Sukun Publishing

Sukun Publishing শব্দে আঁকা স্বপ্ন...

আগামীকাল ভোরে ট্রেনের টিকিট কাটা থাকলে আমাদের আগের রাতের মানসিক অবস্থাটা কেমন হয়? কিংবা সকালে যদি থাকে লাইফের কোনো ক্রুশ...
04/06/2026

আগামীকাল ভোরে ট্রেনের টিকিট কাটা থাকলে আমাদের আগের রাতের মানসিক অবস্থাটা কেমন হয়? কিংবা সকালে যদি থাকে লাইফের কোনো ক্রুশিয়াল ইন্টারভিউ?

আমরা আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই ছটফট করতে থাকি। ঘড়িতে তিনটে অ্যালার্ম সেট করি, জামাকাপড় ইস্ত্রি করে রাখি, বিছানায় শুয়েও বারবার ঘড়ির দিকে তাকাই—এক মুহূর্তের জন্যও যেন ট্রেনটা মিস না হয়ে যায়! দুনিয়ার সামান্য একটা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আমাদের সন্ধ্যার প্রস্তুতি যদি এত নিখুঁত, এত নিখাদ হতে পারে, তবে মহাবিশ্বের রবের সাথে একান্তে কথোপকথনের জন্য আমাদের প্রস্তুতিটা ঠিক কেমন হওয়া উচিত?

আমরা ভাবি, রাত তিনটেয় একটা অ্যালার্ম দিয়েই বুঝি তাহাজ্জুদের সালাতে দাঁড়িয়ে যাওয়া যায়। অথচ বাস্তবতা হলো—তাহাজ্জুদের প্রস্তুতি মূলত শুরু হয় তার আগেরদিনের সন্ধ্যা থেকেই, আপনার নিয়তের মাধ্যমে। শেষ রাতে উঠে রবের সেজদাহয় লুটিয়ে পড়তে পারবেন কি না, তার অনেকটাই তৈরি হয়ে যায় আপনার সন্ধ্যার আমল আর মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতির ওপর।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের দিকে তাকান। শেষ রাতে নিখুঁতভাবে জাগ্রত হওয়ার জন্য তিনি সন্ধ্যা থেকেই কতশত ব্যাকুল প্রস্তুতি নিতেন! তিনি এশার সালাতের পর অনর্থক আড্ডা দেওয়া কিংবা গল্পগুজব করা তীব্রভাবে অপছন্দ করতেন। কারণ তিনি জানতেন, এশার পর যত বেশি কথা হবে, ঘুমাতে তত দেরি হবে। আর ঘুমাতে দেরি হওয়া মানেই শেষ রাতের সেই রাজকীয় আমন্ত্রণ থেকে নিজেকে চিরতরে বঞ্চিত করা।

অথচ আমাদের অবস্থা দেখুন। এশার সালাত শেষ করেই আমাদের আসল দিন শুরু হয়! চায়ের কাপে ঝড় তোলা, ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করা কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিরিজ দেখা—সব যেন এশার পরেই করতে হবে। ফলস্বরূপ, যখন আমরা বিছানায় যাই, ঘড়ির কাঁটা তখন বারোটা থেকে দুই-তিনটা ছুঁইছুঁই। এরপর শরীর আর মন এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে, শেষ রাতে রবের ডাক আমাদের কান অব্দি আর পৌঁছায় না।

নবিজি (সা.) তো শিয়রে ওযুর পানি রেখে শুয়ে পড়তেন, যেন শেষ রাতে উঠে ওযু করতে একটুও কষ্ট না হয়। আসলে, দুনিয়ার অতি আরামের বিছানা আর অলসতাকে যারা পরাস্ত করতে পারে, শেষ রাতে কেবল তাদের জন্যই আরশের দুয়ার খুলে যায়।

তাহাজ্জুদে মনোযোগী হতে সালাফ আর সাহাবাদের রাতের অবিশ্বাস্য প্রস্তুতি ও ইবাদতের গল্পগুলো আমাদের স্মরণে রাখা আবশ্যক, তাতে আমাদের অনুসরণ করতে সহজ হবে। সোনালি সব মানুষদের রাত জাগা ইবাদাতের বিস্তারিত পাবেন ‘যেমন ছিল বড়োদের তাহাজ্জুদ’ বইটিতে।

