06/11/2024
সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন, সফলতা নাকি বর্বরতা?
-আব্দুল বাসিত নুয়েদ
দুটো মাছকে পানি থেকে তুলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটা আলিশান কক্ষের মধ্যে রাখুন। পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট খাবার এনে দিন তাদেরকে। পানি ছাড়া পৃথিবীর সবরকম সুবিধা দিয়েও তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন না। পানি ছাড়া তাদের মৃত্যু অনিবার্য। কারণ, তাদের প্রকৃতিই এমন। তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে এভাবেই।
একটা ‘উট’কে যতই সবুজে ঘেরা নির্মল পরিবেশ আর অট্টালিকার বাহারে সমাদরে রাখুন না কেন, মরুভূমি ছাড়া সে অসহায়। পৃথিবীকে ধোকা দিয়ে যতই প্রচার করুন না কেন, আমি ‘উট’কে ধুধু মরুর প্রান্তর থেকে তুলে এনে সবুজে ঘেরা অট্টালিকায় রেখেছি। দেখো পৃথিবী, আমি উটের কত বড়ো উপকার করেছি। কিন্তু এতে ‘মরুর জাহাজ’ খ্যাত উটের একটুও উপকার হবে না বরং তাকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়া হবে। কারণ তার প্রকৃতিই এমন। তাকে সৃষ্টি করাই হয়েছে মরুর জন্য।
আজকে দেখা যাচ্ছে, নারী অগ্রগতির নামে তাদেরকে এমন সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, এমন সব কাজে তাদেরকে ব্যস্ত করা হচ্ছে, মূলত তা তাদের কাজ নয়। তাদের প্রকৃতির বাইরে গিয়ে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ নারী-পুরুষের রয়েছে সৃষ্টিগত বিশাল পার্থক্য। তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে কোমল করে৷ এস্ট্রোজেন হরমোন দ্বারা সৃষ্ট কোমল দেহ-মনের অধিকারী একজন নারীকে যখন বাইরে নিয়ে এসে টানা আট/দশ ঘন্টা খাটাবেন, ৯০ মিনিট ধরে স্টেডিয়ামে বিরামহীন পরিশ্রম করাবেন, আবার পুরুষ হয়ে সেটাকে আপনি উপভোগ করবেন; তখন আমি আপনাকে একজন মধ্যযুগীয় বর্বর ছাড়া আর কিছু বলতে পারি না। এটা নারীর অগ্রগতি নয়, বরং নারী এবং নারীর প্রকৃতিকে ধ্বংস করে দেওয়া।
মধ্যযুগের বর্বরতা আপনারা সবাই জানেন। রোমের নেতৃস্থানীয়রা অসহায়দেরকে ক্ষুধার্ত বাঘ বা সিংহের খাঁচায় ছুড়ে ফেলে দেওয়া হতো। রোমের বড় বড় স্টেডিয়ামগুলোতে প্রদর্শিত হত এ ধরণের সভ্যতার প্রদর্শনী। কীভাবে সিংহ মানুষ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে, সেটা উপভোগ করতো সেই বর্বর জাতি। একজন নারী টানা ৯০ মিনিট দৌড়াতে সক্ষম নয়। তার জন্য এটা জীবন-মরণের লড়াই। এর ফলে নারীর মাতৃত্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এই কঠিন পরিশ্রমের কারণে একজন নারী পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর এটা দেখে আমরা উপভোগ করি! আর বলি, এটাই নাকি নারীর অগ্রগতি! কতটা বর্বর আমরা চিন্তা করে দেখুন।
নারীর প্রকৃতি হচ্ছে ঘরে অবস্থান করা। বআইরের জঞ্জাল তাদের ধর্য্যক্ষমতার অতীত। তাদেরকে সাংসারিক প্রকৃতি দিয়েই সৃষ্টি করা হয়েছে। এস্ট্রোজেন হরমোনের দাবী হচ্ছে মায়া, মমতা ও কোমলতা- যার মাধ্যমে সে তার সন্তানকে লালন করবে। সংসারের দেখভাল করবে।
কিন্ত যখন আপনি অগ্রগতির নামে তাদেরকে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে বাহ্যিক কিছু সুবিধা দিয়ে তাদেরকে পৃথিবীকে ধোকা দেবেন, তখন সেই পানি থেকে শুকনোতে তুলে আনা মাছ আর সংসার থেকে ফুটবল মাঠে নিয়ে আসা নারীরা মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। আপনারা যারা এসব উপভোগ করছেন, তাদেরলে মধ্যযুগীয় বর্বর ছাড়া আপাতত কিছু বলতে পারছি না।