তৈরি।
এই পলিটিকাল সেটেলমেন্টটার মধ্যেই কৌশলী হয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে হয়।
কারোরই আনলিমিটেড পাওয়ার নাই।
একমাত্র আনলিমিটেড পাওয়ার থাকে স্কিন-ইন-দ্য-গেম ছাড়া ইউটিউবারদের—যারা প্রতি ৩০ দিনে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, কারণ তাদের বক্তব্য ও পজিশনের কোনো কনসিকোয়েন্স নাই।

রিয়েল হিউম্যান, রিয়েল ইনস্টিটিউশন, রিয়েল লিডারের ক্ষমতায় সব সময়েই লিমিট থাকে।

মনে হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রফেসর ইউনুসের সাথে নেগোশিয়েশনের প্রধান স্টেকহোল্ডাররা সবাই যদি ছাড় না দেন এবং প্রফেসর ইউনুস নিজেও যদি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার ন্যাচারাল সীমা ও সীমাবদ্ধতা না বোঝেন তবে সবার জন্যেই খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

আগামীতেও যদি একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয় এবং সেইটার পর যদি বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা না আসে, তবে বাংলাদেশে কখনই বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে না, কোটি কোটি বেকারের জন্যে চাকরির সুযোগ তৈরি হবে না—সাধারণ মানুষ বলা শুরু করবে, "হাসিনার আমলেই ভালো ছিলাম।"

আমাদের প্রফেসর ইউনুসকে প্রয়োজন, যেন তিনি আগামি নির্বাচন পর্যন্ত দেশের পথনির্দেশক হিসেবে থাকেন—এখন পর্যন্ত যে সংস্কার পরিকল্পনা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে আগামি সরকারের হাতে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করে যেতে পারেন ।

যদি সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারগুলো অর্জিত না হয়, তবে একটা গন অভ্যুথানে ২০০০ মানুষের আত্মত্যাগের ন্যূনতম ফলও আসবে না।
©

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arif's Voice posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share