Smile With Noor

Smile With Noor Mother||Teacher

সুস্থ শিশু, সচেতন মা আর শিক্ষিত সমাজই পারে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে।
শেহজিলের সাথে আমার মা হয়ে উঠার জার্নি......

এই গরু ধরে বসে ছিল, গরু না নিয়ে বাড়ি আসবে না। গরু,ছাগল,ঘোড়া,হাস সবাইকে ধরা শেষ। আমি নিজে কখনো এসব ধরেছি কি না মনে করতে প...
06/09/2026

এই গরু ধরে বসে ছিল, গরু না নিয়ে বাড়ি আসবে না। গরু,ছাগল,ঘোড়া,হাস সবাইকে ধরা শেষ। আমি নিজে কখনো এসব ধরেছি কি না মনে করতে পারিনা। কারণ আমার খুতখুতে স্বভাব বেশি। কুকুর-বিড়াল নিয়ে আমার ফোবিয়া টাইপ আতঙ্ক কাজ করে। এগুলোর কাছে অবশ্যই যেতে দেইনা।

কিন্তু শেহজিল ফার্ম এনিমেল-বার্ড ধরতে চাইলে ওকে ধরতে দেই sensory + real-world learning experience হিসেবে। প্রাণীর শরীরের texture, উষ্ণতা, নড়াচড়া অনুভব করার জন্য এবং বাস্তবে একটা প্রাণীর সঙ্গে interaction করছে সেজন্য।

বাচ্চাদের শুধু বই, খেলনা আর মোবাইলের স্ক্রিনের মধ্যে রেখে শেখানোটা শেখানো নয়। ওদের চারপাশের পৃথিবীটাকেও চিনতে দিতে হয়।

ঘাসে হাঁটা, পানিতে হাটা, মাটি ছোঁয়া, পাতা কুড়িয়ে দেখা, ফুল কুড়িয়ে দেখা,পাখি দেখা, পশুকে আলতো করে ছুঁয়ে দেখা এসবও ওদের শেখার অংশ।

একটা গরু বা হাসের গায়ে হাত দিয়ে হয়তো একদিনে বড় কিছু শিখে ফেলেনি কিন্তু অনুভব করা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীর শরীর কেমন, তার লোম কেমন, তার ফেদার কেমন,সে কীভাবে নড়ে,তাকে কিভাবে ধরতে হয়, প্রাণীর সঙ্গে কীভাবে কোমলভাবে আচরণ করতে হয়।

ডেভলপমেন্ট বলতে শুধু কথা বলা, হাঁটা, লেখা বা অঙ্ক বা ছড়া শেখা নয়। একটা শিশুর চারপাশের পৃথিবীকে দেখা, ছোঁয়া, অনুভব করা, প্রশ্ন করা এবং প্রাণী-প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়াও তার শেখারই অংশ।

তাই সুযোগ থাকলে বাচ্চাদের একটু বাইরে যেতে দিন।
মাটি ছুঁতে দিন, ঘাসে বসতে দিন, পাখি দেখতে দিন, গাছ চিনতে দিন,পানিতে লাফাতে দিন,বিভিন্ন টেক্সচারের মাটিতে হাটতে দিন।

তবে অবশ্যই সেফটি এবং হাইজিন মেইন্টেইন করে আর আপনার বাচ্চার ধরণ বুঝে। আমি পানিতে লাফাতে দিয়েছি বলে আপনি ও চোখ মুখ বন্ধ করে দিয়ে দিবেন এমন টা নয়।

শেহজিল ছোটবেলায় খুবই অসুস্থ ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১ মাস হসপিটালেছিল। পি আই সি ইউ তে ছিল। তারপর ও অসুখ লেগেই থাকত। সে সময় ওকে নিয়ে আমি আতঙ্কেই থাকতাম অলওয়েজ আর অতিরিক্ত সেনসিটিভ।

ওকে আমি মাটিতে নামিয়েছিলাম ওর এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর। এবং সে একদম ই মাটিতে নামতে চাইত না তখন থেকে,কাঁদত। ওর এই ভয় এবং ইরিটেশন কাটাতে আমার বেগ পেতে হয়েছে। মাটিতে পা লাগাত না হাত লাগাত না। পড়ে গেলেও হাত মাটিতে ছোয়াত না।

