20/02/2024
"কারুর কাউকে ভাললাগা কি অন্যায় ? ভালোলাগা কি দোষের ? ওর যদি আমাকে এমন অপছন্দই ছিল , ও তো প্রথমেই বলতে পারত আমাকে । যে কোনো মেয়েই ত বিয়ের আগে অথবা পরে এমন অনেক স্তুতি কুঁড়োয়, কুড়োতে পারে- এই স্তুতি পাওয়া এবং গ্রহন করা ত মেয়েদের জন্মগত অধিকার । কিন্তু ও আমার সঙ্গে এই খেলা কেন খেলল, আমাকে ওর কাছে এবং সকলের কাছে এমন হেয় করল কেন বলতে পারেন ? আমার মধ্যে কি ভালবাসা পাবার মত কিছুই নেই?""
পড়ছিলাম প্রিয় লেখক এর প্রিয় বই একটু উষ্ণতার জন্য ! আমার মন চলে যায় ,যে দিন দীপ জ্বেলে যাই প্রথম দেখি । সুচিত্রা সেন বলছিলেন কাউকে বিষ খাওয়ানো আর ভালবাসার অভিনয় করে কার মন বিষিয়ে তোলা একই অপরাধ । একটু একটু করে কুঁড়ি জন্ম নেয় , পাপড়ির পেখম মেলে তারপর হটাত একদিন কোন তীব্র শৈত্য প্রবাহ দুমড়ে মুচড়ে মেরে ফেলে সেই নবীন ফুল কে । এ ক্যামন খেলা । যা মানুষ কে প্রানে না মেরে ও মেরে ফেলে ?
শৈলেন হটাত দু হাত মুখের সামনে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো।
আমি ওর ঐ কান্নায় কোন বাধা দিলাম না । কোন কথা বললাম না । চুপ করে থেকে ওকে কাঁদতে দিলাম । শৈলেন অনেকক্ষণ বাচ্চা ছেলের মত কাঁদল। তারপর লজ্জা পেয়ে জামার আস্তিন দিয়ে চোখ মুছল, জল ভেজা চোখে বলল, আপনি আমাকে দেখে হাসছেন , না ?
বললাম , হাসবো কেন শৈলেন ? হয়তো সঙ্গে আমিও কাঁদছি - তবে সে কান্না তুমি দেখতে পাচ্ছ নাএই যা । কথা টা কি জানো শৈলেন জীবনে অনেককেই এমন কত গুল সংকটের সম্মুখীন হতে হয় সে সব সংকটে অন্য কেউ ই তোমাকে কোন রকম সাহায্য করতে পারে না । তোমার কষ্ট দেখতে পারে, মনে মনে তোমার প্রতি সমবেদনা জানাতে পারে, কিন্তু সাহায্য করতে পারে না । এই সঙ্কট থেকে পেরুতে যা করবার তা তোমাকেই করতে হবে। একা একা তোমাকে । আমরা কেউই কোন কাজে লাগবো না ।
শৈলেন মুখ তুলে বলল, আমাকেই করতে হবে ? একা একা ?
আমি বললাম , হ্যাঁ একা একা ।
হটাত শৈলেন উঠে পড়ল , বলল, ঠিক আছে তাই করব। আপনি দেখবেন আমি যা করার করব ।
বলেই শৈলেন সোজা খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাইরের ঝিঝি- ডাকা অন্ধকারে হারিয়ে গেল ।
নয়নতারা আছে ; তারা বরাবরই ছিল এবং হয়তো থাকবেও কিন্তু নয়নতারা কে তোমার চোখের জলে আজ তুমি যে নৈবেদ্য দিলে সে নৈবেদ্য জীবনে আর কারো কাছে থেকে কখনো সে এমন করে পাবে বলে আমার মনে হয় না ।
শৈলেন সুকুমার এর কথা শুনেছিলো।
এক রৌদ্রউজ্জল দিনে । সম্পূর্ণ একাকী । কাউকে ওর প্রয়োজন হয় নি । এ কাজ টা হয়তো একাকী ই করতে হয় । ঝাঁপ দিয়েছিল সে ট্রেন এর সামনে । আর দ্বিখণ্ডিত দেহ পড়েছিলো সবার সামনে। আমি যেন দৃশ্য টি কে দেখতে পাই। সুকুমার গিয়েছিলো ছুটি কে আনতে । সেই সময় । জটিলেস্বর বাবুর গানের মত করে কি বলা যায় , " এ কোন সকাল , এ যে রাতের চেয়ে ও বেশি অন্ধকার " !
আমি শুধু এই জায়গা তে লেখক বুদ্ধদেব এর সাথে দ্বিমত পোষণ করি। আমি সুকুমার হলে শৈলেন কে বলতাম, " ভাই তোমার যতো খুশি কাঁদো। কেঁদে বুক হালকা করো। তারপর তোমার মন যখন হালকা হবে আমি এলাচ দিয়ে সুন্দর করে তোমাকে চা বানিয়ে খাওয়াবো। ঈশ্বর প্রদত্ত এই জীবন অনেক বড়। এক ঠুনকো নয়নতারা তে মুখ থুবড়ে পরার জন্য নয় । "
চা শেষ হলে , শৈলেন কে বলবো চল বেরিয়ে পড়ি , তুমি আমার কাধে হাত রাখো । আর তখন দু জনে মিলে কিশোরকুমার কে গাইবো । সেই যে সেই গান !
ওরে বন্ধুরে ওরে সাথী রে ডাক দিয়েছে আগামীকাল
সুরাজ ওঠে পূরাব কোনে
আন্ধার ভেঙ্গে আসে সকাল !