তাহাজ্জুদের প্রস্তুতির সহায়তার জন্য বইটি সংগ্রহে রেখেছেন তো?
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…

মানুষ যখন দুঃশ্চিন্তায় থাকে, তখন সামান্য কথাও তার মনে কাঁটার মতো বিঁধে; এটাই মানুষের স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব। তাই সংকটের সম...
04/06/2026

মানুষ যখন দুঃশ্চিন্তায় থাকে, তখন সামান্য কথাও তার মনে কাঁটার মতো বিঁধে; এটাই মানুষের স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব। তাই সংকটের সময় চোখে চোখ রেখে নয়—হৃদয় ছুঁয়ে কথা বলতে হয়। কারণ, এই ভঙ্গুর মুহূর্তগুলোতেই মন নরম হয়, আত্মা সত্যের জন্য হাঁসফাঁস করে। তখন সঠিক ভাষা ও স্নিগ্ধ আচরণ দিয়ে যদি ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা যায়, সংকটের মুহূর্তটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গভীর ও ফলপ্রসূ দাওয়াহর সুযোগ।

নিকটজনের কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছাতে চাইলে শুধু ইচ্ছা নয়, চাই অনুকম্পা আর ধৈর্য। মা-বাবা বা ভাই-বোনের ভুল দেখে তাড়াহুড়ো করে তীক্ষ্ণ কথা বললে বিপরীত ফল হতে পারে। দাওয়াহ মানে হলো—ভালোবেসে হাত ধরে টেনে তোলা, কখনো চোখের ভাষায়, কখনো মৃদু কণ্ঠে সত্যের আহ্বান করে যাওয়া। ভুল শুধরে দিতে হলেও তা করতে হবে আত্মমর্যাদা বজায় রেখে, ভালোবাসার চাদরে মুড়ে।

‘নিকটজনে নারীর দাওয়াহ’ বইটি আপনাকে শেখাবে—কীভাবে অনুভব দিয়ে, কোমল ভাষায়, পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজের আপনজনের হৃদয় পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছে দিতে হয়।

আপনার নিকটজনের নিকট দাওয়াহ পৌঁছে দিতে সংগ্রহ করেছেন তো বইটি?
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে ওঠে, তখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তর্কে আমাদের অধিকাংশের আড্ডা জমে যায়। কেউ রাত জেগে ভিন...
03/06/2026

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে ওঠে, তখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তর্কে আমাদের অধিকাংশের আড্ডা জমে যায়। কেউ রাত জেগে ভিনদেশের এগারোটা যুবকের জন্য চোখের পানি ফেলে তো কেউ আবার নিজের শেষ সম্বলটুকু বাজি ধরে প্রিয় দলের জয়ে।

আমরা প্রায় সবাই-ই ভাবি, এ তো স্রেফ বিনোদন! কিন্তু এই বিনোদনের আড়ালে আমাদের মনস্তত্ত্ব আর আধ্যাত্মিকতার যে কী ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?

চলুন, খুব সহজ একটা উপমায় বিষয়টা বোঝা যাক।

মনে করুন, আপনি প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। এই অবস্থায় শরীর সতেজ করতে আপনার প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু আপনি তা না করে এক টুকরো সাদা পাউরুটি বা চিনিযুক্ত পেস্ট্রি খেলেন। ফলাফল কী হবে? রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ চড়চড় করে বেড়ে যাবে, আপনি তাৎক্ষণিক একটা শক্তি পাবেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেই সুগার লেভেল ক্র্যাশ করবে এবং আপনি আগের চেয়েও বেশি ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত বোধ করবেন।

সাইকোলজির ভাষায় একে বলে ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন। ফিফা ম্যাচ দেখার সময় যখন গোল হয়, তখন আমাদের মস্তিষ্কে তীব্র ডোপামিন নিঃসৃত হয়। খেলা শেষে যখন এই কৃত্রিম উত্তেজনার পারদ নেমে যায়, তখন মানুষের মনে এক ধরণের তীব্র শূন্যতা আর হতাশা তৈরি হয়। ইসলাম আমাদের এই মানসিক অস্থিরতা থেকে দূরে রেখে আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে স্থায়ী মানসিক শান্তি বা 'সাকিনাহ' অর্জনের তাগিদ দেয়।

