12/07/2023
LinkedIn সঠিকভাবে ব্যবহার করার ১০টি টিপস:
LinkedIn সবার কাছেই সুপরিচিত একটি নাম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ পেশাদারদের কমিউনিটি হচ্ছে এই লিংকডইন। জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে কর্পোরেট জগতে ৭৯% নিয়োগকর্তা চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে লিংকডইনের সহায়তা নেন, কারণ একজন কর্মীর সবগুলো পেশাগত দক্ষতা সম্পর্কে জানতে লিংকডইনের কোন তুলনা নেই।
এজন্যই বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ লিংকডইন ব্যবহার করে চলেছেন ক্যারিয়ারের অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করে তুলতে। বাংলাদেশেও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে লিংকডইনের জনপ্রিয়তা।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে চাইলে আজই লিংকডইনের ব্যবহার শুরু করুন।
আমাদের দেশে যে সমস্যাটি প্রকট আকারে দেখা যায় – সঠিক ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণার অভাবে লিংকডইন ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া। অথচ সহজ কিছু কৌশল অবলম্বন করে আপনিও পেতে পারেন সাফল্যের দেখা।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক লিংকডইন সঠিকভাবে ব্যবহার করার ১০টি উপায়:
১। মানুষ সবার আগে যে জিনিসটি লক্ষ্য করবে তা হচ্ছে আপনার নাম। একটি ভুল অনেকের প্রোফাইলেই দেখা যায় – নাম ঠিকমতো না লেখা। যেমন কারো নাম যদি লেখা হয় ‘MAHMUD BIJOY’ – এভাবে পড়তে কিন্তু আরাম হচ্ছে না।
‘Mahmud Bijoy’ আদ্যক্ষর বড় হরফে এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট হরফে – এভাবে পড়তে সহজ হয়। সূক্ষ্ম এই বিষয়টি অনেকে এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমেই আপনার যোগাযোগ দক্ষতা, অর্গানাইজেশন, পেশাদারিতা – ইত্যাদি সম্পর্কে একটা ধারণা গড়ে উঠবে।
২। ছাত্রজীবনে লিংকডইন প্রোফাইল খোলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অনেকেই তাদের প্রোফাইলে ক্লিয়ার করে লিখেন না তিনি কোন বিষয়ের ছাত্র/ছাত্রী বা তার দক্ষতা কিসে।
পরিচয়ে কেবল ‘Student’ না লিখে কোন প্রতিষ্ঠানে, কোন বিষয়ের উপর পড়ছেন, কোন বর্ষে আছেন সেগুলো উল্লেখ করুন, এবং নিয়মিত আপডেট করুন।
৩। ছাত্র/ছাত্রীদের আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে – শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকভাবে লেখা আবশ্যক। যেমন কেউ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাহলে প্রোফাইলে ‘Dhaka University’ না লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল নাম ‘University of Dhaka’ লিখতে হবে।
কারণ লিংকডইন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, এখানে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
৪। ছাত্রজীবনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকে না অনেকেরই। এজন্য অনেকেই অভিজ্ঞতারজায়গায় শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ দিয়ে থাকেন। এগুলো মূলত ‘Education’ সেকশনে লেখা উচিত।
অভিজ্ঞতার জায়গাটি একদম খালি না রেখে আপনি কী কী কাজ করেছেন সেগুলো উল্লেখ করুন। অনেকেই কোচিং সেন্টারে পড়ান, ছোটখাটো ইন্টার্নশিপ করেন। এছাড়া অনলাইনে লেখালেখি, ভিডিও বানানো, ছবি তোলা ইত্যাদি নানারকম কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে – আপনি এমন কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে অভিজ্ঞতার জায়গায় সেগুলো তুলে ধরুন।
৫। এবারে আসা যাক কর্মজীবীদের প্রসঙ্গে। মনে করুন আপনি এ পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, কিন্তু লিংকডইন ফোকাস করবে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকে – সর্বশেষ যে প্রতিষ্ঠানে আপনি চাকরি করছেন বা করেছেন।
সুতরাং এই প্রতিষ্ঠানে আপনার কাজ ও অর্জনগুলোকে ধাপে ধাপে সাজিয়ে স্পষ্ট করে উল্লেখ করুন, গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য প্রেজেন্টেশন, ভিডিও, ছবি ইত্যাদি যুক্ত করতে পারেন, এতে দর্শক আপনার প্রতি আরো আকৃষ্ট হবে।
৬। লিংকডইন মানেই যে কেবল পেশাদারি কাজের কথা লিখতে হবে এমন না। মানুষের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে ভাল উপায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ গড়ে তোলা।
তাই প্রোফাইলে আপনার বিভিন্ন গঠনমূলক শখের কথা লিখতে কার্পণ্য করবেন না। যারা আপনার প্রোফাইল পড়ছে তাদের অনেকের সাথেই আপনার শখ মিলে যেতে পারে, সেখান থেকে আপনার সাথে পরিচয়ের আগ্রহও তৈরি হতে পারে।
৭। যোগাযোগের জন্য একটি মাত্র ইমেইল ব্যবহার করুন। অনেকেরই কয়েকটি ফোন নাম্বার/ইমেইল একাউন্ট থাকে। কিন্তু একটি একাউন্ট থাকবে যেখানে আপনাকে সবসময় পাওয়া যাবে।
সেই ইমেইলটি প্রতিনিয়ত চেক করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দ্রুত রিপ্লাই পেলে প্রাপকের মনে আপনার পেশাদারিতা এবং দক্ষতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। অনেকে শুধু অফিসে মেইল চেক করেন, বাসায় আসলে বা ছুটির দিনে মেইল চেক করেন না/ রিপ্লাই দেন না। এগুলো অপেশাদারিতার লক্ষণ।
অ্যাপলের CEO টিম কুক এখনো প্রতিদিন ভোর চারটায় উঠে সবার প্রথমে মেইল চেক এবং রিপ্লাই দেওয়ার কাজ সারার মাধ্যমে দিন শুরু করেন।
৮।‘লিংকডইন অ্যানসার’ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান যেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। আপনি সেখানে লগইন করে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানেন সেগুলো প্রদান করুন।
চাইলে প্রশ্নসহ উত্তরটি আপনার ব্লগে প্রকাশ করে তারপর লিংকডইনে দিয়ে সোর্স হিসেবে আপনার ব্লগ ঠিকানা দিয়ে দিতে পারেন। এতে কোয়ালিটি ভিজিটর পাবেন, যা আপনার ব্যবসার প্রসারে সহায়ক হবে।
৯। প্রসার বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন করার বিকল্প নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি সমস্যা হচ্ছে বেশিরভাগ গ্রুপই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হয় না। লিংকডইনে প্রতি সেকেন্ডে গ্রুপ তৈরি হয়।
কানেকশন তৈরি অনেক বড় একটি দক্ষতা
তাই সঠিক গ্রুপ নির্ধারণ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হলেও এটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাচাই-বাছাই করে আপনার পেশা, দক্ষতা, আগ্রহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্রুপগুলোয় যোগ দিন। গ্রুপে সদস্য যতো বেশি হয় ততো ভাল। ভাল গ্রুপে একটি পোস্টই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে।
১০। অনেকেই লিংকডইন ব্যবহার করে থাকে কেবল চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে। অথচ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা না থাকলে এভাবে চাকরি পাওয়া দুঃসাধ্য একটি ব্যাপার।
লিংকডইনকে শুধু চাকরি খোঁজার মাধ্যম হিসেবে না দেখে মানুষের সাথে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় মনোযোগী হন, এর সুদূরপ্রসারী উপকার পাবেন।