এখন আল্লাহর রহমতে বড় হচ্ছে। রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বাড়ছে,মানিয়ে নিতে শিখছে। আমি ও মাটি,পানি,প্রকৃতি সবকিছুর সাথে ইন্ট্রিড্যুস হওয়ার সুযোগ দিচ্ছি মোট কথা কাছে থেকে মোটামুটি সেফ সবকিছুর কাছেই ছেড়ে দিচ্ছি। ওর সেই আগের ইরিটিশেন এবং ভয় ও কেটে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।

আমার এই ছেলে এখন কাদা পানি, গরু-ছাগল ইত্যাদি দেখলে টেনে হিচড়েও আনা যায় না। ওখানে গিয়ে লাফাবে,ছ্যাড়াব্যাড়া অবস্থা করে ফেলবে,সবকিছুকে দৌড়ানি দিবে। সেদিন রাজহাস দেখে আর আসেনা। রাজজাস কে দিছে দৌড়ানি ধরার জন্য। এদিকে আমিই রাজহাস ঠোকর দিবে কি না সেই ভয়ে শেষ।

#শেহজিল
#শেহজিল_২৫মাস
#শেহজিলের_প্রকৃতিদেখা

এই ছোট ছোট বাচ্চাদের বই কিনে দিয়ে এদের বেরেন বুরেন নষ্ট ছাড়া কিছুই না।আমার স্কুলে যখন এই বইয়ের সেটের পার্সেল আসে তখন সব ...
05/09/2026

এই ছোট ছোট বাচ্চাদের বই কিনে দিয়ে এদের বেরেন বুরেন নষ্ট ছাড়া কিছুই না।

আমার স্কুলে যখন এই বইয়ের সেটের পার্সেল আসে তখন সব ম্যাম রা আমার দিকে এমন চোখ নিয়ে তাকিয়েছে যেন আমি একটা আস্ত পাগল।

"শেহজিলের বই" এটা বলে বলেই সবাই এমন রিয়েকশন দিচ্ছিল আমার নিজেকে বড় অদ্ভুত লাগছিল😀

একজন ম্যাম বলেই ফেলেছে "কি আছে এর মধ্যে? শেহজিলের বই! দেখ তো কথা! ওর আবার বই কিসের! বাচ্চাটার মাথা টাথা নষ্ট করো না এই বয়সে"।
তখন আমি বললাম ওর বয়স এখন ২। বই তো আমি আরো অনেক আগে থেকেই দিয়েছি। একবার ভাবলাম কত বয়স থেকে বই দেয়া যায় তার উপকারীতা কি সে বিষয়ে একটা ভাষণ দেই।

কিন্তুদিলাম না, কারণ উনি আমার এই ভাষণ বুঝবেন না।

বই,খাতা,গাড়ি শেহজিলের প্রিয় খেলনা। বই,খাতা,স্লেট দিয়ে আমি ওকে ঘন্টা ঘন্টা বসিয়ে রাখতে পারি। তবে অবশ্যই আমিও ওর সাথে পড়ি। ও নিজে একাও টাইম স্পেন্ড করে। একা একা পড়ে। আঙুল দিয়ে দিয়ে স্পট করে আর পড়ে।

এই বইয়ের সেট টা যখন কিনলাম, শেহজিল প্রথমে বেশি পছন্দ করল, এর থেকে বেশি পছন্দ করেছে আমার ফ্রুট প্রেসার।

কিন্তু আমি পড়ে শোনাতে শোনাতে এখন খুব পছন্দ করেছে। "তোমার টাইনি টেইলস নিয়ে আসো" বললেই গিয়ে এই বই নিয়ে বসে।

তাই কোন খেলনা বা বই প্রথম দিন পছন্দ না করলেই সেই জিনিস বাচ্চার পছন্দ না এটা ভাববেন না। বাচ্চাকে কিভাবে খেলতে হয় সেটা শেখাতে হবে এবং আপনাকেও বাচ্চার সাথে খেলতে হবে।২/১ বছরের বাচ্চা একা একা ঘন্টার পর ঘন্টা খেলবে এটা আশা করাটাই তো ভুল।

