25/05/2026
বিদ্রোহের অগ্নিশিখা, প্রেমের অনন্ত সুর, সাম্যের অদম্য আহ্বান—
তিনি আমাদের জাতীয় কবি, আমাদের অহংকার, আমাদের চেতনার নাম— কাজী নজরুল ইসলাম।
আজ তাঁর জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি সেই মহামানবকে, যিনি তাঁর কলম দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়েছেন এবং বাঙালির হৃদয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন সাহস ও স্বাধীনতার আগুন।
নজরুল শুধু একজন কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিদ্রোহের প্রতীক। তাঁর লেখা “বিদ্রোহী” কবিতা আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল বজ্রের মতো শক্তিশালী। কারাগারের শিকলও থামাতে পারেনি তাঁর সত্য উচ্চারণ।
ধর্ম, বর্ণ, জাত—সব বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি লিখেছিলেন মানবতার গান। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। তাই তাঁর লেখায় যেমন ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, তেমনি উঠে এসেছে হিন্দু ধর্মীয় ভাবনা, প্রেম, ভক্তি ও সাম্যের বাণী। তাঁর সৃষ্টি আজও সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ, নাটক—বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। হাজারো নজরুলসংগীত আজও মানুষের হৃদয়ে সাহস, প্রেম ও আবেগ জাগিয়ে তোলে। তাঁর লেখা শুধু সাহিত্য নয়, এটি একটি চেতনা, একটি আন্দোলন, একটি শক্তি।
আজকের এই দিনে আমরা শুধু একজন কবিকে স্মরণ করি না, আমরা স্মরণ করি এক অদম্য আত্মাকে—
যিনি শিখিয়েছেন মাথা নত না করতে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে,
এবং মানুষকে ভালোবাসতে।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি আমাদের জাতীয় কবিকে।
তাঁর আদর্শ, তাঁর সাহস, তাঁর সৃষ্টি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
শুভ নজরুল জয়ন্তী। 🌼