02/09/2026
আরিফ আজাদ ভাইয়ার থেকেই সীরাতটি উপহার পেতে চান?
পড়ুন এটি। 💛
৫০ জন পাঠককে ‘সীরাতে ইবনে কাসীর’ উপহার দিতে চাই।
২৫ সালের রামাদান মাসে আমি এই সীরাতগ্রন্থটি ১০০ জন পাঠককে উপহার দিতে পেরেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। আসলে, ১০০ জন বললে তো ভুল হবে, শেষ অবধি সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫০০ তে, সুবহানাল্লাহ! কীভাবে হয়েছিল সেটা একটু পরে বলছি।
চলছে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস; যে মাসে এই ধরাতে আগমন ঘটেছিল সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। যিনি এক ঘন ঘোর অন্ধকার সময়ে এসে, গোটা দুনিয়াকে দেখিয়েছিলেন আলোর দিশা। হাজার দরুদ নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরে। শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, প্রিয় সাহাবায়ে কেরামের উপর।
নবিজির জীবনী পড়ার জন্য সীরাতের মাসের চেয়ে ভালো সময় বোধকরি আর হয় না৷ আমরা তো কতো বইপত্র পড়ি, কতো জার্নাল, আর্টিকেল, লিটারেচার খুঁটে খুঁটে পড়তে হয় আমাদের। কিন্তু, আমরা কি কখনো এই তাড়না অনুভব করেছি যে, আল্লাহর রাসুলের জীবনীটা বিশুদ্ধ উৎস থেকে অন্তত একবার হলেও আদ্যোপান্ত পড়া দরকার?
এই প্রয়োজন অনুভব করেছি কখনো? কতোজন করেছি?
ইসলামের ইতিহাসে যতগুলো কালজয়ী গ্রন্থ রচিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হলো ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক রচিত ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া।’
এই গ্রন্থটি যুগে যুগে, কালে কালে এতো সমাদৃত হয়েছে যে, এটি রচনাকালের সময় থেকে আজ অবধি, যেকোনো মানুষই যদি ইসলামের ইতিহাস লিখতে চায়, তাকে অবশ্যই অবশ্যই এই ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থের দ্বারস্থ হতে হবেই।
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ার সবচেয়ে বিস্তৃত অংশটাই হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী। কিন্তু, ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ প্রতিটি ঘটনা এতো এতো বর্ণনাকারীর বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, সেগুলো অধিকাংশ সময়েই সাধারণ পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটায় বলে আমার মনে হয়েছে।
আমি প্রায়ই ভাবতাম, ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ থেকে কেউ যদি সীরাতের অংশটা আলাদাভাবে প্রকাশ করত, কতই না ভালো হতো! কারণ, নবিজির আদ্যোপান্ত জীবনী জানতে গিয়ে এই গ্রন্থের যতটা শরণাপন্ন আমি হয়েছি, ততটা অন্যকোনো গ্রন্থের বেলায় হইনি।
ঠিক এই কাজটাই করেছেন আরবের প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মাদ আবু হুসাইন আবু যাহরা হাফিজাহুল্লাহ। তিনি গোটা ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ থেকে সীরাতের অংশটা আলাদা করেছেন৷ তারপর, সেই অংশ থেকে বারে বারে রিপিটেড হওয়া অংশগুলো বাদ দিয়ে কেবল সেই অংশগুলোই সংকলন করেছেন, যেগুলো মূল আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া তে খুবই সবিস্তারভাবে এসেছে।
ফলে, কেউ যদি ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহর লেখা ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ থেকে আল্লাহর রাসুলের জীবনীটা আদ্যোপান্ত পড়তে চায়, এবং একই সাথে একই ঘটনার বারংবার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায়, তার জন্য ‘সীরাতে ইবনে কাসীর’ একটি চমৎকার সংগ্রহ হবে, ইন শা আল্লাহ।
এই সীরাতটি প্রকাশ করেছে Sukun Publishing
এই রবিউল আউয়াল মাসে, আমার প্রিয় ‘সীরাতে ইবনে কাসীর’ আমি আমার ৫০ জন পাঠককে উপহার দিতে চাই। আল্লাহই তাউফিক দাতা।
উপহার পেতে কী করতে হবে? খুব সহজ। আপনাকে দুটো কাজ করতে হবে:
১. কমেন্টে বিস্তারিত (অন্তত পাঁচ লাইনে) লিখে জানান যে, কেন আপনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই জীবনীটা পড়তে চান। এআই দিয়ে অবশ্যই লিখবেন না৷ নিজের মনের মতো লিখুন। যা মনে আসে তাই লিখুন। আবেগ দিয়ে লিখুন।
২. আপনি যদি উপহারের জন্য নির্বাচিত হোন, আমার অনুরোধ থাকবে এই সীরাতগ্রন্থটি আপনি অবশ্যই পড়ে শেষ করবেন। পড়া শেষ করে আরও অন্তত দুজন কাছের ভাই-বন্ধুকে এই সীরাতটি পড়তে দিবেন, ইন শা আল্লাহ।
কমেন্ট করা যাবে সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখ পর্যন্ত। তারপর পোস্টের কমেন্ট সেকশান বন্ধ করে দেওয়া হবে৷ আমার ‘টিম আরিফ আজাদ’ কমেন্ট সেকশান থেকে ৫০ জনকে বেছে নিবেন যাদের কমেন্ট পড়ে মনে হবে যে, তারা সত্যিকার অর্থেই আল্লাহর রাসুলের জীবনীটা পড়তে চায় এবং সে অনুযায়ী আমল করে জীবন গড়তে চায়।
গতবার আমি ১০০ জনকে দিবো বলেছিলাম এই সীরাত। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সাথে শরিক হয়েছিলেন আল্লাহর কিছু নেক বান্দা-বান্দিও। তাদের উসিলায়, ১০০ জনের উসিলায় আমরা প্রায় ৫০০ জনকে সীরাতটা উপহার দিতে পেরেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ। মহান রব তাদের উত্তম বিনিময় দিন। দুনিয়া এবং আখিরাতে।
দ্রষ্টব্য—০১: যারা নির্বাচিত হবেন, তাদেরকে আমার টিমের পক্ষ থেকে ম্যাসেজ করে, কুরিয়ার এড্রেস নেওয়া হবে৷ কাউকে কোনো ধরণের কুরিয়ার চার্জও বহন করতে হবে না৷ সব আমার পক্ষ থেকেই যাবে, ইন শা আল্লাহ।
দ্রষ্টব্য—০২: গতবারের মতো এবারও যদি আল্লাহর কোনো বান্দা এই ‘সীরাত হাদিয়া প্রজেক্ট’ এ যুক্ত হতে চান, আমাকে দয়া করে জানাবেন ইন শা আল্লাহ৷ তাহলে আমরা ৫০ কপি থেকে সংখ্যাটা বাড়িয়ে, আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে আল্লাহর রাসুলের জীবনী পড়াতে পারব ইন শা আল্লাহ। সেটা হোক ১ কপি, ৫ কপি, ১০ কপি সীরাতের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে।
আমাকে মেইল করা যাবে এই ঠিকানায়— [email protected]
অথবা, আমার পেইজে সরাসরি ম্যাসেজও করা যাবে।
জাযাকুমুল্লাহ আহসানাল জা’যা 💚