22/08/2026
এক মুষ্টি চাল এবং আল্লাহর ওপর অটল ভরসা!!
অনেকদিন আগের কথা। এক ছোট গ্রামে বাস করতেন সোলায়মান নামের এক গরিব ইবাদতকারী ব্যক্তি। তার সম্বল বলতে ছিল একটি ভাঙা কুঁড়েঘর আর আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস। সোলায়মান প্রতিদিনের রিযিকের জন্য কখনো দুশ্চিন্তা করতেন না; তিনি বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি সৃষ্টির খাবারের দায়িত্ব নিয়েছেন।
পড়ন্ত এক বিকেলে সোলায়মানের ঘরে কোনো খাবারই ছিল না। চুলোয় জাল জ্বালানোর মতো চাল বা আটা বলতে কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তার স্ত্রী কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, "সোলায়মান, আজ রাতে আমাদের ঘরে তো খাওয়ার কিছু নেই। একটু বাইরে গিয়ে দেখবে, কারো কাছ থেকে কিছু ধার বা সাহায্য পাওয়া যায় কি না?"
সোলায়মান শান্ত হাসলেন। তিনি স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, "যিনি দিনের আলো দিয়েছেন এবং আমাদের প্রাণ দান করেছেন, আজকের রাতের রিযিকও তিনিই নির্ধারণ করে রেখেছেন। চলো, আমরা দুজনে মিলে মালিকের দরবারে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে সাহায্য চাই।"
নামাজ শেষে সোলায়মান ঘর থেকে বের হলেন। তিনি সোজা গ্রামের বাইরে বনের পাসের রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলেন এবং মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছলেন, যেখানে বনের একপাশে একটি অদ্ভুত দৃশ্য তার চোখে পড়ল
তিনি দেখলেন, মাটিতে একটি ছোট পাখির ছানা পড়ে আছে, যার ডানাগুলো তখনো শক্ত হয়নি। আর ঠিক তার পাশেই একটি বন্য সাপ ফণা তুলে ছানাটির দিকে এগিয়ে আসছে। ছানাটির মা পাখিটি আকাশে ডানা ঝাপটাচ্ছে এবং ছটফট করছে।
সোলায়মান মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ভাবলেন, "এই অসহায় পাখিটির ছানাকে রক্ষা করা আমার একটি নৈতিক দায়িত্ব।" তিনি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে একটি লাঠি দিয়ে সাপটিকে তাড়িয়ে দিলেন এবং ছানাটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিলেন। মা পাখিটি নেমে এসে তার ছানাকে ডানার নিচে আগলে ধরল।
ঘটনাটি শেষ করে সোলায়মান যখন আবার কুঁড়েঘরের দিকে ফিরছিলেন, তখন কুদরতিভাবে তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করছিল। তিনি বাড়ি ফিরে দেখলেন, তার স্ত্রী অবাক হয়ে ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন।
স্ত্রী সোলায়মানকে দেখেই দৌড়ে এসে বললেন, "সোলায়মান! তুমি যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমাদের এক প্রতিবেশী এসে এক থালা গরম ভাত, সুস্বাদু মাংস আর কিছু চাল দিয়ে গেছে। সে বলেছে, আজ তাদের বাড়িতে মেহমান এসেছে এবং আল্লাহ যেন আমাদেরও রিজিক বাড়িয়ে দেন, তাই এই খাবার পাঠিয়েছে।"
সোলায়মান শুকরিয়া আদায় করে আসমানের দিকে তাকিয়ে বললেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করে এবং একমাত্র তাঁর ওপর ভরসা রাখে, আল্লাহ কখনো তার রিজিক বন্ধ করেন না।
আমরা তো শুধু একটি ছোট পাখিকে রক্ষা করেছি, আর আল্লাহ তার প্রতিদান হিসেবে আমাদের ঘরে রিযিক পাঠিয়ে দিয়েছেন।"
এই গল্প থেকে আমাদের শিক্ষা:
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল: বিপদ বা অভাবের সময় মানুষের কাছে হাত পাতার আগে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।
সৃষ্টির প্রতি দয়া: সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে আসমানের মালিক খুশি হন এবং বান্দার ওপর নিজের রহমতের দুয়ার খুলে দেন।🤲🤲