তাছাড়া, বাজারে কিছু ব্রেড পাওয়া যায় যা দেখতে অনেক বড়, কিন্তু ভেতরে শুধু বাতাস ভরা। এগুলোকে বলা হয় 'এম্পটি ক্যালোরি', যা পেট ভরালেও শরীরে কোনো পুষ্টি দেয় না। ফিফার দলগুলোর পরিসংখ্যান মুখস্থ করা, রাত জেগে ট্রল বানানো বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ম্যাচ অ্যানালাইসিস করা হলো এক ধরণের মানসিক 'খালি ক্যালোরি'।

আমাদের প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কিন্তু সীমিত। সাইকোলজিতে যাকে বলা হয় ইগো ডিপ্লিশন। এই কৃত্রিম বিনোদনের পেছনে আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান পুঁজি 'সময়' আর 'মানসিক শক্তি' অপচয় করছি, যা সম্পর্কে কিয়ামতের দিন আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, মানুষ যখন একাকীত্ব, ক্যারিয়ারের চাপ বা বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলো থেকে পালাতে চায়, তখন সে এই কাল্পনিক জগৎকে বেছে নেয়। এটি একটি ম্যালাডাপ্টিভ কোপিং মেকানিজম; ঠিক একটি ক্ষুধার্ত শিশুকে আসল খাবার না দিয়ে প্লাস্টিকের খেলনা রুটি দিয়ে শান্ত রাখার মতো।

এর সাথে যখন যুক্ত হয় সোশ্যাল আইডেন্টিটি থিওরি—তখন রূপটা আরও কুৎসিত হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকায় এক টুকরো রুটি ফেলে দিলে মানুষ যেমন একে অপরকে আঘাত করে, ঠিক তেমনি একটা অবাস্তব ট্রফির জন্য এক মুসলিম ভাই অন্য মুসলিম ভাইকে গালি দিচ্ছে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। ইসলাম যেখানে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের এক অবিচ্ছেদ্য উম্মাহ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেখানে ফিফা এসে মানুষকে কৃত্রিম পতাকার টানে অন্ধ দলপ্রীতি বা 'আছাবিয়্যাত'-এর দেয়াল তুলে দিচ্ছে।

আর এর চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় জুয়া বা বাজি ধরায়। বেকার একটা ছেলে রুটি কেনার টাকা জোগাড় করতে পরিশ্রম না করে শেষ সম্বল দিয়ে লটারি ধরার মতো। 'অপারেন্ট কন্ডিশনিং' থিওরি বলে, জুয়ায় মানুষ যখন একবার জেতে, তখন সেই সাময়িক লাভ তাকে মারাত্মক মানসিক আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। অথচ কুরআন পরিষ্কার শব্দে জুয়াকে শয়তানের অপবিত্র কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তাহলে দিনশেষে আমরা কী পাচ্ছি? কৃত্রিম ডোপামিনের জোয়ার, এক গাদা সময়ের অপচয়, ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ আর শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে উপার্জিত কিছু হারাম রিযিক, তাই না?

এসব শেষে আমাদেরকে তো ঠিকই ফিরতে হবে, তাই না? আমরা কি সেটা কখনো ভেবে দেখব না? নাকি এভাবেই চলতে থাকবে আমাদের জীবনের চক্র?
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…

আপনি আপনার বন্ধু কিংবা অন্য কারও দরজায় কড়া নাড়ছেন। দরজার অপর প্রান্ত থেকে যদি আপনার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়, তাহলে স্পষ্টভা...
03/06/2026

