15/09/2026
“শুনে বোঝা, বলে বোঝা -এগুলো বাদ দিয়ে আমরা শুধু পড়া আর লেখায় কেন এত জোর দিচ্ছি?”
শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এই প্রশ্নটা আসলে আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই ভাবার মতো। 🤔
একটি শিশু স্বাভাবিকভাবে ভাষা শেখে কয়েকটি ধাপে:
প্রথমে শোনে ও বোঝে।
তারপর বলে ও বোঝায়।
এরপর আসে পড়া।
সবশেষে লেখা।
কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যেন প্রথম দুই ধাপকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি পড়া আর লেখার ওপরই বছরের পর বছর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়।
ববি হাজ্জাজের প্রশ্নঃ
“এক তলা থেকে দোতলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি নেই, লাথি দিয়ে তিন তলায় উঠলেন, তারপর তিন থেকে চার তলায় সিঁড়ি দিয়ে গেলেন -এটা কি সম্ভব?”
তার ভাষায়, তিনি নিজেকে খুব জ্ঞানী মনে করেন না। বরং তিনি জানতে চান?
কেন আমরা শেখার স্বাভাবিক প্রথম দুই ধাপ বাদ দিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ নিয়েই এত বেশি ব্যস্ত?
এমনকি তিনি শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও ভাষাবিদদের কাছেও প্রশ্ন রেখেছেনঃ
“আমাদের কারিকুলামে এমন কেন? আমাকে বুঝিয়ে বলুন।”
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি শুধু প্রশ্নই করেননি; উপস্থিত শিক্ষকদের কাছ থেকেও চেয়েছেন নির্দিষ্ট প্রস্তাব।
“আমরা একটা রিসোর্স” -এমন সাধারণ কথা নয়।
বরং কী পরিবর্তন চান, কোথায় পরিবর্তন চান, কীভাবে পরিবর্তন চান -স্পেসিফিকভাবে বলুন।
কারণ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বড় বড় কথা বলার চেয়ে বাস্তবসম্মত ও নির্দিষ্ট প্রস্তাবই বেশি প্রয়োজন।
একটা শিশু যদি আগে শুনে বুঝতে না শেখে,
তারপর নিজের ভাষায় বলতে না শেখে,
তাহলে শুধু বই পড়িয়ে আর খাতায় লিখিয়ে তাকে কতটা দক্ষ করে তোলা সম্ভব?
শিক্ষা শুধু পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার নাম নয়।
শিক্ষা হলো -শোনা, বোঝা, বলা, পড়া এবং লেখা -সবকিছুর সমন্বয়। 📚❤️
এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের কারিকুলাম কি সত্যিই শিশুর স্বাভাবিক শেখার পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে?
নাকি আমরা এখনো সিঁড়ির প্রথম ধাপ বাদ দিয়েই উপরে উঠতে চাই? 🤔