21/02/2026
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশ্বের ১৯০টি দেশে এখন প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ৩০ কোটিরও বেশি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে। এ বিশাল অর্জন একান্ত-ই আমাদের। রক্তের লাল কাপড়ে মোড়ানো একুশ। যাদের আন্দোলন সংগ্রামের নিরন্তর লড়াইয়ে পাওয়া আমার মায়ের ভাষা বাংলা। যাদের ত্যাগের রক্তিম শিখরে লেখা আমাদের উজ্জ¦ল দিশা ৫২। জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি তো সেই ভাষা আন্দোলনই। জাতির সেই শ্রেষ্ঠসন্তান, বীর সেনানী শহীদদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও সালাম। কিন্তু যাদের ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের মুখের ভাষা। ভাষা শহীদ আর ভাষা সৈনিকদের আমরা কি পেরেছি যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মানে ভূষিত করতে?
ভাষা আন্দোলনের লড়াইয়ে প্রথম কাতারের-ই একজন মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তাঁর ঐতিহাসিক অমর কীর্তি। দেশে এবং জাতি আজকের এই দিনে তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। আগামী দিনের নতুন প্রজন্ম দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার অধিকার আদায়ে ভাষা সৈনিকদের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে প্রেরণা লাভ করবে। কোন কালো কালিমা তাদের সোনার অক্ষরে লেখা এ অবদানকে ম্লান করতে পারবে না।
বিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত ভাষার জন্য জীবন দেয়ার ইতিহাস আমরাই কায়েম করতে সক্ষম হয়েছি। আবার বিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত আমরাই প্রথম জাতি যারা একজন ভাষা সৈনিককে আমৃত্যু কারাগারে আবদ্ধ করে রেখেছিলাম। এটি ছিল অমানবিক!! মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন! কিন্তু ইতিহাস একদিন এ অন্যায়ের বিচার করবে।
এই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম। স্বমহিমায় উদ্ভাসিত একজন মানুষ। নিজ যোগ্যতা বলে তার ঐতিহাসিক স্বাক্ষর তিনি নিজেই। তিনিই তার উপমা। প্রাচ্যের অক্রফোর্ড হিসেবে খ্যাত ডাকসু’র সাবেক জিএস। সময়ের সাড়াজাগানো ছাত্রনেতা ছিলেন গোলাম আযম। বর্তমান সময়ের আন্দোলন সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, কেয়ারটেকার সরকারের রূপকার। তিনি ছিলেন বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অভিভাবক।
মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম আজ একটি ইতিহাস, একটি আন্দোলন, একটি চেতনা আর বিশ্বাসের স্মৃতির মিনার হয়ে আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান। অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন একজন সৎ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, খ্যাতিমান অহিংস রাজনৈতিক নেতা। যিনি ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে শ্রদ্ধেয় প-িত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এই মেধাবী চৌকস ও অভাবনীয় নেতৃত্বের গুণাবলীসম্পন্ন ক্ষণজন্মা মানুষ ১৯২২ সালে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট ঢাকা থেকে পাস করেন তিনি। স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সম্পৃক্ত হন ছাত্র আন্দোলনের সাথে। ১৯৪৭-৪৮ ও ৪৮-৪৯ সালে পরপর দু’বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর জিএস (জেনারেল সেক্রেটারি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।