আপনি আপনার বন্ধু কিংবা অন্য কারও দরজায় কড়া নাড়ছেন। দরজার অপর প্রান্ত থেকে যদি আপনার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়, তাহলে স্পষ্টভাবে আপনার নাম বলুন। ‘জি, আমি বলছিলাম’, ‘আমি একজন লোক’ অথবা ‘আমি একজন মুসাফির’—এজাতীয় কোনো কথা বলবেন না। অস্পষ্ট শব্দ আগন্তুকের পরিচয় প্রদানে সহায়তা করে না।

নাম না বললেও আপনার কণ্ঠস্বর শুনে ঘরের লোকজন আপনাকে চিনে ফেলবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। পরিচিত হলেও চেনা সুর ও পরিচিত স্বরও মাঝেমধ্যে অপরিচিত ও অস্পষ্ট মনে হয়। কারণ মানুষের আওয়াজ ও স্বর বিভিন্ন রকম হয়। কখনো কখনো দুজন মানুষের গলার আওয়াজ একই রকম লাগতে পারে। এ কারণে গলার স্বর ও শব্দ চেনার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার সৃষ্টি হয়।
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্

দাড়ি রাখা নিয়ে আপনার কী মন্তব্য, প্রিয় পাঠক?আপনাকে কী কী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, জানান কমেন্টে। হয়ে উঠুন অন্যের ...
02/06/2026

দাড়ি রাখা নিয়ে আপনার কী মন্তব্য, প্রিয় পাঠক?

আপনাকে কী কী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, জানান কমেন্টে। হয়ে উঠুন অন্যের প্রেরণার অংশ, সওয়াবের অংশীদারী।

শুধু মায়ের কন্ঠস্বর চিনতে পারাই নয়, মায়ের আবেগ দ্বারাও তাড়িত হতে পারে গর্ভের সন্তান। গর্ভাবস্থায় আমরা যখন কোনো অনুভূতির ...
02/06/2026

শুধু মায়ের কন্ঠস্বর চিনতে পারাই নয়, মায়ের আবেগ দ্বারাও তাড়িত হতে পারে গর্ভের সন্তান। গর্ভাবস্থায় আমরা যখন কোনো অনুভূতির ভেতর দিয়ে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরণের এনজাইম তৈরি হয়। খুব সম্ভাবনা থাকে এই এনজাইম নাড়ির মাধ্যমে গর্ভের সন্তানের মাঝেও সঞ্চালিত হওয়ার। ফলে, গর্ভাবস্থায় যদি আমরা সর্বদা রেগেমেগে অস্থির থাকি, খিটখিটে হয়ে থাকি এবং অগোছালো জীবনযাপন করি, আমাদের এই আচরণের প্রভাব সন্তানের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

আবার, আমরা যখন আমাদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করবো, যেকোনোকিছুতেই রেগে অস্থির হবো না, ধৈর্য্য ধারণ করবো, আমাদের সন্তানও সেই আচরণ রপ্ত করবে।
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন...

01/06/2026

প্রিয় পাঠক, আপনার সংগ্রহে থাকা বইয়ের সংখ্যা কত?

বই পড়ার প্রতি দুর্বলতা আমার ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব আকাঙ্ক্ষা চাইলেই পূরণ হয় না। আর্থিক চাপ আর আশেপাশে ...
01/06/2026

বই পড়ার প্রতি দুর্বলতা আমার ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব আকাঙ্ক্ষা চাইলেই পূরণ হয় না। আর্থিক চাপ আর আশেপাশে তেমন কোনো পাঠক না থাকায় নতুন বই সংগ্রহ করার সুযোগও খুব একটা হয়ে ওঠে না। তবুও কিছু বই থাকে, যেগুলোর নাম শুনলেই বুকের ভেতর এক অদ্ভুত টান অনুভব হয়। বহুদিন ধরেই তেমনই এক আকাঙ্ক্ষিত বই ছিল প্রিয় লেখক আরিফ আজাদ সাহেব লিখিত "আজি হতে হাজার বছর আগে"।