এই বইয়ের সেট টা আমি অর্ডার করেছিলাম "টাইনি টেইলস সিরিজ ২"।
কিন্তু পেজ থেকে পাঠিয়েছে সিরিজ ১। আমার কাছে যেহেতু সিরিজ ১ ছিল না তাই এটা রেখে দিয়েছি।

বইগুলোর সবকিছুই ভাল,আপ্নারা বাচ্চাকে পড়াতে পারলে বাচ্চারা খুব আনন্দ পারবে।প্রতি পৃষ্ঠাতেই দেখার মত অনেক পিকচার আছে। কিন্তু এর পিনাপ/বাইন্ডিং টা খুব দূর্বল। কিছি বইয়ের স্টেপলার খুলে গেছে। আরো স্ট্রং বাউন্ডিং করার দরকার ছিল।
শেহজিল এখন বই ছিড়ে না। কিন্তু এই বই নিজে নিজেই খুলে যাচ্ছে। বাচ্চাদের বই যেহেতু সেহেতু স্টেপলার না করে আটগা দিয়ে বাইন্ডিং দিলে ভাল হতো। কারণ মুখে দিয়ে দেয়ার ও ঝুঁকি থাকে যেহেতু পিন খুলে যায়।

#শেহজিল
#শেহজিলের_বইপড়া
#শেহজিল_২৬মাস

আমাকে একজন বলছে বাচ্চাকে ঘরের খাবার খাওয়াতে বলা হয় তাহলে তার জন্য নুডলস,পাস্তা, রাগি, মাখানা  (আরো আন্যান্য) এগুলো কেনেন...
18/08/2026

আমাকে একজন বলছে বাচ্চাকে ঘরের খাবার খাওয়াতে বলা হয় তাহলে তার জন্য নুডলস,পাস্তা, রাগি, মাখানা (আরো আন্যান্য) এগুলো কেনেন কেন? এগুলো তো বাইরের খাবার।

ভাইরে, এভাবে বললে তো আমার ভাত খাওয়াও বন্ধ করে দিতে কারণ আমি চাল ও কিনে খাই।

আমি তো গাছ না যে নিজের খাবার নিজে উৎপন্ন করব।
আমি হচ্ছি তৃতীয় স্তরের খাদক। আমি খাওয়ার জন্য প্রথম স্তর এবং দ্বিতীয় স্তরের উপর নির্ভর্শীল হব এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

আমার তো কিনেই খাওয়া লাগবে, নয়তো বাড়িতে সব উৎপাদন করতে হবে। তাছাড়া জগতে যা কিছু এডিবল সব কি আমার বাড়িতে উৎপাদন করা সম্ভব!

বাইরের খাবার বলতে আনহেলদি খাবার কে বুঝায়। অতিরিক্ত- প্রসেসড, প্রিজার্ভেটিভ, রং, চিনি,লবণ,মসলা দেয়া খাবার। যেগুলোতে কোন পুষ্টি উপাদান নেই।খেলে শুধু পেট ভরে, রুচি নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।

এইযে দেখেন ছবির পরোটা আমার ঘরে ভাজা ঘি দিয়ে- হেলদি।
যদি বাইরের হতো তবে ভাজা হত পোড়া তেলে -আনহেলদি।

ঘরে বানানো বান, চিকেন সব ই হেলদি। কিন্তু রেস্টুরেন্টের বার্গার কেন আনহেলদি?

রাইস নুডলস সব্জি- ডিম-চিকেন দিয়ে অল্প তেলে বা পানিতে সেদ্ধ করলে হেলদি আবার আমাদের রেগুলার রান্না করা নুডলস কেন আনহেলদি?

