03/09/2026
তাদের দাবী রুকইয়্যাহ কে পেশা হিসেবে নিলে সমস্যা কি যদি ইমাম সাহেব ইমামতি করে বা খতীব খুদবা দিয়ে বক্তা ওয়াজ করে টাকা নেয়।
------------
ওয়াজ বা জুমার খুতবার বিনিময় গ্রহণ এবং রুকিয়াকে পেশা বানানোর মধ্যে মৌলিক কয়েকটি ফিকহি পার্থক্য আছে
জুমার খুতবা বা ওয়াজ হলো উম্মতের ইলমি ও দাওয়াতি প্রয়োজন মেটানোর সার্বিক ব্যবস্থার অংশ। অন্যদিকে রুকিয়া হলো একটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যবস্থা। একটির প্রয়োজনের সাথে আরেকটির তুলনা করে মূল নীতিকে নাকচ করা ফিকহি বিচারে সঠিক নয়
বিস্তারিত বলি বুঝতে সুবিধা হবে ইন শা আল্লাহ
জুমার খুতবা দেওয়া, ইমামতি করা বা দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেওয়া ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে দ্বীনের প্রচার বা দ্বীনের মৌলিক আলামত ও ওয়াজিব দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আলেম বা ইমামরা যখন তাদের সময় ও মেধা পুরোপুরি দ্বীনের খেদমতে ওয়াকফ করেন, তখন তাদের নেওয়া সম্মানীকে কাজের 'মূল্য' হিসেবে না, বরং সময়ের বিনিময় বা ভরণপোষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে যেহেতু হানাফি মাসলাকের মানুষ বেশি তাই হানাফি ফিকহ এর কথাই বলি হানাফি সহ পরবর্তী যুগের ফকিহগণ (মুতাআখখিরীন) সর্বসম্মতভাবে দ্বীন রক্ষার তাগিদে এর অনুমোদন দিয়েছেন, যাতে ইমাম বা আলেমরা জীবিকার চিন্তায় দাওয়াতি কাজ ছেড়ে না দেন।
রুকিয়া মূলত ইবাদত, দোয়া ও এক ধরণের চিকিৎসা। আলেমদের মতে, চিকিৎসা বা দোয়ার ওপর ভিত্তি করে ফুলটাইম রুকিয়া সেন্টার খুলে বসা বা পেশাদার ব্যবসা নেয়া সাহাবিদের যুগে ছিল না। সাহাবিরা রুকিয়া করেছিলেন সফর করার সময় বা দুর্ঘটনাবশত প্রয়োজন হওয়ায়, বা কেউ খুব রিকোয়েস্ট করলে কোনো নির্দিষ্ট চেম্বার খুলে ফি ধার্য করে না।
এবার যদি বলি রুকিয়া কে পেশা হিসেবে নিলে সমস্যা কি
রুকিয়াকে পেশা বানালে জাদুটোনা বা জিন ছাড়ানোর নামে সাধারণ মানুষের ভয়কে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভুয়া আমেলদের রমরমা ব্যবসা তৈরি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। এমনিতেই বাংলাদেশে কবিরাজের অভাব নেই প্রতি এলাকাতেই ৬/৭ জন থাকে অন্যদিকে খুতবা বা ওয়াজের মতো পাবলিক প্ল্যাটফর্মে সরাসরি কুরআন-হাদিসের দাওয়াত দেওয়া হয়, যেখানে অলৌকিক কিছু দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ কম।
জুমার খুতবা বা ইবাদতের বিনিময়ে টাকা নেওয়া নিয়েও উলামায়ে কেরামের মাঝে অতীত থেকে মতভেদ ছিল। তবে আধুনিক যুগে দ্বীনের ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে তা গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।এটা ইজমা
হাদিসে রুকিয়ার বিনিময়ে উপহার বা পারিশ্রমিক নেওয়ার প্রমাণও আছে তবে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ হয় ছাগল নেয়ার হাদিস টা। যাক তবে সাহাবিরা ছাগলের সংখ্যা নিদ্ধারন করে নি বা বলেনি আমাকে ছাগল দিতে হবে। তাই আলেমরা বলে পারিশ্রমিক নেয়া জায়েজ তবে নিদ্ধারন করা রুকিয়া সেন্টার খোলা পেশা হিসেবে নিয়ক এগুলো জায়েজ নেই।
এই হচ্ছে পার্থক্য এমন ফিকহি আরো পার্থক্য বের করা যাবে ইন শা আল্লাহ।
✍🏻মাহফুজ ইবনে দেলোয়ার