প্রতিবার বইটির আলোচনা চোখে পড়লে মনে হতো, “ইশ! যদি একবার পড়তে পারতাম!” কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মাঝখানে যে বাস্তবতার দীর্ঘ দেয়াল থাকে, সেটি সহজে পেরোনো যায় না। অবশেষে হঠাৎ একদিন এক সাথী ভাই বাড়ি থেকে ফিরে হাতে একটি প্যাকেট এনে বললেন, “ভাই, তোমার আকাঙ্ক্ষিত সেই বইটা নিয়ে আসলাম।” মুহূর্তেই মনে হলো, বহুদিনের অপেক্ষা যেন এক নিমিষেই পূর্ণতা পেল। আনন্দে কিছু সময়ের জন্য সত্যিই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।

তারপর বইটি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলাম, আর সেখান থেকেই শুরু হলো এক অন্যরকম অনুভূতির যাত্রা।

আরিফ আজাদ সাহেব তাঁর অসাধারণ শব্দচয়ন, হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা এবং ঘটনাপ্রবাহ এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, একটি পৃষ্ঠা শেষ হওয়ার আগেই পরের পৃষ্ঠা যেন নিজেই আমাকে টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। বইটি পড়তে পড়তে মনে হয়েছে— সত্যের সন্ধানে একজন মানুষ কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, কতটা ধৈর্য নিয়ে পথ চলতে পারে, তা হয়তো এই বই না পড়লে অনুভবই করা যেত না।

রাজকীয় জীবন, শান-শওকত আর পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে এক অজানা সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া— এই যাত্রা কেবল ভ্রমণ নয়; এটি ছিল আত্মার অনুসন্ধান। দিনের পর দিন কেটে গেছে, দীর্ঘ সফরে শরীর ভেঙে পড়েছে, তবুও অন্তর ছিল অটুট ও সজীব। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল— সত্যের দেখা তাঁকে পেতেই হবে। অবশেষে বহু সাধনা, ক্লান্তি আর ত্যাগের পর সত্যের সন্ধান মিলেছে, যদিও ততক্ষণে তিনি জীবনের সায়াহ্নে উপনীত।

বইটির বিষয়বস্তুর পাশাপাশি এর বাহ্যিক সৌন্দর্যও সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। Sukun Publishing অত্যন্ত যত্নের সাথে বইটির বাইন্ডিং, পৃষ্ঠা সজ্জা ও প্রচ্ছদ নির্মাণ করেছে। প্রতিটি দিকেই ছিল নান্দনিকতার ছোঁয়া। সত্যি বলতে, এই প্রকাশনার সাথে পূর্বে পরিচয় না থাকলেও, এই বইয়ের মাধ্যমে তাদের কাজের প্রতি এক গভীর মুগ্ধতা তৈরি হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে তাদের আরও বই পড়ার ইচ্ছা রইল।

সবশেষে বলব, আজি হতে হাজার বছর আগে শুধু একটি বই নয়; এটি সত্যের সন্ধানে এক আত্মার দীর্ঘ অভিযাত্রার জীবন্ত দলিল। এমন বই হৃদয়কে নাড়া দেয়, চিন্তাকে জাগিয়ে তোলে, আর পাঠককে নিয়ে যায় এক গভীর অনুভূতির জগতে।
রিভিউ : মেরাজ বিন সাঈদ
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন...

29/05/2026

প্রিয় পাঠক, এই ঈদের বিশেষ কোন ঘটনাটা আপনার স্মৃতিতে থেকে যাবে অনেক অনেকদিন?

28/05/2026

প্রিয় পাঠক, কুরবানির মূল শিক্ষাই হলো ত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। এই ঈদে আমরা যেন আমাদের চারপাশের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষগুলোর কথা ভুলে না যাই।

আপনার কুরবানির মাংসের একটি অংশ কি পৌঁছে গেছে তাদের দুয়ারে, যাদের হয়তো সারা বছরে এটাই একমাত্র মাংসের স্বাদ?

আসুন, আনন্দের ভাগটা সবাই মিলে ভাগ করে নিই।💛

Address

66, Paridas Road, Banglabazar
Dhaka
1100

Opening Hours

Monday 10:00 - 19:00
Tuesday 10:00 - 19:00
Wednesday 10:00 - 19:00
Thursday 10:00 - 19:00
Saturday 10:00 - 19:00
Sunday 10:00 - 19:00

Telephone

+8801819887755

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sukun Publishing posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sukun Publishing:

Share

Category