06/09/2026
এই গরু ধরে বসে ছিল, গরু না নিয়ে বাড়ি আসবে না। গরু,ছাগল,ঘোড়া,হাস সবাইকে ধরা শেষ। আমি নিজে কখনো এসব ধরেছি কি না মনে করতে পারিনা। কারণ আমার খুতখুতে স্বভাব বেশি। কুকুর-বিড়াল নিয়ে আমার ফোবিয়া টাইপ আতঙ্ক কাজ করে। এগুলোর কাছে অবশ্যই যেতে দেইনা।
কিন্তু শেহজিল ফার্ম এনিমেল-বার্ড ধরতে চাইলে ওকে ধরতে দেই sensory + real-world learning experience হিসেবে। প্রাণীর শরীরের texture, উষ্ণতা, নড়াচড়া অনুভব করার জন্য এবং বাস্তবে একটা প্রাণীর সঙ্গে interaction করছে সেজন্য।
বাচ্চাদের শুধু বই, খেলনা আর মোবাইলের স্ক্রিনের মধ্যে রেখে শেখানোটা শেখানো নয়। ওদের চারপাশের পৃথিবীটাকেও চিনতে দিতে হয়।
ঘাসে হাঁটা, পানিতে হাটা, মাটি ছোঁয়া, পাতা কুড়িয়ে দেখা, ফুল কুড়িয়ে দেখা,পাখি দেখা, পশুকে আলতো করে ছুঁয়ে দেখা এসবও ওদের শেখার অংশ।
একটা গরু বা হাসের গায়ে হাত দিয়ে হয়তো একদিনে বড় কিছু শিখে ফেলেনি কিন্তু অনুভব করা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীর শরীর কেমন, তার লোম কেমন, তার ফেদার কেমন,সে কীভাবে নড়ে,তাকে কিভাবে ধরতে হয়, প্রাণীর সঙ্গে কীভাবে কোমলভাবে আচরণ করতে হয়।
ডেভলপমেন্ট বলতে শুধু কথা বলা, হাঁটা, লেখা বা অঙ্ক বা ছড়া শেখা নয়। একটা শিশুর চারপাশের পৃথিবীকে দেখা, ছোঁয়া, অনুভব করা, প্রশ্ন করা এবং প্রাণী-প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়াও তার শেখারই অংশ।
তাই সুযোগ থাকলে বাচ্চাদের একটু বাইরে যেতে দিন।
মাটি ছুঁতে দিন, ঘাসে বসতে দিন, পাখি দেখতে দিন, গাছ চিনতে দিন,পানিতে লাফাতে দিন,বিভিন্ন টেক্সচারের মাটিতে হাটতে দিন।
তবে অবশ্যই সেফটি এবং হাইজিন মেইন্টেইন করে আর আপনার বাচ্চার ধরণ বুঝে। আমি পানিতে লাফাতে দিয়েছি বলে আপনি ও চোখ মুখ বন্ধ করে দিয়ে দিবেন এমন টা নয়।
শেহজিল ছোটবেলায় খুবই অসুস্থ ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১ মাস হসপিটালেছিল। পি আই সি ইউ তে ছিল। তারপর ও অসুখ লেগেই থাকত। সে সময় ওকে নিয়ে আমি আতঙ্কেই থাকতাম অলওয়েজ আর অতিরিক্ত সেনসিটিভ।
ওকে আমি মাটিতে নামিয়েছিলাম ওর এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর। এবং সে একদম ই মাটিতে নামতে চাইত না তখন থেকে,কাঁদত। ওর এই ভয় এবং ইরিটেশন কাটাতে আমার বেগ পেতে হয়েছে। মাটিতে পা লাগাত না হাত লাগাত না। পড়ে গেলেও হাত মাটিতে ছোয়াত না।
এখন আল্লাহর রহমতে বড় হচ্ছে। রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়ছে,মানিয়ে নিতে শিখছে। আমি ও মাটি,পানি,প্রকৃতি সবকিছুর সাথে ইন্ট্রিড্যুস হওয়ার সুযোগ দিচ্ছি মোট কথা কাছে থেকে মোটামুটি সেফ সবকিছুর কাছেই ছেড়ে দিচ্ছি। ওর সেই আগের ইরিটিশেন এবং ভয় ও কেটে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।
আমার এই ছেলে এখন কাদা পানি, গরু-ছাগল ইত্যাদি দেখলে টেনে হিচড়েও আনা যায় না। ওখানে গিয়ে লাফাবে,ছ্যাড়াব্যাড়া অবস্থা করে ফেলবে,সবকিছুকে দৌড়ানি দিবে। সেদিন রাজহাস দেখে আর আসেনা। রাজজাস কে দিছে দৌড়ানি ধরার জন্য। এদিকে আমিই রাজহাস ঠোকর দিবে কি না সেই ভয়ে শেষ।
#শেহজিল
#শেহজিল_২৫মাস
#শেহজিলের_প্রকৃতিদেখা