12/09/2025
“দশে মিলি করি কাজ।
হারি জিতি নাহি লাজ।”
যথেষ্ট হক কথা। কিন্তু এই দশজনের মধ্যে একজন থাকে, যে দশের ভেতরে থেকেও এক হয়ে ওঠে। তাকেই নেতা বলে। সাধারণ মানুষ কিন্তু নেতা নির্বাচন করে না, নেতাকে মেনে নেয়। নেতার অনুগত হয়ে নেতার অনুগামী হয়।
ঠিক একইভাবে, জনসাধারণ অধিকাংশ সময়ই তার যোগ্য শাসক নির্বাচন করতে পারে না। গণনির্বাচনের মাধ্যমে শাসক নির্বাচিত হলেও জনসমষ্টির বিভাজন আটকানো সম্ভব হয় না। বরং নির্বাচিত শাসক কিংবা তার প্রতিদ্বন্দ্বীও সেই বিভাজন জিইয়ে রাখে। কারণ, এতেই তাদের লাভ।
আমাদের নিজেদের রাজনীতির দিকে তাকালেই এটা স্পষ্ট বোঝা যায়। বিশেষ করে নব্বই-পরবর্তী সংসদীয় শাসনব্যবস্থার দিকে তাকালে এই divide and rule থিওরি আরো প্রকটভাবে সামনে আসে। এই কারণেই আমরা স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পরও ছিয়ানব্বইর অসহযোগ আন্দোলন দেখি, ২০০৬-এর রাজনৈতিক সহিংসতা দেখি, এমনকি বর্তমান সময়ে বিএনপি জোটের আন্দোলনও দেখছি। আর এসবের মাধ্যমেই আমরা জনসাধারণ আমাদের বিভাজন উৎকটভাবে প্রকাশ করছি।
মূল কথায় আসি—গণভোট কখনোই শাসক নির্বাচনের উৎকৃষ্ট উপায় হতে পারে না।
“আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুশি তাকে দিবো” কিংবা
“আমি আমার ভোটের অধিকার ফেরত চাই”—
এই স্লোগান কিংবা ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলিও বিভাজনকে আরো প্রকট করে তোলে।
এই স্লোগানগুলো কারা দিচ্ছে? আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে যারা অন্তত মানসিক শান্তি পাবে, তারা। আর যারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করছে, তারা কিন্তু এই ভোট চাইছে না।
আঠারো কোটি জনসংখ্যার এই দেশে মোটামুটি বুঝতে পারা সকল মানুষই কোনো না কোনো দলের সমর্থক। সুতরাং তারা তাদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় দেখতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং সেই বিভাজন রয়েই গেল!
তাহলে উপায় কী?
এখন সময় এসেছে উপায় নিয়ে ভাবার। অন্তত যাঁরা সত্যিকার অর্থে দেশে সুশাসন এবং পরিচ্ছন্ন শাসনব্যবস্থা দেখতে চান, তাঁদের উচিত আমাদের শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবা। গতানুগতিক রোমান ক্যাথলিকদের চাপিয়ে দেওয়া পন্থায় না ভেবে নিজেদের মতো করে ভাবা। সেই ভাবনায় ভুল থাকুক, অসুবিধা নেই।
সেটা অনেকটাই মৌলিক হবে। স্বাধীন হবে। আর সেই ভুলে ভরা শাসনব্যবস্থা যদি কায়েম করা যায়, তাহলেই আমরা সত্যিকার অর্থে নিজেদের স্বাধীন বলে ঘোষণা করতে পারবো।
👉 দরকার মৌলিক সংস্কার
—Milon Syed
Editor, The AkaalBodhon