কারণ মেইন হচ্ছে মেকিং প্রসেস। প্রধান উপকর মোটামুটি এক থাকলেও রান্নার ধরণ, তাপমাত্রা এবং স্পাইসের উপর ডিপেন্ড করে একটা খাবার হেলদি থেকে আনহেলদি হয়ে যায়।

#শিশু_খাবার
#শিশু_পুষ্টি

বাবুকে সকালে ব্রেকফাস্ট কি দেন?সেরেলাক,ডিম দিয়ে সুজি,পানি দিয়ে ডিমের কুসুম।এসব উত্তর ই বেশিরভাগ এসেছে। এবং প্রতিদিন একই ...
15/08/2026

বাবুকে সকালে ব্রেকফাস্ট কি দেন?
সেরেলাক,ডিম দিয়ে সুজি,পানি দিয়ে ডিমের কুসুম।
এসব উত্তর ই বেশিরভাগ এসেছে। এবং প্রতিদিন একই খাবার।

খাবার ঠিক নেই বলায় সবার ই একই প্রশ্ন তাহলে কি খাবার দেয়া যায় সকালে? একেক দিন একেক রকম খাবার কী হতে পারে?

সকালে আপনি বাচ্চাকে সব্জি আর মাছ দিয়ে মাখিয়ে ভাত ও খাওয়াতে পারবেন। সকাল মানে যে তাকে ভাত দেয়া যাবে না এমন টা নয়।

চলুন তাহলে কয়েকটা সকালের খাবার আইডিয়া শেয়ার করি।

১.সব্জি খিচুড়ি, ঘি,ডিম
২.রুটি-কলা-খেজুর,
৩.চিড়া-কলা-খেজুর,বাদাম গুড়া,
৪.চিড়া-ডিম-সব্জি,
৫.সব্জি-ডিম স্ক্রাম্বল্ড,
৬.ওটস-কলা-খেজুর-বাদামগুড়া,
৭.সব্জি-রুটি-ফ্রুটস,
৮.ঘি এ ভাজা পরোটা-ডিম-সালাদ,
৯.ডিম-কলার প্যানকেন-সটে করা ফিঙার সাইজের সব্জি, ১০.ভাত-ডাল-ডিম-ঘি,
১১.ভাত-সব্জি-ডিম,
১২.সব্জি দিয়ে রান্না করা পোলাউর চালের জাউভাত,
১৩.সব্জি দিয়ে সেদ্ধ করে রান্না করা রাইস নুডলস-ফ্রুটস।
১৪.চিড়া, ফ্রুটস, টক দই দিয়ে কাস্টার্ড
১৫. দুধ,কলা,ভাত,বাদাম গুড়া

এখানে উপযুক্ত খাবারের সাথে বাচ্চার বয়স অনুযায়ী যেকোন বাদাম গুড়া(কাজু,কাঠ,চিনা) বিভিন্ন বীজ(মিষ্টিকুমড়া,তিশি,সানফ্লাওয়ার) গুড়া মিশিয়ে আরো পুষ্টিকর করে তুলতে পারেন।

ছবির খাবারটি শেহজিলের দুপুরের লাঞ্চ ছিল। টিফিন পিরিয়ডে বাসায় এসে ১০ মিনিটে রেডি করা। কারণ বাসায় যা রান্না হয়েছিল সেটা ওর খাওয়ার উপযোগী না বা প্রপার নয়।
এরকম সিচ্যুয়েশনে আমি এমন ফাঁকিবাজি করে ওর খাবার বানাই। নয়তো নরমালি দুপুর ও রাতে ও বাসার রেগুলার রান্না করা খাবার ই খায়।

আপনারা বাচ্চাদের দেন ব্রেকফাস্টে কেমন ধরণের খাবার দেন কমেন্টে আইডিয়া শেয়ার করতে পারেন। আমি আরো জানতে চাই।

#পলিনুরব্রেকফাস্টআইডিয়া

মাথা চুলকাচ্ছিলাম।ইমরান বলল-কিরে তোমার মাথায় এত উকুন, উঠো তো দেখি উঠো। দেখি কি ব্যবস্থা করা যায়।এমন ভাব যেন,উকুন থাকলে আ...
15/08/2026

