07/07/2025
বিজনেস এ, বা যেকোন স্টার্টাপ এ - ক্যাটেগরি ক্রিয়েশন হল সবচে রিস্কি, সবচে লসের আবার ভাল করলে সবচেয়ে লাভের।
ক্যাটাগরি ক্রিয়েশন হল এমন একটা পন্য বা সার্ভিস বাজারে নিয়ে আসা - যা মার্কেট এ কারো কাছেই নাই।
একেবারেই ইউনিক আইডিয়া, যা কেউ পরিক্ষামূলকভাবেও করে নাই।
একারনে, পন্য বা সার্ভিস বাজারে চলবে কিনা, সবাই গ্রহণ করবে কিনা বা কি হতে পারে সেটা পুরোটাই অনিশ্চিত থাকে।
যদিও, মার্কেট রিসার্চ করে বা জরিপ করে এটা নিয়ে ব্যাবসা শুরুর আগে ধারনা করার চেস্টা করা হয়।
কিন্তু যে পন্য কেউই বাজারে আনে নাই, সেটা নিয়ে যথেস্ট ধারনা পাওয়া কঠিন।
ল্যাবে ডেভেলপ করা আর বাজারে সেটাকে টেস্ট করার মাঝে মাঝে যোজন যোজন তফাত।
//.\\
১৯৯৯ সালে পেপসিকো ইন্ডিয়া, ২১১ বার পরিক্ষা করে এরপর একটা স্নাকস ডেভেলপ করে!
কাস্টমারদের কাছে এটা খাবার জন্য টেস্ট করতে দেবার পরে সবাই বলতে থাকে যে এটা খেতে কুড়কুড়ে।
কোম্পানিও এই পন্যের নাম রেখে দেয় - কুড়কুড়ে।
অই সময়ে এই ধরনের কোন স্নাকস বাজারে ছিল না, পেপসিকো একটা নতুন ক্যাটাগরি নিয়ে আসে।
অই সময়ে বাজারে নাশতায় প্রচলন ছিল চানাচুর অথবা চিপসে।
কিন্তু পেপসিকো চায় নাই, চানাচুর বা চিপস এর সাথে কম্পিটিশন এ নামত, তারা নতুন পন্যই বাজারে নিয়ে আসে।
একই পন্য সেরাটা বাজারে না নিয়ে এসে একেবারে নিত ন পন্য বাজারে নিয়ে আসা - এমন ইনোভেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাটেজি।
সেরা না, নতুন পন্য নিয়ে এলে প্রতিযোগিতার কোন যায়গা থাকে না।
//.\\
FMCG মার্কেট এ, কুড়কুড়ে বেশ কিছু আলাদা আলাদা স্ট্রাটেজি নিয়ে আসে৷
চণ্ডিগড় এ যখন প্রথম এই পন্য বাজারে আসে, কালার ব্রান্ডিং এর বন্যা বইয়ে যায় পুরো ব্যাপারটা চেয়ে চন্ডীগড় এ। তারা কমলা কালারের ব্যানার, দোকানের সাইনবোর্ড, কমলা রং এর পিকাপও ডিজাইন করে ফেলে।
এবং পুরো চণ্ডিগড় তারা ১০ দিনে কাভার করে ফেলে ।
এর আগে ভারতে মুদি দোকানে সব কিছু দোকানের ভিতরে র্যাকে রাখা হত । কুড়কুড়েই প্রথম দোকানের বাইরে স্ট্যান্ডে তাদের প্যাক রাখার প্রচলন শুরু করে যা পরে অন্যসব কোম্পানি ফলো করা শুরু করে ।
একটা পন্য বাজারে আনতে যতবেশি সম্ভব ইনোভেশন তত বেশি সংখ্যক সম্ভাবনা তৈরি হয় ।
//.\\
কিন্তু বিক্রি না বাড়লে টাকা আসে না,
কাজেই বিক্রি কিভাবে বাড়ানো যায় ?
