17/05/2025
একটি আসিয়ার অব্যক্ত কান্না, একটি জাতির জাগরণের আহ্বান
সম্প্রতি বহুল আলোচিত শিশু আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে আদালত যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন—মৃত্যুদণ্ড—তা আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি শুধু একজন অপরাধীর বিচার নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক অবস্থানের প্রতিচ্ছবি। এই রায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অন্যায় যিনি করেন, শুধু তিনিই অপরাধী নন—যিনি চুপ থাকেন, যিনি প্রশ্রয় দেন, যিনি প্রতিবাদ না করে মুখ ফিরিয়ে নেন, তিনিও অপরাধী ।
আসিয়া আর নেই। একটি নিষ্পাপ প্রাণের নির্মম পরিণতি আমাদের চোখে জল আনে, মনকে ক্ষোভে-দুঃখে ভরে দেয়। তবে এই কান্না শুধু শোকের নয়, এই কান্না আমাদের জাগিয়ে তোলার আহ্বান। আর কোনো আসিয়া যেন হারিয়ে না যায়, আর কোনো শিশু যেন এই নির্মমতার শিকার না হয়—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব। আমাদের আচরণে, মনুষ্যত্বে, বিবেকে, আর ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতায়ই সে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। একজন ধর্ষক শুধু একজন শিশুকে প্রাণে মারে না, সে সমাজের উপর বিশ্বাস, নিরাপত্তা আর মানবতার প্রতিও আঘাত হানে। তাই শুধু বিচারই যথেষ্ট নয়—প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে, প্রতিবাদ করতে শিখতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
আসিয়ারা হারিয়ে যাবে না, যদি আমরা সবাই এক হয়ে তাদের রক্ষা করি। তারা যেন আমাদের সমাজে নিরাপদে বেড়ে ওঠে, হাসে, খেলে, স্বপ্ন দেখে—এটাই হোক আমাদের ভবিষ্যৎ সমাজের চিত্র।
আসুন, আমরা একসাথে প্রতিজ্ঞা করি—একজনের অপরাধ যেন আরেকজনের নীরবতায় লুকিয়ে না থাকে। ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সচেতনতার পথে সবাই মিলে এগিয়ে চলি।