মাথা চুলকাচ্ছিলাম।
ইমরান বলল-কিরে তোমার মাথায় এত উকুন, উঠো তো দেখি উঠো। দেখি কি ব্যবস্থা করা যায়।

এমন ভাব যেন,উকুন থাকলে আজকে তার বংশ নির্বংশ করে দেবে।

চুলে বিলি কেটে দিলে যেহেতু আমার আরাম লাগে তাই আমিও রাজী হলাম।

আধা ঘন্টা আমার চুল টানাটানি করে একটা উকুন ও আনতে পারে নাই।
বুঝতে পারলাম না, সুযোগ বুঝে আমার চুল টেনে দিল নাকি।

এখন আবার বলতেছে- আসো তোমাকে থাই স্পা করে দেই।
স্পা করার নামে এখন আমাকে কিল ঘুষি দেয়ার মতলব করতেছে কি না এইভেবে আর রাজি হয়নাই।
সিদ্ধান্ত ঠিকাছে না?

আমার স্কুলে একটা বিশাল রুম আছে। জানুয়ারী মাসে বই স্টোর করা হয়। অন্যান্য সময় খালি পড়ে থাকে। ওখানে একটা খাট আছে। সেখানেই আ...
14/08/2026

আমার স্কুলে একটা বিশাল রুম আছে। জানুয়ারী মাসে বই স্টোর করা হয়। অন্যান্য সময় খালি পড়ে থাকে। ওখানে একটা খাট আছে। সেখানেই আমি শেহজিলের জন্য তোষক দিয়ে বিছানা করে নিয়েছি। ওই রুমে নামাজ ও পড়া হয়।

বাচ্চাকে সাথে নিয়ে যাই এজন্য তো কতজন ফেক সিম্প্যথী দেখায়, আহারে বাচ্চাটার কত কষ্ট!

তারপর আমার দুএক জন সিনিয়র মহিলা কলিগ যারা একসময় বাচ্চাকে নিয়ে আসত, ইভেন এখনো সামটাইমস আসে। ওনাদের কারো কারো এটিট্যুড দেখলেই বুঝা যায় আমি যে বাচ্চা কে নিয়ে যাই এতে তারা কতটা অখুশি।

টিফিন পিরিয়ড দুপুর একটা থেকে দুইটা। ১ টায় আমি বাসায় চলে আসি। বাসায় আসলে শেহজিল মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে যায়। ঘুমের টা কে ই কোলে করে নিয়ে যাই আবার ২ টায়।

তখন ফিরে দেখি ওই খাটে কেউ কেউ নামাজ পড়ে। আমার কেয়ার গিভার ঘুমের ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে থাকে চেয়ারে। এর মধ্যে এক টিচার আছে যে কি না নামাজ শেষে ওই খাটে বসে ২০ মিনিট ধরে বসে বসে খায়। যদিও এই রুমে কয়েকটা টেবিল আছে, চেয়ার আছে, তবুও উনি খাট থেকে নেমে খাবেন না।

খাটে বসেই খাবেন,খাওয়ার পর আরো জানি কি কি করে বসে বসে,ওই ডিব্বা,ওই কাগজ নানান হাবিজাবি করে। আমার ছেলে কোলে ঘুমাচ্ছে তাতে তার কি? অথচ মানবিক এবং সেন্সিবল হলে উনি নিচে নেমে খেতেন যে বাচ্চাকে শোয়াও।

একদিন শেহজিল সারারাত ঘুমায় নি। তাই স্কুলে যাওয়ার পর যে ঘুমিয়েছে আর উঠে না। এদিকে টিফিন শুরু হয়ে গেছে। ও ঘুমাচ্ছে বলে আমি আর বাসায় আসলাম না। একজন টিচার নামাজ পড়তে গেল। আমি তোষক টান দিয়ে খাটের কর্ণারে এনে উনাকে প্রায় পুরো খাট টা ই জায়গা করে দিলাম নামাজ পড়ার।

উনি নাকি পরের দিন আমার কেয়ার গিভার কে গিয়ে বলেছে- নামাজের টাইমে আর ঘুম পাড়িয়ো না ওইদিনের মত।