বিক্রি বাড়ানর ৩ টা উপায় আছে -
১/ কাস্টমার বাড়ানো
২/ কাস্টমারকে কিনতে উতসাহী করা ।
৩/ ভ্যারিয়েশন বাড়িয়ে বিক্রি বাড়ানো ।
কুড়কুড়ে -৩ টা কাজই করা শুরু করে ।
প্রথমে তারা টার্গেট মার্কেট অ্যানালাইসিস করে দেখে যে, চিপস খায় শুধু বাচ্চারা । কাজেই তারা চিন্তা করে শুধু বাচ্চাদের টার্গেট না করে যদি পুরো পরিবারকে টার্গেট করা যায় তাহলে কাস্টমার বেড়ে যায় ।
এই চিন্তা থেকে তারা তাদের সব টিভি কমার্শিয়াল এ পারিবারিক আবহ আনার চেস্টা করে ।
সেই সময় জুহি চাওলা জনপ্রিয় ছিলেন সব পরিবারের কাছেই তার কমেডি ইমেজ এর কারনে । তারা জুহি চাওলাকে নিয়ে আসে, তাকে দিয়ে প্রায় সব টিভি কমার্শিয়ালেই পুরো পরিবারকে দেখানো শুরু করে এবং - সেখানের সবার হাতেই কুড়কুড়ে দেখানো শুরু করে ।
এরপরে তারা সারা ভারতে এটাকে লাউঞ্জ করা শুরু করে কিন্তু আলাদা আলাদা প্রদেশ এ আলাদা আলাদা ফ্লেভার বাজারে নিয়ে আসে । পাঞ্জাবী, বাঙ্গালী, তামিল যেখানে যে ফ্লেভার চলে ভাল সেখানে সেই ফ্লেভার নিয়ে এসে তাদের টার্গেট কাস্টোমার বাড়িয়ে ফেলে ।
আঞ্চলিক এইসব ফ্লেভার বাজারে আলাদা কাস্টমার তৈরির কাজ করতে থাকে ।
এভাবে নতুন নতুন এলাকায় তাদের নতুন নতুন ফ্লেভার কাজ করা শুরু করে ।
আরেকটা নতুন অ্যানালাইসিস তাদেরকে আরো এগিয়ে দেয় - তারা দেখে ভারতে মানুশ ১ টায় খাবার খায়, আবার খায় রাত ৮ টার পর । মাঝের বিকেলে খায় চা - এই সময়ে তারা আরেক টিভি কমার্শিয়াল বানায় যেখানে বিকেলের চা এর সাথে তার কুড়কুড়ে দেখানো শুরু করে নতুন ট্রেন্ড নিয়ে আসে বাজারে ।
এই আলাদা আলাদা সময়ে প্রতিদিনের নাশতায় কুড়কুড়ে দেখিয়ে তারা এটাকে প্রতিদিনের স্নাকস এ ।
স্লোগান নিয়ে আসে - “চায়ে টাইম মাস্তি বোলে ত, কুড়কুড়ে ।”
এভাবে নতুন প্রোডাক্ট, নতুন ফ্লেভার, নতুন সময়ে খাওয়ার ট্রেন্ড চালু করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী একটা নতুন পন্য বাজারে নিয়ে আসে ।
এই ক্যাটেগরিতে বর্তমানে তাদের মার্কেট শেয়ার ২৮% তাদের বিক্রি বছরে ১৯৫০ কোটি ।
//.\\
সার্ভিস বা পন্যে, নতুন নতুন ইনোভেশন - মার্কেটিং স্ট্রাটেজি এভাবেই মার্কেট শেয়ার দখলে, নতুন মার্কেট তৈরিতে কাজ করে ।
ডাটা অ্যানালাসিস, সেই ডাটাকে সঠিকভাবে ব্যাবহার এজন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন ।
আমাদের প্রজেক্ট বর্গার গরুর মাংসের কোয়ালিটি নিয়ে এবার কোরবানি ঈদে আমরা জানতে চাইছিলাম আমাদের গোশত এর কোয়ালিটি ছিল ।
কিন্তু যেসব চমৎকার রিভিউ এসেছে, তাতে আমরা এখন আত্নবিস্বাসী ।
সামনে আমাদের ফার্ম বড় হতে যাচ্ছে, এবারের ব্যাচে ৪০০ গরু হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ, দেখা যাক ।
আমরা কি কি পন্য বাজারে নিয়ে আসতে পারি ?
- Mujahidul Islam Jahid