অথচ শেহজিল ওই একদিন ই টিফিন টাইমে ওখানে ছিল। আমরা টিফিন টাইমে অলওয়েজ বাসায় ই থাকি।
একদিনের জন্য ই উনার সহ্য হয়নি, গিয়ে সাজেশন দিচ্ছে।

এরকম সিচুয়েশন আমার আরো অনেক ফেস করতে হবে আমি জানি। এগুলোর সাথে ফাইট করেই আমাকে কন্টিনিউ করতে হবে।
কারণ আমাদের ভিতরে মানবিকতা কম। আমার ছেলে কাউকে ডিস্টার্ব করে না, কোন সমস্যা করে না তবুও এমন ঘটনার সঙ্গে সম্মুক্ষীন হতে হয়, তাও আবার মহিলা কলিগ দের কাছ থেকে।

তবে সবাই যে এমন তাও না। যেমন একজন সিনিয়র টিচার আছেন, উনি শেহজিল জেগে বা ঘুমিয়ে থাকুক-
কখনো তোষক টানাটানি করে না, নিচে পাটি বিছিয়ে বা অন্য রুমে গিয়ে নামাজ আদায় করে নেয়। আমি উপরে পড়তে বললেও উনি বলেন যে "না থাক,শেহজিল আছে,থাকুক"।

আমিও তবুও বাচ্চাকে সাথে রাখার সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে সেই সুযোগ ও নেই।
প্রাইমারীতে যদিও সরাকারি আদেশ আছে যে বাচ্চাকে সাথে নিয়ে যাওয়া যাবে, মাধ্যমিকে অফিশিয়ালি এমন কোন নিয়ম ও নেই।

যেসব প্রতিষ্ঠানে বাচ্চা ক্যারি করার মতো পরিবেশ আছে, সাথে যদি কেয়ারগিভার নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে অসুবিধা টা কোথায় বাচ্চা নিয়ে যাওয়ায়।

আমরা যদি শিশুদের যত্ন না নেই তবে সুন্দর প্রজন্ম পাব কিভাবে?
এইযে তালাবদ্ধ করে মা কাজে যাচ্ছেন, এই বাচ্চার মানসিক বিকাশ কেমন হবে? সে বড় হয়ে মাকে ভালবাসবে? কাউকে ভালবাসবে? যত্নশীল হবে? নাকি সারাজীবন মাকে দোষারুপ করবে। ট্রমাটাইজিং শৈশবের জন্য তার পুরো জীবন টাই ট্রমায় কাটবে?

---পলিনুর আলম

এটা একটা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডক্টরস রুমের টয়লেট।ছবিটা সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছ কারণ হাসপাতালে জায়গা না থাকায় ডক্টরদ...
11/08/2026

এটা একটা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডক্টরস রুমের টয়লেট।
ছবিটা সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছ কারণ হাসপাতালে জায়গা না থাকায় ডক্টরদের একটা রুমে রোগী রাখা হয়েছিল। আর তারা এই কমোড ভেঙে রেখে চলে গেছে।

রোগী পক্ষ গ্রামের মানুষ, হাই কমোড ইউজ জানেনা , হয়তো উপরে উঠে বসেছে,গেছে ভেঙে।

কথা সেটা না,কথা হচ্ছে ডক্টরদের ইউজের টয়লেটের কি ভয়াবহ অবস্থা। কতটা নোংরা! ফ্লোরের ময়লা গুলো রিসেন্ট ধরে নিলাম। কিন্তু দেয়ালের নোংরা গুলো যথেষ্ট পুরোনো।

এবার চিন্তা করুণ ডক্টর'স টয়লেট যদি এমন হয় তাহলে রোগীদের ব্যবহৃত টয়লেটের কি ভয়াবহ অবস্থা হবে। শুধু সরকাতি হাসপাতাল নয়: প্রাইভেট অনেক হাসপাতাল- যেসব হাসপাতালে এন আই সি ইউ সাপোর্ট আছে, ১ হাজার টাকা ফি দিয়ে কনসাল্ট করা হয় এমন ডাক্তার আছে, সেসব হাসপাতালে ও টয়লেট দেখলে বমি করে দেয়ার মত অবস্থা থাকে।

কেউ স্টুল বা ইউরিন স্যাম্পল কালেক্টের জন্য ঢুকলে সেখান থেকে আরো ইনফেক্টেড হয়ে বেরোবে। আমার দেখা হাসপাতালের মধ্যে আমি প্রপার হাইজিন মেইন্টেইন করে ক্লিন পেয়েছি শুধু স্কয়ারের ওয়াশরুম গুলো।

সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শন করে বলেছেন- কিছু স্কুলের টয়লেট দেখে উনি বাড়ি ফিরে খেতে পারেন নি।

আমি বলব এখন তো তাও আছে, আগে স্কুল গুলোতে টয়লেট ই ছিল না। ছিল বাট সেগুলো পরিত্যক্ত ছিল।
একবার ছোট ভাইয়ের স্কুলে গিয়ে টয়লেটে উঁকি দিয়েছিলাম কারণ বশত ই। দেখি সেটা একদম পরিত্যাক্ত, কমোড ভাঙা, পাতা আর নোংরার স্তুপ এবং সাথে কমোডের উপরে মানুষের মল। মাছি ভন ভন করছে। খুব নোংরা শোনাচ্ছে? তাহলে ভাবুন প্রকৃত পরিবেশ টা কেমন নোংরা ছিল, তাও বাচ্চাদের স্কুলে।

নিশ্চয় স্কুলের কোন বাচ্চাই এই কাজ করেছে। কারণ তার কাছে টয়লেটের পরিবেশ ম্যাটার করে না, প্রেশার রিলিফ টা ই ম্যাটার করে।

আমি যখন ব্র‍্যাক স্কুলে পড়তাম (১ম-৫ম শ্রেণী)। তখন আমার স্কুলে টয়লেট ই ছিল না। ব্র‍্যাকের স্কুল গুলোর পড়াশোনার মান খুব ই ভাল ছিল। ইসিডি নিয়ে তাদের কাজ,স্টাডি দারুণ ছিল। পড়াশোনার, শেখানোর, লেখা শেখানোর যে ধরণ ছিল তা একদম শিশু উপযোগী। তাছাড়াও নাচ-গান-খেলাধূলা কি ছিল না! ছিল প্লে বেজড লার্নিং। খেলতে খেলতে শেখা।

কিন্তু ছিল না একটা জিনিস। সেটা হল টয়লেট। গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে তাদের টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে ব্র‍্যাক স্কুল গুলো পরিচালিত হতো।
তাই আমরা টয়লেটে যেতাম বাড়িওয়ালার চটের বেড়া দেয়া আর বাশ দিয়ে বানানো ঝুলন্ত টয়লেটে। সেই টয়লেটের বেড়ার উচ্চতা আবার হাফ বডি। নিচে তাকালে দেখতাম পোকা কিলবিল করতেছে। আর টিউবয়েলের পাড়ে পানি জমে থাকত,সেখানে দেখতাম মশার ডিম কিলবিল করছে।
কি ভয়াবহ!

তারপর যখন হাই স্কুলে গেলাম, একটু বড় হয়েছি। টয়লেটের প্রেশার তখন দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখা শিখে গেছি। আমার মনে পড়ে না ৫ বছরে কখনো স্কুলের টয়লেটে গিয়েছি।

প্রসাব পায়খানার প্রেশার চেপে রাখা কতটা ক্ষতিকর শরীরের জন্য এটা সবার ই জানা।

মাঠের এক কর্ণারে ওপেন স্পেসে দুই/তিনটা টয়লেট ছিল। সবার সামনে দিয়ে টয়লেটে ঢুকতে হবে এজন্য অনেক মেয়ে লজ্জায় ও যেত না।

মনে আছে আমাদের স্কুলের টয়লেটে ছিটকিনি ভাল ছিলনা। একবার আমার এক মেয়ে ক্লাসমেট নিতান্ত বাধ্য হয়ে গেছে টয়লেটে। সে সময় ই আবার হুট করে এক ছেলে গিয়ে দরজা টান দিয়ে ফেলেছিল। যদিও ভিতর থেকে সে দরজা টেনে ধরেছিল কিন্তু কি ইম্বেরেসিং সিচ্যুয়েশন। সেই মেয়ে পরে দুদিন স্কুলে আসেনি।

এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন অফিস, হাসপাতাল,স্কুল সব জায়গায় টয়লেট নোংরা। যেখানে সবচেয়ে বেশি জীবাণুর বাস। সে জায়গায় আমরা করে রাখি আরো নোংরা।

কোন প্রতিষ্ঠানেই নেই কোন আলাদা টয়লেট ক্লিনার।
ওয়াশরুম পরিষ্কার রাখার জন্য প্রত্যেকটা জায়গায় আলাদা টয়লেট ক্লিনার রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। যার কাজ হবে শুধু টয়লেট ক্লিন করা।

আমি এখন যে স্কুলে জব করি সেখানে বেশ ভালোই বড় ওয়াশ রুম আছে। ওয়াশরুমের ভিতরে ছেলে-মেয়েদের কয়েক টা টয়লেট।

পুরুষ এবং মহিলা টিচার দের আলাদা আলাদা ওয়াশ রুম। এবং ৪ টয়লেট। কিন্তু এগুলোর জন্য নেই কোন আলাদা ক্লিনার। আমি এখন ও কখনো আমার প্রতিষ্ঠানের ওয়াশরুমে যাই না কারণ পরিচ্ছন্নতার ইস্যু।

শুধু যে এই ব্যাপারে কতৃপক্ষের দোষ সেটাই নয়। দোষ ব্যবহারকারীদের ও। আলাদা স্যান্ডেল দেয়া থাকলেও আমরা সেই স্যান্ডেল পড়ে ঢুকি না। আমরা জাতে আইলসা। আমাদের পায়ে যে ময়লা স্যান্ডেল থাকে সেটা পড়েই ঢুকে যাই আর কাদায় মাখামাখি করি। টয়লেট ইউজের পর ফ্ল্যাশ করিনা, পানি ঢালি না, প্যান/কমোডের উপরে বাথ্রুম করে রাখি, টিস্যু ছিড়ে ফ্লোরে ফেলে রাখি।

বাংলা স্টার স্লিপার কোচ পাবনা থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় "হোটেল দা এরিস্ট্রোকেট" এ ব্রেক নেয়। ওদের ওয়াশরুম গুলো ভালোই ক্লিন। আমি ভুল করে ওদের স্যান্ডেল খেয়াল না করে আমার জুতা পড়েই ঢুকে গেছি। আর এতে ফ্লোরে কাদা লেগে গেছে। আমি বের হওয়ার সময় পানি ঢেলে সেই কাদা ক্লিন করে তারপর বের হয়েছি।
বের হয়ে ভাবছি সবাই তো আর আমার মত করবে না, তাহলে ওরা আলাদা স্যান্ডেল কেন দিল না ওয়াশরুম গুলো এত ক্লিন করে?
তখন আমার নজরে এল এখানে স্যান্ডেল দেয়া ছিল।

আবার ঢাকা থেকে ফেরার পথে ফিরেছিলাম অন্য এক বাসে। বাস বিরতিতে ওখানের ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি এক ভদ্রমহিলা তার বাচ্চাকে টয়লেটের ভিতরেও না,বেসিন স্পেসে প্রসাব করাচ্ছে ফ্লোরে। এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা।

কোন সিস্টেম ঠিক করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু এক পক্ষের দোষ দিয়েও লাভ নেই।

--পলিনুর আলম



আমাকে কেউ সুন্দর বললে বা আমাকে সুন্দর লাগছে বললে আমার আগে আমার জামাই ব্লাশ করা শুরু করে কেন সেটাই বুঝলাম না।
09/08/2026

আমাকে কেউ সুন্দর বললে বা আমাকে সুন্দর লাগছে বললে আমার আগে আমার জামাই ব্লাশ করা শুরু করে কেন সেটাই বুঝলাম না।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Smile With Noor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share